banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 মাদারীপুরে দুই কিশোরী ধর্ষণের শিকার

মাদারীপুর প্রতিনিধি,অপরাজিতাবিডি ডটকম:

images (1)মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পৃথক স্থানে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে বদরপাশা ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার এবং কদমবাড়ি এলাকায় অপর ঘটনাটি ঘটে তার এক সপ্তাহ আগে।

রাজৈর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নয়ানগর গ্রামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী (১৫) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় বদরপাশা গ্রামের ফেরদৌস শেখ, রোমান মিয়া ও অজ্ঞাত পরিচয় এক বখাটে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

পরে মেয়েটির আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

মেয়েটির মা সাংবাদিকদের জানান, “আমার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এই ঘটানার পর থেকে আমরা ভেঙ্গে পড়েছি। এখন আমার মেয়ের পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

তিনি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, “আমরা প্রাথমিকভাবে আলামত সংগ্রহ করে রেখেছি। ২/১ দিনের মধ্যে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হবে।”

থানার ওসি মনিরুজ্জামান আরো জানান, কদমবাড়ির আড়িয়াকান্দি নটাখোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার এক অপর কিশোরী (১৪)।

মেয়েটির মা সাংবাদিকদের বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) তিনি মেয়েকে নিয়ে কদমবাড়ির কীর্তনীয়া বাড়িতে রামকীর্তন শুনতে যান। সেখান থেকে কৌশলে উল্লাবাড়ি গ্রামের শ্রীকান্ত বালার ছেলে অনিমেশ বালা তার মেয়েকে নিয়ে যায় গজারিয়া এলাকায়।

সেখানে অনিমেশসহ একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই এলাকার আরো কিছু বখাটেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

ঘটনাটি দেখতে পেয়ে অনিমেশ ও তার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারাও পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না তারা। ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। এ কারণে মামলা করতেও সাহত পাচ্ছেন না তারা।

ধর্ষকের পরিবারের চাপের কারণেই মেয়েটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন মেয়েটির মা।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান আরো জানান, বদরপাশার ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ফেরদৌস শেখ, রোমান মিয়া ও অজ্ঞাত পরিচয় একজনের বিরুদ্ধে রাজৈর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

“তবে, কদমবাড়িতে গণধর্ষণের ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে আমরা খোঁজখবরও নেইনি,” বলেন ওসি।

 

অপরাজিতাবিডিডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/১৮৩২ঘন্টা২০১৪

 

দিনাজপুরে গহীন জঙ্গল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

দিনাজপুর প্রতিনিধি, অপরাজিতাবিডি ডটকম:

দিনাজপুর

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানজুড়ি এলাকায় গহীন জঙ্গল থেকে পুলিশ আসমানি (২০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত আসমানি (২০) ফুলবাড়ি উপজেলার সুজাপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

লাশ উদ্ধারের পর শুক্রবার দুপুরে তা ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, জঙ্গলে লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী ও এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে ধানজুড়ি মিশন হাসপাতাল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পীরদহের মাজারের পাশে দুর্বৃত্তরা ওই নারীর মুখে ওড়না গুঁজে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম ও এসআই বজলুর রশিদ জানান, নিহতের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত আসমানি (২০) ফুলবাড়ি উপজেলার সুজাপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। তার পরনে ছিলো সাদা কালো রংয়ের প্রিন্টের জামা ও লাল রংয়ের স্যালোয়ার।

এ ব্যাপারে পুলিশ বাদি হয়ে বিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

অপরাজিতাবিডিডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/১৮৩২ঘন্টা২০১৪

ক্ষুদ্র উদোক্তাদের নিয়ে বুটিকস মেলা

অপরাজিতাবিডি ডটকম: 

IMG_0780

রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ অডিটোরিয়ামে শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ক্ষুদ্র উদোক্তাদের হাতে তৈরি ‘বুটিকস ও জুয়েলারী’ মেলা। সেখানকার একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মনিকা ফ্যাশন হাউজের কর্ণধার মনিকা ইসলাম। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম আওলাদ-

 

মনিকা ইসলাম। থাকেন মোহাম্মদপুরে। মাস্টার্স শেষ করেছেন ২০০৬ সালে। চাকরী করতেন ভালো এক কর্পোরেট হাইজে। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজের প্রচেষ্টায় এবং নিজ উদ্যোগে কোন কিছু করার। তাইতো চাকরি ছেড়ে নিজ বাসাতেই গড়ে তুলেছেন একটি ফ্যাশন হাইজ। যার নাম দিয়েছেন ‘মনিকা ফ্যাশন’।

 

মনিকা বলেন, ছোট বেলা থেকে ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার। মুলত সেই ইচ্ছা থেকেই এই ফ্যাশন হাউজ গড়ে তুলেছি। কাজ শুরু করার পর এই প্রথম কোন মেলাতে স্টল দিয়েছি। স্টল দিয়ে খুব ভালো লাগছে। যেহেতু আমি নতুন কাজ করছি। তাই এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি,জানতে পারছি।

 

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? এমন প্রশ্নের জবাবে খুব তাড়াতাড়িই বলে দিলেন, আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা এই ফ্যাশন হাউজকে ঘিরেই। এটাকে আরো বড় পরিসরে গড়ে তুলা। এটাকেই আমি মুল পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

 

কেন আপনি এমন পেশায় আসলেন? দেখুন আমি একজন নারী আর এই পেশাতে আমি ঘরে বসেই কাজ করতে পারছি। পাশাপাশি আমার সংসার দেখা শুনা করতে পারছি। তাছাড়া এখানে আরো নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছি।

 

মেলাতে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেশি? সব ধরনের জিনিসই চলছে তবে ইন্ডিয়ান, এবং পাকিস্তানি কাপড়ের তৈরি পোশাকের চাহিদা একটু বেশি। দেশি পণ্যের কেমন চাহিদা? দেশি পন্যেরও চাহিদা আছে তবে দেশি পণ্যের তুলনায় বিদেশি পণ্যের চাহিদা একটু বেশি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/৩১জানুয়ারী১৭৪১ঘন্টা২০১৪

 

 

 

শেষ হলো জাতীয় পিঠা উৎসব-১৪২০

অপরাজিতাবিডি ডটকম

pitha

বাঙালির ঐতিহ্য পিঠা পার্বণ’- এ স্লোগান নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর কফি হাউজ অঙ্গনে শুক্রবার শেষ হলো আট দিনব্যাপী “জাতীয় পিঠা উৎসব-১৪২০”।এ উৎসব ঘুরে এসে বিস্তারিত তুলে ধরছেন- রবিউল ইসলাম আওলাদ 

হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকার আমরা বাঙালীরা। আমাদের দেশে নানান থাবারের পাশাপাশি তৈরী হয় বাহারী পিঠা। এ পিঠা তৈরী দেশজ সংস্কৃতির এক অনন্য শিল্প। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে পিঠার প্রচলন বহু পুরানো। জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির কফি হাউজ মাঠ সেজেছিল রকমারী পিঠার দোকান।

 

৩৫টি স্টলে ছিল ১৫২ রকমের বাহারী পিঠা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব পিঠা নিয়ে এসেছিলেন পিঠা শিল্পীরা। প্রথমদিন থেকে উৎসবে আসতে থাকে পিঠা প্রেমীরা। কেউবা এসেছিলেন বন্ধুকে নিয়ে, আবার কেউবা এসেছিলেন পরিবার পরিজনের সাথে। পিঠার প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্বাদ নিচ্ছিলেন পছন্দের পিঠার।

 

টাঙ্গাঈল শিরিন পিঠা ঘরের আয়োজক শিরিন বেগম বলেন, আমি এই প্রথম এখানে পিঠা প্রদর্শন করেছি। বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।

 

IMG_0776জামাই বেজার, বউ পিঠা, রস পুলি, রস পোলাপ, ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা পিঠাসহ বিবিন্ন নাম ও স্বাদের পিঠা গুলোর প্রদর্শনী ও বিক্রি চলছে উৎসবে। উৎসবে অংশগ্রহণকারী পিঠা শিল্পীদের সেরা পাঁচজনকে দেয়া হবে পিঠাশিল্পী সম্মাননা স্মারক। ২৪ জানুয়ারী শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হয় ৩১ জানুয়ারী। দর্শনার্থী ও পিঠাপ্রেমীদের জন্য উৎসব চলে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।পাশাপাশি চলেছে বাউল গান,মঞ্চ নাটক, এবং কবিতা আবৃত্তি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/৩১জানুয়ারী১৭৪১ঘন্টা২০১৪

 

 

 

 

ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীরাই!

নিউজ ডেস্ক, অপরাজিতাবিডি ডটকম

rape_indiaধর্ষণের জন্য নারীদেরকেই দায়ী করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও রাজ্যের মহিলা কমিশনের সদস্য আশা মির্জে।

নারীরা তাদের পোশাক, আচরণ এবং স্থানকাল না বুঝে চলাফেরার কারণে ধর্ষণের শিকার হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকায় এর বিরুদ্ধে সোচ্চার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। এরই মধ্যে আশা মির্জের এ মন্তব্যে বিভিন্ন মহলে সমালোচানার ঝড় উঠেছে।

মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এনসিপি’র নারীকর্মীদের একটি অনুষ্ঠানে মির্জে দিল্লির বাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া তরুণী (নির্ভয়া) এবং শক্তি জুটমিলে এক নারী সাংবাদিক ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতাদেরকেই অনেকাংশে দায়ী বলে মত দেন।

দিল্লির ওই ঘটনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে নির্ভয়ার বিরুদ্ধেই পাল্টা প্রশ্ন করে মির্জে বলেন, “নির্ভয়া রাত ১১ টায় কেন বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখতে বেরিয়েছিল? সেটা কি খুব জরুরি ছিল?”

মুম্বাইয়ের শক্তি জুটমিলে ধর্ষণের শিকার ফটোসাংবাদিকের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সন্ধ্যা ৬ টায় নির্জন ওই কারখানায় যাওয়ার কি খুব প্রয়োজন ছিল”?

“নারীদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো আচরণের কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা তা মাথায় রাখতে হবে,” বলেন মির্জে।

নারী অধিকার কর্মী, ক্ষমতাসীন কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপি তার এ বক্তব্য ‘মেনে নেয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করেছে। এমনকি মির্জের নিজের দলের সদস্যরাও এ মন্তব্যের দায় এড়িয়েছে।

এনসিপি’র এমপি সুপ্রিয়া সুল সাংবাদিকদের কাছে মির্জের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মির্জের এ বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত, দলের নয় বলে জানান তিনি। এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন সুপ্রিয়া।

ঊর্ধ্বতন একজন নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে খুব সম্ভবত মির্জেই প্রথম দিল্লি ধর্ষণকান্ড সম্পর্কে এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।

মহারাষ্ট্রে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং কংগ্রেসের জোট সরকার রয়েছে।

কংগ্রেস নেত্রী রিতা বহুগুণা জোসি বলেন, এনসিপি’র নেত্রী এবং একইসঙ্গে মহারাষ্ট্র ‘স্টেট উইমেন কমিশন’ এর সদস্য হিসাবে মির্জে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। তার নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলা উচিত।

ওদিকে, ‘অল ইন্ডিয়া উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সেক্রেটারী কবিতা কৃষ্ণা বলেন, রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলা মানে ধর্ষণের পক্ষেই কথা বলা। এমন মন্তব্য করার পর আশা মির্জে আর মহিলা কমিশনের সদস্য থাকার যোগ্য নন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/৩০জানুয়ারী৮৩৬ঘন্টা২০১৪

গোপালগঞ্জে ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, অপরাজিতাবিডি ডটকম:

gopalganj201গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার বিকালে উপজেলার বড়ভাট্টা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে নিহত শিউলী আকতার শিলার (১৯) লাশ পাওয়া যায়, যার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।

তিনি বড়ভাট্টা গ্রামের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মুকসুদপুর থানার ওসি ফেরদৌছ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় মোবাইল ফোনে শিলাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা লাশটি দেখে পুলিশকে খবর দেয়, ।বলেন তিনি ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/৩০জানুয়ারী৮৩৮ঘন্টা২০১৪

 

বেনাপোলে ৬ নারী পাচারকারী আটক

জেলা প্রতিনিধ, অপরাজিতাবিডি ডটকম:

যশোর: জেলার বেনাপোলে নারী পাচাকারিসহ ছয়জনকে আটক করেছে পোর্ট থানা পুলিশ। বুধবার পৌরসভা এলাকায় একাধিক অভিযানে এদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে শাজাহান (৩৮), ভবেরবেড় গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আরিফ হোসেন (২৮), একই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে সোহেল (২২) এবং যশোর বাঘারপাড়া থানা এলাকার নওশের আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২)।

এছাড়াও বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্টের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে জুলফে আলীর ছেলে জহির হোসেন (৩৮) এবং গার্মেন্টস কর্মী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বরকুল গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে ফতেমাকে (১৮) আটক করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়ুম আলী সরদার জানান, বেনাপোল চেকপোস্টের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে আটক জহির হোসেন একজন চিহ্নিত নারী পাচারকারী। আটক ব্যক্তিদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/৩০জানুয়ারী৮৩৬ঘন্টা২০১৪

বন্ধন

bondhon1পেপার পড়তে পড়তে খানিকটা অবেলার ঘুম হানা দিল চোখে। মাথাটা মৃদু ঝাকুনি দিয়ে চোখ মুছে আবারো পিটপিট করে পত্রিকার খোলা পাতাটায় তাকালেন রফিক সাহেব।

-স্যারের কি রাত্রে ঘুম হয় নাই?
চায়ের কাপ টেবিলে রেখে নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করল পিয়ন বাদল।

-নারে, ঘুম তো হয়েছে কিন্তু আজকাল এত কাজ শরীরে মানেনা। তার উপর কত রকমের টেনশন…

-স্যার, চা-টা খান, আরাম পাইবেন। আপনের জন্য আদা দিয়া দিছি।

রফিক সাহেব মৃদু হাসলেন। ছেলেটার নিজে থেকে সবার প্রতি খেয়াল রাখার ব্যাপারটা তাঁর ভালই লাগে। তাঁর মতে, এইসব ছেলে-পুলে মানুষের দোয়ার বদৌলতেই অনেকদূর যায়।

লাঞ্চটাইমে পকেটে হাত দিয়েই আবারো মনটা খচখচ করে উঠল রফিক সাহেবের। ক’দিন ধরে খরচ হচ্ছে বেশ। বাসার ড্যাম হয়ে যাওয়া দেওয়ালে রঙ করানো, ভাঙ্গা-চুরা ফার্ণিচারগুলো মেরামত, হরেক রকম কেনাকাটা, ছেলেটা আবার কলেজে ভর্তি হল এবার। যদিও পরিচিত মানুষ দেখে আসলাম মিস্ত্রিকে বলে কয়ে খানিকটা কমে কাজ করিয়েছেন, তবুও শুধু ফার্ণিচারগুলো ঠিক করতে হাজার ছয়েক টাকা লেগে গেল। এই দুর্মূল্যের বাজারে এই-ই কম কিসের!

এসব ছাড়াও মনে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে। সব ঠিকঠাক মত হবে তো! বড় মেয়েটার বিয়ের কথা চলছে বেশ কয়েক মাস। সব ঠিকঠাক, ছেলেরা আংটি পরাতে আসবে বলে খানিকটা গোছগাছের তাগাদা দিচ্ছিল রোকেয়া। প্রথম এ বাড়িতে আসবে বলে কথা। তাই কোনোরকমে ঘষামাজা করে নিচ্ছেন জোড়াতালির সংসার।
ছেলে দেখেছেন বেশ ক’জনই, তবে শেষমেষ তারেক নামের ছেলেটাকেই মনে ধরেছে সবার। ছেলে ভালই। পাশ করেই চাকুরীতে ঢুকেছে একটা ছোট-খাট মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানীতে। বেতন মোটামুটি। ফ্যামিলি ভাল, ছেলেও দ্বীনদার, আর কি-ই বা চাওয়ার থাকে মধ্যবিত্ত ছাপোষা এক সরকারী চাকুরের! তবে এর চেয়ে ভাল সম্বন্ধ যে আসেনি তা নয়, কিন্তু বেশি বড় ঘরে বিয়ে দিতে মন সায় দেয়না তাঁর। পয়সাওয়ালাদের কতরকম চাহিদা, রীতি-রেওয়াজ, বিভিন্ন অকেশনে হাজার টাকার উপহার, শীতের পিঠা, গরমের ফল আরো কত কি! আবার, ওবাড়ির লোকজন এলে প্রতিবেলা কোরমা-পোলাউয়ের সাথে হরেক রকম আইটেম খাওয়ানো… এসব যে কঠিন হয়ে যাবে তাঁর জন্য…। তাছাড়া তিনি চাননা অন্যের বাড়িতে গিয়ে তার আদরের মেয়েটা হিনমন্যতায় ভুগুক বা মন ছোট করে থাকুক। রাজপ্রাসাদের বান্দিগীরির চেয়ে কুড়ে ঘরের রাণী হয়ে থাকাও ভাল। ছেলে-মেয়েদের প্রাচুর্যের মুখ দেখাতে পারেননি বটে, তবে যতটুকু পেরেছেন দুনিয়ার কাঠিন্য থেকে আগলে তো রেখেছেন! অবশেষে এইবেলায় এসে মেয়েটা অকূল পাথারে পড়বে ভাবতে পারেন না তিনি।

কেবলই ভয়, ছেলেটা দেখে রাখতে পারবে তো রাবেয়াকে? খেয়াল রাখবে তো আমার মুখচোরা মেয়েটার??
একটা দীর্ঘশ্বাস হুড়মুড় করে বেরিয়ে পড়ে কাঁচা-পাকা দাড়ির ফাঁক গলে। বংশের বড় মেয়ে রাবেয়া। তাই শুধু নিজের ঘরেই না, সমস্ত স্বজনদের মধ্যেও খুশির ধুম পড়ে গেছে। ছেলে-পুলেদের কতরকম জল্পনা-কল্পনা আর আবদার… সেসব কানে আসলে কেমন যেন ঘাবড়ে যান তিনি। এত ধুমধামের বিয়ে কি এই গরীব বাবার পক্ষে সম্ভবরে…!

bondhon2২.
-তোকে না বললাম তরকারিটা নাড়তে! এখন পুড়ল তো?
বেশ জোরেই ধমক দিলেন রোকেয়া।

-কখন বললা? বললা তো ফ্রিজ থেকে কাঁচামরিচ আনতে।
মুখ কাল করে জবাব দিল রায়হানা।

-হয়েছে, আর বলতে হবেনা, মরিচগুলো কুচিয়ে দে তাড়াতাড়ি।

রায়হানা কিছু বলতে গিয়েও বললনা। অতি দুশ্চিন্তায় আম্মার মোটামুটি মাথা খারাপের অবস্থা। সবকিছু নিয়ে বেশি বেশি দুশ্চিন্তা করাটা আম্মার অন্যতম বদঅভ্যাস। কি আর করা…

রোকেয়া আলুভর্তায় শর্ষের তেল মাখাতে মাখাতে আবারো চিন্তার সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে লাগলেন। বাথরুমের আয়নাটা ভেঙ্গেছে কয়েকমাস। সরকারী বাসার এই এক জালা যে, দরখাস্ত দেয়ার পর বছর চলে যায় কিন্তু মেরামতের খবর থাকেনা। নিজেরা ঠিক না করালে বিয়ের আগে আর আশা নেই। নিজেদেরই করতে হবে যা করার। আবার নিজের বিয়ের গহনাগুলো খানিকটা ঘষা-মাজা করার জন্য দিয়ে এসেছেন তাও সপ্তাহ খানেক হল। আকদে্‌ নিজের বিয়ের গহনাগুলোই রাবেয়াকে পরানোর বড় সখ তাঁর। কিন্তু এতসব খরচের কথা কি আর কর্তাকে শোনানো যাবে! হাজারটা চিন্তার ভারে এমনিতেই হুটহাট প্রেসার বেড়ে যায় তাঁর…

-আম্মাআআ, আর কতক্ষণ লাগাবা?
রায়হানার কন্ঠে তড়িঘড়ি করে ভর্তার বাটিটা হাতে তুলে দিলেন। রায়হানা একটুখানি মুখে নিয়েই ভ্রু কুচকে বলল, লবণ কে দিবে আম্মা? উফ্‌ আম্মা… কই থাকো তুমি?

-দিয়ে নে না! এত বড় বড় দুইটা মেয়ে, কোনো কাজে-কামে পাওয়া যায়না, খালি দোষ ধরবে।
রোকেয়া উচ্চ কন্ঠে কথা কয়টা বলে স্থান ত্যাগ করলেন।

রায়হানা তির্যক দৃষ্টিতে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনে মনে রাগ ঝাড়ল। বড় মেয়ের চিন্তা করতে করতে মরেই যাচ্ছে। বিয়ে যেন আর কারো মেয়ের হয়না!
এ সময় বেল বাজালো রাফিদ।

-কি সাহেব, আজকে এত তাড়াতাড়ি যে? ক্লাস হয়নি, নাকি আড্ডা দিয়ে চলে আসলেন?
দরজা খুলেই প্রশ্ন রায়হানার।

-এই আসলাম আর কি! তুমি বুঝবানা ছোটপু।
দাঁত বের করে পিত্তি জালানো হাসি দিয়ে বলল রাফিদ।
ভাত বেড়ে দাও, ক্ষিদেয় মরে যাচ্ছি।

-সারা দুনিয়ার ময়লা হাতে-পায়ে করে নিয়ে আসছিস, সেগুলো সাফ করে আয় বাঁদর। আর কানের থেকে ওইগুলা খোল! সারাদিন কানে ভরে রাখতে রাখতে বয়রা হয়ে গেছিস খবর আছে?
চোখ সরু করে হুকুম দিল রায়হানা।

-সেজন্যে বুঝি এরকম মাইক বাজাচ্ছো? আস্তে বললেও তো শুনি।
আম্মার কানে গেলে আরেক দফা বকা খেতে হবে ভেবে তাড়াতাড়ি বলল রাফিদ। যদিও তাঁর ধারণা আম্মার বকা খাওয়ানোর জন্যই এভাবে গলা উচিয়ে হেডফোনের গুণাগুণ বর্ণনা দিচ্ছে ছোটপু। সবকিছু নিয়ে পিছে লাগার বদ অভ্যাসটা যে আপুর কবে যাবে…

-আবার শুরু করে দিলি দুইটা মিলে? সারাদিন একজন আরেকজনের পিছে না লাগলে শান্তি হয়না তোদের দুইটার?
রোকেয়া পাশের রুম থেকে ধমকে উঠলেন।
সুতরাং দুজন দুজনকে ভেংচি কেটে প্রস্থান করলো। দুজনে পিঠাপিঠি হওয়ায় ভাবও বেশি, আবার লাগেও বেশি দুজনের।

আসর পড়ে সালাম ফিরাতেই আম্মুর ইদানিংকার নতুন কর্যকলাপ দৃষ্টি গোচর হল রায়হানার। আপুকে খোচাচ্ছে কি কি মুখে লাগাতে। আর আপু করুণ মুখ করে অসম্মতি জানাচ্ছে। উফ্‌ আল্লাহ্‌, এত্ত সুন্দর দিয়ে তারেক ভাই করবেটা কি আল্লাহ্‌ জানে। এমনিই তো সুন্দর আপু। আর কি দরকার! যাহোক, আম্মার জিত হল, এবং রাবেয়াপু গোমড়া মুখে আম্মার মধু, বেসন নাকি আর কিসের যেন মি

গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, অপরাজিতাবিডি ডটকম
gazipurগাজীপুর: জেলার শ্রীপুর উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকায় এক স্কুলছাত্রী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হতভাগ্য আফরোজা (১২) স্থানীয় প্রতাপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।

সে প্রহলাদপুর ইউনিয়নে মেন্দিপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের মেয়ে। এ ঘটনা তদন্তে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন এবং শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পক্ষ থেকে দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আফরোজার বড় চাচা আব্দুল মজিদ জানান, দুপুর সাড়ে বারটার দিকে আফরোজাকে স্কুলে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্কুল থেকে তাকে দ্রুত গাজীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফসা খানম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, মেয়েটিকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

টিকা দেয়ার সময় কাছে থাকা তার চাচাতো বোন ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা আক্তার জানান, আফরোজার হাতে টিকার সুঁই দুইবার পুশ করা হয়। এর ১৫-২০ মিনিট পর সে জানায় তার ‘শরীর কাঁপছে ও মাথা ঘুরছে’। কিছুক্ষণ পর আফরোজা স্কুলের বারান্দায় বসে পড়ে এবং প্রস্র্রাব-পায়খানা করে দেয়। সানজিদা ঘটনাটি মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে জানায়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম জানান, মেয়েটির শ্বাসকষ্টের রোগী ছিল। টিকা দেয়ার পর তার অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। তার মৃত্যুর কারণ তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনার তদন্তে তার তরফে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম শরীফ জানান, ঘটনাটি শোনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন নিজে প্রধান হয়ে এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ও গাজীপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুবাস চন্দ্র সাহাসহ ৫ সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজ হায়দার ভূইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ আকন্দ, শিশুটির বাবা আ. ওয়াহিদসহ এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির মৃত্যুর খবর আশপাশের এলাকায় জানাজানি হলে শতশত লোক তার বাড়িতে ভিড় জমায়।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/২১.০৫.২৮জানুয়ারী২০১৪/আরএ/এ

খুব সহজেই তৈরি করুন মোরগ মোসাল্লাম

1620125_757256460968579_1524043956_n“মোরগ মোসাল্লাম”! নামটা শুনে নিশ্চয়ই এতখনে জিভে পানি চলে এসেছে? আর আসাটাই স্বাভাবিক। মোরগ মোসাল্লাম এমন একটা খাবার যে খেতে চাইলে দৌড়াতে হয় রেস্তরাঁয়। বিশেষ করে পুরানো ঢাকার মোরগ মোসাল্লাম মানেই যেন জিভে স্বাদ লেগে থাকা বহুদিন। আজ আপনাদের জন্য আমরা নিয়ে এলাম সেই মজাদার মোরগ মোসাল্লাম এর দারুণ সহজ এক ঘরোয়া রেসিপি। আর আপনাদের জন্য সেই রেসিপিটি দিয়েছেন শৌখিন রাঁধুনি নদী সিনা।

আসুন, জেনে নেই রেসিপিটি।

উপকরণ-
মোরগ ৩ টা
আদা বাটা ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ
টক দই ১ কাপ
জায়ফল বাটা ১ চাচামচ

জয়ত্রী বাটা ১ চাচামচ
রোজমেরি ১ থোকা (তবে কেওড়া পানি বা গোলাপজল দিতে পারলে আরও ভালো)
পোস্তদানা বাটা ৩ টেবিল চামচ
লবন স্বাদমত
চিনি ২ টেবিল চামচ
তেল এবং ঘি মিলানো ১/২ কাপ
জর্দার রং নিজের পছন্দ মত
পেঁয়াজ ১ কাপ ( বেরেস্তা করা )

1615060_757256384301920_130883669_nপ্রণালী-
-প্রথমে মোরগ ভালোভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে।
-এর পর মোরগ এর গায়ে কাঁটা চামচ দিয়ে ভালোভাবে কেঁচে নিতে হবে।
-এখন পেঁয়াজ , পোস্তদানা , রোজমেরি , চিনি তেল বাদে বাকি সব মসলা মেখে ২ ঘন্টা রেখে দিতে হবে।
-এখন মোরগটা সুতা দিয়ে ভালো ভাবে বেঁধে নিতে হবে যাতে ছড়িয়ে না যায়।
-প্যান এ তেল দিয়ে মাখিয়ে রাখা মোরগ দিয়ে দিতে হবে।
-মাঝারি তাপে রান্না করতে হবে ঢাকনা দিয়ে। মসলার উপরে তেল উঠে আসলে পেঁয়াজ , পোস্তদানা , রোজমেরি , চিনি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে আরো ১০ মিনিট এর জন্য।
-এইবার বেকিং ট্রেতে নিতে হবে ১৮০’ তে ৩০ মিনিট বেক করতে হবে। বেক শেষ হলে নিজের পছন্দ মত সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে

যেসব বিষয়ে আপোষ নয়

1fe8344218e0ca9a5d3487e408ead731_xlargeঅপরাজিতাবিডি ডটকম: বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার এই সময়ে এসে মনের মতো একটি চাকরি খুঁজে পাওয়াই শক্ত বিষয়। অনেক সময় বড় বড় ডিগ্রি নিয়েও মেলে না চাকরি। ফলে একটা সময় গিয়ে নিজের সাথেই আপোষ করতে হয়। তবে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে কিছু কিছু বিষয়ে কোনোভাবেই আপোষ করা উচিত নয়। এমন বিষয়গুলোর দিকেই এই লেখায় আলোকপাত করেছেন তরিকুর রহমান সজীব

জীবনের নানা প্রসঙ্গেই আপোষ করার প্রয়োজনীয়তাকে মেনে নেন অনেকেই। এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের কর্মজীবনেও নানা ধরনের আপোষ করে চলতে হয়। বর্তমান বিশ্বের এই প্রতিযোগিতার সময়ে এসে আপোষ যেন একটি স্বাভাবিক শব্দ ও নিয়মে পরিণত হয়েছে। অবশ্য অনার্স, মাস্টার্সে খুব ভালো ফলাফল করেও যদি বিষয়ভিত্তিক এবং মনের মতো চাকরি না পাওয়া যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য আপোষ না করেই বা উপায় কী! আবার যারা চাকরিতে ইতোমধ্যেই প্রবেশ করে ফেলেছেন তাদেরও প্রমোশন বা অন্যান্য স্বার্থে আপোষ করেই চলতে হতে পারে। তবে আপোষ করার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। তা নইলে চাকরি একটা করলেও তাতে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলা যাবে না।

আপোষ যারা করে থাকেন, তারা অনেকেই উপায়হীন অবস্থায় পড়ে আপোষ করে থাকেন বলেই মনে করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই হয়ত সবগুলো উপায় তিনি খুঁজেও দেখেননি। খুঁজে দেখলে হয়ত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে হত না তাকে। এমন নানা ধরনের আপোষের মধ্যেও কিছু কিছু বিষয়ে কখনই আপোষ করা উচিত নয় বলেই মন্তব্য করেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা। এসব বিষয়ে আপোষ করলে সাময়িক কোনো উপকার হলেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে পস্তাতে হয় বলেই ধারণা তাদের। এমন বিষয়গুলোর কথাই তুলে ধরা হলো এই লেখায়।

 

নিষ্ঠার সাথে আপোষ নয়

মানবজীবনের অন্যতম মূল একটি বৈশিষ্ট্য হলো নিষ্ঠা। জীবনে চলার পথে এটিই একজন ব্যক্তির অন্যতম মূল ধর্ম হিসেবে পরিগণিত হয়। নিজের চিন্তা-চেতনা, পরিবেশ, সংস্কৃতি—সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একজন ব্যক্তির নিষ্ঠা। ফলে একজন ব্যক্তির অন্যতম মূল পরিচায়কই হলো তার নিষ্ঠা। কর্মজীবনেই হোক আর ব্যক্তিজীবনেই হোক, নিষ্ঠাই একজন ব্যক্তিকে ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে। এ কারণেই নিষ্ঠার সাথে কখনও আপোষ করতে হয় না। অনেকেই পরিস্থিতির চাপে পড়ে নিজের এক অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের সাথে আপোষ করে ফেলেন। কর্মজীবনেও হয়ত নিষ্ঠার ঘাটতি পড়ে যায় অনেকের। অনেকে মোহে পড়েও নিষ্ঠা থেকে দূরে সরে যান। আসলে এতে করে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের থেকেই দূরে সরে যান। আর এই আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তাকে কোনোভাবেই সুখী করে না।

 

আত্মসম্মান বজায় থাক

নিষ্ঠার পাশাপাশি আত্মসম্মানও মানজীবনের একটি বড় অংশ। আত্মসম্মানহীন জীবনকে মানবজীবন হিসেবে গণ্য করে না কেউই। যার আত্মসম্মান নেই, সে কখনই অন্যকে সম্মান করতে পারে না। ফলে ঘরে-বাইরে কখনই কারও সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে না। আর যার মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকে না, তার জীবনে সাফল্য কীভাবে আসবে? অনেকেই লোভে পড়ে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে অনেক কাজ করে থাকে। সাময়িকভাবে হয়ত লাভবানও হয় সে। কিন্তু আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই প্রাপ্তি কখনই স্থায়ী হয় না। শেষ পর্যন্ত হয়ত এই প্রাপ্তি তাকে অনেক বড় কোনো মূল্য দিয়ে পরিশোধ করতে হয়। তাই আত্মসম্মানও বজায় রাখতে যেকোনো পরিস্থিতিতে।

 

শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তি

যেকোনো কিছুর সাথেই শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যে ব্যক্তি শারীরিকভাবে সুস্থ নয়, সে তার কর্মেও কখনও ভালো করতে পারবে না। আবার মানসিকভাবে প্রশান্ত না থাকলেও কাজে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণেই কর্মজীবনেও শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আপোষ করা যাবে না। অনেকেই অফিসের জন্য দিন-রাত একাকার করে কাজ করেন। এতে করে নিজের স্বাস্থ্যের ভগ্নদশা তৈরি হলেও তাতে নজর দেন না অনেকে। আবার অনেক সময় অফিসের অনেক কাজ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে করতে হয়। এটিও আপনাকে মানসিকভাবে অশান্তিতে রাখতে পারে। এর কোনো পরিস্থিতিতেই আপনি আপনার কর্মদক্ষতার পরিপূর্ণ প্রকাশ করতে পারবেন না। তাছাড়া এসব করে কিছু সময়ের জন্য ভালো ফলাফল পেলেও এতে করে আপনার জীবনীশক্তি দ্রুত হরাস পেতে থাকবে, দীর্ঘমেয়াদে যা আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেবে। আপনার সৃজনশীলতায়ও ভাটা পড়বে। আর আপনি সুস্থ থাকলে তবেই নিজের যত্ন নিতে পারবেন, আপনার পরিবারের দায়িত্বগুলোও পালন করতে পারবেন। অন্যাথা হলে তা সম্ভব হবে না। কাজেই শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তির সাথে কর্মজীবনেও কোনো আপোষ নয়।

 

স্বকীয়তা ও আত্মবিশ্বাস

আপনার স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতাই জানিয়ে দেবে আপনি কে। কাজেই স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতার সাথে আপোষ করা চলবে না। আপনি জানেন, একটি কাজ আপনি খুব ভালো পারেন। আপনার মতো করে কাজটি করতে দিলে আপনার পরিপার্শ্বের সকলের চাইতে কাজটি আপনিই ভালো করতে পারবেন, এমন আত্মবিশ্বাস আপনার রয়েছে। এমন সময়ে যদি অন্য কেউ বলে যে আপনি কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবেন না, সে কথায় কান দেবেন না। অন্যের কথার চাইতে নিজের মনের কথার দিকেই মনোযোগ দেবেন বেশি। অন্য অনেকেই আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। স্বকীয়তা আর নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের সাথে আপোষ করলে ধীরে ধীরে আপনি পরিণত হবেন অন্যের কলের পুতুলে। তখন হাজার চেষ্টা করলেও নিজেকে আর ফিরে পাবেন না। তাই স্বকীয়তা বজায় রাখুন এবং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই পথ চলুন।

 

দৃষ্টি থাকুক সামনে

একেকজনের কাছে জীবনের অর্থ একেক রকম। তবে শেষ পর্যন্ত সব মানুষকেই জীবনের প্রতিটি সময়ের দায় বহন করে চলতে হয়। আপনি হয়ত শেষ বয়সে গিয়ে খুব বিখ্যাত হয়ে গেলেন। কিন্তু তাই বলে কি অন্যের অজানা আপনার তরুণ বয়সের অনেক ব্যর্থতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের দায় এড়াতে পারবেন। এই দায় সবাইকেই বহন করে চলতে হয়। এটা মাথায় নিয়েই পথ চলা উচিত। আপনার কর্মজীবনেও সাফল্য লাভের জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন কিছু করা উচিত নয়, যার জন্য পরবর্তী সময়ে আপনাকে অনুতাপ করতে হয়। সেটা করতে হলে কিন্তু আপনার অনেক অর্জনই শেষ পর্যন্ত আর উপভোগ্য থাকবে না, অনেক অর্জনই পরিণত হবে গলার কাঁটায়। তাই দায় থেকে যাবে, এমন বিষয়ে আপোষ করবেন না কখনই।সূত্র: ওয়েবসাইট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/১৭৫০২৭জানুয়ারী২০১৪/আরআই/এ

 

ন্যান্সির নয়া সিদ্ধান্ত

8740_e1মিডিয়া কর্ণার,অপরাজিতাবিডি ডটকম: মাতৃত্বকালীন বিরতি শেষে ফের গানে নিয়মিত হচ্ছেন ন্যান্সি। তার ভাষায়, এবার আর কোন অভিযোগ তোলার সুযোগ রাখবো না। কারণ, সবাই শুধু কথায় কথায় বলে সময় মতো আমাকে নাকি পাওয়া যায় না। আমি গ্রামে থাকি। আমার অনেক দাম… ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার এসব অভিযোগ মুছতে আমি ঢাকায় স্থায়ী হচ্ছি।

 

সংসার সন্তান নিয়ে বেশ ক’মাস ধরে ন্যান্সি অবস্থান করছেন শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহে। ৯ই জানুয়ারি দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের (নায়লা) মা হন তিনি। এ কারণে গেল প্রায় পাঁচ মাস ন্যান্সিকে পাওয়া যায়নি গান রেকর্ডিং, টিভি লাইভ কিংবা স্টেজ শোতে। তবে সন্তান হওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় ফের গানে ফিরছেন ন্যান্সি। তিনি জানান, লম্বা বিরতির পর ৮ই ফেব্রুয়ারি ফের ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পা রাখছেন। তবে স্থায়ীভাবে নয়। মাত্র দু’দিনের জন্য। এ দু’দিনে তিনি চারটি গান রেকর্ডে অংশ নেবেন। এর মধ্যে দু’টি চলচ্চিত্রের গান আর দু’টি অডিও অ্যালবামের। ন্যান্সি বলেন, নায়লাকে ছাড়াই এবার ঢাকায় আসতে হচ্ছে। কারণ, এতো ছোট বাচ্চা নিয়ে ঢাকার জ্যাম ডিঙ্গিয়ে চার স্টুডিওতে দৌড়ানো সম্ভব নয়। তবে শিগগিরই রোদেলা ও নায়লাকে নিয়ে ঢাকায় স্থায়ী হচ্ছি। সব ঠিক থাকলে আসছে এপ্রিলে ঢাকায় বাসা ভাড়া করবো। তখন দেখবো অভিযোগকারীরা আমাকে কতটা গাওয়ার সুযোগ দেন।

 

ন্যান্সি ক্ষোভ নিয়ে আরও বলেন, আমি জানি ঢাকায় স্থায়ী হলেও তেমন কোন লাভ হবে না। অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা তো অনেক দিন ধরেই করুণ। এখন অ্যালবাম করা আর না করা সমান কথা। আর ফিল্মের কথা কি বলবো? সবাই শুধু গানের সম্মানী নিয়ে মাছ বাজারের মতো মুলামুলি করে। অথচ কেউ ভাবে না বছরে আমি ক’টা গান গাই। কত টাকা রোজগার করি। কতটা সময় বেকার বসে থাকি। গেল একটা বছর তো একরকম বেকার সময় পার করেছি। তার ওপর রয়েছে রাজনৈতিক, পুলিশি হুমকি-ধমকি। হাজবেন্ড অর্থনৈতিকভাবে খানিক সচ্ছল বলে ডাল-ভাত খেতে পারছি এখনও।

 

সব মিলিয়ে এবার ঢাকায় এসে ধৈর্যের শেষ পরীক্ষাটা দিতে চাই। দেখা যাক ঢাকা শহরের সংগীত সংশ্লিষ্টরা আমার জন্য কতটুকু করেন। এদিকে ৮ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে ন্যান্সি কণ্ঠ দেবেন তিন তরুণ সুরকার রবিন, সাচি সামস, রাশেদের গানে।

 

ন্যান্সির প্রতি প্রশ্ন ছিল, নতুন নতুন এমন সুরকার-অ্যালবাম আয়োজক কিংবা শিল্পীদের সঙ্গে গান গাওয়াটা কি নিজের প্রতি খানিক অবিচার করা নয়? এবার খানিক ক্ষেপে গিয়ে ন্যান্সি বলেন, এখন কারা গান করেন? কোন গুণী কিংবা যোগ্য সুরকার-সংগীত পরিচালকরা গান করেন? আমি তো দেখছি প্রায় সবাই চুপ করে বসে আছেন। ফলে আমার হাতে অন্য কোন অপশন নই। প্রশ্ন করা অনেক সহজ। বাস্তবতা অনেক কঠিন। আমি এই চারটি গান না গাইলেও পারতাম। কিন্তু না গেয়ে আর কতদিন বসে থাকবো? ভাল মিউজিক ডিরেক্টরের অপেক্ষায় কতদিন বসে থাকতে হবে? তাছাড়া এখন যারা গানবাজনা করছেন তারা সবাই পয়সাওয়ালা। তারা নিজের টাকায় নিজেরাই গান করছেন, গাইছেন, গাওয়াচ্ছেন, ভিডিওতে নাচছেন। টাকার দাপটে আবার হিটও হচ্ছেন অনেকে। আমার তো টাকা নেই।

 

নিম্ন মধ্যবিত্ত সংসারের মেয়ে আমি। আমাকে তো অন্যের গান গেয়েই চলতে হবে। যার কারণে এখন আর বাছবিচার করি না। ক্লান্ত হয়ে গেছি। তবুও আশায় আছি রোদেলা দিনের। দেখা যাক। এদিকে ৮ই ফেব্রুয়ারি রেকর্ডিংয়ে ফেরার পাশাপাশি ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ন্যান্সি ফিরছেন স্টেজ শোতেও। দীর্ঘ বিরতির পর এদিন তিনি গাইবেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি কনসার্টে।সূত্র: অনলাইন থেকে

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/১৭.৪০.২৭জানুয়ারী২০১৪/আরআই/এ

 

গলায় জুতার মালা

জেলা প্রতিনিধি, অপরাজিতাবিডি ডটকম

laxmipur_district_map_35294লক্ষ্মীপুর: জেলার রায়পুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে ধরা পড়ায় রায়পুর থানার এক পুলিশ সদস্য ও প্রবাসীর স্ত্রীকে গলায় জুতার মালা দিয়েছে এলাকাবাসী। পরে দু’জনকে জনসম্মুখে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন পুলিশ সুপার। ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের প্রবাসী মিজানের বাড়িতে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রায়পুর থানার পুলিশ সদস্য মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী মিজানের ঘরে আসা-যাওয়া করতেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। অন্য সময়ের মতো শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ সদস্য মোরশেদ প্রবাসী মিজানের ঘরে ঢুকতে দেখে প্রতিবেশীরা। এতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় তাদের দু’জনকে আটক করে গণধোলাই দেয়।

পরে পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদ ও শাহিনুর বেগমকে জুতার মালা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দু’জনকে উন্মুক্ত স্থানে বেঁধে রাখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। রায়পুর থানা পুলিশ তাদের ঊর্ধ্বতন জেলা পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি অবহিত করেন। নাম প্রকাশে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়। এসব কথা বলে দোষী পুলিশের শাস্তি দাবি করেন তারা।

তবে এ বিষয়ে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদ কোন কথা বলতে রাজি নয়। এ ব্যাপারে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুপক কুমার সাহা ও ওসি (তদন্ত) নাছিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার কথা বলার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। বরং, তারা এ বিষয় এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ফয়েজ আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সদস্য মোরশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/১৭.২৪.২৭জানুয়ারী২০১৪/আরএ

পথশিশুদের জন্য নিপার স্কুল

নীপাঅপরাজিতাবিডি ডটকম: সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যেখানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেখানে সত্ কাজের আদেশ কিংবা ভালো কাজ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের নজির এখন প্রায় বিরল ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তারপরও নানা প্রতিকূলতার মুখেও আমাদের সমাজের ও আশেপাশের কেউ না কেউ মহান এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে

 

কোন ধরনের প্রাপ্তি বা প্রতিদানের কথা না ভেবেই তারা সমাজকে কিছু একটা দেয়ার ব্রত নিয়ে কাজ করছেন নিজের তাগিদ থেকেই। আর এমনেক অনুসরণীয় দৃষ্টান্তের নাম নিপা চৌধুরী। ২০০৯ সালের শুরুর দিকের কথা। সমাজের অবহেলিত পথশিশুদের জন্য প্রথমে কিছু একটা করার চিন্তভা আসে তার মাথায়। এ চিন্তা থেকেই পথচলা। বাইরের কোন অর্থ সংস্থান বা অন্য কারো সাহায্য সহযোগিতার কথা চিন্তা না করে সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে এসব অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেন নিপা। এ সময় তিনি প্রায় ৭০ জন পথশিশুকে একত্রিত করে নিজের ড্রয়িং রুম থেকে শিক্ষা দানের কাজ শুরু করেন।

 

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম/২৪জানুয়ারী২০১৪.১৭.০৩

নারী ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে 'ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং'

image_104108অপরাজিতাবিডি ডটকম: ইঞ্জিনিয়ার হতে চাওয়া নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।পেশা বাছাইয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের নারীরা ডাক্তারিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কানাডা থেকে পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে তা ভালভাবে অনুভব করেন ড. সেলিয়া শাহনাজ। বাংলাদেশের নারীদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং আরো ভালো কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করতে তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (ডব্লিউআইই), আইট্রিপলই বাংলাদেশ শাখা।

 

আইট্রিপলই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারদের সর্ববৃহত্ সংগঠন। বাংলাদেশে ওমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ সংগঠন দেশের নারীদের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে, শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেশকিছু নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ডব্লিউআইইয়ের কাজ সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ডব্লিউআইই বাংলাদেশ শাখার প্রধান ড. সেলিয়া শাহনাজ বলেন, ‘তরুণ ছাত্রীদের গবেষণার কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে রিসার্চ ওয়ার্কশপ করে থাকি। এতে বিভিন্ন রিসোর্স পারসন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সব ধরনের রিসার্চ পেপার উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আরো বেশি দক্ষতা আনতে আমরা পোস্টার পেপার উপস্থাপনের ব্যবস্থা করে থাকি। কারিগরি লিখনীর ক্ষেত্রে লেটেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশে এটি বহুল প্রচলিত না হওয়ায় এ বিষয়ে ওয়ার্কশপ করে থাকি। ছাত্রী এবং তরুণ নারী প্রকৌশলীদের সর্বশেষ প্রযুক্তি সম্পর্কে আপডেটেড রাখতে নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করি। এতে আন্তর্জাতিক স্কলার পারসন সে প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন। আমরা আমাদের সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি এবং জ্ঞানের আদান-প্রদান করি। এসব যোগাযোগ সভা, সেমিনার, ইন্টারনেট, ফেসবুক, টেলিফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতা, গবেষণা এবং পেশাগত কাজে কেউ ভালো ফলাফল করলে তাকে পুরস্কার দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্সাহ দেয়া হয়।’

 

কর্মক্ষেত্রে সদস্যদের জন্য আরো ভালো পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউআইই। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনো সদস্য শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়লে আমরা আলোচনা করে সমাধান করি। এভাবে নারী ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করতে ডব্লিউআইই কাজ করে যাচ্ছে।’

 

স্কুল এবং কলেজের ছাত্রীদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহী করতে নেয়া হচ্ছে ‘গো ইঞ্জিনিয়ারিং গার্ল’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের স্কুল এবং কলেজভিত্তিক কর্মসূচি। ক্লাস ফাইভ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং অভিভাবকেরা এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার গুরুত্ব বুঝানো হবে এবং এ পেশায় আসতে উত্সাহ দেয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞানমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে সবাইকে আরো বেশি সচেতন করা যাবে।’ নারী ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন ডব্লিউআইইয়ের বার্ষিক সদস্য ফি ২৫ ডলার। অধ্যয়নরত ছাত্রী এবং জীবন সদস্যের জন্য কোনো ফি লাগে না।

 

বাংলাদেশে ডব্লিউআইই প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মাথায় আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন ড. সেলিয়া শাহনাজ। এশিয়া প্যাসিফিক জোনে ডব্লিউআইইয়ের ২৫টি শাখা রয়েছে। ২০১৩ সালে এশিয়া প্যাসিফিক জোনে তিনি আইট্রিপলই রিজিয়ন— ১০ উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনাল ভলান্টিয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ বছরের মার্চ মাসে মালয়েশিয়াকে পুরস্কার দেয়া হবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ। বাংলাদেশে ডব্লিউআইইয়ের অগ্রযাত্রা আমাদের আশান্বিত করবে।

 

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম/২৭জানুয়ারী২০১৪

মির্জাপুরে গার্মেন্ট কর্মীকে গণধর্ষণ

images (1)মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা, অপরাজিতাবিডি ডটকম: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুর্বৃত্তরা এক গার্মেন্টকর্মীকে রোববার রাতে তার চাচার কাছ থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে। পুলিশ ওই গার্মেন্টকর্মীকে উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ লিটন নামে এক টেম্পুচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, রাত পৌনে ৩টার দিকে ওই গার্মেন্টকর্মী তার চাচার সঙ্গে বাসযোগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের হাঁটুভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নামেন। এ সময় উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের পিকআপভ্যানের চালক জালাল ও তার সহযোগী সৈয়দপুর গ্রামের জনি, ক্যাডেট কলেজ এলাকার মৃদুল, হাঁটুভাঙা এলাকার মুরাদ, মাটিয়াখোলা গ্রামের লিটন এবং কামারপাড়া গ্রামের জাহিদ ওই গার্মেন্টকর্মীকে তার চাচার কাছ থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি স’মিলে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

এ ঘটনা জানতে পেরে প্রহরীরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ অচেতন অবস্থায় ওই গার্মেন্টকর্মীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ লিটন নামে এক টেম্পুচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রশিক্ষণে মেয়েরাও পারে এগিয়ে যেতে

female pilotঅপরাজিতাবিডি ডটকম: এ যুগে মেয়েদেরও পড়াশোনার বিষয় পছন্দে উন্নত ক্যারিয়ার ও চাকরির বাজার বিবেচনায় রাখতে হয়। এক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রেখে লেখাপড়া করতে হয়। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা উচিত যেন উচ্চডিগ্রিটি পুরো বিশ্বে সমাদৃত ও গ্রহণযোগ্য হয়। অনেকেই চান লেখাপড়ার বিষয়টি যেন চাকরি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বিশেষ করে সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই চাকরির অফার আসতে শুরু করুক এমন কোর্স করার কথা ভাবেন। মেয়েদের পছন্দের এই গুরুত্বের সাথে মিল রেখে ক্যারিয়ার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ আশা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করার।

এই মুহূর্তে এভিয়েশন সেক্টরে বিপুল দক্ষ লোকের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জনবল সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ক্যারিয়ার গড়ে তোলার এটাই আদর্শ সময়। আজকাল অভিভাবকরা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে হিমশিম খেয়ে যান। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে ৪ বছরে ১০-২০ লাখ টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেও ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন, সেখানে এসএসসি/‘০’ লেভেলের পর ৪ বছরে অনার্স ডিগ্রি করতে পারেন কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল, ১৮ মাস লেভেল-৫ এবং ১ বছর ইউকে’তে কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে টপ আপ বিএসসি করতে হবে। আর এসব ভিন্নমাত্রার পেশায় সফলতার হার অনেক বেশি। এভিয়েশন সেক্টরে রয়েছে চাকরির বিশাল সম্ভাবনা। সরকারি ও বেসরকারি দুই জায়গাতেই চাকরির ক্ষেত্র বিদ্যমান। এছাড়া বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সে যোগ্যতা অনুযায়ী ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তো রয়েছেই।

ছোটবেলা থেকেই মাহফুজার ইচ্ছা ছিল অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ২০০৮ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়। এখান থেকে ২ বছর ব্যাচেলর ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর সে বর্তমানে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ইউএসএ’র বিখ্যাত উইশিটা ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে।

ডা. হাকিকুর রহমানের মেয়ে সাওসান রহমান ২০০৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়। এখান থেকে হায়ার ন্যাশনাল ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সে বর্তমানে পর্তুগালের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েরা ইনটেরিয়রে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছে।

খরচ : এ ক্ষেত্রে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল করতে সর্বমোট খরচ পড়বে ৩,০০,০০০ টাকা, ১৮ মাস লেভেল-৫ করতে সর্বমোট খরচ পড়বে ৫,৫০,০০০ টাকা এবং ১ বছর ইউকে’তে কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে টপ আপ বিএসসি করতে কিংস্টন ইউনিভার্সিটির ১ বছরের টিউশন ফি দিতে হবে। তবে টিউশন ফি সেমিস্টার ওয়াইজ পে করতে হবে। আরও বিস্তারিত জানতে— উত্তরা সেক্টর-১১, রোড-০২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ঢাকা। ফোন : ৮৯৯১৩৭১।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি অথবা ‘ও’ লেভেল পাস করার পর এইচএসসি অথবা ‘এ’ লেভেল পাস করতে ২ বছরের অধিক সময় লাগে। তারপর বুয়েট কিংবা অন্য কোথাও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কমপক্ষে ৪/৫ বছর লাগবে। সুতরাং একজন শিক্ষার্থীকে সর্বমোট ৭/৮ বছর সময় দিতে হচ্ছে চাকরি পাওয়ার পূর্বেই এবং সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সেভাবে জব পাওয়া সহজলভ্য হয় না। অন্যদিকে একজন শিক্ষার্থী অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে থাকা (ফাইনাল ইয়ার) অবস্থাতেই চাকরির নিশ্চয়তা রয়েছে।


্রতিবেদক-অপরাজিতাবিডি ডটকম/২১জানুয়ারী২০১৪

এই শীতে যত্ন নিন ঠোঁটের

03_43135অপরাজিতাবিডি ডটকম: শীতে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, চামড়া ওঠা সাধারণ ব্যাপার। এসব সমস্যা সমাধানে বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের লিপজেল, চ্যাপস্টিক, লিপগ্লস ইত্যাদি। তবে এসব ঠোঁটের জন্য কতটা উপকারী সেগুলো নিয়ে আমাদের আয়োজন

 

যত্ন

দুধ, মধু ও গোলাপের পাপড়ির পেস্ট তৈরি করে রাতে ঠোঁটে লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে লিপজেল লাগান। এই ম্যাসাজ এক দিন পর পর করা ভালো। এতে ঠোঁট নরম ও কোমল থাকবে। তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায়। এ ছাড়া শীতে ঠোঁটের কোমলতা রাখতে যা করতে পারেন-

* গোসলের আগে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হবে।

* শীতে ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে উপকারী হচ্ছে গ্লিসারিন ব্যবহার।

* কিছুক্ষণ পর পর চ্যাপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। লিপজেলও ব্যবহার করতে পারেন।

* পার্টিতে লিপস্টিক ব্যবহার করলে অবশ্যই তার ওপর লিপগ্লস ব্যবহার করতে হবে।

* বাজারে কিছু কালার চ্যাপস্টিক পাওয়া যায়। পার্টিতে কালার চ্যাপস্টিক ব্যবহার করলেও তার সঙ্গে লিপগ্লস ব্যবহার করতে হবে। না হলে মেকআপের টানে এবং শীতের রুক্ষতায় ঠোঁট শুকিয়ে যাবে।

* শীতে ঠোঁটের কোমলতার জন্য চ্যাপস্টিক, লিপজেল, অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন, লিপগ্লস ইত্যাদি যা-ই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা যেন অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের হয়।

* কখনোই নিজে নিজে চামড়া ওঠানো যাবে না। এতে ঠোঁট থেকে রক্ত ঝরা শুরু হবে এবং ফাটা দাগ বসে যেতে পারে। চ্যাপস্টিক, লিপজেল ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে ঠোঁটের ফাটা চামড়া নরম হয়ে এমনিতেই উঠে যাবে।

* প্রতি রাতে বিট অথবা লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে লাগালে কালো দাগ দূর হতে পারে।

* ঠোঁটে ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে মাখন লাগানো যেতে পারে, যা ত্বক ফাটা দূর করে ও নরম রাখে।

 

শুষ্ক ঠোঁট

* ভালো মানের লিপস্টিক অনেক সময় ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে। এ ক্ষেত্রে লিপস্টিকের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

* টুথপেস্টের কারণেও অনেক সময় ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। এ রকম হলে টুথপেস্ট বদলে ফেলুন। সাদা রঙের টুথপেস্ট সাধারণত ঠোঁটের জন্য ভালো ।

* সাবান ও ফেসওয়াশ ঠোঁটে লাগাবেন না।

* সূর্যমুখীর তেল শুষ্ক ঠোঁটের জন্য ভালো। এটি দিনে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ভ্যাসলিন লাগাতে ভুলবেন না।

* শুষ্ক ঠোঁটে কখনোই ম্যাট লিপস্টিক লাগাবেন না।

* ঠোঁটের লিপস্টিক তুলতে তুলায় ভ্যাসলিন লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

বৈবাহিক জীবনে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ

1131979732_5125cce200_o_38845মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জসিম: মহান আল্লাহতায়ালার অগণিত রহমতের মধ্যে দাম্পত্য জীবন এক সমুজ্জ্বল মহিমায় মহিমান্বিত রহমত। মহান আল্লাহতায়ালা মানব জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করলেও মানুষের জৈবিক চাহিদাকে উপেক্ষা করেননি। তিনি তাদের হৃদয় বৃত্তির কথা বিবেচনায় রেখে বৈবাহিক জীবনধারার বিধান রেখেছেন। আর দাম্পত্য জীবন সার্থক করতে সহধর্মিণী নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে দিয়ে দাও; যদি তারা দরিদ্র হয়, তাহলে আল্লাহতায়ালা তাদের নিজ অনুগ্রহে সচ্ছল করে দেবেন। মহান আল্লাহতায়ালা প্রাচুর্যময় এবং সর্বজ্ঞ। (সূরা আল-নূর : আয়াত-৩২)

স্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, চারটি কারণে রমণীকে বিবাহ করা হয়ে থাকে। তার সম্পদ থাকার জন্য, বংশ মর্যাদার কারণে, সৌন্দর্য ও ধর্মভীরুতার জন্য। তবে তুমি ধর্মভীরু রমণীকে বিবাহ করে ভাগ্যবান হও। অন্যথায় তোমার হাত দুটি ধুলোময় হবে (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসয়ি, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সব জিনিসই আনন্দের সম্পদ, এর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট আনন্দের সম্পদ হলো সতীসাধ্বী স্ত্রী। (মুসলিম-১৪৬৮) হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বিয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করতে আদেশ করতেন আর বিয়ে বর্জন করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। আরও বলতেন, তোমরা এমন সব রমণীকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ কর; যারা প্রেম প্রণয়নী প্রিয়া ও বেশি সন্তান প্রসব করার অধিকারিণী হয়। কেননা আমি তোমাদের নিয়ে কিয়ামতের দিনে নবীগণের কাছে আমার উম্মতের আধিক্যের গর্ব প্রকাশ করব। (আহমাদ : ২৪৫)

বিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রী নির্বাচনের জন্য অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে- নারীদের মধ্যে থেকে কুমারীদের বিয়ে কর। কেননা তাদের গর্ভ অধিক উর্বর, তাদের মুখ অধিক সতেজ এবং তারা অল্প উপকরণে বেশি খুশি। (ইবনে মাজাহ) এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একজন ভালো স্বামী এবং ভালো স্ত্রীর ঘর নিঃসন্দেহে সুন্দর ঘর তৈরির প্রধান উপকরণ। পবিত্র কোরআনে উপমার মাধ্যমে উপরোক্ত কথার সত্যতা প্রতীয়মান। যেমন বলা হয়েছে- একটি ভালো জমিন আল্লাহর হুকুমে পর্যাপ্ত বৃক্ষলতা জন্মদান করে, কিন্তু দূষিত বৃক্ষ অপর্যাপ্ত উৎপাদন করে। (সূরা আ’রাফ : ৫৮) মহান আল্লাহতায়ালার রহমতে আমাদের সবারই দাম্পত্যজীবন সুখী ও সমৃদ্ধশালী হোক। আমিন, ছুম্মা আমিন। সূত্র: ওয়েবসাইট

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/২১জানুয়ারী২০১৪

আলুর জিলাপি

alur-jilebi-150913-b-kagoj_38983উপকরণ:
– সেদ্ধ আলু ১ কাপ
– ময়দা ১ কাপ
– গুড়া দুধ ৬ টেবিল চামচ
– ঘি ৬ টেবিল চামচ
– বেকিং পাউডার সিকি চা চামচ
– তরল দুধ ১ কাপ
– ভাজার জন্য পরিমাণ মতো তেল

 

 

সিরার জন্য:
– চিনি ৩ কাপ
– পানি ২ কাপ
– গোলাপজল সামান্য
পানির সঙ্গে চিনি জাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিতে হবে।

 

প্রণালী:
তরল দুধ চুলায় বসিয়ে বলক এলে ময়দা দিয়ে সেদ্ধ খামির তৈরি করে নিন। এবার সেদ্ধ ময়দার সঙ্গে আলু এবং গুড়া দুধ একসঙ্গে ভালো করে মেখে নিন। এবার পরিমাণমতো খামির নিয়ে লম্বা চিকন করে ৮-৯ ইঞ্চির মতো লম্বা করুন। গোল করে পেঁচিয়ে ডুবো তেলে ভেজে হলে সিরায় ৫ মিনিট রাখুন। পরিবেশন ডিশে রেখে গরম গরম পরিবেশন করুন।
-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

উলের উষ্ণতায়

alaaঅপরাজিতাবিডি ডটকম: প্রকৃতিতে এখন শীতের দাপট। রাতে হালকা শিশিরে ভিজে যাচ্ছে পথঘাট। ভোর আর রাতের বেলায় দেখা মেলে কুয়াশারও। শীতে উষ্ণতার জন্য দরকার একটু বাড়তি কাপড়চোপড়। এ ক্ষেত্রে সবার প্রথম পছন্দ উলের কাপড়।

এমনিতেই ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে শীতকাল একটি আকর্ষণীয় ঋতু। প্রয়োজন আর শখ মিলে উপভোগ্য হয়ে ওঠে শীতের পোশাকের সমাহার। এ ক্ষেত্রে মেয়েরা একধাপ এগিয়ে। সেক্ষেত্রে বরাবরের মতো উলের পোশাকের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। সাথে রয়েছে ডিজাইনের বৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে উলের উষ্ণতায় এবারের শীত কাটবে একটু ভিন্ন সৌন্দর্য নিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে এখন একেবারে বেসিক উল নিটেড পোশাকের চেয়ে মিক্স স্টাইল পোশাকই বেশি চলছে। এসব সোয়েটারে জ্যাকেটের মতো জিপার বা হুড আছে। একরঙা বা স্ট্রাইপের গোলগলা উলের সোয়েটারেরও চাহিদা রয়েছে বেশ। সেই সাথে ফ্যাশনেবল হওয়ার জন্য উলের শাল, মাফলার, টুপি ইত্যাদিও বেশ বাজার মাত করছে।

উল উদ্ভাবিত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১০ হাজার বছর আগে। অনেকের মতে, আরবের যাযাবররা এটিকে ইউরোপে নিয়ে যায়। কারও কারও মতে, এটি এসেছে পারসিয়ানদের কাছ থেকে। সর্বশেষ ধারণা, উলের তৈরি পোশাকের উত্পত্তি খ্রিস্টের জন্মের পূর্বে, মধ্যপ্রাচ্যে এবং এটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মাধ্যমে ইউরোপে বিস্তৃত হয়েছে। উলের ব্যবহার সম্পর্কে প্রথম জানা যায় ইরানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে। সম্ভবত লৌহযুগে হাতে তৈরি উলের পোশাকের প্রচলন হয়। রোমান যুগে উল, লিনেন ও চামড়ার পোশাকের প্রথম প্রচলন ঘটে ইউরোপে। মধ্যযুগে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উলের ব্যবসা শুরু হয়। ইংল্যান্ডে প্রথম উল ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠিত হয় ৫০ খ্রিস্টাব্দে উইনচেস্টারে রোমানদের দ্বারা। ১৭৯৭ সালে ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ায় ১৩টি মেরিনো ভেড়া নিয়ে একটি উলের ফ্যাক্টরি তৈরি করে। এই মেরিনো ভেড়ার লোম থেকেই তৈরি করা হয় সবচেয়ে উন্নত উল এবং তাতে তৈরি হয় পাতলা উলের পোশাক। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় উল উত্পাদক দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। উলের পোশাকের আবির্ভাব শীতপ্রধান দেশে উষ্ণতা প্রদানের লক্ষ্যে হলেও ফ্যাশনেবল প্রোডাক্ট হিসেবে এর যাত্রা শুরু ১৯ শতকে। প্রথম এমনটি দেখা যায় ১৮২৪ সালে ডাচ ম্যাগাজিন পেনিলোপি, যা ছিল উলের ক্রোসেট প্যাটার্নে তৈরি। পোশাক ছাড়াও উলের তৈরি লেইস ১৯ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্সে প্রচলিত হয় এবং ১৮০০ সালে তা চীন, ইরান, উত্তর আফ্রিকা, ভারতসহ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে উলের পোশাক হাতে বোনা হলেও পরবর্তীকালে মেশিন আবিষ্কারের ফলে অনেক জটিল প্যাটার্নের পোশাক তৈরি সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়।

এবারের আয়োজন

এ বছরের ফ্যাশন ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে ফাইন উলের নানা রঙের কোট, মেয়েদের পোশাকে বিভিন্ন ধরনের নেকলাইন যেমন—হাইনেক, কলার, বোটনেক, কাউলনেকের সোয়েটার, পুলওভার, এ লাইন কার্ডিগান, জ্যাকেট, পঞ্চ আকৃতির শাল ইত্যাদি। সব ক্ষেত্রেই পোশাক কিছুটা বেশি লম্বা। কোমরের শেপ কিছুটা কম এবং খানিকটা ঢিলেঢালা। এ ছাড়া ছেলেদের সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট বা কোটের আধিপত্য; তবে সোয়েটার, কার্ডিগানে কলার, ইউ নেক ও ভি নেক এবং জ্যাকেটে রাউন্ড নেকের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বোতামের ব্যবহারও। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রিন্টের ব্যবহার। এ ছাড়া উলের তৈরি নানা রকমের স্কার্ফ, মাফলার, টুপি, মোজা, গ্লাভস তো থাকছেই। এবারের শীতের পোশাকে গাঢ় রঙের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া সাদা, কালো, অ্যাশ—এ ধরনের রং তো থাকছেই।

যত্নআত্তি

শীতে উলের কাপড়ের জন্য চাই বাড়তি যত্ন। কীভাবে এ ধরনের কাপড়ের যত্ন নেবেন আসুন জেনে নিই।

 উলের জামা স্টোর করার সময় ভাঁজ করে না রেখে ঝুলিয়ে রাখুন।

 উলের পোশাকে ভাঁজ পড়লে হালকা গরম পানিতে রাখুন, তারপর ঝুলিয়ে রাখুন। দেখবেন ভাঁজ আর নেই।

 পরপর দু’দিন এক উলের জামা-সোয়েটার টুপি পরবেন না। অন্তত ২-৩ দিন পর পর উলের পোশাক ব্যবহার করুন।

 উলের পোশাক ওয়াশিং মেশিনে কাচবেন না।

 বাড়িতে কাচতে না পারলে লন্ড্রিতে দিয়ে দিন, এতে ভালো হবে। তারা জানে কীভাবে কাচতে হবে।

 বছরের একবারের বেশি উলের পোশাক ড্রাইক্লিন করতে দেবেন না।

উলের পোশাকগুলো ছায়ায় নেড়ে দিন, সরাসরি রোদে শুকাতে দেবেন না।

ইস্ত্রি করার সময় উলের পোশাক উল্টে নিন।

 এয়ারকন্ডিশন রুমে উলের পোশাক রাখতে হলে ড্রাইক্লিন করে রাখবেন।

উলের পোশাকে রঙের কারণে আলাদা আলাদা পাত্রে রেখে কাচবেন। এতে রং ভালো থাকবে।

ঘামের দাগ বসতে দেবেন না। ঘেমে যাওয়া অংশ বাড়ি ফিরেই গরম পানি আর ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংরক্ষিত আসনে সাত এমপিপ্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ

image_721_103771অপরাজিতাবিডি ডটকম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীরা দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই ৭ নেত্রী দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। রোববার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবেন। প্রার্থীরা সাক্ষাৎকারের আগেই ঢাকায় অবস্থান করে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যসহ শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

যারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জোবেদা খাতুন পারুল, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় প্রতিপক্ষের হাতে নিহত প্রয়াত এ কে এম ইকবাল আজাদের পত্নী উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা সভানেত্রী মিনারা আলম, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রেহেনা বেগম রানী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীরের পত্নী নায়ার কবির, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বাশার ও সরাইল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

পরে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সিট ভাগাভাগির কারণে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে শিউলী আজাদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা সভানেত্রী মিনারা আলম দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রী। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি মাঠে থাকেন। নায়ার কবির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ) জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। তিনি আশা করেন দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

রূপচাঁদার নানা রুপ

শুধু চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার নয়, রূপসী রূপচাঁদার কদর পুরো দেশ জুড়ে। দামটা বেশ চড়া হলেও বাঙালির রসনা বিলাসে রূপচাঁদা বেশ শক্তপোক্ত একটা স্থান নিয়ে আছে। দেওয়া হলো রূপচাঁদার ভিন্নধর্মী এবং দারুণ মজার দুটি রেসিপি।

 ruposhi chad

দোপেঁয়াজা রূপচাঁদা

উপকরণ:
– মাছ ১ কেজি

– পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ

– হলুদ গুঁড়ো পরিমাণমতো

– ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ

– জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ

– আদা বাটা আধা চা চামচ

– রসুন বাটা আধা চা চামচ

– জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়ো পরিমাণমতো

– মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ

– কাঁচামরিচ ৫-৬টি

– তেল আধা কাপ

– লবণ স্বাদমতো।

 

প্রণালী:
পেঁয়াজ হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। মাছটাও হালকা করে ভেজে নিন। একই তেলে জিরা গুঁড়ো ছাড়া বাকি মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে মাছ দিন। পরিমাণমতো পানি দিয়ে মাছ কষান। কাঁচামরিচ ও জিরা গুঁড়ো দিন। মাখা মাখা হলে নামিয়ে ভাত বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

চাইনিজ সসে রূপচাঁদা

 

উপকরণ
– রূপচাঁদা মাছ ২টি

– ফিশসস ১ চা চামচ

– টমেটো সস ২ টেবিল চামচ

– গুঁড়োমরিচ ১ চা চামচ

– তেল কোয়ার্টার কাপ

– ওয়েস্টার সস ১ চা চামচ।

 

প্রণালী
মরিচ গুঁড়ো ও সমস্ত সস মাখিয়ে (টমেটো সস বাদে) মাছ ১০ মিনিট মেরিনেশনে রাখুন। ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে মাছ ফ্রাই করুন। সব শেষে গরম মাছে ১ টেবিল চামচ টমেটো সস মাখিয়ে পরিবেশন করুন।

কার্টুন থেকে শিশুরা কী শিখছে

রাহনুমা সিদ্দীকা:

images[১]
চার বছরের ছোট্ট মাহাদী জন্মদিনে দাবি করলো ওকে সুপারম্যানের পোশাক কিনে দিতে হবে। বাবা যথাসময়ে উপহার কিনে আনলেন। আজ সকালে হলো কি, হঠাৎ বেড রুম থেকে মাহাদীর তীব্র চিৎকার ও কান্না শুনে আম্মু দৌড়ে এসে ঘটনা দেখে থ হয়ে গেলেন। মাহাদী আলমিরার পাশে শুয়ে শুয়ে কাঁদছে গায়ে সুপারম্যানের পোশাক। তাড়াতাড়ি ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো মাহাদীকে। রিপোর্ট হলো পায়ের দুটো আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে গেছে। মাহাদী আম্মুকে বলছে, “সুপারম্যান ড্রেস পড়ে লাফ দিলে তো পড়ে না। আমি কেন পড়ে গেলাম আম্মু?”

[২]
ওমায়রা ছয় বছরের ছোট্ট সোনা মেয়ে। সারাদিন লক্ষ্মীসোনা হয়ে থাকে, পড়ার সময় পড়ে, খেলার সময় খেলে। কষ্টের কথা হলো এই সোনামণিটার আম্মু না ফেরার দেশে। ও বাবামণি আর ফুপুমণির সাথে থাকে। ফুপুমণি ক-মাস পরেই সিডনি চলে যাবেন ফুপামণির সাথে। বাবা তাই ঠিক করলেন ছোট্ট ওমায়রাকে বড় করবার জন্য ও নিজের একাকীত্ব কাটানোর জন্য ওমায়রার জন্য একটা মা নিয়ে আসবেন। ওমায়রাকে বলতেই ও চিৎকার করে বলে উঠলো, না না কক্ষণো না! এরপর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। বাবা খুব অবাক হলেন লক্ষ্মী ওমায়রার এই আচরণে। পরে আদর করে ওকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন এমন করলে আম্মু? তুমি কি চাও না তোমার একটা মা আসুক?
– না, আমি চাই না। স্টেপ মাদাররা খারাপ হয়।
– কে তোমাকে বলেছে যে স্টেপ মাদাররা খারাপ হয়?
– কেউ বলে নি, আমি জানি। সিন্ডারেলার স্টেপ মাদার খারাপ ছিলো, স্নো হোয়াইটের স্টেপ মাদার খারাপ ছিলো, স্লিপিং বিউটির পঁচা স্টেপ মাদার ছিলো, সব স্টেপ মাদাররা খারাপ, সব খারাপ! আমার স্টেপ মাদার আসলেও আমাকে মেরে ফেলতে চাইবে।

[৩]
নাঈম অসম্ভব দুষ্টু, জেদী- একরোখা ধরণের পিচ্চি। পড়াশুনায় একদম মন নেই। সারাক্ষণ কার্টুন নেটওয়ার্ক অথবা ডিজনী চ্যানেলের সামনে বসে থাকে। ওর প্রিয় কার্টুনগুলোর মধ্যে আছে পোকেমন, DragonBallZ, টম অ্যান্ড জেরি, স্কুবি ডু, ডোরেমন ইত্যাদি। কাল স্কুলের মিস নাঈমের মায়ের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, নাঈম ওর বন্ধুদের সাথে মারামারি করে কাজলের চশমা ভেঙ্গে ফেলেছে ও খামচি দিয়ে রক্ত বের করে ফেলেছে। শাস্তি স্বরূপ মা ওর টিভি দেখা বন্ধ করে দিলেন। সে এতটাই কার্টুনে নেশাগ্রস্ত তারপর ওকে শান্ত করাই মুশকিল হলো, অবশেষে যখন ভাঙচুর করা শুরু করলো মা বাধ্য হয়ে হার মানলেন।

[৪]
নুসাইবা একটা ইংলিশ মিডিয়াম ইস্কুলে স্ট্যান্ডার্ড থ্রিতে পড়ে। ওদের ক্লাসে আজকে একটা খুব পঁচা ঘটনা ঘটে গেছে। নুসাইবা আম্মুকে বলে দিয়েছে আর কোনদিন স্কুলে যাবে না। কী হয়েছে জানতে চাইলে। ও বললো ক্লাসের দুষ্টু ছেলে ইকরা টিফিন ব্রেকে সবার সামনে ওকে Lip kiss করে বলেছে এটা হলো True Love’s kiss, নুসাইবা এখন থেকে সবসময় Princess Giselle এর মতো ইকরাকে love করবে। “এটা একটা লজ্জার কাজ, তাই না মা?” মা হতভম্ব হয়ে গেলেন।

শহুরে জীবনে মা-বাবার পেশাগত ব্যস্ততার কারণে এবং বিকল্প বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা না থাকায় এ যুগের বাচ্চাদের Baby Sitter বলা যায় কার্টুনকে। উপরের কেস স্টাডিগুলো লক্ষ্য করুন, বাচ্চাদের নিয়ে এইসমস্যাগুলো কম-বেশি আমরা সবাই face করি। কার্টুনের ভালো-মন্দ বিতর্ক খুব নতুন কিছু নয়। সারা বিশ্বে এ নিয়ে বহু বিতর্ক প্রচলিত। বাংলাদেশে এখনো সচেতনতার বড় অভাব। তাই লেখার প্রয়োজনবোধ করছি।

 

কল্পণা ঘোড়ার লাগাম ধরেছি কি?
প্রথমেই বলে রাখা ভালো আমি কার্টুনের ভালো দিকগুলো অস্বীকার করছি না। রূপকথাগুলোরও অনেক advantage আছে। কিন্তু সেগুলো কোনটাই অবিমিশ্র ভালো নয়, বাবা-মায়েদের তার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। Fantasy আর Fairy Tales ততক্ষণ পর্যন্ত আদরণীয় যতক্ষণ তা শিশুকে নির্মল আনন্দের পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা দিচ্ছে, এবং শিশু মনে Over Obsession তৈরি না করছে। কেননা, শিশুরা যখন কার্টুনে প্রদর্শিত জগৎ ও বাস্তবের মাঝে যখন মিল খুঁজে পায় না, তখন ওদের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতা তৈরি হয়।
১নং কেস স্টাডিটা লক্ষ্য করুন, শিশুটি যে সবে আর্লি চাইল্ডহুড অতিক্রম করছে (১- ৬ বছর) ফ্যান্টাসি এবং বাস্তবতার পার্থক্য করতে পারবে না সবসময়। কার্টুনের অবাস্তব ও আধা-বাস্তব জগৎকে সে বিশ্বাস করবে শুরু করবে এর ফলে ঘটে যেতে পারে এমন বিপদ।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে কুপ্রভাব
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ফলিত উন্নয়ন মনোবিজ্ঞান বিভাগের মনোবিজ্ঞানীরা একটি সার্ভে করেছিলেন ৯৫ জন মেয়ে শিশুকে নিয়ে। তাদের প্রিয় টিভি শো-গুলো একটা তালিকা তৈরি করেছিলেন। যেখানে দেখা যায়, মাত্র সাত বছর ও তার কম বয়েসী অনেক শিশুর পছন্দের তালিকায় কিছু হাই লেভেলের ভায়োলেন্ট কার্টুন শো ছিলো। তারা ওই কার্টুনগুলো নিয়ে গবেষণা করে বলেন, সাধারণ টিভি শো-গুলো থেকেও বাচ্চাদের কার্টুনগুলোতে সহিংসতা অনেক বেশি দেখানো হয়। তারা সহিংস ভিডিও গেম, কার্টুনগুলোকে শিশুর আগ্রাসী চিন্তা, আচরণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রফেসর ডগলাস জেন্টাইল এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ৯০এর দশকের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ম করা হয় -টিভি চ্যানেলগুলো তাদের কার্টুনে কী কী দেখাচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেবে। একটি রেটিং সিস্টেমও চালু করা হয় যাতে কার্টুনে ভায়োলেন্সের মাত্রা নিরুপন করা যায়।

Bowling Green State Universityর মনোবিজ্ঞানীরা জাপানে শিশুদের মধ্যে করা একটি গবেষণার পর বলেছেন যে শিশুরা নিয়মিত কার্টুন দেখে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুনে বেশি। তারা একটি বিশেষ কার্টুনকে বেছে নিয়েছিলেন গবেষণার জন্য, এবং সেটি বাংলাদেশেও প্রচারিত -পোকেমন-। তারা পোকেমনকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সহিংস কার্টুন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা এসব শারীরিক ও মানসিক কুপ্রভাব মুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের জোর দেন শিশুর বিনোদনে ভারসাম্য আনতে, শিশুর নিয়মিত শরীর চর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি।
আমি একটাও টম অ্যান্ড জেরি এপিসোড দেখি নি যেখানে ভায়োলেন্স নেই, এই কার্টুনগুলো শিশুকে সহিংস, অস্থিরচিত্ত করে তোলে। ৩নং কেস স্টাডির ঘটনাটা বাংলাদেশের অনেক মায়েরই উৎকন্ঠার কারণ।

অতিমাত্রায় কার্টুন দেখার ফলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে– স্থুলতা, চোখে সমস্যা, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, আচরণে ভারসাম্যের অভাব, অমনোযোগ, অতি কল্পণা, বিষণ্নতাসহ নানান সমস্যা। কার্টুনে আসক্ত শিশুদের অসামাজিক ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হতে দেখা যায়।

কুসংস্কার ও বিজাতীয় অপসংস্কৃতিঃ মাধ্যম যখন কার্টুন
দেশের কৃষ্টি- ইতিহাস বহন করে Folklore বা Folktaleগুলো। কিন্তু এগুলোতে কি সবসময় শিশুমননের উপযোগী contents থাকে? বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমি ঠাকুরমার ঝুলির ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাই। বাংলায় প্রচলিত কুসংস্কার কী কী এটা বের করতে চাইলে ঠাকুরমার ঝুলি নিয়ে গবেষণা করাটা সবচেয়ে সহজ উপায়। অথচ, এই কুসংস্কারগুলো আমরা অবলীলায় শিশুদের সামনে দিনের পর দিন প্রচার করে যাচ্ছি। ঠাকুরমার ঝুলিতে ওইসব সংস্কারগুলোকে ও অলৌকিক বিশ্বাসগুলোকে (বিশেষতঃ সনাতন হিন্দু সমাজের) মোটেই মন্দরূপে দেখায় না। গল্পগুলোতে মেয়েদেরও চরম অবমাননা করা হয়। কিন্তু পাশাপাশি ঠাকুরমার ঝুলি গল্পে গল্পে কিছু morality শিক্ষা দেয়। শিশুকে ঠাকু’মার ঝুলি যদি দেখতে দিতেই হয়, তাহলে নিজে আগে দেখে, বেছে দিবেন।

ফ্যাশন আইকন বারবি। বাংলাদেশের তার আগমনের প্রায় দুইযুগ হয়ে গেছে। বারবির কোনো ড্রেসকে আপনার কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে হবে না, হয় কি? আলাদীনের ডিজনি প্রিন্সেস জেসমিনকে দেখে আমার পরিচিত এক শিশুর প্রথম বাক্য ছিলো, “ ছিঃ ছিঃ ওর ভালো জামা নেই?” তখন ওর বয়স তিন। এখন সে কিন্তু অভ্যস্ত হয়ে গেছে দেখতে দেখতে।

নিজ সংস্কৃতি কিংবা অন্য সংস্কৃতির ভালো কিছু শিখলে শিখুক, কিন্তু এই বাজে দিকগুলোর অনুপ্রবেশ কি গ্রহণীয়?

 

কার্টুন যখন শিশুর সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যম
বাংলাদেশে এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ডিজনি- পিক্সার নির্মিত এনিমেটেড মুভিগুলো। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ৯০% ডিজনি কার্টুন মুভিগুলো স্রেফ প্রেম-ভালোবাসার গল্প। সুন্দর এনিমেশন, গান, দারুণ সংলাপের কারণে শিশুদের তো অবশ্যই বড়দেরও মন জয় করে নেয়।
গ্রিম ভাইদের সেই বিখ্যাত রাপুনজেলের কাহিনী নিয়ে তৈরি Tangled কার্টুন মুভিটা দেখছিলাম একদিন স্টার মুভিজে। আমার ক্লাস থ্রি পড়ুয়া ছোট বোন ওটা আগে দেখলেও আমি ওদিনই প্রথম দেখছিলাম। হঠাৎ করে মাঝখান দিয়ে সে চ্যানেল পালটে দিয়ে বলে যে আর দেখা লাগবে না। অন্য কিছু দেখি। আমি বললাম, “কেন?” এমন কি আছে ওখানে আমি দেখবো-ই। সে কোনভাবেই দেখাবে না। আমি বুঝলাম এমন কোন দৃশ্য আছে যা সে ওর বড় বোনকে দেখাতে চায় না। আমি Tangled পুরোটা দেখেছি পরে। প্রেম…. আর সেই চিরকালীন Lost and Found থিমে বানানো একটা মুভি, অথচ কী বিশাল বানিজ্য করলো! মিউজিক ও এনিমেশন অসাধারণ স্বীকার করতেই হয়।

বড়দের নাটকে- মুভিতে না হয় নির্মাতারা প্রেম ছাড়া আর কোন বিষয়বস্ত খুঁজে পায় না (!), ছোটদের মুভিগুলোরও এ অবস্থা কেন? অনেক কার্টুন মুভিতে নায়িকাদের শিশু নয় বরং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখায়, যেখানে তার Lover হিসেবে একজন প্রিন্স চার্মিং (or whoever) থাকে।
ঘরে ঘরে দারুণ জনপ্রিয় টম এন্ড জেরি– সেখানেও দেখুন, টমকে প্রায় প্রতিটা এপিসোডেই দেখা যায় টুডলসকে (টমের গার্লফ্রেন্ড) বা পাশের বাড়ির অন্য কোন মেয়ে বিড়ালকে আকৃষ্ট করার জন্য নানা হাস্যকর কাজকর্ম করতে। ডোরেমনেও সেই একই ব্যাপার! নবিতার বান্ধবী সিজুকার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কত কী-ই না করে নবিতা। আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায়।
এসব দেখে দেখে কি আপনার বাচ্চাটা সেক্সুয়াল ওয়িয়েন্টেশন নিয়ে ফেলছে না? চার নম্বর যে কেস স্টাডিটা উল্লেখ করেছিলাম, এটা বর্তমানে বিরল নয় আশপাশে তাকালেই খোঁজ পাবেন।

 

বিকল্প কার্টুন ও কার্টুনের বিকল্প
Is there any way out? প্রশ্নের উত্তরে আসার আগে কিছু কথা বলি। উপরে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কার্টুনের যে কুপ্রভাবগুলোর আলোচনা করা হয়েছে তা সব শিশুর ওপরই সমানভাবে পড়বে না। আমরা জানি, শিশুর socialization এর অনেকগুলো প্রভাবক ও agent আছে। যেমনঃ তার পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বন্ধুবান্ধব প্রভৃতি এবং মিডিয়া। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ওপর মিডিয়ার প্রভাব অনেক অনেক বেশি। এজন্যই আমাদের এই কার্টুনের ভালো-মন্দ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

কল্পণাশক্তিই সৃষ্টিশীলতার মূল কথা, তাই শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে Fantasyর প্রভাব অসীম, তাছাড়া শুষ্ক জ্ঞানী আলোচনার কথা শিশুরা শুনতেও চাইবে না, সেদিক দিয়ে শিশুর বিনোদনে ও ভালো কিছু শেখাতে ভালো কার্টুন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অসংখ্য কার্টুনের থিম ও শিক্ষা বেশ চমৎকার যেমনঃ ওয়াল-ই, টিংকার বেল, বারবি থাম্বেলিনা, আইস এজ, আপ, ফাইন্ডিং নিমো ইত্যাদির। সবকিছুরই ভালো খারাপ দুটোই আছে সেহেতু অনেক কার্টুন পজিটিভ অনেক কিছু শেখাবে তার সাথে নেগেটিভটাও, তাদের আপেক্ষিক গুরুত্ব বুঝে কোন কার্টুনটা আপনার শিশুকে দেখতে দেবেন তা আপনিই ঠিক করবেন।

নব্বইয়ের দশকে অর্থাৎ আমার ছোটবেলায় অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলো ইউনিসেফের অর্থায়ণে তৈরি ‘মীনা’ কার্টুন। এর প্রত্যেকটি পর্বই অসাধারণ ছিলো। আশা পোষণ করছি, বাংলাদেশে অদূর ভবিষ্যতে কেউ বাচ্চাদের জন্য ওরকম কোন কোয়ালিটি কার্টুন বানাবে, যাতে আনন্দের পাশাপাশি সুন্দর করে সহজে একেকটা বিষয় শিখিয়ে দেয়া যায়। বিটিভিতে প্রচারিত সিসিমিপুরও অনেক শিক্ষামূলক-বিনোদনমূলক একটি অনুষ্ঠান। এই ক্ষেত্রটিতে সরকারের লক্ষ্য আরোপ করা খুব প্রয়োজন।

এ বিষয়ে একজন সচেতন অভিভাবক- শিবলী মেহেদী ভাই পেশায় একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফেসবুকে ‘শিশু লালন পালন’ নামে একটা চমৎকার গ্রুপ চালান। বলেন যে, “অনেক অনেক ভালো কার্টুন বানালেই কিন্তু বড় সমস্যার সমাধান হবে না। মা-বাবার সচেতনতা খুব জরুরী। আমরা কার্টুনের নেগেটিভ প্রভাব নিয়ে যতই আলোচনা করি না কেন তা ফলপ্রসু হবে না যদি না যারা আসল ভিকটিম অর্থাৎ শিশুদের সাথে আলোচনা না করি।”

বাচ্চার সাথে আলোচনা করাটা খুব ফলপ্রসু- যে ও কী দেখলো কী শিখলো- কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা বর্জন করা উচিত। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে সমস্ত পঙ্কিলতা থেকে আপনি আপনার শিশুকে হয়তো দূরে রাখতে পারবেন না কিন্তু ওকে শেখাতে পারবেন কীভাবে কাদায় থেকেও কাদা থেকে গা বাঁচিয়ে চলা যায়।
অধিক ভায়োলেন্ট কার্টুনগুলো শিশুকে দেখতে দেবেন না। অতিমাত্রায় কার্টুন আসক্ত শিশুকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে কাউনসেলিং করান একজন শিশুমনোবিজ্ঞানীর সাথে।

শৈশব থেকেই বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। খেলতে খেলতে বিজ্ঞান শেখা যায় এমন বই কিনে দিতে পারেন। বাচ্চাদের জন্য চমৎকার কিছু শিক্ষা-বিনোদনমূলক সফটওয়্যার (যেমনঃ মাইক্রোসফট এনকার্টা কিডস) পাওয়া যায় বাজারে সেগুলো কিনে দিতে পারেন। ইন্টারনেটে শিশুদের উপযোগী বহু ওয়েবসাইট আছে, ইউটিউবে প্রচুর মজার মজার Educative ভিডিও আছে। সংগ্রহ করতে পারেন বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ইকবাল কবীর মোহনের শিশুদের জন্য লেখা বইগুলো। বর্ণ-পরিচয় হিসেবে আপনার তিন-চার বছরের শিশুকে কিনে দিতে পারেন ফররুখ আহমদের ‘হরফের ছড়া’র (বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত) মতো বই। তাছাড়া বাংলা শিশুসাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ-সুকুমার-নজরুল থেকে শুরু করে এখনো অনেকেই লিখছেন চমৎকার সব শিশুসাহিত্য। আপনার শিশুর জন্য বই কিনুন।

টিভি নয় আপনার শিশুকে বইমুখী করুন। কার্টুন কম, গল্পের বই বেশী পড়তে দিন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন গল্প নয় ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গল্প বলুন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় নৈতিকতাগুলো শেখান। সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহ দিন। মূলকথা অনেক অনেক চেষ্টা করুন, তাকে সময় দিতে, তার বন্ধু হতে, আপনার শিশু আপনার সবচেয়ে দামী সম্পদ।

মনে রাখা দরকার আমাদের কিছু ঐতিহ্য আছে, কিছু মূল্যবোধ আছে। সেগুলোকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া, তা লালন করতে উৎসাহী করা আমাদেরই দায়িত্ব। স্বাস্থ্যকর খাবার, সুন্দর পোশাক আর ভালো স্কুলে পড়ানোর মাধ্যমে বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, শিশুর মনন গঠনে আপনাকেই সচেতন থাকতে হবে।

ক্যারিয়ার গড়ুন ব্রডকাস্ট মিডিয়ায়

image_99808অপরাজিতাবিডি ডটকম: সময়ের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন খাতে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। গত কয়েকবছরে এই ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে যেগুলো সকলের মনোযোগ অনেক বেশি কেড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মিডিয়ার প্রসার। সারাবিশ্বে তো বটেই, আমাদের দেশেও গত কয়েকবছরে মিডিয়ার প্রসার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। ফলে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অনেকেই এখন ঝুঁকে পড়ছেন মিডিয়ার দিকে। বিশেষ করে এসব বিষয়ে তরুণদের আগ্রহটাই বেশি। ব্রডকাস্ট মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ গণমাধ্যমকর্মী তৈরি করতেই পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স। এখান থেকে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করে একজন শিক্ষার্থী টেলিভিশন সাংবাদিক, উপস্থাপক, প্রযোজক, ভিডিওগ্রাফার, ভিডিও এডিটরসহ বৈচিত্র্যময় সব পেশাতে নিয়োজিত করতে পারে নিজেকে। আর গড়ে তুলতে পারে আধুনিক একটি ক্যারিয়ার।

এসব বৈচিত্র্যময় পেশার মধ্যে অনেকেই স্বাতন্ত্র্য ক্যারিয়ারও গড়তে পারেন। যেমন, আপনার হয়ত ইচ্ছা প্রামাণ্যচিত্র বানানো। সেটা কিন্তু ভিডিও ফরম্যাটেও হতে পারে কিংবা স্থিরচিত্রের মাধ্যমেও হতে পারে। এসব বিষয়ও পড়ানো হয় এখানকার ব্রডকাস্ট অ্যান্ড ক্রস মিডিয়া জার্নালিজম বিষয়টিতে। তাই এই বিষয়ে ভর্তি হয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উপরেও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

যারা ইতোমধ্যেই সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের জন্যও এই কোর্সটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোতে কর্মরতদের জন্য এই কোর্সটি অত্যন্ত উপযোগী। কারণ এই কোর্সে টিভি রিপোর্টিং ও ডকুমেন্টরি তৈরির কাজ যেমন শেখানো হয়, তেমনি ওয়েবসাইটের কাজও শেখানো হয়।

পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি মূলতই শিক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের পেশার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে থাকে। রেডিও বা টেলিভিশন—ব্রডকাস্টিং মিডিয়ায় মূল কাজটিই হলো গল্প বলতে পারার দক্ষতা। আর একজন শিক্ষার্থীর মাঝে সেই দক্ষতাটিই সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার কাজ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ৯১৩৩৯৩৮, ০১৭৮০৩৭৯৩৯৯ নম্বরে ফোন করে এই কোর্সটি সম্পর্কে আরও তথ্য জেনে নেওয়া যাবে।

বর্তমানে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে যে কোর্সগুলোর উপর প্রশিক্ষণ হচ্ছে, তা হলো ফিল্ম মেকিং, সিনেমাটোগ্রাফি বা ক্যামেরা অপারেশন, ভিডিও এডিটিং এবং সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। এই চারটি বিষয়ে তিন মাসের সার্টিফিকেট কোর্স করানো হচ্ছে। এখানকার ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষা পদ্ধতি, ক্লাস—সবই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী চলে। কোর্সটির মান নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ নেই। কেননা, এই কোর্সের কারিকুলাম তৈরিতে সহায়তা করেছে নেদারল্যান্ডসের ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্রডকাস্ট ও ক্রস মিডিয়া জার্নালিজমের পরবর্তী ব্যাচ শুরু হবে এই জানুয়ারি থেকেই। আগ্রহীরা এখনই আবেদন করতে পারবেন।

যোগাযোগ :পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমি, বাড়ি-৫৮, রোড-১৫/এ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা।
-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

ছোট ঘরে বাহারী সাজ

lightingবর্তমান যুগের ফ্ল্যাটবাড়িগুলোতে জায়গা নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। ঘরগুলো খুব ছোট হওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব আসবাব বসানো সম্ভব হয় না। আবার যারা নতুন সংসার শুরু করেন, তাদের পক্ষেও একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আসবাব কেনা সম্ভব হয় না বাজেট স্বল্পতার কারণে। কিন্তু বসার জন্য সোফা বা চেয়ার, শোয়ার জন্য খাট, খাওয়ার বা পড়ার জন্য টেবিলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু আসবাবের তো দরকার হয়ই। সে ক্ষেত্রে কী করা যাবে? কোনো চিন্তা নেই, ঘর বুঝে আসবাব ছাড়াও খুব কম খরচেই করা যেতে পারে শোয়া, খাওয়া ও বসার আয়োজন। শুধু প্রয়োজন একটু চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল একটি মন।

 

বসার ঘরimage_659_94186

ঘর সাজানোর বিষয়টি চিন্তা করলে প্রথমেই যে ঘরটার কথা মাথায় আসে সেটা হলো বসার ঘর। বাড়িতে অতিথি এলে প্রথমে এ ঘরেই তাকে বসানো হয়। বসার ঘর মানেই সোফা, ডিভান, চেয়ার, টেবিলসহ ছোটখাটো সব আসবাব। কিন্তু এসব চিরচেনা আসবাবের বদলেও শুধু মেঝেতেই করা যেতে পারে বসার সুন্দর পরিপাটি ব্যবস্থা। সে ক্ষেত্রে সোফার বদলে মেঝেতে ফোম বসিয়ে বা মাদুর, শতরঞ্জি পেতে এর ওপর বড় কুশন পেতেও বসার আয়োজন করা যেতে পারে। লম্বা আকৃতির একটা ফোম বসিয়ে তার ওপর নকশা করা একটা রঙিন চাদর বিছিয়ে ওপরে কিছু রংবেরঙের কুশন ছড়িয়ে দিতে হবে। আর তার সামনেই পেতে দিতে হবে একটা রঙিন শতরঞ্জি। এ শতরঞ্জির ওপর একটা খুব ফ্ল্যাট আকৃতির কাঠের টেবিল বা পিঁড়ি পেতে বানানো যেতে পারে সেন্টার টেবিল।

আরেকভাবে মেঝেতে বসার আয়োজন করা যেতে পাররেসেটা হলো একটু বড় স্কয়ার বা রাউন্ড শেপের ফ্ল্যাট আকৃতির সেন্টার টেবিল বসিয়ে তার চারদিকে বড় বড় কুশন বিছিয়ে দিতে হবে। কুশন কভারগুলো খুব রঙিন ও নকশাদার হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্লক-বাটিক, নকশিকাঁথা কাজের কভার হতে পারে বা মোটা পাহাড়ি তাঁতের কাপড়ও কভার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে ধরনের বসার আয়োজনই করা হোক না কেন, সেন্টার টেবিলের ওপর একগুচ্ছ তাজা ফুল বা বড় ফ্ল্যাট আকৃতির একটা ক্রিস্টাল বোলে পানি দিয়ে ফুলের পাপড়ি বা ক্যান্ডেল ভাসিয়ে দিলে পুরো ঘরের আবহটাই বদলে যাবে। আর চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখতে হবে কিছু মাটির শোপিস, টেবিল ল্যাম্প ও ছোট ছোট সজীব গাছ। তখন এ ঘরটিই তখন হয়ে উঠবে নান্দনিক।

খাবার ঘর

একইভাবে খাবার ঘরের মাঝখানেও একটা ফ্ল্যাট আকৃতির নিচু টেবিল বসিয়ে তার চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে বড় বড় পিঁড়ি বা কুশন। পিঁড়ির ওপর পাতলা ফোমের রঙিন কাপড়ে মোড়া গদি অথবা কুশনের কভারও রঙিন নকশাদার হলে ভালো লাগবে। আর টেবিলের ওপর অবশ্যই একগুচ্ছ তাজা ফুল রাখতে হবে।

 

image_473_141056শোয়ার ঘর

খাট ছাড়া শোয়ার ঘর যেন ভাবাই যায় না। শোয়ার ঘর মানেই নানা ম্যাটেরিয়ালের তৈরি খাট থাকতে হবে এমনটাই ধারণা সবার। কিন্তু খাটের বদলে শুধু মেঝেতেই শোয়ার আয়োজন অনেকেই হয়তো ভাবতে পারবেন না। কিন্তু শোয়ার ঘরেও খাটের বদলে ম্যাট্রেস বসিয়ে তার ওপরে শোয়ার আয়োজন করা যেতে পারে খুব সহজেই। তবে ম্যাট্রেসটি সুন্দর চাদর দিয়ে মুড়িয়ে এর ওপর অনেকগুলো ছোট রঙিন কুশন ছড়িয়ে দিতে হবে। ঘুমের সময় অনেকেরই পড়ার অভ্যাস আছে, তাই জায়গা বুঝে ম্যাট্রেসের দুই পাশে বা একপাশে সমান উচ্চতার পিঁড়ি পেতে তার ওপর টেবিল ল্যাম্প রাখতে হবে এবং একপাশে দেয়ালের ধারঘেঁষে ছোট একটা শেলফে কিছু বই রাখা যেতে পারে। আর জায়গা বুঝে ম্যাট্রেসের পাশে বা পায়ের কাছে একটা শতরঞ্জি বিছিয়ে দিলে ঘরটি শোয়ার জন্য পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মেঝেতে আয়োজনের ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দেশীয় পণ্য যেমন নান্দনিক, তেমনি সহজলভ্য। বিভিন্ন ঘরে মেঝের আয়োজন নিয়ে এখানে যে পরামর্শগুলো দেওয়া হলো সে জন্য কিন্তু খুব বেশি টাকা-পয়সা খরচ করার দরকার নেই। কম দামের মধ্যে হাতের নাগালেই পাওয়া যাবে সব জিনিসপত্র। শুধু প্রয়োজন একটু চিন্তাশক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও রুচিবোধের।

রোজমেরি পানিনি

resize_1389432907উপকরণ: ফিলিং: হাড় ছাড়া গরুর মাংস ২৫০ গ্রাম, আদাবাটা আধা চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল-চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচকুচি ১ চা-চামচ, মাস্টার্ড পেস্ট ১ চা-চামচ, ওরস্টারশায়ার সস আধা চা-চামচ, ড্রাই রোজমেরি আধা চা-চামচ, অলিভ অয়েল পরিমাণমতো।

অন্যান্য: যেকোনো ব্রেড (একটু মোটা করে কাটা) ৪ পিস , শসা (স্লাইসড) ১টি, টমেটো (স্লাইসড) ২টি, পেঁয়াজ (স্লাইসড) ২টি, মোজ্জারেলা চিজ পরিমাণমতো।

প্রণালি: গরুর মাংস লম্বা করে কেটে সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে ঢেকে রেখে ফ্রিজে ম্যারিনেট করুন ১ ঘণ্টা। কড়াইয়ে পরিমাণমতো অলিভ অয়েল দিয়ে কষিয়ে মাংস সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন, প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন।

এবার একটি ব্রেড স্লাইসে সামান্য অলিভ অয়েল ব্রাশ করে একটু ড্রাই রোজমেরি ছিটিয়ে দিয়ে রান্না করা গরুর মাংসের টুকরা দিন। এর উপরে মোজ্জারেলা চিজ গ্রেট করে দিয়ে স্লাইস করে কাটা শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ দিন। অলিভ অয়েল ব্রাশ করে আবার একটু ড্রাই রোজমেরি ছিটিয়ে আরেকটি ব্রেড স্লাইস বসিয়ে টুথ পিক দিয়ে গেঁথে নিন। প্রি-হিটেড ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে ৫ মিনিট গ্রিল করুন, গরম গরম উপভোগ করুন রোজমেরি পানিনি।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

 

জেনে নিন ব্রেইন স্ট্রোকের ৬ টি লক্ষণ

11118710অপরাজিতাবিডি ডটকম: ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। উচ্চ রক্ত চাপ, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস কিংবা অন্যান্য কারনে কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা সৃষ্টি হয়ে, দিন দিন মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতা লোপ করে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধার সৃষ্টি হলে ব্রেইন স্ট্রোক হয়। ইদানীং অনেক কম বয়সী মানুষজনকেও স্ট্রোক করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে এই স্ট্রোকগুলো মাইনর পর্যায়ের হয়। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে, ভুল চিকিৎসায় এই স্ট্রোকের ভয়াবহতা বাড়তে পারে। প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি মাইনর স্ট্রোক ধরতে না পারা যায়। তাই সকলের উচিৎ স্ট্রোকের লক্ষন সমূহ জেনে রাখা। এতে মাইনর স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা ও উপযোগী চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

মুখমণ্ডলের এক পাশ ঝুলে পড়া
স্ট্রোকের প্রধান ও প্রথম লক্ষন রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে।

মুখের বাম পাশের মাংস পেশি ঝুলে পড়ে। যার ওপর রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রন থাকে না। লক্ষণটি ভালো করে বুঝতে হলে রোগীকে হাসতে বলুন। তিনি যদি না হাসতে পারেন তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাতে দুর্বলতা অনুভব
অনেক সময় আমরা হাতের দুর্বলতা অনুভবকে পাত্তা দিই না। কিন্তু এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষন। স্ট্রোক করার আগে রোগী দুই হাতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগীকে সাথে সাথে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। যদি রোগী বলেন তিনি হাত তুলতে পারছেন না। কিংবা যদি লক্ষ্য করেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন।

কথা জড়িয়ে যাওয়া
মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কমে গেলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে কথা জড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লক্ষণটি ধরা পড়ে। যদি কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ অস্পষ্ট কথা কিংবা জড়িয়ে যাওয়া গলায় কথা বলতে থাকেন তবে অবশ্যই তা লক্ষণীয়। রোগীকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি আসলেই জড়ানো কথা হয় তবে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।

তীব্র মাথা ব্যথা
স্ট্রোকের আগে রোগীরা তীব্র মাথা ব্যথার শিকার হয়ে থাকেন। তীব্র মাথা ব্যথা অনেক কারনেই হতে পারে। অনেকের মাইগ্রেন আছে। তীব্র মাথা ব্যথা মাইগ্রেনেও হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কোন ধরনের কারণ ছাড়াই মাথার বাম অংশে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পাবার ফলে শরীরের সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে হাত পা কিংবা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর স্ট্রোকের রোগীরা নিয়ন্ত্রন হারান। রোগীকে উঠে দাড়াতে বলুন। স্ট্রোকের লক্ষন হিসেবে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। সুতরাং স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সাথে সাথে হসপিটালাইজড করতে হবে।

শর্ট মেমোরি লস
স্ট্রোকের আগে রোগীরা তাদের আপনজনকেও চিনতে পারেন না এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যান। ডাক্তারদের ভাষায় একে শর্ট মেমোরি লস বলে থাকেন। রোগীকে তার নিজের নাম জিজ্ঞেস করুন। তার পরিবারের লোকজনকে চিনতে পারেন কিনা তা দেখুন। তা না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন।

-ডেস্ক, অপরাজিতাবিডি

পাঠকদের প্রতি

প্রিয় পাঠক!

a63a3e16adb9cbea28bcd3ae82289f21আপনারাও আমাদের এই পোর্টালে লিখতে পারেন। লেখক হতে পারেন আপনি।

তাই ঝটপট আপনার মনের কথাগুলো লিখে পাঠান আমাদের কাছে।

 

লেখা পাঠানোর ঠিকানা:- oporajitabd22@gmail.com

 

বিভাগীয় সম্পাদক:অপরাজিতাবিডি ডটকম

আইনি পরামর্শ

অপরাজিতাবিডি ডটকম: 

অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিনঢাকা:নারীদের জীবনে চলতে-ফিরতে যেসব আইনি জটিলতায় পড়তে হয়, আমাদের মনো জিজ্ঞাসা বিভাগে তারই সমাধান পাওয়া যাবে।

 

মনো জিজ্ঞাসা বিভাগে আইনি সমস্যার সমাধান দেবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অ্যাডেভোকেট ফাহিমা নাসরিন।

 

স্পষ্ট করে নিজের সমস্যা লিখে ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: oporajitabd22@gmail.com

 

বিভাগীয় সম্পাদক: অপরাজিতাবিডি ডটকম

 [contact-form-7 id=”918″ title=”Untitled”]

নতুন চলচ্চিত্রে মৌসুমী হামিদ

Mousumi-hamidঅপরাজিতাবিডি ডককম: জনপ্রিয় লাক্স সুপারস্টার ‘রোশনী’খ্যাত মৌসুমী হামিদ বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। মিডিয়াতে তার পথচলা খুব বেশিদিনের না হলেও মৌসুমী কাজ করছেন চুটিয়ে। ছোটপর্দায় মৌসুমীর উপস্থিতি বেশ উল্লেখ করার মতো। ধারাবাহিক নাটকের পাশাপাশি একক নাটকেও তাকে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। মৌসুমী চলচ্চিত্রে আরও আগে নাম লেখালেও আবার নতুন করে তিনি বড় পর্দায় কাজ করছেন।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত আবু শাহেদ ইমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘জালালের পিতাগণ’-এ কাজ করছেন তিনি। এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘ছবিটির গল্প বেশ ভিন্ন। ছবির শুটিংয়ের কাজ অনেকখানি শেষ। জালাল নামে এক বালকের কাহিনী নিয়ে এগিয়ে যায় ছবিটি। এখানে আরও অভিনয় করেছেন তৌকির আহমেদ, মোশাররফ করিম প্রমুখ।’ মৌসুমী হামিদ বর্তমানে বেশকিছু ধারাবাহিকে কাজ করছেন। এগুলোর পাশাপাশি শুরু করেছেন নতুন ধারাবাহিকের শুটিং।

আফসানা মিমির পরিচালনায় এই ধারাবাহিকটির নাম ‘সাতটি তারার তিমির’।বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ধারাবাহিকটির শুটিং চলছে। এখানে আরও অভিনয় করছেন সানজিদা প্রীতি, মৌসুমী নাগ, সাদিয়া ইসলাম প্রভা, স্বর্ণা, নাফিসা প্রমুখ।। এ ধারাবাহিক নাটকে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

এগিয়ে নারী

DSC_0077অপরাজিতাবিডি ডটকম: একজন নারীকে ঘরে-বাইরে হাজারো দায়িত্ব পালন করতে হয়, দিতে হয় পুরুষের চেয়ে বেশি শ্রম এবং সময়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই দিকটি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় বসবাসরত গৃহিণী সালমা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ভোরে ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় তার কর্মজীবন। ঘরে সবার জন্য পছন্দসই নাশতা তৈরি, স্বামীর অফিসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তদারকি, সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া আবার নিয়ে আসা, বাজার করা, রান্না করা, স্বামী-সন্তানরা বাড়ি ফিরলে তাদের তদারকি করা, কাজের শেষ নেই তার। এগুলো প্রতিদিনকার রুটিন। এর ভেতর আবার তাকে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, বিয়ে ও জন্মদিনের পার্টিতে, সন্তানদের স্কুলের নানা আয়োজনে। শুক্র, শনিসহ কোনোদিনই তার ছুটি নেই ঘরের কাজ থেকে। সবকিছু গুছিয়ে হাসিমুখে সবার চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছেন তিনি।

12765অন্যদিকে একজন চাকরিজীবী নারীর দিনও একইভাবে শুরু হয়। রাজধানীর খিলগাঁও বসবাসরত কর্মজীবী নারী তানজিলা খাতুন জানান, সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে তবেই তাকে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে। সেখানে গিয়েও তার নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নেই। ঘরে ছেলেমেয়েরা কী করছে, গৃহকর্মী ঠিকমতো কাজগুলো করছে কি-না সে টেনশন তো থাকেই। সবশেষে ক্লান্ত হয়ে যখন ঘরে ফেরেন তখনও ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তাকে। এ রকম সালমা আক্তার, তানজিলা খাতুনের মতো প্রায় প্রতিটি নারীকেই শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গার্ল পাওয়ার প্রজেক্টের কমিউনিকেশনস কো-অর্ডিনেটর শেখ সারাহজিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে নারীরা চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে বাইরে যাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ঘরের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত বিশ্বে নারী-পুরুষ ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজ করছেন সেখানে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। এখানে সে অর্থে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি পরিশ্রমী। সারাহজিনের মতে, এ দেশের নারীদের মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যেও কাজ করে_ সকালে উঠে কী নাশতা তৈরি হবে, ক’টায় বাসা থেকে বের হবে ইত্যাদি পরিকল্পনা। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর একজন পুরুষ যেখানে টিভি দেখে, চা খায়, নিচে হাঁটতে যায়, সেখানে একজন নারীকে বাসায় ফেরার পর ব্যস্ত থাকতে রান্নাবান্না কিংবা ছেলেমেয়ের পড়াশোনা নিয়ে। পাশাপাশি পরের দিনটির কথাও ভাবতে হয় তাকে। প্রকৃতপক্ষে একজন নারীর জীবনে বিশ্রাম বলে কিছু নেই।

genderequityপ্রথমবারের মতো ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি পরিশ্রমী। কর্মে নিয়োজিত একজন পুরুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট কাজ করেন। আর নারীরা পাঁচ ঘণ্টা ১২ মিনিট কাজ করেন। তবে কর্মজীবী নারীরা গৃহস্থালির কাজে পুরুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় দেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিট আর নারীরা ৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট ব্যয় করেন। অন্যদিকে বেকার পুরুষরা গৃহস্থালির কাজে মাত্র ১ ঘণ্টা ১২ মিনিট ব্যয় করেন। আর পুরুষের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সময় দেন বেকার নারীরা। নারীরা ৬ ঘণ্টা ১২ মিনিট বাসার কাজ করেন। আবার বেকার পুরুষরা বেকার নারীদের চেয়ে অবসর ও বিনোদনে প্রায় দ্বিগুণ সময় ব্যয় করেন।
শহরাঞ্চলের পেশাজীবী নারীরা সবচেয়ে কম অবসর পান। তারা দৈনিক গড়ে ৫ ঘণ্টা ১২ মিনিট চাকরিস্থলে কাজ করে বাসায় এসে মাত্র ৫৪ মিনিট অবসর পান। কেননা, বাসায় এসে তারা পৌনে চার ঘণ্টা গৃহস্থালির কাজ করেন। আর একই পেশার পুরুষরা পৌনে ৯ ঘণ্টা কাজ করে কর্মস্থল থেকে ফিরে মাত্র ৫৪ মিনিট গৃহস্থালির কাজে সময় দেন।

অন্যদিকে গ্রামের পেশাজীবী নারীরা প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট কাজ করেন, পুরুষরা করেন মাত্র দেড় ঘণ্টা। শহরে পেশাজীবী নারীরা বাসার কাজ করেন ৩ ঘণ্টা, পুরুষরা করেন মাত্র ১ ঘণ্টা।

জরিপ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক। তিনি মনে করেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায়ে নারীর শ্রমকে ভাগ করে নেওয়ার মতো মানসিকতা এখনও পুরুষের তৈরি হয়নি। যদিও বর্তমানে তারা নারীদের সহযোগিতা করছে, তবে তা গৃহস্থালির কাজে নয়। সে ক্ষেত্রে পুরুষের যেমন উচিত ঘরে-বাইরে নানা কাজে নারীকে সহযোগিতার করা পাশাপাশি একজন নারীরও প্রয়োজন তাকে সংসারের সব কাজ একাই করতে হবে এমন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা।

প্রতিবেদক-অপরাজিতাবিডি ডটকম

চাটমোহরে বঞ্চিত নারীদের কাছে মডেল নূরুন্নাহার

9174_divi-1চাটমোহর (পাবনা), অপরাজিতাবিডি ডটকম: পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের নূরুন্নাহার খাতুন সমাজের বঞ্চিত নারীদের কাছে একটি মডেলে পরিণত হয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা নূরন্নাহারের কর্মপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। নূরুন্নাহারের দেখানো পথ অনুসরণ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে অবহেলিত নারী সমাজের একটি অংশ। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে না থেকে নূরুন্নাহার যেমন নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছেন তেমনি তার মতো সমাজের আর ১০টা বঞ্চিত নারীকেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের মৃত জেহের আলী মোল্লার মেয়ে নূরুন্নাহার খাতুন। বিয়ের পর ১৯৯৮ সালে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে একটি ছেলে সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও খুঁজতে থাকেন নতুন করে বাঁচার পথ। বাবার পরিবারে বোঝা হয়ে না থেকে এক নতুন লড়াইয়ে জিততে নিজের সঞ্চিত কিছু পুঁজি বিনিয়োগ করে ২০০৩ সালে মাত্র একটি সেলাই মেশিন কিনে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা শুরু করেন। দৃঢ় মনোবল, মেধা, শ্রম, ধৈর্য দিয়ে তৈরি করেন ‘নাঈম ফ্যাশন অ্যান্ড টেইলার্স’ নামে একটি ছোট দোকান।

গত ১০ বছরে অকান্ত পরিশ্রম করে নিজের ও বাবার সংসারের চেহারা পরিবর্তন করার পাশাপাশি জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। নিজের উপার্জিত অর্থে জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেছেন তিনি। বাড়ির মধ্যেই নতুন করে সাজিয়েছেন তার নাঈম ফ্যাশন অ্যান্ড টেইলার্স। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্বী করতে স্থাপন করেছেন সেলাই প্রশিণ সেন্টার। ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে অনেকে নিজে মেশিন কিনে টেইলার্স খুলে বসেছেন। বর্তমানে ১০টি সেলাই মেশিন দিয়ে নূরুন্নাহারের ওই ফ্যাশন হাউজে কাজ করছেন ২০ জন স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা মহিলা।

নূরুন্নাহারের নাঈম ফ্যাশন হাউজে কর্মরত বিধবা কর্মচারী ফরিদা খাতুন জানান, আমি নূরুন্নাহারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে চার হাজার টাকা মাসিক বেতনে চার বছর ধরে তার ফ্যাশন হাউজে কাজ করছি। কাজ করে যে টাকা উপার্জন করছি তাতে আমার সংসার বেশ ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। স্বামী পরিত্যক্তা অপর কর্মচারী আর্জিনা খাতুন জানান, নূরুন্নাহার আপার ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার দোকানে কাজ করছি। আমাকে সাড়ে চার হাজার টাকা বেতন দেন নূরুন্নাহার আপা। আমার সংসারে এখন আর অভাব নেই।

নূরুন্নাহার খাতুন এ প্রতিবেদককে জানান, আমি নিজে সেলাইয়ের ওপর উচ্চতর প্রশিণ নিয়ে চাটমোহরের কয়েকটি এলাকায় সাধ্যমতো বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বেকার নারীদের প্রশিণ দেয়ার কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে টেইলার্সের যাবতীয় বিষয়, নকশিকাঁথা, বিছানার চাদরে নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার মাধ্যমে চলছে গ্রামে গ্রামে উঠোন প্রশিক্ষণ। বর্তমানে ২০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফ্যাশন হাউজে নূরুন্নাহারের কাজে সহযোগিতা করেন তার ছেলে নাঈম (১৭)।

নূরুন্নাহার আরো জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে তার ফ্যাশন হাউজ আরো বড় করে অনেক নারীকে সাবলম্বী করা সম্ভব হবে।

নতুন বছরের প্রত্যাশা

24_103এলো নতুন বছর। আমরা নতুন আশায় আছি। এবার বুঝি শান্তির দেখা মিলবে। এদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা হবে। দল মত নির্বিশেষে সবাই দেশের কল্যাণের জন্য একতাবদ্ধ হবে। অনেক রক্ত ঝরেছে। অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা, বাণিজ্য, কৃষিসহ নানা খাতে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ, আর হানাহানি নয়, এবার দেশের শান্তির প্রতি মনোযোগ দিন। আমরা দুর্বল কিংবা ব্যর্থ রাষ্ট্র নই; একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আমাদের জ্ঞান, শক্তি, সাহস দেখে এ পৃথিবী যেন অবাক তাকিয়ে রয়। তবে গত বছরও ছিল সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা ছিটেফোঁটা পূরণের শেষ প্রান্তে এসে বিদায় নিয়েছে। আবারও প্রত্যাশা, সব ঝড়-জলোচ্ছ্বাস বিদায় নেবে; সুসংবাদ আসবে ঘরে ঘরে। আমরা একটা সুন্দর সমাজ চাই। একটা শাসন ব্যবস্থা চাই, যে ব্যবস্থা শোষণ করবে না। রক্তের স্রোত দেখাবে না। ক্ষমতার দাপট দেখাবে না। থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ। গত বছর স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের সমস্যা হয়েছে অনেক। চাই গণতন্ত্র যেন তার শক্ত অবস্থান খুঁজে পায়। ক্ষমতার জোরে যখন তখন সংবিধান বদল হয়।

এমন একটি সংবিধান চাই যেন তাতে দল মত নির্বিশেষে প্রকাশ করার সুযোগ-সুবিধা থাকে। চাই ভালো একটি সরকার। এছাড়া গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মতো একটি নির্বাচন চাই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চাই। মেয়েদের চলার পথ যেন নিরাপদ ও সুগম হয়। আমরা যখন দিনবদলের কথা শুনি, তখন মনটা ভরে যায়। স্বপ্ন দেখি সামনের দিনগুলো অনেক বেশি ভালো যাবে। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন না হয়। আমরা নতুন করে পথ চলতে পারব। নতুন স্বপ্নের কথা বলতে পারব। সব ধরনের প্রতিকূলতা মাড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারব সামনে।

-মোবাশ্বেরা জাহান: যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চুনারুঘাটে দুই স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

ballo_27781_0চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা,অপরাজিতাবিডি ডটকম: জেলার চুনারুঘাটে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। উপজেলার গণকিরপাড় চন্দ্রমলি্লকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী দোলন বেগম এবং পান্না আক্তারের পরিবার তাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে।

পান্না আক্তারের বিয়ের দিন ছিল শুক্রবার এবং দোলন বেগমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আগামী রোববার। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার লোকজন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরকে অবগত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের বাড়িতে যান। তারা পরিবারের লোকদের বুঝিয়ে দুটি বিয়েই বন্ধ করে দেন। এছাড়া ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা নেন।

 

তিন মেয়ে নিয়ে পদ্মায় ঝাঁপ, দুই লাশ উদ্ধার

downloadচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,অপরাজিতাবিডি ডটকম: জেলার সদর উপজেলার খলিপারচরে তিন মেয়েকে নিয়ে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিলে দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা খলিপারচর এলাকা থেকে আড়াই বছরের মাহমুদ খাতুন ও হামেদা খাতুনের (৬) লাশ উদ্ধার করে।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর কবীর জানান, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় খলিপারচর গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আক্তারা বেগম তার তিন মেয়েকে নিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় জেলেরা আক্তারা বেগম ও তার বড় মেয়েকে উদ্ধার করতে পারলেও ছোট দুই মেয়ে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, আক্তারা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে কি কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন জানান, তিনি ঘটনাটি বিকালে শুনেছেন। তবে এখনো তার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

দেশি খাবার-ফুলকপি ও রুই মাছের ঝোল

light.bengaশীত ঋতু মানেই দারুণ সব সবজির মজাদার সব রান্না। শীতের মৌসুমে গরম এক প্লেট ভাতের সাথে মাছের ঝোলের যে স্বাদ, তা মনে হয় অন্য কোনো খাবারে নেই। অনেকেই মাছ কেবল ভুনা বা ভাজি খেয়ে থাকেন, শীতের সবজি দিয়ে যে চমৎকার মাছের ঝোল রাঁধা যায় তা জানেন না অনেকেই। আজ রইলো ফুলকপি ও টমেটো দিয়ে রুই মাছের দারুণ মাছের ঝোল রেসিপি। কেবল রুই নয়, রাঁধতে পারবেন অন্য বড় মাছ দিয়েও। আজ ভাতের পাতে হয়ে যাক ষোল আনা বাঙালিয়ানা!

phulkopi.die_.macher.jhol_উপকরণ:
রুই মাছ ৮ টুকরো
ফুল কপির ফুল ৮-১০টি
পেঁয়াজ বাটা দুই টেবিল চামচ
রসুন বাটা এক চা চামচ
হলুদ ও ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ করে
মরিচ গুঁড়া ঝাল অনুযায়ী
টমেটো স্লাইস একটি
তেল এক কাপ
পানি প্রয়োজনমতো
জিরা গুঁড়া এক চা চামচ
কাঁচা মরিচ চারটি
ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালী:
-মাছ ধুয়ে অল্প হলুদ ও লবণ দিয়ে ভাজতে হবে।
-এবার ওই তেলে রসুন ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে দিয়ে টমেটো ও অন্য সব মসলা (জিরা বাদে) দিয়ে কষাতে হবে। একটু পানি দিয়ে ভালো মত রান্না করতে হবে।
-এবার প্রথমে ফুলকপি দিয়ে একটু নেড়ে পানি দিতে হবে। তিন/চার মিনিট রান্না করে মাছ ভাজা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ফুটে উঠলে জিরা গুঁড়া দিতে হবে।
-হয়ে এলে ওপরে কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা ছিটিয়ে অল্প আঁচে আরও দুই-তিন মিনিট রেখে নামাতে হবে

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

নাটোরে যৌতুকের দায়ে গৃহবধুকে হত্যা

natore-map20131130231251নাটোর প্রতিনিধি,অপরাজিতাবিডি ডটকম: নাটোরের সদর উপলার ছাতনী বটতলায় একটি সোনার মালা ও যৌতুক না দেয়ায় এক গৃহবধুকে গলায় ফাঁস দিয়ে ও কানের নিচে সুচ ফুটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে নাটোর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে আশুরা বেগমের (২২) প্রায় দুই বছর আগে ছাতনী বটতলার আরিফুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়।

 

বিয়ের পর থেকে তার শাশুড়ী ও নোনদ একটি সোনার মালা ও যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সোমবার রাতে তার গলায় ফাঁস দিয়ে ও কানের নিচে সুচ ফুটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। লাশের চোখের পাশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

 নাটোর থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আরিফুল ইসলাম, শশুড় আলাউদ্দিন ওরফে পলান কবিরাজ, শাশুড়ী জমেলা বেগম ও নোনদ কুলসুম খাতুনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

 

কথা সাহিত্যিক ফরিদা হোসেনকে নিয়ে লেখা-একজন ফরিদা হোসেন

Forida Hossain (2)বহুমুখী প্রতিভায় উদ্ভাসিত ফরিদা হোসেন। আমাদের সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। জন্ম : ১৯শে জানুয়ারি,স্থান কোলকাতা। ফরিদা হোসেন ২০০৪ সালে সাহিত্যে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পান। এছাড়াও ৬ টি স্বর্ণ পদক সহ মোট ২৫ টি সাহিত্য পুরস্কার পান বিভিন্ন সংগঠন থেকে। ফরিদা হোসেন একাধারে একজন ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, নাট্য পরিচালক, গীতিকার ও সুরকার এবং আবৃত্তিকার। লেখার বিষয়বস্তু প্রধানত ছোট গল্প উপন্যাস-শিশু সাহিত্য। শিশুদের জন্যে বিশেষ বানী সমৃদ্ধ রূপকথার নাটক ইত্যাদি। বিটিভিতে ধারাবহিক ভাবে প্রচারিত রূপকথার দেশে, সমাদৃত হয়েছে সর্বমহলে।

 

তিনি এক সময় রেডিওতে সংবাদ পাঠ, আবৃত্তি ও মহিলা এবং শিশুদের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন পি.ই.এন এর বাংলাদেশ সেন্টারের সভাপতি ও “অবিনশ্বর” সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ৬০ এর দশকে ছাত্রী অবস্থায় তার প্রথম গল্প গ্রন্থ “অজন্তা” প্রকাশ করে পাইওনিয়ার পাবলিকেশন। প্রচ্ছদ করেন বিখ্যাত শিল্পী ও টিভি ব্যক্তিত্ব জনাব মোস্তাফা মনোয়ার।

 

১৯৬৫ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয় ফরিদা হোসেন রচিত ও পরিচালিত প্রথম শিশুতোষ নাটক। ফরিদা হোসেন ১৯৬৬ এর অক্টোবরে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি সহিত্য চর্চার পাশাপাশি আবৃত্তি, সংবাদ পাঠ, শিশু ও মহিলা বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মুক্তধারা, অঙ্কুর, নন্দন, মাওলা ব্রাদার্স, শিল্পতরু, হাতেখড়ি, শিকড় প্রকাশনী, মমন প্রকাশনী, মাম্মী প্রকাশনী এবং তার নিজের আঞ্জুম প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে বহু গ্রন্থ।

 

তার গল্প সংকলন, উপন্যাস, নাটক, শিশু সাহিত্য, অনুবাদগ্রন্থ সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মতো গ্রন্থ সংখ্যা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, উপন্যাস- শ্রষ্ঠ গল্প সম্ভার,আরাধনা,সহযাত্রী,একজন কাজলীর কথা, একটি শীতল মৃত্যু,অজন্তা,ঘুম, শাড়ী, হিমালয়ের দেশে, নির্বাচিত গল্প, ক’জনার কথা,স্মৃতি কণিকা,জীবন যেমন,মুখোশ, ইংরেজি গল্প- Short Stories from Bangladesh, Blessing, Selected Short Stories, Devotion, শিশু সাহিত্যের মধ্যে- তেলেদা’র তেলাতঙ্ক, লুকোচুরি, মিতালী, আনন্দ ফুলঝুরি, সুরে ছন্দে ছড়াগান, রোজ রোজ, রূপকথার দেশে, শিশু সাহিত্য সমগ্র,নাটক- মায়া দ্বীপে অভিযান, খুকুর স্বপ্ন, চাঁদ কন্যার কথা, সপ্তবর্ণা, ঝড়ের পরে, অচীনপুরের রূপকথা, তুষার কন্যা, তারার খোঁজে, আনন্দ ভ্রমণ।

 

ফরিদা হোসেন ১৯৯৭ সালে স্কটল্যান্ড এবং ২০০৩ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা (পি ই এন) এর সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মেক্সিকোতে ফরিদা হোসেনের রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ সর্ট-ফিল্ম ফ্রেন্ডশীপ বিশেষ সুনাম অর্জন করে।

 

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়ানজিওতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল পেন কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশের লেখকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ফরিদা হোসেন আঞ্জুম প্রকাশনী, আঞ্জুম টেলি নেটওয়ার্ক ও অবিনশ্বর সাহিত্য পত্রিকার সত্ত্বাধিকারী।

 

বর্তমানে ফরিদা হোসেন আলোকিত শিশু গড়ার লক্ষ্যে, নিজস্ব রচনা ও পরিচালনায় নির্মান করছে শিশুতোষ ধারাবাহিক রূপকথার দেশে। যার ২৪ টি পর্ব ইতিমধ্যে বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছে, এছাড়া ও তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সাহিত্য ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মানে।

 

ফরিদা হোসেন চট্রগ্রাম জেলার মিরেরশ্বরাই উপজেলার শাহেরখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রমিক নেতা ও আই. এল. ও এর গর্ভনিং বডির প্রাক্তন পরিচালক মরহুম ফয়েজ আহমেদ ও মরহুম বেগম ফয়েজুন্নেছার প্রথম কন্যা এবং ফেনী জেলার রাজনীতিবীদ জনাব মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সুযোগ্য স্ত্রী।

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

আগে সিদ্ধান্ত, পরে ক্যারিয়ার

image_99809ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ই নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। আপনার ইচ্ছা, চিন্তা-ভাবনাসহ অনেক বিষয়ই একটি সফল ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করে থাকে। তবে এতসব কিছুর মধ্যেও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সক্ষমতা অনেক সীমাবদ্ধতাকেই কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। আর তাতে করেই ক্যারিয়ারের পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকা যায়।

আমাদের জীবনটা খুব বেশি বড় নয়। ছোট্ট জীবনকে সীমিত চেষ্টায় অপরিসীম আন্তরিকতায় পূর্ণ করা যায় যদি সিদ্ধান্তটা ঠিক হয়। নিজের সিদ্ধান্তের উপর ভর করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তৃপ্তির কোনো তুলনা হয় না। অপর দিকে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করার কষ্টও কিন্তু নিজেকেই ভোগ করতে হয়। কারণ সিদ্ধান্তটা যেহেতু আপনার তাই তার দায়ভারও আপনার। অনেক বাবা-মা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ছেলে মেয়েদের পাশে এসে দাঁড়ান। তবে অনেকে আছেন যারা কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিতে একটুও ভুল করেন না। তাই মা বাবা যদি ভুল সিদ্ধান্তের ফলে বিরূপ হন, তাহলে তো আর কথাই নেই। তবে একটু ভেবে দেখুন, আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন কিন্তু তারাও দেখেছেন। তাই আপনার ক্ষতি কিংবা কষ্টে তাদের কষ্ট হয়। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সবদিক বিবেচনা করুন। তার ভালো-খারাপ দিক নিয়ে ভাবুন। পজেটিভ হওয়া ভালো কিন্তু আমরা অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ দিকটাও এড়াতে পারি না। তাই ভুল করার আগেই সচেতন হওয়া জরুরি।

আলোচনা ও সিদ্ধান্ত

সব সময় মনে রাখতে হবে, আলোচনার মাধ্যমে একটা বিষয়ের অনেক দুর্বল আর সবল দিকগুলো বেরিয়ে আসে। তাই সেটা আপনার সাথে কতটা যায় তা দেখার সুযোগ আপনি আলোচনার ফলেই পাবেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মা-বাবা, ভাই-বোন, কাছের বন্ধু কিংবা সমবয়সী চাচা-মামার সাথে আলোচনা করতে পারেন। বেশিরভাগ শুভাকাঙ্ক্ষি যে মত দিবে আর আপনার মন যা বলবে তার উপর ভর করে সিদ্ধান্ত নিন। আমাদের বক্তব্য একটাই, বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিজে বুদ্ধি আর মনন প্রয়োগ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সেটা আত্মবিশ্বাসের পরিচয় সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা যে সব সময় নির্ভুল হবে তার নিশ্চয়তাও নেই। তাই কাছের লোকজনের সাথে আলোচনা করুন। যারা আপনার ভালো চায় তাদের সাথে আলোচনা করে নিলে আপনার সিদ্ধান্তটাও ভালো হবে। দেখবেন এতে মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে। পরে কোনো সমস্যা হলে সাহায্যের হাতও পাবেন অনেক।

সব সিদ্ধান্তেই সবাই

যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় হলে প্রথমে আমরা বাবা-মার দারস্থ হই। কিন্তু এমন অনেক সিদ্ধান্ত আছে যা নিয়ে বাবা-মার কাছে যাওয়া যায় না। যেমন, প্রেম-ভালোবাসার কথাই ধরা যাক। যদিও আজকাল অনেক মেয়েই মার ভালো বন্ধু। তারপরও এই বিষয়টা নিয়ে মায়ের সাথে আলোচনাটা আমাদের দেশে এখনও সহজ হয়নি। কোনো ছেলেকে অথবা মেয়েকে ভালো লাগলে তার সম্পর্কে জানা থেকে শুরু করে প্রেম প্রতিষ্ঠা করা পর্যন্ত আপনি আপনার ভালো বন্ধুর উপর নির্ভর করতে পারেন। প্রস্তাব দেওয়ার মধ্যস্থতা পর্যন্ত তাদের হাতে ছেড়ে দিতেন পারেন। আর এই সুযোগে তারা ‘বিপদে বন্ধুর পরিচয়’ কথাটির যথার্থতা প্রমাণ করবে। পরিচয়ের প্রথম দিকে বন্ধু-বান্ধব একসাথে মিলে বেড়াতে যান, এ ক্ষেত্রে অনেক ছোটখাট দিক বের হয়ে আসে। সম্পর্কটাও সহজ স্বাভাবিকভাবে এগুতে শুরু করে।

সমাধানে আপনি

আমরা অনেকেই ছোটবেলায় ‘এইম ইন লাইফ’ পড়ে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নেই। কারও ডাক্তার, কারও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা। তবে কিছুদিন যেতে না যেতে সেই স্বপ্নের রঙ বদলাতে শুরু করে। স্বপ্নের রঙ তখন খয়েরি না হয়ে অন্য কোনো রঙ পায়। যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে, তখন নিজেকে প্রশ্ন করার সাথে সাথে বাবা-মার মতের ব্যাপারেও গুরুত্ব দিন। কারণ আপনার ভিতর এমন কোনো বিষয় আছে যা আপনার চেয়ে বাবা-মা ভালো বুঝেন। এ ছাড়া নিজের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে নিজের মত নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করলে পরে কোনো সমস্যা হলে সমাধানে তারা সাহায্য করবে। সিদ্ধান্ত নিজের কিন্তু পরামর্শ বাবা-মার হতেই পারে।

পরিশেষ

‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’। ছোটবেলায় এই বাক্যের সারকথা আমাদের খুব ভালো করে বুঝানো হয়েছিল যেন কোনো অবস্থায় একাকিত্বকে আঁকড়ে না ধরি। তাই সিদ্ধান্ত নিজে নিন। নিজের সাথে নিজেই আলোচনা করুন, ভাবুন। সাথে সাথে মনের কথা খুলে বলুন আরও কয়েকজনকে। যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয়, তবে তাদের সাথে আলোচনা করে মনের বোঝা তো হাল্কা করা যাবে।

মনে রাখুন

 সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে অন্যের পরামর্শ শোনা ও আলোচনা করা দুটোই সমান জরুরি।

 যখন কোনো আলোচনায় বসবেন, তখন অন্যের মতামত শোনার সাথে সাথে নিজের ভাবনাটাও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

 কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথে সেটা কাজে লাগানো উচিত্ নয়। কারণ অনেক সময় নিজের সিদ্ধান্তও বদলে যেতে পারে। তাই সময় নিয়ে এগুতে হবে।

 আবার সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতাও ঠিক নয়। ঠিক হবে না ভুল হবে, করবো কি করব না করে অনেক সময় কাজের গুরুত্ব কমে যায়। সময়মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে সময়মতো কাজ করা ভালো। এতে কাজের ফলাফল ভালো হয়।

 আলোচনায় বসার পর অন্য কারও সাথে নিজের সিদ্ধান্ত বিপরীতমুখি অবস্থান নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও কারও সাথে আলোচনায় বসুন। আর শেষ পর্যন্ত নিজের মন সায় না দিলে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। এতে করে কাজের প্রতি নিজের আগ্রহ আর নিষ্ঠার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ফলে ওই কাজে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যেতে পারে। সূত্র: ওয়েবসাইট

শীতকালে শিশুর যত্ন

jfjfশীতে বেশি অসুস্থ্ হয় শিশুরা। বিরুপ এই সময়ে শিশুরা কী  ধরনের রোগে আক্রান্ত হয় এবং কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যায় এসব প্রশ্ন নিয়ে কথা বলেছেন এ্যাপোলো হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ কামরুল হাসান।

শীতে শিশুদের কী কী রোগ দেখা যায়?

ডাক্তার: মূলত এ সময় শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডা, কাশি, সর্দি এবং এ্যাজমায় বেশি আক্রান্ত হয়। আর সঙ্গে সিজোনাল জ্বর তো রয়েছেই।

এসব রোগের লক্ষণ:

ডাক্তার: ঠাণ্ডা অনেক দিন স্থায়ী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব, বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস নেয়া।

কারা বেশি আক্রান্ত হয়:

ডাক্তার: সাধারণত আমাদের দেশের অপুষ্ট, কম ওজনের শিশুরাই এধরনের রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। আর দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা সুষম খাদ্য এবং যত্নের অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।

কীভাবে সতর্ক হতে হবে?

ডাক্তার: শিশু অসুস্থ হলে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে এবং নিয়মিত খাবার খাওয়াতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তার ঠাণ্ডা না লাগে। তাদের ধুলা বালি থেকেও দূরে রাখতে হবে। শিশু একটানা তিনদিনের বেশি অসুস্থ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।naba20131221123543

চিকিৎসা: নিউমোনিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে ১৫ দিনের চিকিৎসায়ই শিশু ভালো হয়ে যায়। আর ভাইরাস জনিত জ্বরও ৩ থেকে ৫ দিনেই সেরে যায়। শিশুকে জন্মের পর থেকে সবগুলো টিকা সময় মতো দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। টিকার পাশাপাশি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর বিষয়েও তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সবগুলো টিকা নিয়মিত দিলে শিশু বিভিন্ন মারাত্বক রোগ থেকে রক্ষা পায় এবং তার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

সাধারণ সর্দি, কাশিকে অবহেলা না করারও পরামর্শ দেন তিনি। শীতের মধ্যে আগুন জ্বেলে তাপ নেওয়ার সময় প্রতিবছর বহু দুর্ঘটনা ঘটে এবং এতে অনেক শিশু মারাত্বক আহত হয়, সবাইকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেন কামরুল হাসান।

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

ফেসবুক নিয়ে বিব্রত শর্মিলী

 image_698_100188সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ। চলতি সপ্তাহে তিনি জানতে পারেন, ফেসবুকে তার নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করা হচ্ছে।

 

 এ প্রসঙ্গে শর্মিলী আহমেদ বলেন, ‘আমি সবসময় শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই ফেসবুক নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু ফেসবুকে আমার নামে কে বা কারা একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। সেখানে যেসব স্ট্যাটাস আমি দেখেছি, তাতে সত্যিই হতাশ হয়েছি। যিনি বা যারা এই অ্যাকাউন্টটি খুলেছেন, তাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, প্লিজ এটা বন্ধ করুন। কারণ, আমার ব্যক্তিজীবনে এ নিয়ে অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে।’

 

শর্মিলী আহমেদ আরো বলেন, ‘অনেক পরিচিত সাংবাদিক এবং শিল্পী এই ফেজবুক পেজের সঙ্গে (বন্ধু হিসেবে) রয়েছেন। তাদেরও আমি অনুরোধ করব, আপনারা এই অ্যাকাউন্টকে বস্নক করে দিন।’

 

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

 

পড়শীর বাজিমাত

1484110_10151932147094962_205620818_nকণ্ঠশিল্পী পড়শী।  কণ্ঠগুণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত নিজের সঙ্গে নিজেই প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে চলছেন তিনি। বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা, রেকর্ডসংখ্যক সাড়ে তিন লাখ ভক্ত নিয়ে ফেসবুক পেজে ভেরিফায়েড হওয়া ও প্রকাশিত অ্যালবামের জনপ্রিয়তার বিচারে ২০১৩ সালের সেরা তারকার তকমাটি লাভ করেছেন তিনি। তাই তাকে নিয়ে বর্ষশেষ সংখ্যার বিশেষ এ আয়োজন।

 

আনলাকি থার্টিনকে লাকি থার্টিনে পরিণত করলেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পড়শী। ২০১৩ সালে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেছেন তিনি। বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা, রেকর্ডসংখ্যক সাড়ে তিন লাখ ভক্ত (বর্তমানে ছয় লাখ) নিয়ে ফেসবুক পেজে ভেরিফায়েড হওয়া ও প্রকাশিত অ্যালবামের জনপ্রিয়তার বিচারে ২০১৩ সালের বর্ষসেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় তাকে।

 

চলতি বছর পড়শী নিজের অ্যালবামে হিন্দি গান স্থান দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য তাকে বেশ সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন। এদিকে ভারতের বিভিন্ন নৈসর্গিক লোকেশানে নির্মিত মিউজিক ভিডিওটি নিয়েও পড়শী অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছেন। সেই সঙ্গে টিভি লাইভ শো, কনসার্ট ও সর্বাধিক ছবিতে প্লেব্যাক করেও চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

 

দিন দিন পড়শীর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার ব্যস্ততাও দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। গানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। বর্তমানে পড়শীর ফেসবুক ভক্তের সংখ্যা ছয় লাখ। এ বিবেচনায় তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী তারকা হিসেবেও স্বীকৃতি প্রদান করা যায়।

 

খুদে গানরাজ থেকে উঠে আসা পড়শী কৈশোর থেকেই গান গেয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে তার সখ্য। তার পুরো নাম সাবরিনা এহসান পড়শী। বর্তমানে তিনি ইন্টারে পড়ছেন। ২০০৮ সালে চ্যানেল আইয়ের খুদে গানরাজ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালের রোজার ঈদে স্বনামে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ অ্যালবামের ‘তোমারই পরশ’ ও ‘লজ্জা’ গান দুটি সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর তার দ্বিতীয় একক ‘পড়শী-টু’ প্রকাশিত হয়। এ অ্যালবামটিও শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে। সর্বশেষ চলতি বছর প্রকাশিত হয় তার তৃতীয় অ্যালবাম ‘পড়শী-থ্রি’। এ অ্যালবামটিও শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা গানের পাশাপাশি এতে স্থান পেয়েছে ‘খোদা তুজছে দোয়া হে এ/মেরি কিসমাত তু লিখ এইসে’ শিরোনামে একটি হিন্দি গান। এর কথা লিখেছেন মুম্বাইয়ের গীতিকার জোনায়েদ ওয়াসি। গানটির সুর-সঙ্গীত করেছেন ইমরান। অ্যালবাম প্রকাশের পর পরই এ গানটি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনেক ধরনের কথা ওঠে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক বাকবিত-ার যুদ্ধের ফাঁকে গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে ভালো করেই ঠাঁই করে নেয়। ফেসবুক ভক্তদের অনুরোধে খুব শিগগিরই পড়শী গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।

 

পড়শী প্রতিদিন সকালেই হারমোনিয়ামে গানের রেওয়াজ করতে বসে পড়েন। ছোটবেলায় নানুর উৎসাহে গানের রেওয়াজ করা শুরু করেন তিনি। সেই থেকেই ছোট্ট পড়শী নানুর কাছে কখনো নাচ শেখা, কবিতা আবৃত্তি, আবার কখনো অঁকাঅঁকি শেখার সুযোগটা পেয়েছিলেন। নানু তার আদরের নাতনিকে গানের সিডি, আর্ট পেপার, কবিতার বই দেয়া থেকে শুরু করে নাচের স্কুলেও ভর্তি করিয়ে দেন। নাচের স্কুলে ভর্তির পর বোঝা গেল, শুধু নাচে নয়; গানেও পড়শীর স্বর্ণকণ্ঠ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পড়শী চ্যানেল আইয়ের ‘খুদে গানরাজ’-এ অংশ নিয়ে সবার স্বপ্ন পূরণ করেন।

 

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে পড়শী বলেন, ‘বর্তমানে আমার রুটিনগুলো কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই সব কিছু গুলিয়ে ফেলছি। আগে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম। গানের রেওয়াজ শেষে পড়াশোনায় মন দিতাম। এরপর স্কুলে যেতাম। বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করতাম। আর ছুটির দিনগুলোয় বিভিন্ন স্টেজ শো কিংবা কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। তবে ইদানীং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কলেজ বন্ধ থাকছে। শোর সংখ্যাও কমে গেছে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠতে আর ইচ্ছা হয় না। আজকাল অধিকাংশ সময় ঘরের মধ্যেই কাটাতে হচ্ছে।’

 

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতির বিষয়ে পড়শী বলেন, ‘আমার নামে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ফ্যান পেজ আছে। এগুলোর ফলে আমার ভক্ত-শ্রোতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন। এ ছাড়া সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে নানা ধরনের বাজে কথাও ছড়ানো হচ্ছিল। সেসব বন্ধ করতে কিছু দিন আগে আমি ফেসবুকে ভিডিওবার্তাও প্রকাশ করি। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভেরিফায়েড পেজের স্বীকৃতি দেয়ার ফলে এখন থেকে ভক্তরা খুব সহজেই আমার ফ্যান পেজটি চিনতে পারবেন। ফলে ভুয়া অ্যাকাউন্ট দ্বারা আর বিভ্রান্ত হবেন না। এ জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

 

দেখতে দেখতে আরেকটি বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা আগামী বছরও ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পড়শী।

 

-প্রতিবেদক, অপরাজিতাবিডি ডটকম

 

ঢাকা থেকে পারু

 হালিমা খাতুন

 

Bhutan-Paro-Tigers-Nestসকাল থেকে শরীরটা একদম ভাল লাগছে না। গরম পানি, গরম দুধ খেলাম, তবুও যেন শরীরে তাগদ পাচ্ছি না। এ ঘর থেকে ও ঘরে যেয়ে শুচ্ছি, বিছানার এ পাশ থেকে ও পাশ ফিরছি, তবুও দেহ মনটা চাঙ্গা করতে পারছি না। নি®প্রভ দেহ মন নিয়ে, বিছানায় শুয়ে দুপুর ছুঁই ছুঁই, তখনও বিছানায় শুয়ে। সাহেবেরও ছুটি, সেও বাসায়। অলস দেহ মন তারও শরীরটা ভাল না। আমার বড় ছেলে সাকিব কানাডা থাকে। ওর সাথে কথা হলো ও বলেছিল আম্মা তোমরা দুজন সিলেট থেকে বেড়ায় আস। মনে মনে সেখানে যাবার পরিকল্পনা করেছিলাম কিন্তু বাদ সাধল হরতাল, বিএনপি’র ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তার পরিপ্রেক্ষীতে বিএনপি পর পর তিনদিন হরতাল ডেকেছে। তাতে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়াতে একজন পুড়ে মারা গেছে, আরও কয়েকজন পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। তাই পথে বের হলে আবার কোন পরিস্থিতিতে পড়ি তাই তুনুমুনু করছিলাম কি করব?

 

হঠাৎ সাহেবের ফোন বেজে উঠল। রিসিভ করে হ্যালো, ও ও স্যার, জ্বী বলেন স্যার। আমি আপনাকে বড় ভায়ের মত মনে করি, আর আপনি আমাকে না নিয়ে ভূটান চলে যাবেন?

 

হ্যাঁ যাব। কথা শেষ করে আমাকে বললো, জামান স্যাররা এবার ছুটিতে ভূটান যাবে। সেও দেখি ভূটান যাবার জন্য একবাক্যে রাজি। আমার দেহ-মন্টা যেন ঝেড়ে উঠল। উঠে বসলাম, ভাল না লাগাটা যেন মন থেকে আস্তে আস্তে ভ্যানিস হয়ে যেতে লাগল, দক্ষিণা হাওয়ার স্নিগ্ধ পরশে যেন আমেশ দিয়ে গেল।

 

মনে পড়ল, আগের দিনের ডাক্তাররা রুগী বেশী অসুস্থ হলে বা বেশী দিন ধরে অসুস্থ থাকলে হাওয়া বদলের পরামর্শ দিতেন। আজ ডাক্তারদের তেমন পরামর্শের কথা খুব একটা শুনা যায় না। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে মানুষ নিজেরাই একটু সময় সুযোগ করে বেড়ায়, কর্মে উৎসাহ-উদ্দিপনা ও মনোযোগ আনার জন্য।

 

আয়াত: তিনি (আল্লাহ) এমন যিনি তোমাদেরকে স্থলভাগে ও জলধীতে পরিভ্রমণ করান। (সূরা ইউনুস-২২ আয়াতাংশ)

 

যাইহোক আমরা টাকা আর পাসপোর্ট জমা দিলাম ভূটানে যাবার জন্য। সার্কভূক্ত দেশ বলে আমাদের পাসপোর্ট ভিসা লাগলো না। আমাদেরকে অনারী ভিসা অর্থাৎ সম্মানজনক ভিসা দেয়া হল। ২৭ শে এপ্রিল ২০১২ তারিখ শুক্রবার রয়েল ভূঠান এয়ার লাইন্সের সকাল ৮.৫০ মিনিটে ভূটানের পারুর উদ্দেশ্যে রওনা দেই। মাত্র ৪৫ মিনিটে আমরা পেরুতে এসে পৌছাই। ভাল লাগল ভীষণ ভাল লাগলো। সার্কভূক্ত দেশ হওয়ায় পাসপোর্টে ভিসা লাগার ঝামেলা হল না। সব সার্ক ভূক্ত দেশগুলো যদি এমনটি করত তবে খুবই ভাল হোত। সার্কের সার্থকতা হোত।

 

সবাই প্লেনের জানালা দিয়ে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে বাইরে দেখতেছে। আমিও তাদের দেখাদেখি বাইরে তাকাই। দৃষ্টিগোচর হয় পাহাড় আর পাহাড়। দুই পাহাড়ের মাঝখান থেকে প্লেনটি অতি সাবধানে ছোট্ট এয়ারপোর্ট পারুতে এসে অবস্থান করে। রানও বেশি করতে হয়নি। আমারা তো মুগ্ধ। যাত্রীরা সব প্লেন থেকে নামে, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে ছোট্ট একটা এয়ারপোর্ট । একটু পরে দেখি যাত্রীদের মধ্যে ছবি তোলা হিড়িক পড়ে গেছে। আমরাও তা থেকে পিছিয়ে রইলাম না। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে আমাদের গাইডম্যঅনের সাথে দেখা হয়। সে আমাদের জন্য মাইক্রো নিয়ে এসেছিল। তাতে চেপে রওনা হলাম। এত তাড়াতাড়ি হোটেলে যেয়ে কি করব? তাই আমাদের নিয়ে গেল মিউজিয়ামে।

 

Taktsang monasteryএখানে সাধারণ নাগরিকের জন্য দশ নু স্টুডেন্টদের জন্য পাঁচ নু, সার্কভুক্ত দেশের জন্য পঞ্চাশ নু ও বিদেশীদের জন্য দুইশত নু। ভূটানের মুদ্রার নাম নু। পাহাড়ি রাস্তা ধরে মিউজিয়ামের আসতে আমদের খুব ভাল লাগছিলো। লোকজন কম, নিরিবিলি শান্ত সুন্দর ঝরনার নুড়ি পাথরের ঝিল, আকাশের কোল ঘেঁষে দাঁড়িযে আছে পাহাড় দুরে নিচের ঘরবাড়ির দৃশ্য মনকে এক কাব্যিক জগতে নিয়ে যাচ্ছিল বার বার। বাইরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ থেকে অনিচছা সত্ত্বেও মনকে বস্তুজগতে নিয়ে গেল। আমরা মিউজিয়ামে প্রবেশ করলাম।  কিছু মুখোশ দেয়ালে লটকানো। দেব দেবীদের কিচু ছবি ও এখানের রাজা ও তার পরিবারের কিছু ছবি ঝুলানো আছে। মিউজিয়ামের ভিতর থেকে বাইরে গাড়িতে একটু তন্দ্রাচ্ছদিত হয়ে পড়লাম। এরপর হোটেল এর সামনে এসে গাড়ীর ধাক্কায় আমার তন্দ্রা ভাঙ্গল। আমাদের গাড়ীর ধাক্কায় অন্য একটা গাড়ীর পাশের লাইট ভেঙ্গে গেছে।

 

অবাক হলাম কারোর মধ্যে কোন উত্তেজনা নেই, কয়েকজন উৎসুক তাকিয়ে দেখল আর আমাদের ড্রাইভার খুব অনুতপ্ত হতে লাগল অন্য গাড়ীর ড্রাইভার বা মালিকের কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। এরকম যদি আমাদের দেশে হত তবে ভিন্ন চিত্র পরিগ্রহ করত। হাতাহাতি লাথালাথি গালাগালি ঝগড়াঝাটি যে কি হতো তা আর বলা অবকাশ রাখে না। আল্লাহ হেদায়াত নসিব করুক। এখঅনের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দৃষ্টি , হৃদয় ও মনকে আকর্ষণ করে। রাস্তার পাশে ঢাকনা যুক্ত ড্রাম আছে ময়লা আবর্জনার জন্য। রাস্তার পাশের ড্রেনগুলো কি সুন্দর পরিস্কার। আর একটা জিনিসের ও খুব শান্তি পেলাম তা হল তাদের পোশাক আশাক, মেয়েরা ফুলহাতা জামা পরে এবং নিচে পা পর্যন্ত দোপাট্টার মত ঘাগরী পরে, ছেলেদের পেশাকও শালীন। এখানের বেশলিভাগ নারী-পুরুষ তাদের জাতীয় পোশাক পরে। তাদের জাতীয়তাবোধ ও  শালীনতাবোধ দেখে খুব ভাল লাগলো। আমাদের দেশেল মানুষের মধ্যে যে কবে জাতীয়তাবোধ জন্মাবে, সেই আক্ষেপে আসে মনে বার বার। দেশী জিনিসপত্র বাদ দিয়ে বিদেশী জিনিসের প্রতি ঝুঁকে চলেছে তারা দিন দিন। দেশটা যে কোথায় চলেছে কারও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই সব আছে যার যার স্বার্থ নিয়ে। দোয়া করলাম সৃষ্টি কর্তার কাছে, ‘‘আল্লাহ সুবহানুহ তায়ালা আমাদের দেশের মানুষদেরকে তাদের জাতীয়তাবোধকে জাগ্রত করো, দেশ মাটি ও মানুষকে সর্বপরি তোমাকে ভালবাসার তৌফিক দাও। দেশের পরিবার, অফিস আদালত, স্কুল কলেজ সর্বপরি দেশ থেকে দুর্র্নীতি দূর কর, দেশের সকল নাগরিককে এক আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত কর’’ আমিন!

 

দুপুরে আমরা আমাদের হোটেলের পাশের একটা হাটেলে খেতে গেলাম। কথা প্রসঙ্গে আমাদের ড্রাইভার বলছিল গাড়ি এক্সিডেন্টের জন্য তাকে জরিমানা দিতে হবে। আমাদের কে ভাত, মিক্সিস সব্জি, ধনের পাতার ডাল ও রুইমাছ ফ্রাই খেতে দিল। আমরা সবাই আত্মতৃপ্তির সঙ্গে খেলাম কারণ আল্লাহর মর্জিতে রান্নাটা খুব ভাল ছিল। খেয়ে হোটেলে ফিরে আসার পথে আমাদের হোটেলের সামনে একটা পাঁচতলা ট্রী টেক্সটাইল সেখানে গেলাম। সেখানে তিন চারজন মহিলা তাঁত বুনছে। সুন্দর সুন্দর কাপড় বুনছে। দোকানটা ঘুরে দেখলাম, সুন্দর সুন্দর কাপড়ের পোশাক, গায়ের চাদর, বিছানার দাদর, টেবিল ক্লোথ নিচে বসার ম্যাট, সুতি ও সিল্ক এর মধ্যে দেখার মত, দাম ও সেই রকম, তিন হাজার , চার হাজার, পাঁচ হাজার , সত্তর হাজার।

 

Paro Airport, Bhutanভুটানকে আমরা ভেবেছিলাম গরিব দেশ কিন্তু পরে দেখি না আমাদের চেযে তারা উন্নত। আমার পথে ্মারা একটা মানি এক্সচেঞ্জ থেকে আমাদের খরচের জন্য ডলার ভাঙ্গাই একশত ডলারে এখানে দেয় পাঁচ হাজার একশত পঁচাত্তর নু। আর আমাদের একশত ডলার ভাঙ্গালে এখানে দেয় প্রায় আট হাজার পাঁচশত টাকা।  আমাদের একশ টাকা এখানে ষাট নু এর সমান। এাকনের একজনকে জ্যঅকেট পরা দেখে মনে হল এখানে কি এত শীত। আমাদের কাছে তো এমন মনে হচ্ছে না। আমাদের তো ভালই রাগছে, না শীত না গরম। স্বাভাবিক কাপড়েই আছি মিঠা মিঠা ঠান্ডা, মিঠা মিঠা রোদ ভঅলই লাগছে। কিছু রাখলে যেমন আমার গয়না খুলে গোসলে গেলাম। এসে পরতে যেয়ে ভালই ঠান্ডা হয়েছে। এবার একটু একটু করে ঠান্ডা আমাদের শরীরে ভালবাসার পরম আমেজ বুলাতে মুরু করল, এ যেন প্রেমি প্রেমিাকার লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে অবশেষে ধরা দেয়া। শীতের পোশাক বের করে পরলাম তাতে ও হলো না এবার কম্বলের ভিতর ঢুকলাম অবশেষে ঘরে হিটার ও চালাতে হল।

 

মাগরিবের নামাজের পর আমরা একটু হাটতে বের হলাম। দোকান থেকে মোবাইলে সিম কিনলাম দেশে যোগাযোগের জন্য। মনটা একটু ব্যস্ত হল। ছোট ছেলে সাদিককে দেশে রেখে এসেছি। ওর এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। একটা পরীক্ষার পর সতের দিন বন্ধ তার পর ম্যাথ পরীক্ষা। মাঝে যে পরীক্ষাটা হওয়ার কথা ছিল তা বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খঅরৈদা জিযঅ ২৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ইলিয়াস আলীকে না পাওয়া গেলে রবিাবর থেকে আবার হরতাল। ছেলেটা পড়ছে, নাকি করভে। ফোন দিয়ে ও খোঁজ খবর নিলাম। বড় ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলাম পারলাম না।

 

আসার পথে আবার একটা এ্যাকসিডেন্ট নজি আর প্রাইভেট কারে মুখোমুখি সংঘর্ষ । প্রাইভেট কারের সামনে ভসকায়ে গেচে। ড্রাইভাররা গাড়ি থেকে কেউ নামলো না। রাস্তার দুপাশে উৎসুখ  জনতা দাঁড়িযে দেখল কেউ গাড়ির কাছে গেল না। হঠাৎ কোথা থেকে পুলিশ আসল। কারটাকে ভাল করে দেখে জীপের ড্রাইভঅরের কাছে গেল। তখনও জীপের ড্রাইভার জীপে বসে কথা বলছে। যেটা বুঝলাম তা হল কেউ কার ক্ষতি কররৈ অনাসে সে সেটা স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেয়। এ থেকে কি আমরা শিক্ষা পেতে পারি না?

 

হোটেলে ফিরে আসলাম। হোটেল সুপার জানাল আটটার মধ্যে দোকানপাট হোটেল সব বন্ধ হয়ে যাবে, আপনাদের খাবার সব রুমে দিয়ে আসা হয়েছে। আমরা রুমে এসে নামাজ পড়ে সবাই এক সাথে খেয়ে নিলাম।

 

মোবাইলে এ্যালার্ম বেজে উঠল আর ঘুম ভেঙ্গে গেল। এ্যালার্ম বন্ধ করে যত তাড়াতাড়ি পারাম ওযু করে এসে নামাজ পড়ে নিলাম। জানালার পর্দা সরিয়ে জানালাটার পাল্লাটা খুলে বাইরে ঝুকে করালের পারুর সৌর্ন্দযটা উপভেঅগ করার চেষ্টা করলাম। খোদা তালায়ার সৃষ্টি কত সুন্দর, পাহাড়রে পাদদেশে ছোট সুন্দর একটা শহর পারু। এখানের মানুষের মন মানসিকতা ও আল্লাহ তায়ালা সুন্দর করে দিয়েছেন।

 

জানালার গ্রীল নেই তাই ঝুকে বাইরেটা দেখতে পালাম খুব ভালভাবে। রাস্তার পাশে বেশ অনেক গাড়ী সারি দেয়া , একজন লোক রাস্তা দিয়ে হেটে আসছে। সারা রাত এ প্রাইভেট কারগুলো বাইরেই ছিল। ভাবরাম আমাদের দেশে গাড়ী গ্রঅরেজে তালা লাগায়েও রক্ষা করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। আর এখঅনে রাস্তায় গাড়ি রেখে দিয়েছে। একটা টোকই দেখলাম না, একটা ভিক্ষুক দেখলাম না। হাদীস শরীফে আছে ‘‘উপরের হাত নীচের হাত হতে উত্তম। উপরের হাত হল তাদার এবং নীচের হাত দান গ্রহীতার। অন্য এক দাহীসে আছে, যে ব্যক্তি অন্যের নিকট হাত না পেতে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে তো পবিত্র রাখেন এবং যে স্বনির্ভর থাকতে চায় আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ছোটবেলায় দেখতাম এক হিন্দু বৃদ্ধা মহিলা মাথায় ডালায় করে শাক বিক্রি করতো। মহিলার দাঁত পড়ে চোঁয়াল ভেঙ্গে মুখটা শুকিয়ে গেছে। হাতের মাংশপেশী হাড় থেকে শুকিয়ে ঝুলে পড়েছে। কিন্তু তবুও কাজ করে খেতো। ইসলাম ধর্মে ভিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অথচ মুসলমানের মধ্যই ভিক্ষাবৃত্তি প্রবণতা বেশী। এর কারণ বুঝলাম না।

 

রাস্তার ড্রেনটা কি সুন্দর পরিস্কার। ঝকঝকে স্বচ্ছ পানি বয়ে যাচ্ছে।

 

নিশ্চয় এখঅে ন চোর নাই তাই গাড়ীগুলো রাস্তায় রেখে দিয়েছে। মুরব্বিদের কাছে গল্প শুনেছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান একবার খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘‘সবাই পেয়েছে তেলে খনি, সোনার খনি, আর আমি পেয়েছি চোরে খনি’’। কথাটা মনে পড়ল। একটা জাতির জন্য এটা খুবই দু:খজনক। এ অবস্থা থেকে আমাদের ফিরে আসা দরকার। কিন্তু কিভাবে?

 

দেশের বাড়ী যতলোক আসে সাহায্য সহযোগিতার জন্য পারতপক্ষে কাউকে ফিরানো হয় না যতটুকু পারা যায় দেয়া হয়। তারপরও কয়েকদিন আগে আমার সেঝ দেবর ফোন করে বলল, ভাবী আমাদের পানির চাপ কল চোরে নিয়ে গেছে, গোড়া  থেকে কেটে। বড় কষ্ট লাগলো, কত মানুষ এ কল থেকে পনি খেত, অন্যান্য কাজে ব্যবহার করত। যেদিন ভুটান আসি ও দিন  বাড়ি থেকে ফেন করে বলল, স্যালো মেশিনটা চোরে নিয়ে গেছে। একটা গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে যদি চুরি হয় তবে কি বলবেন বলেন?

 

বড় বড় নেতারা ও হোতারা ও কর্মকর্তারা করে পুকুর চুরি আর ছোট চোরেরা করে ছিচকে চুরি । তবে কোনটাকে উৎসহা দেওয়ার অবকাশ নেই। দুটোই চুরি , চুরি । তবে কোনটাকে উৎসহা দেওয়ার অবকাশ নেই। দুটোই চুরি, চুরি একটি কবিরা গুনাহ অর্থাৎ বড় গুনাহ।

 

আল কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা চুরি করার নিষেধজ্ঞা ও বিচার সম্বন্ধে বলেছেন:

 

হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পর এক অন্যের সম্পদ না-হকভাবে আত্মসাৎ করো না। কিন্তু ব্যবসায় বাণিজ্যে যাহা পরস্পরের সম্মিতিক্রমে হয়, তাহলে দোষ নাই। (সূরা নিসা-২৯ আয়াত)

 

আল-কুরআনে একটা ঘটনা কম বেশি আমরা সাই জানি, এক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরি কররে রাসূল (ষা:) বললেন, এ কাজ যদি আমার মেয়ে ফাতিমা (রা:) ও করতো, তবে আমি তারও হাক কেটে ফেলার আদেশ দিতাম। আমাদরে দেশে দুচারটার হাত যদি কাটা হোত তবে চুরিটা ইনশাআল্লাহ বন্ধ হতো। তাই বেল আমি বলচিনা যে আমাদের দেশে সৎ মানুষ নেই। আমরা অনেকেে জানি আমেরিকায় আমাদের এক বাংলাদেশি ট্যাক্সি ড্রাইভার ভাই এক তোড়া ডায়মন্ড পেয়েছিল। তার নিজ গাড়ির ভিতর। তিনি মালিককে খুঁজে তা ফেরত দেন। এক রিক্সা ড্রাইভার তার রিক্সায় লক্ষাধিক টাকা পেয়েছল সেও তার মালিককে খুঁজে ফেরৎ দেয়। মহৎ লোকের কার্যকলাপে ম্লান হয়ে না যায়। তাদের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। আমাদের মন মানসিকতাকে উন্নত করি। আবেগ তাড়িত হয়ে অনেক কথা লিখে ফেললাম কারণ মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে। ওজনে কম দিচ্ছে, ভাল বেল পচা মাছ, ফলমূল, তরিতরকারী দিয়ে দিচ্ছে, অহরহ মানুষ মানুসের সাথে প্রতারণ করছে। অথট আমরা মুসলমনা এসব স্বভাব আমাদের মধ্যে থাকা উচিৎ নয়।

 

রাসূল (সা:) বলেছেন ‘‘ প্রতারক আমদেরে দলভূক্ত নয় ’’।

 

আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘‘তোমরা উত্তম সম্প্রদায় , যে সম্প্রদায়কে মানবমন্ডলীল উভয় জগতের কল্যানের জন্য করা হয়েছে, তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ ’’। (সূরা আলে-ইমরান-১১০)

 

‘‘মানুষ বড় ক্ষতির মধ্যে, তবে তাহা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করে , হকের পথে দাওয়াত দেয় ও সবরের উপদেশ দেয়’’। (সূরা আল আসর ১-২)।

 

‘‘তুমি কি ইচার প্রতি লক্ষ কর নাই যে আল্লাহ আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেছেন, অত:পর আমি উহা দিয়া বিচিত্র বর্ণের ফলমুল উৎপন্ন করেছি। আর পর্বতমালারও বিভিন্ন অংশ আছে, সাদা, নীল, উহাদেরও বিভিন্ন বর্ণ আছে আর বহু আছে গাঢ়,  কালো বর্ণের’’। (সূরা ফাতেহ-২৭-২৮)

 

সুবহানাল্লাহ!  আমি অনেক পাহাড় দেখেছি, ভরতে, নেপালে, মালয়েশিয়ায়, বাংলাদেশে, সৌদি আরবে ও ভূটানে। এক এক স্থানে পাহাড় এক এক রকম। কোন কোন স্থানের পাহাড় নিচু কোনটার মাথা তীর্যক, কোনটার মাথা চ্যাপ্টা, কোনটার আবার লাল, কোন পাহাড় কাল পাথরের, কোনটা আবার পাথর মাটির সংমিশ্রণে।

 

কোনটা আবার ঢাকা। এক একটার মধ্যে এক এক রকমের সৌন্দর্য। ভুটানের পাহাড়গুলো অনেক উচু। চারিদিকে এত সুন্দরের ছড়াছড়ি।-(চলবে)

২০১৩’র আলোচিত নারী

ক্যালেন্ডারের পাতায় শেষ হলো ২০১৩। । ২০১৩ বিদায়ের প্রাক্কালে আমরা ফিরে দেখি বছরটি ছিল জাতীয়ভাবে নানা বিষয় নিয়ে আলোচিত দেশের প্রথম নারী স্পিকার ইতিহাসে নাম লেখিয়ে আলোচিত হন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজনৈতিক কারণে সারা বছর জুড়েই আলোচনায় ছিলেন আমাদের দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। আরো যারা এ বছর আলোচনায় নারী সমাজে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের নিয়ে এই প্রতিবেদন-

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
Shirin+Sharmin+Chowdhury+2বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পীকার নির্বাচিত হয়েছেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে তিনি শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়নে এটা দারুণ একটি দৃষ্টান্ত। নবম সংসদে সংসদের নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা স্পীকার এবং সংসদের উপনেতা সবাই ছিলেন নারী। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি এই দায়িত্ব পেলেন। তাঁর আগে এতো কম বয়সে বাংলাদেশের সংসদের কর্তৃত্ব আর কেউ পাননি।
নাজমুন আরা সুলতানা
najmunএবছর তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারপতি হলেন। হাইকোর্টেও তিনিই প্রথম নারী বিচারপতি। তার কর্মজীবন শুরু আইনজীবী হিসেবে ১৯৭২ সালে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও ব্যঙ্গ কথা শুনে, প্রতিকূল পথ অতিক্রম করে আসতে হয়েছে এ পর্যন্ত। তার ইচ্ছা, দূরদর্শিতা ও সাহসিকতাই তাকে আজকের এ অবস্থানে এনেছে। তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল যে তিনি যেন আইনজীবী হন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি এ পথে এগিয়ে যান। মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার প্রদানে, সঠিক বিচারকার্য সম্পাদনে তার বিচারক হবার স্বপ্ন পূরণেও তিনি সক্ষম হন। জীবনসঙ্গী কাজী নুরুল হকের কাছ থেকে তার কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে সবসময় উত্সাহ পেয়ে এসেছেন। তার অবস্থান এদেশের বহু নারীকে এগিয়ে যাবার সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে।
মাহফুজা আক্তার
mahfuja aktarএ বছর বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছেন তিনি। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তথ্যকল্যানী মাহফুজা আক্তার। জার্মানিতে ডয়াচে ভেলে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম অ্যাওয়ার্ড গ্রহন করেন। এসময় তিনি তথ্যকলানী হিসেবে কিভাবে গ্রামের মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যান, গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে তাদের সেবা করেন তাই বলেন। তার সাহায্যের মধ্যে দিয়ে গ্রামের সবাই কিভাবে উপকৃত হচ্ছেন তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যেমন প্রেসার মাপা, জ্বর-ঠান্ডা-কাশির চিকিত্সা থেকে শুরু করে, মোবাইল সারানো, গর্ভাবস্থায় নানা পরামর্শ, শিক্ষাক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করা, নারীদের মুক্তচিন্তার বিকাশ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই গ্রামবাসীরা আমাদের কাছে পায়। আমরা তাদের নানা উপকারের চেষ্টা করি। তাই তারাও আমাদের আপন করে নেন।
নাজমা আক্তার
nazma aktaবার্লিন থেকে ‘বর্ষসেরা নারী নেত্রী’-র পুরস্কার নিলেন নাজমা আক্তার৷ তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা বাংলাদেশের এই নারীর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার পক্ষেই আবেগ সামলানো খুব কঠিন ছিল৷
ওয়াসফিয়া নাজরীন
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ী দ্বিতীয় বাংলাদেশী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে ইউরোপের সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এলব্রুস জয় করেন। তিনি গত বছর এভারেস্টে ছাড়াও আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কিলিমাঞ্জারো এবং দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনকানগুয়া জয় করেন। তিনি গত বছর বলেছিলেন যে তার স্বপ্ন পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়। এ পর্যন্ত তিনি চারটি শৃঙ্গ জয় করেছেন। তিনি প্রমাণ করলেন, ইচ্ছা থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের নারীরা যে কোন ক্