banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

রাজশাহীতে মা-মায়ের আত্মহত্যা

রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে শিশুকন্যাসহ এক মা আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শামীমা আক্তার কাকলি (২৫) ও তার ১৯ মাসের শিশুকন্যা লাবনি। কাকলির গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ইসলামগাছি এলাকায়।Rajsahi

আর্থিক টানাপোড়ন ও স্বামীর ওপর অভিমান করে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
 
তার স্বামী মনসুর আলী রাজশাহী নগরীর ‘সিঙ্গার’ সাহেববাজার শাখার শপ এ্যাসিসটেন্ট পদে চাকরি করেন।

রাজশাহী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, স্বামীর উপর অভিমান করে কাকলি দুপুরে নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশে সৈয়দপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঝাঁপ দেন।
চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে কাকলি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় তার ১৯ মাসের শিশুকন্যা লাবনিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক সাইদুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মৃতদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

ওসি জানান, তারা ভদ্রা এলাকার ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সংসারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে স্বামীর উপর অভিমান করে কাকলি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কেবল বর্জনই নয়, নির্বাচন প্রতিহত করা হবে—খালেদা

khaleda ziaআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কেবল বর্জনই নয়, প্রতিহত করতে হবে।

২৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্দলীয় সরকারের বিল পাস না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেশ বাঁচাতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে মিলিটারি, পুলিশ, আনসারসহ প্রশাসনের সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন বিরোধীদলীয় নেতা। 

রোববার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সার্কিট হাউস মাঠের এই জনসভায় খুলনার ১১টি জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন, জনসভাটি এ সময় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।  বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে খালেদা জিয়া জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন এবং বিকাল পৌনে ৫টায় ভাষণ শুরু করেন। 
দীর্ঘ ৫০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের নানা ব্যর্থতা, অপশাসন, দুর্নীতি, আগামী নির্বাচন, আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারের একক নির্বাচনের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। ২৫ অক্টোবরের পর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন। জনগণকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত হতে হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে মানুষ জেগে উঠেছে। সরকার যদি সংসদে দ্রুত বিল নিয়ে না আসে তাহলে মানুষের যে স্ফুলিঙ্গ তিনি দেখেছেন, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো থাকবে না।
ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা সরকারি কর্মকর্তাদের একদলীয় নির্বাচনে কাজ না করলে ‘বাড়ি পাঠানো’ হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার বুঝতে পেরেছে, চুরি করে এখন কিছু করা যাবে না। তাই আওয়ামী লীগের একজন নেতা সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তাই সরকারকে বলবেন, ‘আপনাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি পাঠানোর ক্ষমতা থাকবে না। আপনাদেরই বাড়ি পাঠানো হবে।’

সরকারি কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা তাদের অন্যায় নির্দেশ মানবেন না। এতে আপনাদের চাকরি চলে গেলে আমরা পুনর্বহাল করব।’

গণতন্ত্র রক্ষায় দেশে জনগণের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রশাসন এবং সর্বস্তরের পেশাজীবীদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘রাজপথে আবার দেখা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে বেইমান, জুলুমবাজ সন্ত্রাসী সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

তিনি অবিলম্বে সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নয় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বললেও মূলত নির্বাচনমুখী বক্তব্যে দিয়ে তিনি খুলনাবাসীর জন্য ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দেন। বলেন, ক্ষমতা এলে দেশের উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা আছে। যা সময়মতো জনগণকে জানানো হবে। 
খালেদা জিয়া বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিপক্ষে নন তিনি। তবে রামপালের মতো জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেয়া হবে না। সুইটেবল জায়গায় এটি করতে হবে। যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। রামপালে হলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পশু থাকবে না, পাখি থাকবে না, পরিবেশ থাকবে না। মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেয়া যাবে না। আন্দোলনকারীদের সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করা হবে। বিএনপি আন্দোলনের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, এ সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না। নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কি আচরণ করেছে সবাই জানেন। 
বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ ব্যাংককে ড. ইউনূসের কাছে ফিরিয়ে দিবেন।

এ সরকার গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংস করে বেকার সমস্যা বাড়াচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন এ সরকারের কাজ নয়। এ সরকারের কাজ বেকার সমস্যা বাড়ানো। তারা দারিদ্র্যবিমোচন করেছেন। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপি সরকার কৃষকদের মূল্যায়ন করেছে। আগামীতে কৃষকদের সব রকম সহায়তা দেবে। কৃষি এবং শিল্পনগরী এই খুলনাকে আবার নতুনভাবে সাজাবে। খুলনাতে তারা ইপিজেডের কাজ করবেন। মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করবেন। যা এ সরকার করতে পারেনি। এ কাজে নতুন বিপ্লব হবে। 
খালেদা জিয়া বলেন, ভবিষ্যতে আল্লাহ তাদের ক্ষমতায় নিলে নতুন আঙ্গিকে সরকার গঠন করবেন। তারা পরিবর্তন ও ঐক্যের রাজনীতি করবেন। সবাইকে নিয়ে। ভালো ভালো লোকদের সরকারে আনা হবে। যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবেন। তার সরকারের কর্মকৌশল কী হবে তা ঠিক করা আছে। 

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গতবার আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু লোক অপপ্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা বহুগুণে দুর্নীতি করেছে। আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও সাহায্য সংস্থাগুলো সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু করতে পারেনি। তারা ব্যাংকিং খাত তছনছ করে ফেলেছে। সোনালী ব্যাংকের এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে ৫টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৩০৯ বছর সময় লাগবে। যে ঋণের বোঝা পরবর্তী প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের এই যে দুর্নীতি তা দেখছে না দুদক। কারণ দলীয় লোকদের দুদকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে যে অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে সেখানে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। 

নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে–শেখ হাসিনা

PMপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচন  অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায়।

শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে অনুরোধ করেন।

জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে জোট পরিত্যাগ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে এলে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। বিএনপি নির্বাচন চাইলে তারা নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বান কি-মুন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এমডিজি অর্জনে যে গুটি কয়েক দেশ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে তার সরকারের নিরলস প্রয়াসের কথা জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩৮ বছরে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ক্ষমতালিপ্সুরা ভোটকেন্দ্র দখল করে, টাকা ছড়িয়ে এবং গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে।

তার নিউইয়র্ক সফরকে খুবই সফল হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন বছরের মতো এবারো তিনি অনেক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, মূল নিবন্ধ উপস্থাপন এবং কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী মানুষ যেন তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টিতে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতির ভবিষ্যতের কথা মনে রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তার সরকার সামরিক শাসন, জরুরি অবস্থা এবং সেনা সমর্থিত সরকারের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অবৈধ সংস্কৃতি বন্ধ করতে সংবিধান সংশোধন করেছে।

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের আহ্বান জানানোর জবাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পালানোরও পথ পাবেন না। শুধু তা-ই নয়, বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াত আর হোফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করেছেন।

শনিবার নিউইয়র্কের হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

মহাজোট সরকার সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে বলেই দেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল, কিন্তু মহাজোট সরকার দেশকে উন্নয়নের প্রথম সারিতে নিয়ে গেছে। সারা বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাগরিক সংবর্ধনায় আরো বক্তৃতা করেন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল।

কেমন আছে কন্যাশিশুরা ?

Vhalo nei konna shishuকেমন আছে কন্যাশিশুরা ? সত্যি কি তারা ভালো আছে ? প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতোই আজকের নারীর এগিয়ে চলার আড়ালে বাড়ছে উদ্বেগ। অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতনের মতো হতাশাজনক চিত্র ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

শিশুবিষয়ক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের কারণে কন্যাশিশুরা নানা ঝুঁকির মধ্যে বেড়ে উঠছে। এ ছাড়া তারা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ও সেবার অপ্রতুলতা, অনিরাপদ পরিবেশসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কন্যাশিশুরা। পাচ্ছে না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা। সহিংসতা, গর্ভধারণ জটিলতা ও বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে প্রতিবছর মারা যায় শত শত কন্যাশিশু। কন্যাশিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ইউনিসেফের এক গবেষণা তথ্য মতে, শতকরা ৩৫ ভাগ কিশোরী অপুষ্টির শিকার। শূন্য থেকে ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুরা ছেলেদের চেয়ে ১৬ শতাংশ ক্যালরি ও ১২ শতাংশ প্রোটিন কম পায়। এ ছাড়া ১০-১২ বছর বয়সী ৫৪ শতাংশ এবং ১৩-১৭ বছর বয়সী ৫৭ শতাংশের উচ্চতা আদর্শ উচ্চতার নিচে।

জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের শতকরা ৬০ ভাগ কিশোরী অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। যার মধ্যে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৪৩ ভাগ কিশোর-কিশোরী রক্তস্বল্পতায় ভুগছে এবং এদের প্রায় ৫ ভাগ কিশোর-কিশোরীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ গ্রামের কম। দেশের কিশোর-কিশোরীর শতকরা ৪৩ জনের আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে এবং এর অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, মেধা ও বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। শতকরা ৬০ ভাগ কিশোরী অপুষ্টি ও অ্যানিমিয়ার শিকার। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাল্যবিয়েতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। শত প্রচার আর আইন করেও বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৬৬ ভাগ কন্যাশিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। এর মধ্যে ৬৪ ভাগ কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ করে। আইসিডিডিআরবির পুষ্টি বিভাগের পরিচালক তাহমিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, অপুষ্টির শিকার কিশোরী মা হলে সে একটি অপুষ্ট শিশুরই জন্ম দেবে। অপুষ্টির শিকার মায়ের নানা জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অপুষ্টির শিকার মায়েরা কম ওজনের শিশু জন্ম দেন। 

প্ল্যান বাংলাদেশের সমীক্ষা মতে, পারিবারিক সহিংসতার কারণে ১৩ থেকে ১৮ বছরের যুব গৃহবধূ ও মেয়েদের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি মারাত্মক শারীরিক আঘাতে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে থাকে। এ ছাড়া এসিড সন্ত্রাস, যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় দেশের কন্যশিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন সূত্র মতে, শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ নারী ও কিশোরী এসিড সন্ত্রাসের শিকার। 
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩৪ ধারায় যৌন নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও আমাদের দেশে এর প্রয়োগ তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে প্রতি ১০ জন কন্যাশিশুর মধ্যে ৭ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।
গত ৩ বছরে দেশে পনের বছরের কম বয়সী কিশোরীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গবেষণায় বিভিন্ন জেলা থেকে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যেসব তথ্য সংস্থাটি পেয়েছে তাতে দেখা গেছে এ সময়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৫৯ শতাংশের ওপর ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। 
শিশুবিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সিনিয়র প্রকল্প সমন্বয়ক রোকসানা সুলতানা সমকালকে বলেন, একশ্রেণীর বিকৃত মানসিকতার মানুষ দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কন্যাশিশু ও কিশোরীরা। যৌন নির্যাতন বলতে কেবল ধর্ষণকেই বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে ইশারা, স্পর্শ, কথা, অঙ্গভঙ্গি প্রভৃতি। যৌন নির্যাতনের এ ঘটনার মধ্যে ২/১টি মিডিয়ায় প্রকাশিত হলেও বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যায় অন্তরালে। কন্যাশিশু ও কিশোরী নির্যাতনের পেছনে আমাদের সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রত্যেকের আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়াটাকেই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।  �� কd@��H N�M��ির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হবে। শিশু একাডেমী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ সকাল ৯টায় এক র‌্যালির আয়োজন করেছে। এটি জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে শিশু একাডেমীতে এসে শেষ হবে। র‌্যালির উদ্বোধন করবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। র‌্যালি শেষে মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন বিজ্ঞাপনে শখ

Shokhনতুন বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী শখ। চলতি সপ্তাহে আপন জুয়েলার্সের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তিনি। ২৪শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কোক ফ্যাক্টরিতে তিনি আপন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছেন। এটি নির্দেশনা দিচ্ছেন আনজাম মাসুদ।

নতুন এ বিজ্ঞাপনটি নিয়ে শখ বলেন, আপন জুয়েলার্স বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এর আগে মৌ আপু এ বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। আমি দুই বছরের জন্য এ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছি। আশা করি বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর সবার ভাল লাগবে। এ বিজ্ঞাপনে শখের সঙ্গে আরও কয়েকজন নৃত্যশিল্পীকে দেখা যাবে। বিজ্ঞাপনটির কোরিওগ্রাফি করেছেন তানজিল এবং ক্যামেরায় কাজ করছেন আলীম। আসছে ঈদে এ বিজ্ঞাপনটি প্রচার হবে বলে জানা গেছে। 

আদুরীর মুখচ্ছবি এবং লাশের লাথি

Aduriছবিটি হয়তো আমরা ভুলে গেছি, হয়তো ভুলিনি। রানা প্লাজায় ভবন ধসের দিনের ছবি। মেয়েটির মুখচ্ছবি দেখা যায়নি। শুধু একখানা পা। কঙ্কন পরা যে পা উদ্ধত ছিল বাংলাদেশের দিকে। যেন লাথি মারছিল আমাদের সবাইকে। লাশের লাথি খেয়ে হুঁশ ফেরার আশা করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের হুঁশ যে ফিরেনি তার প্রমাণ হিসেবে হাজির হয়েছে আরেকটি মুখচ্ছবি।

না, আদুরী লাশ হয়নি। সে মরেনি। তাকে পাওয়া গেছে ডাস্টবিনে। ২৩শে সেপ্টেম্বর সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন লিলি নামের এক নারী। এরপর তিনি আদুরীকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আদুরীর মুখচ্ছবি ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। নির্মম নির্যাতনের শিকার মেয়েটির ছবি দেখে আঁতকে উঠি আমরা। কতই বা বয়স মেয়েটির। দশ কিংবা এগারো। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিল আদুরী। যদিও খুব বেশি আদর তার জীবনে জোটেনি। নয় ভাই-বোনের সংসারের সপ্তম সদস্য আদুরী খুব কম বয়সেই চলে আসে ঢাকায়। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছিল তার। ওই সংগ্রামে প্রতিনিয়ত গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। তবে আদুরী নিজেও হয়তো ভাবতে পারেনি নির্যাতন করে গৃহকর্ত্রী নওরীন আখতার নদী তাকে ফেলে  দেবে ডাস্টবিনে। ছোট্ট মেয়েটি কি একটুও অবাক হয়নি মানুষের নির্মমতা দেখে। যে বয়সে তার যাওয়ার কথা ছিল স্কুলে, খেলার মাঠ হওয়ার কথা ছিল ঠিকানা সে বয়সে গৃহকর্মীর জীবন বেছে নিতে হয়েছে তাকে। মানুষের কাছে হয়তো সে বেশি কিছু আশা করেনি। হয়তো সামান্য ভালবাসা চেয়েছিল। বোকা মেয়ে কি সভ্য দুনিয়ার কাছে বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিল। মাসে ৫০০ টাকা বেতন কি বেশি কিছু?

ক্ষত-বিক্ষত আদুরীর ছবি কিছু পুরনো প্রশ্ন নতুন করে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। যান্ত্রিকতার স্পর্শে ক্রমশ মানুষ কি তার মানবিকতা হারিয়ে ফেলছে? কোন দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে মানুষের? ইতিহাস যে যুগের মানুষকে বর্বর হিসেবে চিহ্নিত করে সে যুগেও কি আদুরীরা এরকম নির্মম নির্যাতনের শিকার হতো। এটা ঠিক এখন ক’দিন আদুরীকে নিয়ে কিছু লেখালেখি হবে। বড় বড় মানুষেরা কিছু বাণী আউড়াবেন। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা লোকেরা টিভি ক্যামেরার আলোতে চোখের পানি ফেলবেন। এবং এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কিছুদিন পর সবাই আদুরীকে ভুলে যাবেন। আদুরী ফিরে যাবে তার সাধারণ জীবনে। হয়তো নতুন কোন বাসায় কাজে। হয়তো নতুন কোন নির্যাতনে। যতদিন আমাদের মৃত বিবেক না জাগবে ততদিন আদুরীদের ছবি পত্রিকায় ছাপা হবে। কঙ্কন পরা মেয়েটি তার উদ্ধত পা আমাদের দিকে তাক করবে। আমাদের মৃত বিবেকের জন্য লাশের লাথিই প্রাপ্য।

'কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়'

Daughterআজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। অন্যান্য বছরের মতো এবারো দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়’।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, আমাদের কন্যাশিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত্। তারা আমাদের কন্যা-জায়া-জননী। তাই তাদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা করা অত্যাবশ্যক। কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন, নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণসহ তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী রূপে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, কন্যাশিশুরা যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপত্তা পায়, তবে তারা উপার্জনক্ষম এবং স্বাবলম্বী নারী হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে। আসুন দিবস পালনকে কেন্দ্র করে আমাদের কন্যাশিশুর অধিকারকে সমুন্নত এবং তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন হই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, শিশু অধিকার রক্ষায় প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় শিশু নীতি। কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তাদের সুরক্ষার জন্য দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কিশোরী ক্লাব। শিশুবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের পূর্বে জন্ম নিবন্ধন সনদ কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে গত সাড়ে চার বছরে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগামী দিনের বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমসুযোগ প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য আমি সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাকে আহ্বান জানাই।

রোববার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এ বছর আমরা কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। দেশে কন্যাশিশুদের নিয়ে কাজ করে প্রায় ১৬২টি সংগঠন। তারা দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। দিবসটি পালনে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের কুফল, কন্যাশিশুর সুরক্ষা, কন্যাশিশুর পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।