banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

আমার নামে মিথ্যা মামলা হতে পারে: ন্যান্সি

ন্যান্সী

সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি বলেছেন, “মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমাকে হয়রানি করা হতে পারে। আমি আতঙ্কিত ও ভীত।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দুপুর পৌনে একটা থেকে প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন ন্যান্সি।

তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছি। তাতে রাজনৈতিক কিছু প্রসঙ্গ ছিল। আমি মনে করি কোনো দলের প্রতি ভালোলাগা-মন্দলাগা থেকে কিছু প্রকাশ করা আমার দোষের কিছু নয়।”

ন্যান্সি বলেন, “স্ট্যাটাস দেয়ার পর মোবাইল ফোনে আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে আমার নেত্রকোনার বাড়িতে পুলিশের পোশাকধারী ২০-২৫ জন লোক তল্লাশি করতে যান। আমাকে বলা হয় সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা।”

তিনি বলেন, “ওই সময় আমি তাদের বলেছি তাদের তথ্য সঠিক নয়। তারা বলেছে আমাকে, আমার ছোট ভাইকে ধরে নিয়ে যাবে।”

মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় পুলিশের দু’টি ভ্যান এবং ২০-২৫ জনের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন জানিয়ে ন্যান্সি বলেন, “সিভিলে থাকা ব্যক্তি নিজেকে এসআই আলমগীর পরিচয় দেন। তিনি আপত্তিকর ভাষায় আমাকে বিভিন্ন কথা বলেন।”  

আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, “নেত্রকোনা থানার ওসি বলেছেন সন্ত্রাসীদের খুঁজতে গিয়ে আমার অসহযোগিতা ছিল। তাই আমাকেও ভবিষ্যতে পুলিশ কোনো সহযোগিতা করবে না। এ অবস্থায় আমি কীভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এজন্য সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা মনে করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) সভাপতি আব্দুল মালেক, চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ও সঙ্গীতশিল্পী মনির খান উপস্থিত ছিলেন।

কন্যা থাকুক নিরাপদে

২২২২২২২২২২পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠি গ্রামের সাফিয়ার বেগমের মেয়ে আদুরী। কিন্তু ওর ভাগ্যটা ঠিক উল্টো। গরিবের মেয়ে কখনো আদরের আদুরী হতে পারেনি। অভাব অটনের সংসার, বাবা বেঁচে নেই। সন্তানের মুখে দু’মুঠো ভাত দিতে হিমশিম খান সাফিয়া। মেয়ে ভালো খাবে ভালো থাকবে সেই আশায় রাজধানী পল্লবীর বাসিন্দা নওরীন আক্তার নদীর বাসায় কাজে দেন। আদুরীর বয়স আর কত হবে, নয় কি সাড়ে নয় বছর। যে বয়সে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়ানোর কথা, সে বয়সে পেটের দায়ে অন্যের বাসায় কাজ করে। ঘর মোছা, ধোয়া-মোছা সবই তাকে করতে হয়। তার পরও পেট পুরে খেতে দেয় না। টুকটাক মারধর তো আছেই। যেন পান থেকে চুন খসলেই ওর পিঠে ঝড়ের গতিতে চলে মারধর।

আদুরী যেহেতু মেয়ে, সেহেতু ওর মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় একটু সাজতে। সেদিন ও নওরীনের কানের দুল পরেছিল। নওরীন তা দেখে ফেলে শুরু হয় অত্যাচার। ওকে মেরে আগুনে পুড়ে ময়লার স্তূপে ফেলে রাখে। পুলিশ ওকে উদ্ধার করে। নওরীন তো মা-নারী। ওরই বয়সী নিজের সন্তান আছে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক সবার জন্য। তবে কেন আদুরী ঝরে পড়ল? এর দায়ভার আমাদের সবার- শিক্ষক, অভিভাবক এসএমসি’র সদস্যের, মেম্বর, চেয়ারম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সর্বোপরি সরকারের।

রিতা, এক সময় পরিবারে অবস্থা ভালো ছিল। তিন বোনের মধ্যে ও মেজ। ওর বাবার কাপড় ইস্ত্রি করার দোকান ছিল। হঠাৎ ওর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিন মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ওর মা হিমশিম খান। পাশের বাড়ির একজন পরামর্শ দেয়, তার পরিচিত ঢাকায় এক জজ আছেন। তাদের মেয়েকে দেখাশোনার একজন লোক দরকার। যদি তোমার মেয়েকে দাও তা হলে সে পড়াশোনা করবে আর তার মেয়েকে দেখবে। রিতার মা রাজি হন। রিতা তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ওর মা ভাবে, মেয়ের লেখাপড়াও চলবে, তার পর ভালো খাবে। কিন্তু দেখা গেল লেখাপড়া তো দূরের কথা। ঠিকমতো তিন বেলা খেতে দেয় না। ঘর মোছা, থালা-বাটি ধোয়া- এসব করতে হয়। জজের স্ত্রী বলেন, গরিবের আবার লেখাপড়া কিসের। জজ শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে সভা সমিতিতে বক্তৃতা দেন। অথচ তার ঘরে শিশু নির্যাতন চলে।

ছনিয়া ধোপাকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ত। এক দিন ওর মা-বাবা পরের বাড়িতে কাজে যায়। ও বাড়িতে একা। এ সুযোগে ওসমান মোল্লা ওর ইজ্জত লোটে। এ নিয়ে গ্রামে সালিসি ব্যবস্থা হয়; কিন্তু রায় মোল্লার পক্ষে। ছনিয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ।

মনি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত নানীর কাছে থেকে। ও এক দিন একটা ছেলের সাথে কথা বলে। চোখে পড়ে গ্রামের মাতব্বরের। ওর বিচার হবে। সালিস ডাকা হলো। বিচারে সাব্যস্ত হলো ও নষ্টা মেয়ে, ওকে গ্রামে রাখা যাবে না। অবশেষে মনি ও ওর নানী গ্রামের ছোট ঘরবাড়ি রেখে শহরের অনিশ্চিতের পথে পা বাড়ায়। যে মেয়েটির বয়স ১০-১১ বছর, যার ভেতর এখনো শৈশব। কৈশোরে পা দেয়নি। তাকে অপবাদ মাথায় নিয়ে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে।

রহিমার বয়স ১০ হতে পারে। মা-বাবা নেই। নানীর কাছে মানুষ। নানীর অবস্থাও বেহাল। তাই ঢাকায় এক বাসায় কাজে দেন। মেমসাহেব ওকে খুব আদর করে মেয়ের মতো দেখেন। ওকে ভিন্ন বিছানায় ঘুমাতে দেন। মাঝ রাতে ওকে কে যেন চেপে ধরে বলে ভূত। তারপর শরীরে ওঠে। ও ব্যাপারটা মেম সাহেবের কাছে জানায়। মেম সাহেব বুদ্ধি করে বলেন, তুই আমার বিছানায় ঘুমা। আমি তোর বিছানায় ঘুমাই। মাঝ রাতে তিনি দেখলেন এ ভূত আর কেউ নয়। এ যে তার স্বামী। কত না নির্যাতন চলে অবুঝ শিশুদের ওপর। শুধু পেটের দায়ে অন্যের বাসায় কাজ করতে এসেছে।

সৎ বাবার পাশবিকতায় মৃত্যুবরণ করতে হলো চার বছরের শিশু সুনিয়াকে। মা রুমা শিশু সুনিয়াকে নিয়ে আবার বিয়ে করেন বাদলকে। ওরা কাজিমুদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকে। রুমা গার্মেন্টে কাজ করেন। মঙ্গলবার সুনিয়াকে রেখে রুমা কাজে যান। বাদল ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। রুমা বাসায় ফিরে মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে স্থানীয় হাসপাতালে নেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সুনিয়া পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে চলে যায়। বাদল কী মানুষ? পিতা না হোক পিতার মতো ছিল। মেয়ে শিশুর জন্য কোনো পুরুষ নিরাপদ নয়। মামা-চাচা, নানা-দাদা, ফুপা, খালু, চাচাত ভাই, মামাত ভাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ভাতিজিকে ধর্ষণ করতে গিয়ে মাহবুব ধরা পড়ে এলাকার লোকজনের কাছে। শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে রেখে বাজারে যায় মা। মেয়ের বয়স ১৩ হবে। মাদরাসায় পড়ে। এ সময় স্বামীর মামাত ভাই সিএনজিচালক মাহাবুব ঘরে এসে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়ের চিৎকারে এলাকাবাসী মাহবুবকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

মেয়ে শিশু পুরুষ আত্মীয়ের কাছে নিরাপদ নয়। মেয়ে শিশু নির্যাতিত হয় বেশি। বাসা বাড়িতে কাজে দিলে গৃহকর্তা অথবা তাদের ছেলে দ্বারা ভাইয়ের বন্ধুদের দ্বারা, চাচাতো ভাই, মামাত ভাই তো দূরের কথা এমনকি শিক্ষক দ্বারাও ধর্ষিতা হয়। তাই মেয়ে অন্যের বাসায় কাজে দেবেন না। অন্যের কাছে রেখে কোথাও যাবেন না। ওকে চোখে চোখে রাখুন। পুরুষ হায়নার দল সুযোগ পেলেই ছোবল দিতে পারে।

 একটা শিশু একটা ফুল। সেই ফুলকে বিকশিত করার দায়িত্ব সমাজের সর্বস্তরের মানুষের। ওকে পড়াশোনা করার সুযোগ দিন। ও যেন মানুষ হতে পারে। শিশু নির্যাতন শুধু আইন করে বন্ধ করা যাবে না। সচেতন হতে হবে সবাইকে। আর একটা শিশুও যেন ধর্ষিত অথবা নির্যাতিত না হয়।

 লিখেছেন: আন্জুমান আরা রিমা

বাংলাদেশের নারী সংগঠন

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন
২০০৯ সালের ২৩ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন। হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ২২ বছর ধরে আইন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন। এই ফাউন্ডেশন পারিবারিক বিভিন্ন জটিলতায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে এবং প্রয়োজনে নারীকে আদালতে আইনগত সহায়তা প্রদান করে। নারী নির্যাতনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ঘটনার প্রয়োজনবোধে তদন্ত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করে। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত স্পর্শকাতর ঘটনার ডকুমেন্টেশন, রিসার্চ এবং প্রয়োজনবোধে অ্যাডভোকেসি সহায়তা প্রদান করে নারীকে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য বিদেশি কোনো ডোনারের সহযোগিতা নেয় না, বরং দেশের যাঁরা বিত্তবান আছেন তাঁদের আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন।

যোগাযোগ :
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন
৭১, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি
মহাখালী, ঢাকা-১২১২
ফোন: ০৪৪৭৬৪০১৭১৭
E-mail: dhrf.hr_gmail.com
Web: alenakhan_dhrf.org.bd

নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা
১৯৮৯ সালের ৯ ডিসেম্বর নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা আত্দপ্রকাশ করে। দ্রুতই চলমান নারী আন্দোলনের সহায়ক একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা। বর্তমানে এটা ‘উইমেন্স রিসোর্স সেন্টার’ ও প্রকাশক হিসেবে কাজ করছে। কানাডার পিডবি্লউআরডিসহ আরো কিছু সাহায্য সংস্থার সহায়তা পায় নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা। দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ের নারী লেখকদের বই প্রকাশ এবং বিক্রি করা হয় এখান থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক গঠন করেছে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা। কৃষি শ্রমিক, আদিবাসী চা শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ও সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা। দেশব্যাপী দাই সম্মেলন করে তাদের সংগঠিত করা করছে।

যোগাযোগ:
নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা
ফরিদা আখতার, নির্বাহী পরিচালক
২/৮, স্যার সৈয়দ রোড
মোহাম্মদপুর, ঢাকা

নারী প্রগতি সংঘ
ষাটের দশকে বাম ছাত্র রাজনীতি এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী সমমনা কয়েকজন নারী এক হয়ে ১৯৮৬ সালে গঠন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ। তৃণমূল পর্যায়ে নারীকে তাঁর অধিকার, জীবনমান উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি দিয়ে সচেতন করে থাকে। তাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেওয়া হয়। তিন-চার বছর ধরে মাইক্রো ফিন্যান্স ট্রাস্ট গঠন করেছে। যার মাধ্যমে ১৪ শতাংশ সুদের ভিত্তিতে আর্থিক ঋণ দেওয়া হয় উপার্জনক্ষম নারীকে এবং তাদের উন্নয়নের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্যমূলক মতাদর্শ দূর করা, নারীবিরোধী মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারসহ আরো অনেক নারীবিষয়ক ইস্যু নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ।

যোগাযোগ:
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ
রোকেয়া কবির, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
১৩/১৪, বাবর রোড (দ্বিতীয় তলা), ব্লক-বি
মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট
ঢাকা-১২০৭

নারীপক্ষ
পরিবার, সমাজে ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে নারীপক্ষ আত্দপ্রকাশ করে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নারী নির্যাতনবিষয়ক গবেষণা, নারীর প্রতি বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা প্রভাবিতকরণ ইত্যাদি নারীপক্ষের মূল কর্মসূচি।
সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত আয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ব্যয় নির্বাহ হয়। তবে নারীবান্ধব হাসপাতাল, নারীর স্বাস্থ্যসেবা_এমন কিছু প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ডেনমার্কের একটি সাহায্য সংস্থা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে থাকে।

যোগাযোগ:
নারীপক্ষ
অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক
র‌্যাংকস নীলু স্কয়ার (পঞ্চম তলা)
রোড-৫/এ, প্লট-১, ৩, ৫
সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি
ঢাকা-১২০৯

নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশন
১৯৯৮ সালের ১৬ জুন ড. রওশন আরার উদ্যোগে নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। নারীকণ্ঠ মূলত নারীর প্রাথমিক উন্নয়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান। নরসিংদীর পাঁচ-ছয়টি গ্রামের নারীদের জন্য খলাপাড়া গ্রামে নারীকণ্ঠের নিজস্ব জমিতে তৈরি করা হয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র, যেখানে নারী ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের শেষ দিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুরু করে নারীকণ্ঠ। মাইক্রোক্রেডিট থেকে ঋণ ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে খুঁজে বের করে তাদের ঋণ গ্রহণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করে দক্ষতা অনুযায়ী অফেরতযোগ্য অর্থ প্রদানের মাধ্যমে উপার্জনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কর্মকাণ্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের খুঁজে বের করে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়।

যোগাযোগ:
নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশন
ফারহানা রেজা, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
১১/২, সিদ্ধেশ্বরী লেন (চতুর্থ তলা)
ঢাকা-১২১৭

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
সুফিয়া কামাল, মালেকা বেগম, নুরজাহান মুর্শিদ, আয়েশা খানম_এমন আরো অনেক নারী যাঁরা ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাঁরা কয়েকজন মিলে ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নির্যাতিত নারীকে বিনামূল্যে আইনি সহযোগিতা, নারীবিষয়ক আইন সংস্কার, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, সুবিধাবঞ্চিত নারীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মূল কর্মসূচি।
প্রথম থেকে পরবর্তী দুই দশক ধরে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে চলেছে মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক কাজ। বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি নরওয়ের একটি দাতা সংস্থা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশীয় আর্থিক সহায়তায় চলে পরিষদের কর্মকাণ্ড।

যোগাযোগ:
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
আয়েশা খানম, সভাপতি
সুফিয়া কামাল ভবন
১০/বি/১, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০
ফোন: ৭১৬৯৭০১

১০৫ বছর বয়সী নারীর ফেসবুকে বন্ধু ৪১ হাজার!

১১ফেসবুকের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটির নাম এডিথ কির্চমায়ার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ১০৫ বছর বয়সী এ নারী পূর্ণোদ্যমে যেভাবে ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাতে হার মানবেন তরুণ-তরুণীরাও।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা বারবারার বাসিন্দা এডিথ বলছিলেন, ৯৫ বছর বয়সে তিনি সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট ফেসবুকে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। তার সন্তানরা তাকে একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার ও একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু। শুধু নাতি-নাতনিদের ফটো দেখার জন্য এডিথ ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করেন না। ফেসবুকে তার বন্ধুর সংখ্যা ৪১ হাজারের বেশি। বিশ্বকে আরও উপযুক্ত স্থানে পরিণত করার করতে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। বরাবরই তিনি মানুষকে সহায়তা করতে পছন্দ করতেন।

১৯৩০ ও ১৯৪০’র দশকে সারা বিশ্ব যখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা গ্রেট ডিপ্রেশনে জর্জরিত ছিল, তখন শিকাগোতে এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার। পরবর্তীতে তারা বিয়ে করেন। ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে স্বামীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। গত ৪০ বছর ‘ডিরেক্ট রিলিফ’ সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছেন এডিথ। এটি একটি মানবাধিকার সংস্থা। জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পেরে খুশি তিনি। এ কাজে তিনি আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান। স্বপ্ন দেখেন একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার। সে লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন বয়সের বাধাকে দূরে ঠেলে।

ফেসবুকে তিনি বিখ্যাত মনীষীদের অনুপ্রেরণামূলক উক্তি শেয়ার করেন। মানুষকে উৎসাহিত করেন, অনুপ্রাণিত করেন ভালো কাজ করতে।

ডিপ্রেসন বা বিষন্নতা বা মানসিক অবসাদ

বিষন্নতাডিপ্রেসন বা মানসিক অবসাদের কথা অমরা আজকাল প্রায়ই লোকের মুখে শুনে থাকি অনেকেই হয়ত কম বেশী এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছেন কেউ কেউ প্রায় সময়ই বলে থাকেন মন ভাল নেই, সেটা কি ডিপ্রেসন না অন্য কিছু, যেমন মনে আনন্দ নেই, সেটা যে কারনেই হোক না কেনউদাহরন স্বরূপ বলা যেতে পারে কেউ কোনো কাজে অসফল হয়েছে তার জন্য মন খারাপ, বা কেউ পরিক্ষায় ফেল করেছে তার জন্য মন খারাপ, বা কেউ ভালবাসায় ব্যর্থ হয়েছে তার জন্য মনে আঘাত লেগেছে এই অবস্থাগুলোকে কি ডিপ্রেসন বলা যাবে? হয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে বলা যাবে যদি দৈনন্দিন কাজ কর্ম ব্যহত হয়, আর মনে বিশেষ কষ্ট হয় তাহলে এই বিষন্ন অবস্থা অনেক সময় ভুক্তভোগী নাও বুঝতে পারে, যদিও তার খুব অসুবিধা হয়

বিষন্নতাবামানসিকঅবসাদেরকিকিউপসর্গ?

ডিপ্রেসনের প্রধান উপসর্গ হল, ভাল না লাগা, বা ইংরাজিতে যাকে বলে লো মুড(Low mood) কিন্তু কারও কারও ডিপ্রেসন না হয়ে খিটখিটে বা রাগের ভাব বেশী হতে পারে। আরো উপসর্গগুলো নিচে দেওয়া হলঃ

) বেশীরভাগ সময় মন ভাল না লাগা, বা কারও কারও সব সময় রাগ বা খিটখিটে মেজাজ

) ঘুমের অসুবিধা, যেমন, প্রথম রাত্রিতে ঘুম ঠিক এসে যায়, কিন্তু মাঝ রাত্রিতে বা খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে যায়, তারপর যার ঘুম আসে না। আবার ঘুমটা ভাঙ্গা ভাঙ্গাও হতে পারে

) খেতে ইচ্ছা না করা, তার জন্য দেহের ওজন কমে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ ম্ন খারাপের জন্য অনেক বেশী খেয়ে বেশ মোটা হয়ে যেতে পারে। তারা আবার বেশি ঘুমায়ও

)আগে যা যা করতে ভাল লাগত তা আর ভাল লাগে না, যেমন গান শোনা, বই পড়া, বা সিনেমায় যাওয়া, বা বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি।এমনকি যৌনকাঙ্খাও কমে যায়

)নিজেকে গুটিয়ে ফেলে, বন্ধু বান্ধব, বা আত্মীয় স্বজন কারো সাথে মেলামেশা না করা

) কাজে না যাওয়া, বা পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়

) অনেকে বলেন স্মৃতি শক্তি কমে গেছে, কিছু মনে থাকে না, ঠিক মত মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন না। তার জন্য কাজে ভুল হতে পারে। কাজ সম্পূর্ন করতে অনেক বেশি সময় নিতে পারে

) কেউ কেউ বলেন, যখন ডিপ্রেসনের মাত্রা বেশী হয়, যে বেঁচে থেকে লাভ নেই। মরে যাওয়াই ভাল। এই সময় অনেকে আত্মহত্যা করে ফেলতে পারেন

) আমাদের দেশে ডিপ্রেসন হলে অনেকে বলেন, গা, হাত পা ব্যথা করছে, মাথা ব্যথা সব সময়। যাদের ডিপ্রেসনের সাথে টেনশন থাকে তারা বলেন, বুক ধড়ফড় করছে, গা, হাত পা ঝিন ঝিন করছে, যেন সাংঘাতিক কোনো দুরর্ঘটনা ঘটে যাবে।এক মুহূর্তের জন্য শান্ত থাকতে পারেন না। ভারতবর্ষে বা তার আশপাশের দেশ গুলোতে অবসাদের রোগীরা আরো নানা রকম শারীরিক উপসর্গ যেমন, হজমে গন্ডগোল, মাসিকে গন্ডগোল বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্ন, ইত্যাদিও হয়। তারজন্য রোগি অনেক সময় চিকিৎসার জন্য জেনারেল ডাক্তারের কাছে যায়

১০) এমনও দেখা গেছে অবসাদ অবস্থা যখন খুব বেশি হয় তখন রোগী কানে নানা কথা শুনতে পারে(হ্যালুসিনেসন,) যেমন কেউ যেন বলছে, ‘ তোমার বেঁচে থেকে লাভ নেই,এখনই মরে যাও, তুমি অনেক পাপকাজ করেছ, ইত্যাদি এই সময় রোগী ওই কথাগুলোকে সত্যি মনে করে আর তাতে আত্মহত্যা করার প্রবনতা অনেক বেশি হয়

ডিপ্রেসনকাদের?

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ডিপ্রেসন বা মানসিক অবসাদ ভোগেন এমন রোগীর সংখ্যা এমন কিছু কম নয়, এবং বেশীর ভাগ রোগীরই চিকিৎসা করা হয় না  কারন তারা বুঝতে পারে না যে তাদের ডিপ্রেসন হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে সারা বিশ্বে যে কোনো সময় প্রায় দশ কোটি মানুষের ডিপ্রেসন হয়, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র এক কোটি রোগি ডাক্তারের কাছে যায় চিকিৎসা করাতে।মানসিক অবসাদের এই অবস্থা নারী পুরুষের মধ্যে প্রায় সমান সংখ্যায় হয়, যদিও পুরুষদের মধ্যে ডিপ্রেসন বেশী হয় বৃদ্ধ অবস্থায়। যেকোনো বয়সে এই মানসিক অবসাদ হতে পারে, এমনকি দশ বছরের কম শিশুদের মধ্যেও। শিশু বা বয়ঃসন্ধিক্ষনে ডিপ্রেসনের উপসর্গগুলো অনেকটা আলাদা হয়

ডিপ্রেসনবাঅবসাদকিভাবেপ্রভাবফেলতেপারে?

কারও মানসিক অবসাদ হলে তার জীবনে বেশ গভীর ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন

) কাজকর্মে অসুবিধা, নানা ভুল করতে পারে, কাজে মন না লাগার জন্য কাজে দেরী হওয়া, কাজে না যাওয়া, ইত্যাদি। কাজ না করার জন্য পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়

) পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে না। ছেলে মেয়েদের দেখাশোনা ইত্যাদি ঠিকমত করতে পারে না

) বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের থেকে দূরে সরে যায়

) যদি উঠতি বয়সের সময় এই অবসাদ হয় তখন তারা পড়াশোনায় মন দিতে পারে না, প্রায় রাগ ভাব আব ছটফটে ভাব হয় বা একদম নিস্তেজ ভাব হয়ে যায়। এতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে পারে, সেটা আর কখনো মেকাপ করতে পারে না, যদি না সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা হয়

) কেউ কেউ আবার নানা ড্রাগ নেওয়া শুরু করতে পারে, তখন ডিপ্রেসনের মাত্রা আরো বাড়তে পারে। অনেকে ভাবেন অ্যালকোহল খেলে হয়ত মনের অবসাদের ভাবটা কেটে যাবে। কিন্তু তাতে ডিপ্রেসনের মাত্রা আরো বেশী বেড়ে যায়। এমনকি আত্মহত্যা করার প্রবনতা বেড়ে যায়।সুতরাং দেখা যাচ্ছে মানসিক অবসাদের জন্য রোগীর জীবনে সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে

ডিপ্রেসনবাঅবসাদকেন?

দেহের কোনো কারনের জন্য বিষন্নতা হতে পারে কি?

অনেক পরিক্ষায় বা গবেষনায় পাওয়া গেছে যে শারীরিক কিছু পরিবর্তনের জন্য মনের বিষন্নতা আসতে পারে। যেমন

ব্রেনেরবামস্তিষ্কেরনানানিউরোট্রান্সমিটারেরপরিবর্তনেরজন্যঅবসাদহতেপারে

নানা নিউরোট্রান্সমিটারের মধ্যে দুটি বিশেষ উল্লেখ যোগ্য, যেমন নর এপিনেফ্রিন(norepinephrine) সেরোটোনিন(serotonin)নিউরোট্রান্সমিটার হল এক রকমের কেমিক্যাল যেটা সাধারনতঃ নার্ভকোষে সব সময় তৈরী হয়ে চলেছে।যখন নার্ভ এর উত্তেজনা হয় তখন সেটা বাইরে বেরিয়ে এসে অন্য নার্ভকে উত্তেজিত করে, এই ভাবে এক নার্ভ থেকে অন্য নার্ভে যোগাযোগের জন্য আমরা সব অনুভূতি পাই।  এই নর এপিনেফ্রিন( norepinephrine) এর উপর প্রভাব ফেলে ভেনলাফাক্সিন(Venlafaxine) নামক ঔষধ যেটা ডিপ্রেসনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। সেই জন্য মনে করা হয় নরএপিনেফ্রিন যে নার্ভকোষের উপর কাজ করে তার বেশী ক্রিয়ার জন্য ডিপ্রেসন হয়

নার্ভে  সেরোটোনিন(serotonin) এরকমহওয়াজন্যডিপ্রেসন

কারন দেখাগেছে ফ্লুওক্সেটিন(Fluoxetine) নামকডিপ্রেসনেরঔষধব্রেনেসেরোটোনিনেরপরিমানবাড়িয়েদেওয়াজন্য  মনেরঅবস্থারউন্নতিয়েছে। তাই মনে করা হয়, সেরোটোনিন এর পরিমান কমে যাওয়ার জন্য হয়ত এই রোগটা হয়।শেষ কয়েক দশকে আরো কয়েক রকমের সেরোটোনিনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো আরো নানা ভাবে মনের উপর প্রভাব ফেলে

ডোপামিন(Dopamine) আরেকরকমেরনিউরোট্রান্সমিটারযেটাকমহওয়াজন্যডিপ্রেসন কারন দেখা গেছে, টাইরোসিন (tyrosine) নামক অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যাম্ফিটামিন(amphetamine), বা বিউপ্রোপিওন(Bupropion),ইত্যাদি ব্রনের মধ্যে ডোপামিনের পরিমান বাড়িয়ে দেয়, তার জন্য এই ঔষঢগুলোকে ডিপ্রাসনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার আমরা জানি যে পারকিনসন স্নায়ু রোগের(Parkinson’s disease)কারন হল ব্রেনের কিছু স্থানে বা সেন্টারে ডোপামিন কম হওয়া। সেই জন্য অনেক পারকিনসন রোগীর ডিপ্রেসন হয়।উপরের যে নিউরোট্রান্সমিটার গুলো বলা হল তাছাড়াও আরো নিউরোট্রান্সমিটার আছে যেমন, অ্যসিটাইলকোলিন(Acetylcholine) , গাবা( GABA, Gama Amino Butyric Acid), ইত্যাদি ডিপ্রেসনের কারন হতে পারে

হরমোনেরকমবেশিহওয়াজন্যওডিপ্রেসনহতেপারে

যেমনথাইরয়ে (thyroid hormone ) হরমোনগ্রোথ (Growth hormone ) হরমোনকমহলেডিপ্রেসন এছাড়া আরো নানা হরমোন আছে যার পরিমানের কম বেশি হওয়ার জন্য মনে উপর প্রভাব ফেলতে পারে,সেগুলো আর বলা হল না।হরমোন নিউরোট্রান্সমিটার কিভাবে কাজ করে,এবং কি ভাবে ডিপ্রেসন হয় এটা খুব জটিল, আর উপরের কারন গুলো খুব সরল ভাবে বর্ননা করা হল

ব্রেনেরআকৃতিরপরিবর্তনঃ

ক্যাট স্ক্যান (CAT Scan) বা এম আর আই(MRI) করে ব্রেনে নানা পরিবর্তন পাওয়া গেছেযেমনভেন্ট্রিকলয়েছে, ব্রেনেরকিছুজাগানার্ভশুকিয়েগেছে, ইত্যাদিসেগুলোআবারসবরোগিরক্ষেত্রেপাওয়াযানি।আবার পেট স্ক্যান(PET scan) করে পাওয়া গেছে যে যাদের ডিপ্রেসন হয়েছে তাদের ব্রেনেরকিছুকিছুজাগারক্তেরচলাচলকমেগেছে।যখনডিপ্রেসনেরথেকেসেরেউঠেছেতখনআবাররক্তচলাচলস্বাভাবিকয়েগেছে।এই সব পরিবর্তন কিছু কিছু ডিপ্রেসনের রোগির ব্রেনে পাওয়া গেছে, সবার ডিপ্রেসন রোগির মধ্যে পাওয়া যায় নি

ডিপ্রেসনবাবিষন্নতারোগকিবংশগত?

ফ্যামিলি স্টাডি, যেসব শিশুদের দত্তক নেওয়া হয়েছে তাদেরকে, এবং যমজ ছেলে মেয়েদের বেশ কয়েক বছর লক্ষ্য করার পর জানাগেছে যে, আমাদের এই মুডের (Mood) এর কারন অনেকটা বংশগত। যদি মা বা বাবার কোন একজনের ডিপ্রেসন বা ম্যানিয়া থাকে তাহলে তাদের সন্তানদেরও  ওই ডিপ্রেসন বা ম্যানিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। আর যদি পিতা মাতার দুজনেরই মুড প্রবলেম আছে তাহলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুন হয়ে যায়।যমজ( যারা একদম একরকম) এক জনের যদি ডিপ্রেসন বা ম্যানিয়া থাকে তবে অন্য যমজ সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ। যমজ (অথচ একদম একরকম নয়) তাদের একজনের যদি হয় তবে অন্য জনের হওয়ার সম্ভাবনা ১৬ থেকে ৩৫ শতাংশ। সুতরাং এর থেকে বেশ বোঝা যাচ্ছে যে বংশগত কারণ একটা প্রধান কারণ

ডিপ্রাসনকিসামাজিককোনোকারণে?

জীবনেরপারিপার্শিকনানাকারনেমানসিকচাপেরজন্যএইবিষন্নতাভাবআসতেপারে। কেউ কেউ মনে করেন জীবনের নানা ঘাতপ্রতিঘাত মানসিক চাপের জন্যই ডিপ্রেসন হয়। আর কেউ কেউ মনে করেন এই মানসিক চাপ ডিপ্রেসন করার জন্য এমনকিছু প্রভাব ফেলে না

লক্ষ্যকরাগেছেযেকোনোশিশুযদিএগারোবছরসেরআগেতারমাবাবারএকজনকেহারাতবেতাদেরয়েবিষন্নতাবাঅবসাদঅবস্থাহওয়াসম্ভাবনাখুববেশি।এটাপ্রাদেখাযাবিশেষকোনোক্ষতিহলেবাবিশষকিছুহারালেডিপ্রেসনেরআরম্ভ যেমন নিকট কোনো আত্মীয় স্বজন হারালে বা মৃত্যু হলে, হঠাৎ  বেশীটাকারকোনোলোকসানবাহারালে, বা চাকরিহারালে বা অবসরনিলে(বিশেষ করে যদি পরিবার স্বচ্ছল অবস্থায় না হয়), বিবাহবিচ্ছেদবাভালবাসাবিচ্ছেদহলে, এমনকিপরীক্ষাঅসফলহলে, ইত্যাদি। কোনকারনেডিপ্রেসনহবেতাঅনেকটানির্ভরকরেবিভিন্নমানুষেরবিভিন্নকারনেরউপরবিশেষগুরুত্তদেওয়াজন্য

বিশেষচিন্তারপরিবর্তনেকিডিপ্রেসনেরকারনহতেপারে?

বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট অ্যারন বেক(Aaron Beck)এর মতে, ডিপ্রেসনে ভোগেন সেই সব রোগিদের চিন্তার কিছু পরিবর্তন হয় যেমনঃ

Ø তারা নিজেদের সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারনা থাকে যেমন ভাবে তাদের দ্বারা কিছু হবে না,তারা অপদার্থ ইত্যাদি,

Ø পারিপার্শিক অবস্থা সম্বন্ধে ভাবে যে সেটা ভীষন এবং অনেককিছু আশা করে তার কাছ থেকে

Ø ভবিষ্যত সম্বন্ধে ভাবে সব সময় তাদের হার হবে আর তাদের ভুগতে হবে। সেই মনে করা হয় যদি এই ভুল ধারনা গুলো থেরাপি করে ঠিক করা যায় তবে ডিপ্রেসনেরও উপশম হবে

ডিপ্রেসনকিএকটাঅসহাঅবস্থাযেটামানুষজীবনধারনেরমধ্যেশেখে?

মনে করা হয় যদি কেউ পরের পর খারাপ অবস্থার বা মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে থাকে তবে তাদের মধ্যে এই অবস্থার সৃস্টি হতে পারে। তখন সে ভাবে তার আর এই খারাপ অবস্থার মধ্যেদিয়ে বেরোনোর উপায় নেই, হতাশ হয়ে যায়, সব আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলে।সেই অবস্থাকে ডিপ্রেসন বলা হয়। সুতরাং একে বলা যেতে পারে বার বার আঘাতের জন্য এক অসহায় অবস্থা

মনেরাখাদরকারকোনোএকটাবিশেষকারনেডিপ্রেসননা।বেশিরভাগক্ষেত্রেইঅনেকগুলোকারনএকসঙ্গেকাজকরে।আবারআরএকরকমেরবিষন্নতাআছেযেটারকোনকারননেই, সেটাকেবলামেলানকোলিকডিপ্রেসন(Melancholic depression). এতেরোগিরমনেরমধ্যেএকদমআনন্দথাকেনা,অনেকসকালেঘুমভেঙ্গেযা, খাওয়াদাওয়াকমকরারজন্যবেশরোগায়েযা, আরমনেরমধ্যেখুবঅনুশোচনাভাবথাকে(এমনকিখুবছোটকিছুরজন্যও)এদেরকেউকেউআত্মহত্যারকরারকথাওবলেন।এদেরকোনোকোনোসমনানাহরমোনেরগন্ডগোলথাকতেপারে

ডিপ্রেসনেরসাথেআরকিকোনোউপসর্গথাকতেপারে?

ডিপ্রেসনের সঙ্গে বেশির ভাগ সময়েই আরো নানা উপসর্গ থাকে, যেমন

Ø কারো কারো উদ্দিগ্নভাব থাকে, যেমন বলে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে না। নানা শারীরিক উপসর্গ থাকে যেমন, বুক ধড় ফড় করা, মাথা ঝিম ঝিম করা, অনেকটা প্যানিক অ্যাটাকের মত

Ø কারো কারো নানা রকম বাতিক থাকে যেমন, ধোয়া ধুয়ি বাতিক, গোনা বাতিক, রোগের বাতিক, নিয়মের বাতিক ইত্যাদি

Ø এর সঙ্গে কেউ কেউ কানে নানা কথা শুনতে (হ্যালুসিনেসন) পান, যেন কেঊ তাদের নানা দোষারোপ করছে, বা তাদের সমালোচনা করছে ইত্যাদি হতে পারে

Ø কেউ কেউ নানা ড্রাগ ব্যাবহার করতে পারে, তার জন্য এই ডিপ্রেসন হতে পারে

Ø কারো যদি কোনো ক্রনিক কোনো রোগ অনেকদিন ধরে থাকে, তবে তাদেরও ডিপ্রেসন বা বিষন্নতা হতে পারে

সন্তানপ্রসবেরপরডিপ্রেসনবাবিষন্নতাভাব

সন্তানপ্রসবের পর কম বেশি মন থারাপ হওয়া প্রায়ই হয়ে থাকে। সেই অবস্থাটা সাধারনতঃ কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস দুয়েকের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। যদি এই বিষন্নতা ভাব খুব বেশি হয়, তখন নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো থাকেঃ

Ø মনে ডিপ্রেসনের ভাব, আনন্দফুর্তি লাগে না। সন্তানকে দেখা শোনা পর্য্যন্ত করে না, খাওয়া দাওয়া কম করে বা বন্ধ করে দিতে পারে। ঘুমের অসুবিধা হয়

Ø মনে করতে পারে বাচ্চার বা সন্তানের কোনো দারুন অসুখ করেছে

Ø এমনকি কোনো কোনো মা আত্মহত্যা পর্য্যন্ত করে ফেলে, বাচ্চাকেও মেরে ফেলতে পারে।এই রকম অবস্থা হলে বাচ্চাকে মায়ের কাছথেকে আলাদা রাখা দরকার মায়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা দরকার।কোনো মায়ের সন্তান সম্ভবা হওয়ার আগেই তাদের যদি ডিপ্রেসন থাকে, তাদের ডিপ্রেসনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যাদের আগের ডিপ্রেসন অবস্থা ছিল, কিন্তু সেরে গেছিল, তাদের সেই বিষন্নতা অবস্থা আবার সন্তান হওয়ার পরে হতে পারে

ডিপ্রেসনআত্মহত্যা

আত্মহত্যার একটা বিশেষ কারন হল ডিপ্রেসন বা বিষন্নতা অবস্থা। সেই জন্য ডিপ্রেসন হলেই বিশেষ করে খেয়াল রাখতে হবে এই আত্মহত্যার কথা। প্রচলিত ধারনা আছে যে আত্মহত্যার কথা জিজ্ঞাসা করলে নাকি আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়ে যায়। এর কোনো সঠিক প্রমান পাওয়া যায় নি

কোনোডিপ্রেসনেররোগিরআত্মহত্যারকরারপ্রবনতাবাড়েযদিঃ

Ø সে পুরুষ হয়, অবিবাহিত বা একা থাকেন বা পত্নিবিয়োগ হয়েছে

Ø ডিপ্রেসনের মাত্রা বেশি হয়, যেমন কানে নানা কথা শুনছেন যেবেচে থেক কি লাভ, মরে যাওয়াই ভাল ইত্যাদি বা বলছেন যেআগে অনেক পাপ করেছেন, বা দুর্নিতি করেছেন তার জন্য ভুগতে হচ্ছে, বা পুলিশে ধরে নিয়ে যাবে, ইত্যাদি

Ø বলেন ভবিষ্যতে আর আশা নেই, অসহায় অবস্থা প্রকাশ করছেন সব সময়। বলছেন কেউ তাকে আর ঠিক করতে বা সাহায্য করতে পারবে না

Ø আত্মহত্যা করার আগে তাঁরা বেশ প্ল্যান করেই করেন। অনেকেই মরার আগে সুইসাইড নোট লিখে রেখে যান

Ø যারা আগে আত্মহত্যা করতে গিয়ে অসফল হয়েছেন, তারা পরের বার আরও সাংঘাতিক রকমের আত্মহত্যার চেস্টা করেন। সুতরাং এটাও ভুল ধারনা যে যারা একবার আত্মহত্যায় অসফল হয় তারা আর আত্মহত্যার চেস্টা করে না

Ø কোনো না কোনো ভাবে আগে কাউকে আত্মহত্যার কথা বলে থাকেন এই সব ডিপ্রেসনের রোগিরা।তাই সব সময় সতর্ক থাকা দরকার

Ø ডিপ্রেসনের রোগির অ্যালকোহলের নেশা থাকলে, আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়ে যায়

লিখেছেনঃশানুপাল

Ø কো

সুখী দাম্পত্যের দশ সূত্র

জীবনের এক প্রয়োজনীয় একইসাথে চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র হলো দাম্পত্যজীবন। ছোট ছোট কয়েকটি টিপস অনুসরণ করলেই এ জীবন হতে পারে অনেক আনন্দময়।

সূখী দাম্পত্য

১. বাস্তববাদী হোন
আপনার দাম্পত্যজীবন নিয়ে আপনার ভাবনা কী? সেটা কি রূপকথার গল্পের মতো অত:পর তাহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো ধরনের, নাকি বাংলা সিনেমার মতো সারাক্ষণ প্রেম-ভালবাসা-ভালবাসি র মতো অলীক কল্পনাবিলাস?
আপনি কি নাটক-উপন্যাস-সিনেমার নায়ক-নায়িকার মতো সর্বগুণ-রূপধারী জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনীর স্বপ্ন দেখেন?
অথবা আপনি কি বিয়ের পরও আশা করেন আপনার স্ত্রী/স্বামী সেই আচরণ করবে যা সে করতো বিয়ের আগে প্রেমিক/প্রেমিকা হিসেবে?
দাম্পত্যজীবনে অশান্তির একটা বড় কারণ এই অবাস্তব, অলীক প্রত্যাশা। কারণ বাস্তবজীবনে অলীক প্রত্যাশাগুলো যখন বাস্তবায়িত না হয় তখন তা আশাভঙ্গ ও মর্মপীড়ার কারণ হয়। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটা এখন প্রমাণিত যে, প্রেমের প্রাথমিক উন্মাদনা ক্ষণস্থায়ী। আপনি যাকেই বিয়ে করেন না কেন, সে কখনোই ১০০% নিখুঁত হবে না। সারাক্ষণ শুধু আপনার চিন্তা করবে না। সুখী হতে হলে আপনাকে তাই বাস্তববাদী হতে হবে। সফল দম্পতিরা দৈনন্দিন জীবনযাপনেই রোমান্টিকতা খুঁজে নেন, প্রেমের প্রাথমিক উন্মাদনাকে দীর্ঘস্থায়ী প্রেমানুভূতিতে রূপান্তরিত করেন।

২. কাকে বিয়ে করবেন
শুধু বাইরের চাকচিক্য দেখে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে আপনি ভুল করবেন। যেমন, পাশ্চাত্যের একজন তরুণী হয়তো একজন পুরুষ কতটা সুদর্শন, লম্বা বা তার মধ্যে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য আছে কিনা বা তার ধনসম্পদের পরিমাণ কেমন ইত্যাদি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। আবার আমাদের প্রাচ্যের কোনো অভিভাবক হয়তো পাত্রের ডিগ্রী, টাকা-পয়সা কিংবা পাত্র বিদেশে থাকে ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে। আপাত অনেক কিছু দেখে, অনেকভাবেই একজন প্রভাবিত হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিয়ে সুখের হবে কিনা তা এসবের ওপর নির্ভর করে না। হয়তো দেখা গেল এসবকিছু দেখে যে পাত্র বা পাত্রীকে বাছাই করা হলো, বাস্তবে সে একজন স্বার্থপর মানুষ অথবা পাত্র-পাত্রীর মধ্যকার সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যবধান এত বেশি যে মানিয়ে চলা অসম্ভব।
আবার আমরা মনে করি প্রেমের বিয়ে হয়তো সুখের হয়। কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম থাকলেই যে তা সুখের বিয়ে হবে তেমন কোনো কথা নেই। কারণ প্রেম আসলে নারী-পুরুষের শারীরিক আকর্ষণেরই এক পোশাকী নাম।
সুখী দাম্পত্যের জন্যে যা প্রয়োজন তাহলো আপনার জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনী ভালো মানুষ কিনা, সৎ বিশ্বস্ত এবং উদারমনা কিনা। আদর্শ দাম্পত্য সম্পর্ক তখনই সৃষ্টি হয় যখন স্বামী এবং স্ত্রী দুজনই একই মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হন।
তাই বিয়ের আগে যে মানুষটিকে আপনি জীবনসঙ্গী করতে চাচ্ছেন, তার সম্পর্কে সম্ভাব্য সবকিছু জেনে নিন। পাত্র-পাত্রীর ব্যাপারে নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিতে পারে এমনদের সাথে যোগাযোগ করুন। আর যদি তথ্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ থাকে তাহলে একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিন। সবসময় মনে রাখবেন যা রটে তা কিছুটা বটে। কাজেই কোনো নেতিবাচক তথ্য পেলে তা যাচাই না করে হেলায় উড়িয়ে দিলে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তে আপনি বড় ধরনের ভুলও করে ফেলতে পারেন। আর অবশ্যই নিজের সম্পর্কে এমনকিছু গোপন করবেন না যা পরে জানলে ভুল বোঝাবুঝি হবে।

৩. শুধু দুজনে মিলে সুখী হতে পারবেন না
অভিভাবকের দোয়া ছাড়া আপনার দাম্পত্যজীবন কখনোই সুখী হতে পারে না। বাবা-মায়ের সংসারের সাথে যতই আপনি বাহ্যিক সম্পর্ক ছেদ করুন না কেন এর প্রভাব আপনার ওপর থেকেই যায়। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা বিয়ে করেন তাদের দাম্পত্যজীবনে একটা শূন্যতা থেকেই যায় যা কখনো পূরণ হয় না। এর মানে এই নয় যে, জীবনসঙ্গী নির্বাচনে আপনার কোনো ভূমিকা থাকবে না বা আপনার ওপর যেকোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হবে। বিয়েতে আপনার পছন্দকে যেমন অগ্রাধিকার পেতে হবে তেমনি থাকতে হবে দু’পরিবারের সর্বসম্মত অনুমোদন এবং সমর্থন।

৪. বিয়ের অনুষ্ঠান অনাড়াম্বর রাখুন
ইদানিং বিয়েতে আনুষ্ঠানিকতা এবং খরচের বাহুল্য একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার। আর এর কারণ ছোটবেলা থেকে আমরা এক রূপকথাময় বিয়ের কল্পনা করে বড় হই। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে যতই জাঁকজমক হোক তার স্থায়িত্ব মাত্র একদিন। প্রাচ্যের কোনো কোনো সংস্কৃতিতে বড়জোর এক সপ্তাহ। অথচ এই ক্ষণস্থায়ী আয়োজনে লোকদেখানো খরচের প্রতিযোগিতায় মাততে গিয়ে দুপরিবারকে হয়তো ঋণের জালে জর্জরিত হতে হয়। আর পরিণাম হয় আর্থিক-মানসিক এবং আত্মিক অশান্তি। শান্তিপূর্ণ দাম্পত্যজীবনের জন্যে তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা যথাসম্ভব অনাড়াম্বর রাখুন।

৫. আপনার সঙ্গী আপনাকে বুঝবে নয়, আপনি আগে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন
দাম্পত্যজীবনে সমস্যার একটা অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেরাই যে সমস্যার জন্যে দায়ী – এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা সবসময় মনে করি: আমি ঠিক, আমার স্বামী/স্ত্রী ভুল। অথবা মনে করি ও আমার প্রতি অন্যায় করছে কিংবা মনে করি যে ও আমাকে বোঝে না। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে, আরেকজনকে বোঝার জন্যে আমিই আগে উদ্যোগ নিতে পারি।
দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার অন্যতম উপায় হলো, নিজের ভুলগুলো নিজেই খুঁজে বের করা এবং অপরপক্ষের অবস্থান থেকে দেখার চেষ্টা করা। আমরা এটা কখনোই আশা করতে পারি না যে, আমি যা করি না, আমার স্বামী/স্ত্রী সেটা করবে। আমরা যখন ধরে নিই যে, সমস্ত ভুল আরেকজনের, তখন ভুল বোঝাবুঝি দূর করার দায়ও আমরা তার ওপরই চাপিয়ে দিই। যদি আমরা শুধু এটা মনে করতাম যে, বোঝাবুঝির অভাব হলেই ভুল বোঝাবুঝি হয়, তখন আমরাই উদ্যোগ নিতাম। কোন সমস্যাই আর সমস্যা থাকতো না।

৬. জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনীর দূর্বলতা এবং সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রো-একটিভ হোন
প্রতিটি মানুষের মতো আপনার স্ত্রী বা স্বামীরও কিছু দোষ-ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকবেই। তার চরিত্রের এমন কিছু দিক থাকবে যা আপনার মনপছন্দ না-ও হতে পারে। এই দিকগুলো আপনি কীভাবে সামলাবেন তার উপরই নির্ভর করবে আপনার দাম্পত্যজীবন কতটা সুখের হবে। খেয়াল রাখুন নিচের টিপসগুলো:
· জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনীকে পুরোপুরি গ্রহণ করুন – তার দুর্বলতা এবং সীমাবদ্ধতাসহ। মনে রাখবেন সমমর্মিতা/ প্রেম আরেকজনকে বিচার করে না, বরং তাকে বোঝার চেষ্টা করে।
· ব্যক্তিকে তার আচরণ থেকে আলাদা করে দেখুন। আজকের আচরণের চাইতে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিলে তার বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে নেওয়া সহজ হবে।
· পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণাগুলোকেই লালন করুন। স্বামী/স্ত্রীর ভালো গুণগুলো খুঁজে দেখুন এবং সেগুলোর প্রশংসা করুন। এটা তাকে তার সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে উৎসাহিত করবে।
· অতীত ভুলে যান। স্বামী/স্ত্রীর অতীত ভুলকে মনে রাখবেন না। বর্তমানকে নিয়ে বাঁচুন।
· স্বামী/স্ত্রীকে কখনো অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। বরং অতীতের সাথে তার বর্তমানের অবস্থানকে তুলনা করে দেখুন তার কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে।

৭. আর্থিক বিষয় পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ হোন
দাম্পত্যজীবনে সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। সমস্যাটি আরও প্রকট হয় যখন স্বামী হয় পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী এবং স্ত্রী থাকে আর্থিক ব্যাপারে পুরোপুরি স্বামীর ওপর নির্ভরশীল। এসব ক্ষেত্রে স্বামীর উপার্জন এবং স্ত্রীর প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য না থাকলেই সমস্যা দেখা দেয়। অর্থনৈতিক বিষয়ে ঝামেলা এড়াতে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন।
· প্রথম থেকেই স্বামী/স্ত্রীকে নিজের উপার্জন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিন। ফলে অবাস্তব প্রত্যাশা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
· পরস্পরের জন্যে ছোটখাটো হলেও উপহার কিনুন।
· স্বামী/স্ত্রী তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে চাইলে বা কোন উপহার দিলে অযৌক্তিকভাবে বাধা দেবেন না।
· ঝোঁকের বশে কেনাকাটা করে অপচয় করবেন না। অপচয় আপনার জীবনে দুর্ভাগ্য নিয়ে আসবে।
· পরিবারে আপনি (স্বামী হিসেবে) একা উপার্জনক্ষম হলে জীবনসঙ্গিনীর আর্থিক চাহিদার উত্তরে যত বেশীবার সম্ভব হ্যাঁ বলুন। আপনার স্ত্রীকে হাতখরচ হিসেবে টাকা দিন এবং সেই টাকা তিনি কীভাবে খরচ করেন সে ব্যাপারে কোন খোঁজ-খবর নেবেন না।
· পরিবারে আপনার স্বামী একা উপার্জনক্ষম হলে আপনার প্রত্যাশাকে যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখুন। তার সামর্থ্যের বাইরে কিছু চাইবেন না।

৮. পরিবারে সময় দিন, সম্পর্ক লালন করুন
জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পরিবারিক জীবনেও আপনি যদি সাফল্য চান, আপনাকে পরিবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা ক্লাবে তাস বা পুল খেলে সময় কাটানোর চাইতে পরিবারে সময় দিলে সেটা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যে ভালো হবে। মনে রাখবেন, বাসায় থাকা আর পরিবারের সাথে সময় কাটানো – দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। বাসায় থাকলে টিভি না দেখে পরস্পরের সাথে কথা বলুন, অনুভূতি-মতামত-পরামর্শ বিনিময় করুন। অফিসের চাপ, ঝামেলা বা টেনশনকে অফিসে রেখে শুধুমাত্র পরিবারকেই সময় দিন। সুযোগ থাকলে ঘরের কাজে স্ত্রীর সাথে অংশ নিন।

৯. পরিবারিক সম্পর্কে আত্মিকতা বজায় রাখুন
শুধুমাত্র জৈবিক বা বাহ্যিক আকর্ষণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ভিত খুব দুর্বল হয়। পারস্পরিক সম্পর্কে যখন সমমর্মিতা এবং ধর্মীয় বন্ধন থাকে তখনই সেই সম্পর্ক হয় সুখপ্রদ এবং দীর্ঘস্থায়ী।
জৈবিক সত্তা আমাদেরকে ভাবায় আমি কী পাবো ? আর আত্মিক সত্তা ভাবতে শেখায় আমি কী দিতে পারি? দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে সাধারণ ধারণা হলো আমি কী পাবো। কিন্তু মৌলিক সত্য হচ্ছে: যতই আমরা দিতে থাকবো, প্রাকৃতিক প্রতিদানের নিয়ম অনুযায়ী আমরা ততই পেতে থাকবো। আমাদের বিবাহিত জীবনে সবসময় আমরা শুধু যদি এটা ভাবতে পারি যে: আমি আমার সঙ্গীকে কি দিতে পারি, এর ফলাফল আমাদের বিস্মিত করবে। আমরা তখন আমাদের সঙ্গীর সেইসব দিকে তাকাতে পারবো, যেগুলোর দিকে আমরা আগে নজরই দেইনি। আমরা আরও উপলব্ধি করতে পারবো যে, স্বামী/স্ত্রীi কাছ থেকে কিছু চাওয়ার পরিবর্তে তাকে কোনো কিছু দিতে পারার আনন্দ অনেক বেশী। নিঃশর্ত ভালবাসা যে সম্পর্ক তৈরী করে, কোন চাহিদা-চুক্তি-কর্তৃত্ব সেরকম সম্পর্ক তৈরী করতে পারে না। কাজেই কোনোরকম প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে শুধু দিয়ে যান।

১০. কখন হাল ছাড়তে হবে, এটা বুঝুন
যতই চেষ্টা করা হোক, কিছু বিয়ে হয়তো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। স্বামী বা স্ত্রী যদি অত্যাচারী হয়, তার এমন কোনো চারিত্রিক দোষ থাকে যা সে শোধরাতে রাজী নয়, সে যদি সবসময় অমর্যাদাকর ব্যবহার করে বা আপনার প্রতি বিশ্বস্ত না হয়ে থাকে, তবে এ ধরনের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোই ভাল। এসব ক্ষেত্রে তিনি নিজের স্বভাব পরিবর্তন করে ভালো হয়ে যাবেন এমন আশা না করে বাচ্চা আসার আগেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন। আসলে কেউ কেউ আছে কখনো বদলাতে চায় না। এও মনে রাখা দরকার, দাম্পত্যজীবনে আমি কী দিতে পারি এটা ভাবা আর দুর্বল বা নির্ভরশীল হওয়া এক কথা নয়। তবে আপনার যদি সন্তান থাকে, আইনানুগ বিবাহবিচ্ছেদের আগে সময় নিয়ে, গভীরভাবে সবদিক ভেবে নেবেন।

সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড

বিয়ের আগে কনের প্রস্তুতি

বিয়ের প্রস্তুতি

বিয়ে প্রতিটি মেয়ের জীবনেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে মেয়েদের মনে নানা ধরনের স্বপ্ন, ইচ্ছা, আকাঙ্খা বাসা বাঁধে। বিয়ের কাজ ও নানা মানসিক চাপের ফলে চেহারায় একটি ক্লান্তিভাব চলে আসে। তাই আগে থেকে যত্ন নিতে হবে।

বিয়ের অন্তত পনের দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া প্রতিটি মেয়ের জন্য খুব জরুরি, যাতে বিয়ের দিন কনে হিসেবে তাকে অনেক সুন্দর ও প্রাণবন্ত দেখায়। সঠিক নিয়ম পালন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে আপনি চাইলে আপনার ত্বকের ও চুলের যে কোন সমস্যা প্রতিহত করতে পারেন।

বিয়ের আগে কনে যেসব পরিচর্যা করতে পারেন তা হল-

ত্বক: 

বিয়ের আগে কনে বাসায় নিয়মিত কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারে। এতে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে। যেমন-

  •  ক্লিনজার দিয়ে দিনে অবশ্যই দু’বার মুখ ধুতে হবে। এর পর মুখ শুকিয়ে এলে আবার টোনার দিয়ে মুখ মুছে নিন। এর পর আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
  • বেশি চা, কফি খাবেন না। কারণ বেশি চা, কফি খেলে নার্ভ উত্তেজিত হয় এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বেরিয়ে যায়।

ত্বকের যত্ন

 দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি ও ফলের রস খান।

  • ·         প্রচুর পানি পান করবেন; দিনে অন্ততপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করবেন।
    ·         ভিটামিন এ ও ই সমৃদ্ধ এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস্ ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
    ·         আপনি অবশ্যই বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানোর চেষ্টা করবেন।
    ·         পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, পরিমিত খাবার এবং যথেষ্ট পানি খেতে চেষ্টা করুন।
    ·         রোদের তাপ থেকে সবসময় আড়াল থাকতে হবে।
    ·         বিয়ের আগে কনে বাসায় নিয়মিত কিছু ফেইস পেকও ব্যবহার করতে পারে। যেমনÑ
    ·         ত্বকের যে কোন দাগ দূর করার জন্য পাকা পেঁপের কোন ঝুড়ি নেই। পাকা পেঁপে চটকে তাতে টকদই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। এই প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে উঠিয়ে ফেলতে হবে। এর পর মুখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

·         এছাড়া পাকা পেঁপে চটকে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে, গলা ও হাতে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এর পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করে তুলে ফেলতে হবে।
·         চালের গুঁড়া টকদই, মূলতানি মাটি কমলালেবুর খোসার গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে পেক তৈরি করে মুখে এবং গলায় লাগাতে হবে। এই পেক নিয়মিত লাগালে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সতেজ।
·         এছাড়া পাকা কলা লেবুর রস এবং মধু ভালো করে মিশিয়ে পেক তৈরি করে সেই পেকটি মুখে লাগিয়ে বিশ মিনিট রাখতে হবে। এর পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ কর তুলে ফেলতে হবে।
·         আপনার ত্বক বিরক্তি প্রকাশ করে এমন কোন কিছুই করা আপনার ত্বকের জন্য ভালো নয়। আপনি লোশন টাইপের পণ্য দিয়ে ক্লিনজিং ও ময়েশ্চারাইজিং করবেন এবং টোনিং করার জন্য অ্যালকোহলবিহীন টোনার নেবেন এবং যে ধরনের ফেসিয়াল মাস্ক ত্বককে উষ্ণ করে ফেলে তা আপনার জন্য প্রযোজ্য না।
·         আপনি যে কোন ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কেনার সময় প্রোডাক্টটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্য প্রযোজ্য কিনা জেনে কিনবেন। এখন অধিকাংশ ব্র্যান্ডের গায়ে লেখা থাকে এটি কোন ধরনের ত্বকের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
·         বাসাতে আপনার ত্বকে ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিতে পারেন ১ চা চামচ করে মধু ও অ্যালোভেরার জেল এবং একটি ডিমের কুসুম মিলিয়ে ত্বকে ব্যবহার করে ৫ মিনিট পর উষ্ণ পানিতে ধুয়ে নিন।

  • ত্বকের মরা কোষ ঝরানোর জন্য ২ টেবিল চামচ করে ওটমিল ও অ্যালোভেরার জেল, ২ চা চামচ চিনি এবং ১ চা চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিলিয়ে ত্বকে ব্যবহার করে ৩ মিনিট পর ভেজা ও নরম হাতে ম্যাসাজ করে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একবার মরা চামড়ার কোষ ঝরানো যেতে পারে।

 চুল:
·         বিয়ের আগে কনে বাসায় নিয়মিত কিছু চুলের পেকও ব্যবহার করতে পারে। যেমন :
·         চুলের ডগা ফেটে গেলে তা কাটা ছাড়া কোন উপায় নেই। এ ছাড়া চুলে নিয়ম করে যতœ নিতে হবে। ২০০ গ্রাম নারকেল তেলের সঙ্গে ২০টা জবাফুল, দুটি আমলকী, দুই চামচ মেথি ১০ মিনিট ফোটান। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই মিশ্রণ চুলে লাগাবেন।

চুলের যত্ন
·         রোজমেরি অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল ও অলিভ অয়েল মেশানো কন্ডিশনার ভেজা চুলে লাগান। হালকা কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ৪৫ মিনিট। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল শুকিয়ে নিন ।
·         প্রতিদিন একটি করে ডিম মাথার ত্বক ও চুলে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর ধুয়ে নিতে পারেন। অথবা তিনটা অ্যালোভেরার পাতা থেকে ভালো করে জেল বের করে নিয়ে এতে মধু মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একবার করে তিন মাস এভাবে পরিচর্যা করতে থাকুন।
·         চুলের রুক্ষতা দূর করতে সপ্তাহে তিন দিন চুলে তেল লাগিয়ে এ প্যাকটি ব্যবহার করুনÑ এক চামচ নারিকেল তেল, এক চামচ কাস্টার অয়েল, এক চামচ ভিনেগার, এক চামচ শ্যাম্পু, একটা পাকা কলা ও এক চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন চলি¬শ মিনিট। এরপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
·         সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন নারকেলের দুধ, পাতিলেবুর রস ও নিমপাতা বাটা মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শেষে দুধ ও মধুর মিশ্রণ দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

·         খুশকি থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাকটি লাগান। টকদই, একটি ডিস্ট্রিন ট্যাবলেট ও পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। দু-ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শেষে চায়ের লিকারে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

  • এছাড়া বিয়ের পনের দিন আগে থেকেই ভালো কোন স্যালন থেকে কনে ত্বক ও চুলের কিছু ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিতে পারে।
    ·         বিয়ের পনের দিন আগে থেকে ভালো কোন বিউটি পার্লার থেকে কমপক্ষে দু’বার ফেসিয়াল করে নিন।
    ·         বিয়ের আগে ত্বকে বাড়তি উজ্জ্বলতা আনতে গোল্ড ফেসিয়াল, পার্ল ফেসিয়াল, ব্রাইটেনিং ফেসিয়াল, অক্সি-ব্রাইট ফেসিয়াল ইত্যাদি করা যেতে পারে।
    ·         বিয়ের দুই-তিন দিন আগে ম্যানিকিউর-পেডিকিউর করে নিন। অনুষ্ঠানের আগে পুরো মুখে থ্রেডিং করে নিতে পারেন।
    ·         ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে থ্রেডিং না করতে চাইলে মুখে ও হাতে ফেয়ারপলিশ করে নিন।
    ·         মেকআপের এক দিন আগে আই-ব্রাউ শেপ করে নিন। বিয়ের তিন-চার দিন আগে ওয়্যাক্সিং করে নিন।
    ·         চুলের স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লুকের জন্য বিয়ের আগে অন্ততপক্ষে দু’বার হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। যেমন : প্রোটিন হেয়ার ট্রিটমেন্ট, হার্বাল ট্রিটমেন্ট, হেয়ার স্পা ইত্যাদি করতে পারেন।
    ·         এছাড়া বিয়ের আগে কনের কিছু আলাদা প্রিপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। যেমন :
    ·         বিয়ের আগের দিন হাতে মেহেদি পরুন। বিয়ের সাজের দিন পার্লারে যাওয়ার আগে ফুল কিনে রাখুন। শাড়ি, গহনা, জুতাসহ সব জিনিস সঙ্গে নিয়ে নিন।
    ·         মনের চাপ কমাতে বিয়ের আগে থেকে পাওয়ার ইয়োগা অথবা ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে পারেন।
    ·         নিজেকে রিল্যাক্স রাখতে ভালো কোন স্পা থেকে বডি ম্যাসাজ বা অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে নিতে পারেন।

– কানিজ আলমাস খান

 

‘নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়’

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সম-অধিকার স্বীকৃত। এর পরও ঘরে-বাইরে সবখানেই নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আইন রয়েছে, কিন্তু কোনো বাস্তবায়ন নেই। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে চলেছে ক্রমেই। সাক্ষাৎকারে এসব নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী।

সালমা আলী

# বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন আইনে যেসব বিধান রয়েছে, তা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কতটুকু কার্যকর?

সালমা আলী: আমাদের দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বেশ কিছু আইন রয়েছে, যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩); যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০; অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২; ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯; পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২; মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ ইত্যাদি। এসব আইনে যেসব বিধান রয়েছে, তা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক যে, এসব আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিও উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার জন্য নারীরা হয়রানির শিকার হন। মামলা পরিচালনার খরচ বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে মামলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

# পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে ২০১০ সালে আইন করা হয়েছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন কতটুকু?

সালমা আলী: পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ আইনটি একটি প্রতিরোধমূলক ও নমনীয় আইন। এটি পারিবারিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে। এ আইনের আওতায় দেশে ইতিমধ্যে ১১৫টির বেশি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনডব্লিউএলএ ৫০টির বেশি মামলা করেছে। এই আইনে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে মামলা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট বিধিমালা না থাকায় কোনো কোনো আদালত এ-সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিতে অপারগতা প্রকাশ করতেন। একই কারণে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিলেন না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ আইনের আওতায় খুব বেশি মামলা না হলেও বেশ কিছু সংগঠন আইনের আওতায় উপযুক্ততা ব্যবহার করে কিছু মামলা করেছে। গত ২৯ এপ্রিল সরকার গেজেট আকারে এই আইনের বিধিমালা প্রকাশ করেছে। এতে করে এ আইনের আওতায় মামলা করা এখন সহজ হবে।

# আইনটি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধাগুলো কী?

সালমা আলী: আইনটি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হচ্ছে আইনটি সম্বন্ধে সাধারণ জনগণের অজ্ঞতা। সাধারণ মানুষ পারিবারিক সহিংসতাকে নিতান্তই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় বলে মনে করে বিধায় একে বেশি গুরুত্ব দেয় না। এ আইনের আওতায় প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের অনেকের তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। অনেক ক্ষেত্রে মামলা করায় ‘স্বামী কর্তৃক তালাক’ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়, যা একজন নারীর জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। কারণ, একজন স্বামী পরিত্যক্ত বা নির্যাতনের শিকার নারীর পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। ফলে সাধারণ নারীরা পারিবারিক সহিংসতার বিষয় নিয়ে মামলা করতে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা এখনো আমাদের সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। এ ছাড়া বিচার-প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, তদন্তে অবহেলা ও ধীরগতির কারণে অপরাধীরা অনেক সময় শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অপরাধীরা আরও বেশি সক্রিয় হয়। এ ধরনের অপরাধের পেছনে জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, বেকারত্ব, দারিদ্র্যও ভূমিকা রাখছে।

# বিএনডব্লিউএলএর সাম্প্রতিক গবেষণায় নারীর প্রতি সহিংসতা কোন পর্যায়ে?

সালমা আলী: আমরা নিয়মিত ১৪টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নারীর প্রতি সহিংসতাবিষয়ক তথ্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করি। এ ছাড়া সমিতির সদস্য এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পেয়ে গুরুতর নির্যাতন বা অপরাধের ক্ষেত্রে সত্যানুসন্ধান করি। সমিতির পক্ষ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারীর প্রতি সহিংসতার কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছিলাম। এতে দেখা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে নারীর প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অপহরণ, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পারিবারিক সহিংসতার কথা সাধারণত নারীরা বলতে চান না। মানসিক নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনার তথ্য ঘরের বাইরে আসে না। আমরা শুধু প্রকাশিত তথ্য দিয়ে নির্যাতনের হার কম না বেশি, তা নিরূপণ করছি।

আমরা সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আইনগত সাহায্য করি। সম্প্রতি একজন সাংসদের এপিএস কর্তৃক গাজীপুরে কিশোরী গৃহপরিচারিকা নির্যাতন ও ধর্ষণ, মধুুপুরে কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় সমিতি ওই কিশোরীদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনগত সহায়তা দিয়েছে।

# সংসার, ঘরের বাইরে বা কর্মস্থলে নারীর প্রতি মানসিক নির্যাতন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর পেছনে কী কারণ?

সালমা আলী: নারীরা আগের চেয়ে বেশি ঘরের বাইরে কাজ করছেন। তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, আন্তরিকতা কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করছেন দ্রুত। ফলে নারীদের সফলতা ঈর্ষণীয়। এতে কিছু কিছু পুরুষ হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন। এ কারণে নারীর প্রতি মানসিক নির্যাতন বাড়তে পারে। নারীর প্রতি মানসিক নির্যাতনের পেছনে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পাশাপাশি দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার দায়ী। পারিবারিক ক্ষেত্রে মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ রয়েছে। তবে পারিবারিক পরিমণ্ডলের বাইরে বা কর্মক্ষেত্রে মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধে বাংলাদেশে কোনো আইন নেই। শিক্ষা, চাকরি ও রাজনীতিতে নারী যখন নিজ মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে নারীরা নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন। নারীর প্রতি বৈষম্য, নিষ্ঠুরতা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নসহ সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ না করলে সমাজ থেকে নারী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। তবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে বিভিন্নমুখী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। ফলে মানুষ, বিশেষত নারীরা নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এটাও ঠিক, নারীদের একটা বড় অংশ এখনো তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অসচেতন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিকা ফারজানা

সূত্র: প্রথম আলো

ঐতিহ্য চেতনায় আমাদের সাংস্কৃতিক উৎসব

আমাদের গৌরবগাঁথা অতীতকেই ঐতিহ্য বলতে পারি। আমাদের অস্তিত্বের সাথে, জীবনের সাথে যে সুমহান অতীত জড়িয়ে আছে তা-ই আমাদের ঐতিহ্য। অতীত দিনের গৌরবময় ইতিহাসকেও আমরা ঐতিহ্য বলতে পারি। তেমনই আমাদের লোকজ অস্তিত্বের সকল জীবনাচারণই হচ্ছে লোকসংস্কৃতি । আর লোকজ সত্ত্বায় মিশে আছে বাঙালির উৎসবের নানান দিক। আবহমান কাল ধরে লোকসংস্কৃতির বহুবিধ শাখা-প্রশাখার মতো বাঙালির উৎসববাদির মধ্যে ছড়িয়ে আমাদের স্বকীয়তা ও  সকল অস্তিত্ববোধ। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের আনাচে-আনাচে, পল্লীমায়ের কোল জুড়েই লালিত হয়ে বিকাশমান রয়েছে আমাদের লোকজ উৎসব।

আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস অনেক পুরানো। তেমনি আমাদের উৎসবের ধারাগুলোও অনেক পুরনো এবং ঐতিহ্যময়। হাজার বছরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের গৌরবমাখা সোপানে আমাদের বাংলার সংস্কৃতির ভিত্তি মজবুত এবং বেশ শক্তিশালী।

বাংলার মানুষের হাসি-কান্না,আনন্দ-বেদনা, দু:খ-কষ্ট, বিরহ-যাতনা কিংবা সর্বজীবনের পরতে পরতে মাখামাখি হয়ে আছে আমাদের লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য। বিপুল শৌর্য-বীর্যের তেজোদ্দীপ্ত শক্তি নিয়ে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি সমগ্র বাঙালির হৃদয়ে গ্রথিত। আমাদের ধর্ম-কর্ম,বিবাহ-শাদি,ঈদআনন্দোৎব,

পুজা-পার্বনসহ জীবনের সর্বই এই সংস্কৃতির স্বরূপ ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। আমাদের লোকায়ত জীবনের প্রতিটি অঙ্গনেই এক যাদুকরী প্রভাব নিয়েইএই সংস্কৃতি সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সঞ্চরণশীল।

বাংলার গ্রাম-গঞ্জ,নগর-বন্দর সর্বাঞ্চলের মানুষের সুখ-দু:খ,আনন্দ-বেদনার সাথে আমাদের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতির নান্দনিক কীর্তি সমূহকে ধারন করেই আমরা নিজেদেরকে গৌরবান্বিত মনে করি।  বাংলাদেশের অস্তিত্বভিসারি ঐতিহ্যবোধের নিরিখে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যময় ঈদ, আনন্দমেলা, ঈ-দে মিলাদুন্নবী,মহরম,শবে বরাত,শবে কদর কিংবা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান সমাজের পুজা-পার্বন,বড়দিনসহ বিভিন্ন উপাসনাত্রে গুলোও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উচ্চকিত অবস্থানে রেখেছে।

বাংলার সর্ব প্রকার পরিমার্জিত সাংস্কৃতিক অস্তিত্বই আমাদের লোকজসংস্কৃতির অংশ। এছাড়া বাংলা নববর্ষ,পহেলা বৈশাখ এবং শৌর্য-বীর্যগাঁথা বাংলার বারোমাসের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানাদি আমাদের লৌকিক সংস্কৃতির একটা বিরাট মহীরূহ হয়ে আছে।

আমাদের শহুরে কিংবা গ্রামবাংলার সকল প্রাণসঞ্চারি আচারানুষ্ঠান ও জীবনাচার বিশিষ্ট সবকিছুই আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের বাইরে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কিছু উৎসব আছে। যাকে আমরা সর্বজনীন উৎসব বলি। যেমন পহেলা বৈশাখ। বাংলা সালের সূচনা মাসের পহেলা বৈশাখে সমগ্র বাঙালি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় সর্বস্তরের মানুষ এক মহা উৎসবে শামিল হয়। ব্যাপক সাড়ম্বরে জনগণ বাংলা নববর্ষের উৎসবে মেতে ওঠে। তেমনি গ্রীষ্মের দাবদাহের পর বাংলাদেশে বারিধারা সম্বলিত বর্ষার আগমনকেও অনেকে বিপুল উৎসাহে স্বাগত জানায়। এরকম আরো উৎসব আছে, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্পুরক গৌরবে উদ্ভাসিত।

আমাদের লোকসংস্কৃতির একটা বিরাট প্রাণময়ী শক্তি হচ্ছে আমাদের লোকজউৎসব। বাংলার গণমানুষের জীবনধারার সাথে আমাদের ঐতিহ্যমন্ডিত লোকসমাজে নানা রকম উৎসবের ইমেজ-আমেজ জড়িয়ে আছে ওৎপ্রোত ভাবে। একটা বিরাট গৌরব বহন করে চলেছে। অনেক পূর্বেই আমাদের লোকজউৎসবের বিভিন্ন পর্বগুলো বাংলাসংস্কৃতির ভূবনকে প্রদ্দীপ্ত, পরিব্যাপ্ত ও আলোকিত করে রেখেছে। সহস্ত্র বছরের ঐতিহ্য বহন করে আমাদের লোকসমাজ ও সাংস্কৃতিক উৎসবের অমীয়ধারা বাঙালিকে করেছে সুষমামন্ডিত, গৌরবান্বিত।

বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক আচারাদির সবকিছুই আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সবকিছুই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। অতএব, সেইসব আনন্দ ধারা এবং উৎসবের স্বরূপকে জীবন্ত রেখেই আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা ও লালন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে হেনরি মিলারের একটা কথা মনে পড়ছ্ েতিনি বলেছেন-‘ আনন্দকে যারা অবজ্ঞা করতে বলে, তারা হয় বৃদ্ধ, অথবা একেবারে অসুস্থ’। আমাদের বুঝতে হবে যে,সব আনন্দধারা কিংবা উৎসবের মধ্যে মানুষকে জাগরিত করবার একটা প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশাকে স্বাগত জানাতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে গৌরবজনক দিক হচ্ছে, সবার একটি মাত্র ভাষা। যার নাম বাংলাভাষা। এই মহিমান্বিত ভাষার মাধ্যমেই আমরা ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মাঝে একটা সৌহার্দ্দ-সম্প্রীতির ঐকতানে একই সূত্রে মিলে- মিশে আছি। একে অপরের সুখ-দু:খের সাথী হতে পারছি।

আমাদের এই দেশে সকল ধর্মমতের স্বাধীন সত্ত্বার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থেকেই প্রত্যেকে আনন্দোৎসব পালন করে থাকে। ধর্মীয় কারণে কেউ কারো জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রত্যেকেই তাদের ঐতিহ্যধারায় নিজস্ব ধর্মবোধের ভিত্তিতে উপাসনা ও ধর্মচর্চা করে । আনন্দ-উৎসব পালন করে। মুসলমানগণ মহিমান্বিত ঈদ আনন্দোৎব করে। খৃষ্টান সম্প্রদায় বড়দিনের উৎসব করে। বৌদ্ধগণ তাদের উৎসব পালন করে। পাহাড়ি অঞ্চলের আমাদের উপজাতিরা তাদের আনন্দের জয়গান গায়। তেমনি হিন্দু সম্প্রদায় বিভিন্ন পুজা-পার্বন ও উৎসবের মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যবোধকে জাগরিত রাখার চেষ্টা করে। ধর্মীয় উৎসব ও আনন্দের মাধ্যমে সকলে মেতে থাকে। সবকিছুই আমাদের অস্তিত্ববোধ ও সংস্কৃতির অংশ।

কারণ, প্রত্যেকেই তাদের বিশ্বাসের দীপ্তি দিয়ে নিজস্ব ধর্ম পালন করে পরিতৃপ্ত হয়। সুখী হয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সন্মান দেখায়।

আমাদের লৌকিক ঐতিহ্যের মাইলফলক হচ্ছে লোকজসংস্কৃতি, লোকসংগীত এবং বাংলার লোকজউৎসব। বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহ্যকে লালন-পালনের মাধ্যমে বাঙালির চিরায়ত অস্তিত্ববোধকে জাগিয়ে রাখতে হবে। সকল প্রকার কুসংস্কারের অপনোদন ঘটিয়ে দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষকে সুখ-দু:খের সঙ্গী করে তুলতে হবে। কারণ, সকল আনন্দ আর উৎসবের মূল প্রেরণা হচ্ছে,মানুষকে সুখী রাখা। মানবতাকে সজাগ-সমৃদ্ধ করে তোলা। ধনী-দরিদ্র সকল মানুষকে সমান চোখে দেখা। ঘৃণা নয়, প্রেম-ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের অন্তর করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্রোহী কবি,আমাদের জাতীয় চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের কণ্ঠ খুবই সোচ্চার। তিনি বলেন; ‘মানুষেরে ঘৃণা করি/ওরা কারা কোরান বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি! ও মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে/যাহারা আনিল গ্রন্থ কেতাব সেই মানুষেরে মেরে/পূজিছে গ্রন্থ,ভন্ডের দল।’

সব কথার সার কথা হচ্ছে,‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। মানুষকে সেটা বঝতে হবে। মানুষের মর্যাদাকে রক্ষা করতে হবে।

আমাদের গণমানুষের আনন্দ-বেদনা,কামনা-বাসনার জয়গাঁথা উচ্ছ্বাস অনুভূতির উচ্চারণে শোক কিংবা আনন্দোৎবে যে আকণ্ঠ সুর উদ্ভাসিত হয়। এসব ভাষা ও সাহিত্যের সঠিক উপাত্তের কোন প্রকার অবলুপ্তি ও অবমাননা হবে আমাদের জন্য একধরনের আত্মঘাতি ব্যর্থতা। আমাদের লৌকিক আচারানুষ্ঠানদি ও জীবনাচারের সর্বক্ষেত্রে আমাদের অস্তিত্বভিসারি ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সন্মান প্রদর্শন করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যের  লালন ও সংরণ করতে হবে। বাংলার প্রকৃতি, পাখ-পাখালির সুর,কিষাণ-মজুর,মাঝি-মাল্লার গান আর রাখালিয়ার বাঁশীর কণ্ঠনিসৃত সুরধ্বনি আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশে ঐতিহ্যের লালিত্যে বহমান রয়েছে,তাকে চিরসজীব করে রাখতে হবে। কারণ, এসব আমাদের বেদনা-বিরহ এবং প্রাণসঞ্চারি উৎসবের মাত্রাকে বেগবান করে। শক্তিময় করে তোলে।

আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি,সভ্যতা ও সুপ্রাচীণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। তাতে আমাদের গৌরব বাড়বে বৈ কমবে না। বাংলার পরিশীলিত,পরিমার্জিত গৌরবগাঁথা রূপসুন্দর লোকজসংগীত ও লোকসংস্কৃতিকে আরও বেগবান,আরও উচ্চকিত ভাবে জিয়িয়ে রাখতে হবে। আমাদের হারিয়ে যাওয়া অবলুপ্ত লোকজউৎসব ও লোকজসংগীত-সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাতে হবে। আমাদের চিরায়ত বাংলার উৎসব এবং সংগীতঐতিহ্যকে জাগিয়ে রাখতে হবে।

আমাদের ঐতিহ্যের ধারক যে সকল সাংস্কৃতিক চেতনা রয়েছে তাকে জাগরুক রাখতে হবে।  আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষ তথা সমগ্র্র বিশ্বে অবস্থানরত: বাঙালিদের মাঝে সেই ঐতিহ্যময় সাংস্কৃতিক চেতনাকে জাগিয়ে রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন লোকসংস্কৃতির উপর স্টাডি এবং ব্যাপক সংগীত চর্চা।

আমাদের হারানো ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাওয়া। আমাদের লোকজউৎসব এতদসংক্রান্ত লোকজসংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিজ্ঞ-জ্ঞানীদের মাধ্যমে গবেষণানিসৃত বই-পুস্তক ও পত্রিকা-ম্যাগাজিন প্রকাশের ব্যবস্থা করা। আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে গ্রন্থ প্রকাশের কাজটি সবচেয়ে বেশি হতে পারে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এব্যাপারে প্রশাসন খুবই উদাসীন! সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিল চক্রের শিকারেআমরা আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে হারাতে বসেছি।

আমাদের ঐতিহ্যবোধের নিরিখে নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তার গৌরবকে  টিকিয়ে রাখার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে সবাইকে। আমাদের স্বদেশ ও বিদেশে অবস্থানরত: সকল বাংলাদেশী মিলে ব্যাপকভাবে সাংস্কৃতিক চর্চায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে হবে। লোকসংগীতের সুর সম্রাটদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। লোকসংগীতের ঐতিহ্যময় ধারাকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমাদের স্বকীয়তাপূর্ণ ঐতিহ্যের পথ ধরেই আমাদের গৌরবের ধারাকে সমুন্নত রাখতে হবে। নিজেদের আসল পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে চলবেনা। একজন ডেনিশ দার্শনিক বলেছেন- একবার পথ হারানোর চেয়ে দু’বার অনুসন্ধান করে নেয়া ভাল’। অতএব আমাদের হারিয়ে যাওয়া পথকে আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজনে বারবার সঠিক পথের সন্ধান করতে হবে। এটাও সত্য যে, সন্ধান করতে করতে একদিন অবশ্যই আমরা আমাদের আসল পথ ও অস্তিত্বের সন্ধান পাবো।

বাংলাদেশের মত প্রবাসের বাঙালির মাঝে যে জাগরণ রয়েছে; তাকে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে একীভূত করে নিতে হবে। নিজস্ব কৃষ্টি-সভ্যতার সাথে মিলাতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতির সাথে বর্তমান প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানরত: সকলের সন্তানদের জন্য বাংলা ভাষা ও কালচারের শিক্ষাদানের প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। যাতে তাদেরকে আমাদের মাটি, মানুষ ও শেকড়ের সাথে সবাইকে সম্পৃক্ত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাংলাদেশীদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাদের মাঝে বাংলা সংস্কৃতির জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে লোকজসংস্কৃতির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধর্মীয় রীতির সুন্দরালোকের উজ্জয়নী ধারা চমৎকারভাবে বেগবান হচ্ছে সর্বত্র। সেই সাথে সকল ধর্মের সহাবস্থানপূর্ণ পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে। প্রবাসে আমরা আমাদের

ঐক্যবোধের উজ্জল দৃষ্টান্তকে আরো গৌরবময় করে তুলবো। ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও অস্তিত্ববোধের সঙ্গে একীভূত করে রাখার চেষ্টা করবো। তাদেরকে বাংলা ভাষা,সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত করবো। এটাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকারের প্রধান বিষয়।

প্রবাসে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের  ঐতিহ্যগাঁথা পহেলা বৈশাখ ব্যাপকভাবে পালন করছি। এটা বড় গৌরবের বিষয়। তবে এ গৌরবটি ঐক্যের এবং সার্বজনীন একথাটি সবার মনে রাখা দরকার। আমাদের অস্তিত্বের প্রাণ পুরুষ সম্রাট আকবরের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো উচিৎ। বাংলাভাষাও বাংলা সনকে চিরঞ্জীব করে রাখার ব্যাবস্থাটিও তিনিই কিন্তু করে দিয়ে গেছেন। তা যেনো আমরা ভুলে না যাই। তিক্ত হলেও সত্যি বর্তমানে ইতিহাস বিকৃতির যে সর্বনাশা খেলা শুরু হয়েছে(!) তাতে বাঙালির অস্তিত্বের প্রকৃত ইতিহাস ধ্বংস

করে দেবার চক্রান্ত খুবই প্রকট। বাংলা নববর্ষের মহান উৎসবের দিনে সেইসব কুচক্রিদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যাতে আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ইতিহাসটিও হাইজ্যাক হয়ে না যায়।

পহেলা বৈশাখ কিংবা বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনের এক সর্বসত্ব: জাগরণী উৎসব। শুধুমাত্র অঙ্গপ্রদর্শণ মূলক উল্লাস নয়। একটা মহিমাগাঁথা ঐতিহ্য আছে তার। সেই ঐতিহ্যের পুরোভাগে যাদের অবদান আছে; তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে। আমাদের আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে সেই ইতিহাসটি সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে। পহেলা বৈশাখ প্রতিবছর আসে আমাদের সেই চেতনাকে জাগরিত করতে। সাম্য-মৈত্রীর বন্ধনে সবাইকে একত্রিত করে দিতে।

লিখেছেন- এবিএম সালেহ উদ্দীন

 

 

নাজনীন সুলতানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নারী ডেপুটি গভর্নর!

নাজনীন সুলতানাবাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে। ১৯৭২ থেকে ২০১২ সাল। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। একজন নারীর ডেপুটি গভর্নরের পদ পেতে এত সময় লেগে গেল। এ প্রাপ্তি নারী সমাজের সঙ্গে সঙ্গে আমার জন্যও আনন্দের ব্যাপার। যদিও বিষয়টি ভাবতে অবাক লাগে। আমাদের নারীরা এখনও পিছিয়ে আছেন। সফটওয়্যার তৈরি করাই আমার লক্ষ্য। এছাড়া দেশের জন্য আমার জায়গা থেকে যদি কোনও কাজ করতে পারি। সেটাও কম আনন্দের হবে না। এভাবেই প্রথম নারী ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
 
১৯৮০ সালের দিকে বাংলাদেশে মাত্র দুটি কম্পিউটার ছিল। একটি অ্যাটমিক এনার্জি সেন্টারে, দ্বিতীয়টি আদমজী জুট মিলে। শ্রমিকদের বেতনের কাজে ব্যবহƒত হত এ কম্পিউটার। বাংলাদেশ ব্যাংক আইবিএম ৩৭০ মেইন ফ্রেম কম্পিউটার কিনে সফটওয়্যার তৈরি করবে। এ পদে লোক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে নাজনীন সুলতানা চাকরির আবেদন করেন। চাকরি হয়ে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে ১৯৮০ সালে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক অটোমেশনের লক্ষ্যে সফটওয়্যার তৈরি করেন।
 
এ প্রসঙ্গে নাজনীন সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের কম্পিউটারের বিবর্তনে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারে যে পরিবর্তন এসেছে তার সঙ্গে আমি জড়িত। এটা আমাদের সংস্কৃতির সংস্কার, তথ্য প্রযুক্তির সংস্কার। সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি নীতিমালা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অবদান রাখতে পেরেছি, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সবাইকে সমানভাবে সেবা দিতে পেরেছি এতেই আমার আনন্দ।
 
তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জার্মান সরকারের স্কলারশিপে আইসিটির ওপর ১৭ মাসের একটি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে জার্মানিতে যান। জার্মানিতে প্রশিক্ষণকালীন ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের ওপর কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসিং তৈরি করলেও পরে তা আর জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি।
 
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের তৈরি করা ৮০টি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। আমার তত্ত্বাবধানে চালু করা হয় ই-টেন্ডার, ই-রিক্রুটমেন্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজিকশন মনিটরিং সিস্টেম, ক্যামেলস রেটিং ইত্যাদি সফটওয়্যার। এছাড়া ই-আর-পি, ব্যাংকিং, ডাটা ওয়্যার হাউস, অনলাইন সি আইবি, ন্যাশনাল প্রেমেন্ট সুইচ ইত্যাদি। নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০১১ সালের জুলাই মাসে এলপিআরে চলে যান। নভেম্বর মাসে পত্রিকার বিজ্ঞাপনে শর্তাবলী অনুযায়ী ডেপুটি গভর্নর পদে আবেদন করেন। অতঃপর পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতাবলে যোগদান করেন।
 
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাজনীন সুলতানা লেখালেখিও করেন। ১৯৯২ সালে নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মাধ্যমিক কম্পিউটার বিজ্ঞান’ নামে যৌথভাবে একটি বই লিখেন। বইটি পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত। এছাড়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ওষুধ, পথ্য সংগ্রহ, অর্থ, খবরাখবর সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রƒষা করেন। এ সময়ের প্রতিদিনের ঘটনাবলী তিনি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করতেন। তার লেখা সেই ডায়েরিটি মিজান পাবলিশার্স থেকে ২০০৭ সালে ‘একাত্তরের ডায়েরি’ নামে প্রকাশিত হয়। নাজনীন সুলতানা উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
 
১৯৬৯ সালে বদরুননেসা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি করেন।
এ পথপরিক্রমায় পরিবারের সহযোগিতা কতটুকু পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা-বাবা-স্বামী-শাশুড়ি সবার সহযোগিতায় আজ আমি এখানে পৌঁছতে পেরেছি। একজন নারীকে অনেক বাধা অতিক্রম করে এগোতে হয়। চাকরি করার পাশাপাশি স্বামী-সন্তান-সংসারও সামলিয়েছি। দু’সন্তানের মধ্যে ছেলে বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে আমেরিকার কোয়ালকমে চাকরি করছে। মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছে।

সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার

1111গ্রাম্য বধূ নুরুন্নাহার চার দেয়ালের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে একজন সমাজ উন্নয়নকর্মীর দায়িত্ব পালন করছেন। বসতবাড়ির আশপাশে নিবিড় সবজি চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এনসিডিপি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী নুরুন্নাহারের স্বামী রবিউল ইসলাম। জয়নগরের চালকল মোকামের একটি মিলে ধান-চালের ব্যবসায় করেন।

চার সন্তানের জনক-জননী রবি-নুরুন্নাহার। নুরুন্নাহার জানান, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠানে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে তারও ইচ্ছে জাগে বসতবাড়ির আশপাশে শাকসবজি ও ফলমূলের বাগান গড়ে তোলার। এর পর আর থেমে থাকেননি নুরুন্নাহার। লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ চাষ করে সারা বছরের সবজির চাহিদা মেটাতে থাকেন। এমনকি বাড়তি কিছু আয়ও হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও আব্দুর রশিদ নুরুন্নাহারের এলাকায় ব্র্যাক এনসিডিপির মহিলা গ্রাম কমিটি গঠনের পর তাকে দায়িত্ব দিয়ে যান। এতে করে তার স্বামীর আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। একই বছর সেপ্টেম্বরে তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির আঙিনায় এবং বাড়িসংলগ্ন ৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, গাজর ইত্যাদি আবাদ করে আশাতীত লাভবান হন। পরের বছর ঋণ পরিশোধ করে দ্বিতীয়বারের মতো ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ অবস্থায় তিনি জানতে পারেন বড়ইচারা দণিপাড়ায় ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজের কুল চাষ প্রকল্পের কথা। ময়েজের কাছ থেকে চারা কিনে ১৭৫টি গাছের একটি কুল বাগান গড়ে তোলেন। প্রথম বছর কুল বিক্রি করে তিনি ২৫ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া উন্নত জাতের ৪০টি পেয়ারার গাছও লাগানো হয় আঙিনায়। নুরুন্নাহার তার কৃষি খামারে উন্নত জাতের ৫০টি গরুর একটি খামার গড়ে তুলেছেন।

দেশের সব নারী কৃষককে ডিঙিয়ে ২০১০ সালে ঈশ্বরদীর নুরুন্নাহার সিটি গ্রুপ জাতীয় পুরস্কার পান। এতে সাড়ে তিন লাখ টাকা, একটি সার্টিফিকেট এবং একটি ২৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার দেয়া হয়। নুরুন্নাহার তার গ্রামের ২০০ নারীকে হাতে-কলমে কৃষিকাজের প্রশিণ দিয়ে দ কৃষক হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০১১ সালে দেশের সেরা নারী কৃষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল নারী উদ্যোক্তা ও নারী কৃষক নুরুন্নাহারের হাতে তুলে দেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক।

নুরুন্নাহার জানান, এরই মধ্যে ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। সহজ শর্তে এবং কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা পেলে নুরুন্নাহার তার আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াবেন। কিছু দিনের মধ্যে বিনা খরচে এনসিডিপির প থেকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় কৃষিকাজের আধুনিক প্রশিণের জন্য যাবেন বলেও তিনি জানান।

তাহাদের দিন কাল

ssssssssssনব্বইয়ের দশকে টিভি পর্দা মাতিয়ে রাখা চার তারকা বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, আফসানা মিমি ও সাদিয়া ইসলাম মৌ এখন কেমন আছেন? কী করছেন? সেসব বিষয় অনুসন্ধান করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আলমগীর কবির-

 

বিপাশা হায়াত

২২২২২২২২২২

বিপাশা হায়াত ও তৌকীর আহমেদ পর্দা ও পর্দার বাইরে সফল দম্পতি। জনপ্রিয় এই তারকা জুটি এখন সফল উদ্যোক্তা। গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে তারা গড়ে তুলেছেন ‘নক্ষত্রবাড়ি’ নামে একটি রিসোর্ট। মূলত একটি সবুজ গ্রামের আদলে গড়ে তোলা এই রিসোর্টের অনেকটা অংশজুড়ে প্রাধান্য পেয়েছে বিপাশার চিত্রকর্ম। এখানে নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের পাশাপাশি অবকাশ যাপনের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আছে একটি সাজানো-গোছানো কনফারেন্স সেন্টার। সারা বছর পিকনিক করার পাশাপাশি সপরিবারে রাত যাপনের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ এখানে আছে কয়েকটি কটেজ। রিসোর্টটি দেখাশোনার পাশাপাশি লেখালেখি, চিত্রকর্ম আর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন বিপাশা। মূলত এ কারণেই এখন বিশেষ দিবস ছাড়া তাকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায় না।

 

আফসানা মিমি

1111

শোবিজে পথচলার ২৫ বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছেন আফসানা মিমি। তার অভিষেক হয়েছিল মঞ্চে। ১৯৮৬ সালে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন তিনি। অভিনয় করেন মনোজ মিত্রের ‘রাজদর্শন’ নাটকের রানী চরিত্রে। নাটকটি নির্দেশনা দেন মরহুম সৈয়দ মহিদুল ইসলাম। একই নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য গাজী রাকায়েতের মাধ্যমে পরে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হন। এ প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বললেন, ‘নাগরিকে এসে আসলে আমি বুঝতে পারি থিয়েটার জিনিসটা কী! বুঝতে পারি, অভিনয়ের মতোই থিয়েটারের অন্য কাজগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকেরকে আমি গুরু মানি। আমি যখন নাগরিকে যুক্ত হই, তখন সব বিখ্যাত মানুষের সমাবেশ ছিল গ্রুপে। জামালউদ্দিন হোসেন, রওশন আরা হোসেন, আলী যাকের, সারা যাকের, ড. ইনামুল হক, লাকী ইনাম, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, নিমা রহমান, খালেদ খানসহ অনেকে। নাগরিকে যুক্ত হওয়ার পর এমন সব গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আমার ভেতরে যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।’ আরো জানালেন, নাগরিকের হয়ে প্রথম মঞ্চে উঠেছিলেন শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ অবলম্বনে আলী যাকের রচনা ও নির্দেশনায় ‘দর্পণ’ নাটকের কোরাস দলের একজন হয়ে। পরে অভিনয় করেন ‘নূরুলদীনের সারা জীবন’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘ঈর্ষা’ প্রভৃতি নাটকে। সর্বশেষ আফসানা মিমিকে গত রোজার ঈদে এনটিভিতে ‘আকাশ জোড়া মেঘ’ শিরোনামে একটি টেলিছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। অভিনয়ের চেয়ে আফসানা মিমি এখন বেশি মনোযোগী পরিচালনার দিকে। নাটক দিয়ে শুরু করলেও চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি হাতে নিয়েছেন ফিচারধর্মী চলচ্চিত্র ‘রান’র কাজ। স্বাধীনতা যুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিতব্য ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘ক্যাম্প’ উপন্যাস অবলম্বনে। এতে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, ডলি জহুল প্রমুখ।

 

সাদিয়া ইসলাম মৌ

035

খাঁটি সোনা যত পুরনোই হোক এর রঙ কখনো মলিন হয় না। আমাদের শোবিজে এ রকম হাতেগোনা কিছু সোনার মধ্যে অন্যতম হলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যিনি ঝড় তুলেছিলেন মিডিয়ায়। মডেলিংয়ে যোগ করেছিলেন নতুন দ্যুতি। টিভিতে প্যাকেজ নাটক প্রচারের শুরুর দিকে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দেখিয়েছিলেন চমক। নৃত্যশিল্পকে জনপ্রিয় করতেও রেখেছেন অবদান। তাকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন তুমুল ক্রেজ, ঠিক সেই সময় টুপ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়েন। ভালোবেসে ঘর বাঁধেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানের সাথে। বিয়ের পরও সাদিয়া ইসলাম মৌকে মডেলিং করতে দেখা গেছে। অভিনয় করেছেন টিভি নাটকে। নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্টেজে ও টিভি অনুষ্ঠানে। মিলেনিয়ামে পদার্পণের সময় থেকে একটু একটু করে নিজেকে গুটিয়ে নেন। একটা সময় চলে যান পুরোপুরি পর্দার অন্তরালে। এ সময় অবশ্য জাহিদ-মৌ দম্পতির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান পুষ্পিতা। বহু নাটক আর মডেলিংয়ের অফার থাকলেও প্রায় ছয়-সাত বছর সাড়া দেননি মৌ। দুই-তিন বছর ধরে বিভিন্ন চ্যানেলে ঈদের প্রোগ্রামে কয়েকটা নাচের অনুষ্ঠানে তাকে নৃত্য পরিবেশন করতে দেখা গেছে। বাস্তব জীবনের মতো এবার টেলিছবিতে জাহিদ হাসানের সাথে জুটি বাঁধছেন মৌ। নাম ‘আর কিছু নাই বাকি’। লিখেছেন তৌহিন হাসান, পরিচালনা করবেন দীপঙ্কর দীপন। পরিচালক জানালেন, আজ বৃহস্পতিবার থেকে টেলিছবিটির শুটিং শুরু করবেন তিনি। জাহিদ হাসান ও মৌ সর্বশেষ একসাথে অভিনয় করেন আফসানা মিমির ধারাবাহিক নাটক পৌষ ফাগুনের পালাতে। প্রচারিত হয়েছিল এটিএন বাংলায়। একটি টেলিছবিতেও কাজ করেছিলেন তারা। নাম ‘সেই চোখ’। তাও বছর তিনেক আগের কথা।

আমার জীবন এখন অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের দিকে – কারলি ওয়াটস

২২২২২২২২২২নিজের জীবন ধারা পুরোপুরি পাল্টে চলে এসেছেন একটি সুন্দর বা পরিপাটি জীবনে। আর তিনিই হলেন ব্রিটিশ মডেল কারলি ওয়াটস।

কারলি ছিলেন অশোভন পোশাকের মডেল। পেশাগত কারণে তাকে পরতে হয়েছে শোভন-অশোভন পোশাক। এখন যেন তাকে (কারলি) অনেকে চিনতেই পারছেন না। কারণ তিনি এখন পরেন বোরকা। তার মনে এমন সুন্দর চিন্তাভাবনা এমনিতেই জাগেনি। তার উদয় ঘটেছে এক মুসলিমের সংস্পর্শে এসে। নাম মোহাম্মদ সালেহ।

কারলির বয়স প্রায় ২৪ বছর আর সালেহর প্রায় ২৫। কারলি ওয়াটস বলেন, আমার জীবনকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে লাইফগার্ড সালেহ। আমি পুরোপুরি একজন মুসলিম নারী হতে চাই। কারণ এখন আমি মেনে চলি ইসলামি বিধিবিধান। বড় কথা হলো, জীবনের অর্থ কী আমাকে তা অনুধাবন করতে বা বুঝতে শিখিয়েছেন মোহাম্মদ সালেহ। সালেহর বাড়ি তিউনিসিয়ায়। গত এপ্রিল মাসে ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে কারলি বেড়াতে যান তিউনিসিয়ায়। সেখানে গিয়ে কারলির পরিচয় হয় মোহাম্মদ সালেহ নামে এক যুবকের সাথে। উভয়ের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে একজন যেন আরেকজনকে পছন্দ করেন মনের অজান্তেই। এমনকি বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নেন তারা। কারলি তার একমাত্র মেয়েসন্তান আলালাহকে নিয়ে মোহাম্মদের পরিবারের সাথে থাকবেন আগামী অক্টোবর থেকেই। সেখানে কারলি অবস্থান করবেন প্রায় ছয় মাস। তারা থাকবেন তিউনিসিয়ার মনাস্তির শহরে। এরপরই ধর্মান্তরিত হবেন কারলি। তারপর সালেহকে বিয়ে করার মনস্থির করেন তিনি।

কারলি বলেন, এত দিন আমি মডেলিং করেছি। বেশি সময় চলে গেছে নাইট কাবে। পরিচালনা করতে হয়েছে কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল জীবন। অনেক সময় নাচতেও হয়েছে সংক্ষিপ্ত পোশাকে। মনে হলো, ওই জীবন ভালো নয় মোটেই। কিন্তু সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি মোহাম্মদকে ভালোবাসার পর থেকেই। অর্থাৎ কারলি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সালেহ মোহাম্মদের সাথেই।

কারলি আরো বলেন, আমি গুরুত্ব দিই সালেহর ধর্মবিশ্বাসকে। আর এ কারণেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ধর্মান্তরিত হওয়ার। একসময় মডেলিংয়ের অনেক কিছুই আমার প্রায় অজান্তে ছাপা হয়ে যেত চটকদার নানা ম্যাগাজিনে। কিন্তু এখন সেগুলো আর নয়। আমার দিন পাল্টে গেছে। তিনি এমনো বলেছেন, প্রায় দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে আমাকে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে তিউনিশিয়ায়। তার নজর এখন হিজাব, বোরকা প্রভৃতি শালীন পোশাকের প্রতি। কেননা শেখা হচ্ছে ইসলামি বিবিবিধান। কারলির পেশা সম্বন্ধে প্রথমেই সালেহ তার অভিভাবককে না জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। কেননা, প্রথমে তারা তা নাও বুঝতে পারেন। কারলি ওয়াটস নরফকের দিয়ারহাম অঞ্চলের একজন মডেল ছিলেন কিছু দিন আগেও।

গণমাধ্যমকে কারলি বলেন, আমার বান্ধবীরা বলেন, সে (কারলি) একজন উন্মাদ এবং একটা পর্যায়ে কারলির চার দিকে বান্ধবীরা ভিড় জমাবে, তা আশা করা যায় না মোটেই। একটি মেয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন, তা অবিশ্বাস্য হতে পারে অনেকের কাছে। এখন আমার জীবন অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের দিকে, বলেছেন কারলি ওয়াটস। অবশ্য এ নিয়ে আমার মধ্যে নেই কোনো উৎকণ্ঠা। বিয়েবহির্ভূত মায়েদের কথা ও কাজের কোনো গুরুত্ব দেয়া হয় না তিউনিসিয়াতে। সেখানে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে বিয়েবহির্ভূত জৈবিক কাজকেও। অবশ্য তা আইনেও দণ্ডনীয়। অনেক স্থানেই ঠাঁই নেই বিয়েবহির্ভূত মায়েদের। পুরুষরা অবিবাহিত মেয়েদের বাজে কাজে বাধ্য করলে ওই সব পুরুষকে পাঠানো হয় বন্দিশালায়। আর এটাই হলো পরিবারের বিশদ বিবরণ এবং এভাবে মাকে মূল্যায়ন করছেন কারলি।

কারলি বলেন, ‘এ সংস্কৃতিকে আমি যে ভালোবাসি এটি তার মূল্য।’ তিনি আরো বলেন, নারীদের দেখা হয় সম্মানের চোখে। তারা নিজেরা তাদের দেহ সম্বন্ধে বোঝে। নারীরা তাদের দেহকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও মনে করে না। আমি যখন মোহাম্মদের সাথে থাকি তখন অনুভব করি তিনি তৃপ্ত, শান্ত এবং সুখী। আমি জানি, আমার জন্য তিনি একজন দয়ালু ও পরিবারপ্রেমিক লোক।

তিউনিসিয়ায় একসময় থাকতেন কারলি ওয়াটস। তার বাবা কাজ করতেন তেল কোম্পানিতে। তিউনিসিয়া ছিল তখন ফরাসি ঔপনিবেশের পাশ্চাত্য আরব দেশের একটি। এ দেশ পুনরায় সেই অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে সততার সাথে বলতে হয়, এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে প্রায় ৩০ বছর। দুই বছরের বেশি আগে তিউনিসিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামের মধ্যে কমবেশি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তার পরও তা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো বলেও মনে করেন অনেকে।