banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

অসময়ের সঙ্গী বই

কিছুই ভালো লাগছে না ? সিনেমা বা গান কোনটাই মনের খোরাক দিতে পাচ্ছেনা ? সমস্যা নেই, বই পড়ুন। এই সময়টাতে আপনার একমাত্র সঙ্গী হতে পারে বই। চলুন জেনে নেই দুটি বই সম্পর্কে।

রয়্যাল মোগল লেডিস

মধ্যযুগে ভারতীয় উচ্চ শ্রেণী সমাজে নারীদের মর্যাদা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। এরা অনেক সময় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন। যেমন বলা যায় সুলতানি আমলের রাজিয়া সুলতানার কথা। এরপর মোগলদের সময় নারীরা তেমনভাবে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় না এলেও তা থেকে যে খুব দূরে ছিলেন_এ কথা বলা যাবে না। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় নূরজাহান কিংবা সম্রাট শাহজাহানের সময় মমতাজ হয়ে উঠেছিলেন মোগল ক্ষমতার অংশীদার। এরপর সরাসরি না হলেও অনেক সময়ই পর্দার আড়াল থেকেও মোগল নারীরা তৎকালীন সমাজে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। তাঁরা নানাভাবে শিক্ষা-দীক্ষা, উৎসব, সাহিত্য, শিল্পকলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবারদাবারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরেছিলেন। মহাফেজখানার নানা তথ্যউপাত্ত এবং সমসাময়িক বিভিন্ন স্মৃতিকথা ঘেঁটে এসব বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত করছেন সোমা মুখোপাধ্যায়। ‘রয়্যাল মোগল লেডিস অ্যান্ড দেয়ার কনট্রিবিউশন’-এ সম্রাট বাবর থেকে আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত মোগল নারীদের কথা তুলে আনা হয়েছে।

রয়েল মোগল লেডিস

সোমা মুখোপাধ্যায়

গিয়ান পাবলিকেশন হাউস

মূল্য : ৫০০ টাকা

পথের কবি

যিনি পথের পাঁচালিকার, তিনিই পথের কবি। অর্থাৎ বিভূতিভূষণ। প্রকৃতি তাঁর রচনায় শুধু শোভাময়ী নয়, বাঙ্ময়ী। যাঁর রচনায় সহজ-সরল মরমি কাব্যময়তা, তাঁর জীবন কিন্তু দুর্বোধ্য আর জটিল। বিভূতিভূষণের চলার পথের দুই ধারে যে অজস্র ঘটনার ফুল আর কাঁটা ছিল ছড়ানো, দুর্লভ নিষ্ঠায় আর দুস্তর পরিশ্রমে সে সব সযত্নে কুড়িয়ে নিয়েছেন জীবনীকার কিশলয় ঠাকুর। আর উন্মোচন করেছেন বিভূতিভূষণের বহির্জীবন ও অন্তর্জীবনের এক অসামান্য আলেখ্য। বিভূতিভূষণ সম্পর্কে বহু অন্তরঙ্গ স্মৃতিসাক্ষ্য ও দুষ্প্রাপ্য সাক্ষাৎকার এবং তাঁর ঘটনাঘন জীবনের বহু দুর্লভ আলোকচিত্র এ বইয়ের অতিরিক্ত আকর্ষণ। প্রচলিতঅর্থে আত্মকথা লিখে যাননি পথের কবি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিল কিছু নোটবুক আর দিনলিপির টুকরো পাতা। ছিন্নবিচ্ছিন্ন সেসব সূত্র ধরে বিভূতিভূষণের জনজীবন ও মনোজীবনের চিত্র এঁকেছেন কিশলয় ঠাকুর

পথের কবি

কিশলয় ঠাকুর

আনন্দ

মূল্য : ৩৮০ টাকা

ধীরে ধীরে কিডনি বিকল

Kidniকিডনির প্রাথমিক রোগে বা অন্য কোনো কারণে কিডনি আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে যদি দুটো কিডনিরই কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে তখন তাকে ক্রনিক বা ধীরগতিতে কিডনি ফেইলুর বলা হয়। একটি কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে এবং অপরটির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। দুটো কিডনিরই শতকরা ৫০ ভাগ বিনষ্ট হলেও শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে একজন সুস্থ মানুষ (কিডনি ডোনার) তার নিকট আত্মীয় বা অন্য আর একজন কিডনি বিকল রোগীকে (কিডনি গ্রহণকারী) একটি কিডনি দান করেও সুস্থ থাকেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।

কেবল দুটো কিডনির ৫০ ভাগের উপর নষ্ট হলেই কিডনি বিকল হওয়ার প্রবণতা শুরু হয় এবং ৭৫ ভাগ নষ্ট হলেই শরীরের লক্ষণগুলো ধরা যেতে পারে আর ৯৫ ভাগের উপর নষ্ট হলে কৃত্রিম উপায়ে (ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন) ছাড়া রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, যাকে বলে এন্ড স্টেজ রেলাল ফেইল্যুর।

কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ:

১. গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বা কিডনির ছাকনি প্রদাহ রোগ ৫০-৫৫%।
২. ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ১৫-২০%।
৩. উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ ১০-১৫%।
৪. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর ও অন্য কোনো কারণে বাধাজনিত রোগ ৭-১৯%।
৫. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণুজনিত রোগ ৫-৭%।
৬. বংশানুক্রমিক কিডনি রোগ ৩-৫%।
৭. ওষুধজনিত কিডনি রোগ ৩-৫%।
৮. অন্যান্য ও অজানা।

উপসর্গ 

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুটো কিডনির শতকরা পঁচাত্তর ভাগ কার্যকারিতা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কিডনি বিকলের উপসর্গ দেখা যায় না। রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য ধরনের কিডনি রোগ থাকার দরুন গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। শতকরা ৭৫ ভাগের উপর কিডনি অকেজো হয়ে গেলে রোগীর ক্ষুধা মন্দা, আহারে অনীহা, বমি বমি ভাগ, বমি হওয়া, শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়।

এছাড়াও প্রস্রাবের পরিমাণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, রাতে প্রস্রাব করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কোনো রকম চর্মরোগের উপসর্গ ছাড়াই শরীর চুলকায়, যখন তখন হেচকি ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। রোগী শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র গতিতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, ঝিমানো ভাব, এমনকি এক পর্যায়ে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারে।

রোগীকে পরীক্ষা করে রক্তের স্বল্পতা বোঝা যায়। অধিকাংশ রোগীর উচ্চরক্তচাপ ধরা পড়ে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর কারণ সাপেক্ষে শরীরে পানি দেখা যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু রোগীর হৃিপণ্ডের আবরণে পানি এবং হার্ট ফেইলুরের চিহ্ন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের এমন কি হাত-পায়ের মাংসপেশী শুকিয়ে যায় যার দরুন রোগী সাধারণত চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

রোগ নির্ণয়

ক্রনিক রেনাল ফেইলুর রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রাথমিকভাবে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটেনিন এবং ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করা হয়। কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটেনিন বেড়ে যায়। পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়তে থাকে ও বাইকার্বোনেট কমে যায়। এছাড়াও ফসফেট শরীরে জমতে শুরু করে, যার ফলে ক্যালসিয়াম কমে যেতে বাধ্য হয় এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শুরু হতে থাকে।
এরপরে কি কারণে ধীরগতিতে কিডনি বিকল হয়েছে তা বের করার জন্য প্রস্রাব পরীক্ষা করে এ্যালবুমিন আছে কিনা তা দেখা হয় এবং লোহিত ও শ্বেত কণিকা আছে কিনা তাও দেখে নেয়া হয়। প্রয়োজনের ২৪ ঘ

বেবী নাজনীনের হাফ সেঞ্চুরী

Babynajninঅচিরেই একক অ্যালবামের হাফ সেঞ্চুরী করতে যাচ্ছেন ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত কন্ঠ শিল্পী বেবী নাজনীন। বাজারে আসছে তার ৫০তম একক। এরই ভেতরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ‘গান ছেড়ে দিচ্ছেন কি না’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘অধিকাংশ রাজনীতিকরই রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত একটি পরিচয় থাকে। আমিও আমার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগতভাবে গানকে চালিয়ে যাবো। এবং আমি কোনোভাবেই শ্রোতাদের ঠকাতে চাই না। সেই লক্ষ্যেই এবারের ৫০তম এককে শ্রোতাদের নতুন ধারার কিছু গান দেওয়ার ইচ্ছে আমার। আর সেইভাবেই এগোচ্ছে ব্ল্যাক ডায়মন্ডের ৫০তম একক। খুব শিগগিরই মিউজিক ভিডিওসহ এই একক অ্যালবাম রিলিজ হবে ।

ভালোমন্দ শিক্ষা দেয়া বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব–কাজল

Kajalভারতের বিনোদনকেন্দ্রীক শহর মুম্বাইতে বাস হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজলের। গ্ল্যামারের চাকচিক্যে মোড়ানো তার জীবন। তবে অভিনেত্রীর বাইরে অন্য একটি বড় পরিচয় আছে এ বলিউড আইকনের। দুই সন্তানের মা তিনি। মেয়ে নিশার বয়স ১০ এবং ছেলে যুগের বয়স তিন। স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে লাইমলাইট থেকে সন্তানদের সবসময় দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আইএএনএসকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন কাজল।  

সন্তানদের বেড়ে ওঠা

দিন শেষে, আমি চাই ওরা স্বাভাবিক সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠুক। এজন্য যতটুকু সম্ভব লাইমলাইট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি। যতটুকু সম্ভব তাদের যত্ন নেয়ার চেষ্টা করি। আমি আমার সন্তানদের ব্যাপারে খুবই কঠোর। আমার বিশ্বাস, ভালো মানুষদের দেখে তারা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ‍ওঠবে। ভালোমন্দ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া বাবা-মা হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব।

নিজের ছবি দেখে না সন্তানরা ?

মেয়ে নাশা কখনই আমার ছবি দেখে না। কারণ সে মনে করে আমি ছবিতে অনেক বেশি কাঁদি। সে আমাকে বলে, “তার বাবার মতো আমারও ‘গোলমাল’র মতো ছবিতে অভিনয় করা উচিত। আমি বলি, ঠিক আছে ভেবে দেখব। আমার ছেলে আমার ছবি দেখা মতো এখনো যথেষ্ট বড় হয়নি।

অনেক ভোরে উঠতে হয়। সন্তানরা জাগার আগেই, নিজের কাজ শেষ করতে হয়। তারপর তাদের স্কুলে পাঠিয়ে নিজের কাজে যাই।

মা হওয়ার পর অভিনয়

গর্ভবতী থাকাকালেও দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন কাজল। ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘মাই নেম ইজ খান’ ও একই বছরের দুই আগস্ট ‘উই আর ফ্যামিলি’ ছবিগুলো মুক্তি পায়। একই বছর ১৩ সেপ্টেম্বর তার দ্বিতীয় সন্তান যুগের জন্ম হয়।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি কঠিন ছিল। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়… যদি চান, আপনিও এটা পারবেন।”

অজয়ের সঙ্গে সম্পর্ক

অজয় এবং আমি একসঙ্গে ভালোই আছি। বিয়ের পর অজয় এখন নিজেকে স্থির মনে করে। একটি সম্পর্ক ঠিক রাখার ব্যাপারে তোমার চেষ্টা থাকা উচিত। সবধরনের সম্পর্কেই এটা প্রয়োজন। আমরাও তাই করি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বর্তমানে ‘ওলে’সহ একাধিক ব্রান্ডের অ্যাম্বাসেডর ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ খ্যাত এই তারকা। সন্তান লালন ও সংসারের জন্য অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। সময় কম দিতে হয় বলে বর্তমানে টিভি শোতেই নিজের পরিধি সীমিত করে রেখেছেন। তবে চলচ্চিত্রে কাজ করলে, স্বামীর প্রোডাকশন হাউস দিয়েই শুরু করবেন এমন ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন। ভবিষ্যতে কাজলের ক্যারিয়ার কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন দেখার পালা।

 সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া।

হাতছানি দিয়ে ডাকছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন

Saint-martinসৈকতে একসঙ্গে সাগর, নদী, পাহাড় আর সমুদ্রের দ্বীপ দেখতে চান? বাংলাদেশের একটি জায়গায় তা সম্ভব। চলে আসুন কক্সবাজারে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ্য ১২০ কি:মি:। সৃষ্টিকর্তা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছে বালুর আঁচলে । কক্সবাজর শহরে ঢুকতেই কানে বাজবে উত্তাল সাগরের গর্জন। পশ্চিম দিকে উঁকি দিলে নজরে পড়বে বিশাল সাগর। নরম বালুচরে নেমে দেখবনে লাল রঙের রাজকাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ, গভীর সাগরে মাছ ধরে জেলেদের ফিরে আসা।

সাগরের বিশাল মায়াবী গোধূলী ও সুর্যাস্ত, রাতের নিস্তব্ধতায় এক অন্য জগতে হারিয়ে যাবেন। সূর্য্যস্নান কিংবা সমুদ্রস্নানে নিজেকে বিলীন করে দিন নীলাভ প্রকৃতিতে। খোলা জীপে, স্পীড বোটে বা ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানো আর সমুদ্রের বালির বিছানায় দাঁড়িয়ে শামুক-ঝিনুকের সাখে লোকোচুরি খেলতে খেলতে উপভোগ করুন অনাবিল আনন্দ।

কক্সবাজার নাজিরার টেক থেকে শুরু করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত উক্ত বীচ। কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে উক্ত বীচ অবস্থিত। বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার তাইতো নব বধুরুপে সেজে আপনার পথ পানে চেয়ে আছে ।

এখানে উপভোগ করুণ আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল মোটেলের আতিথেয়তা ও সেবা। উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের ওপর ছেলেমেয়েদের জলক্রীড়া (সার্ফিং) দেখে মন সতেজ করতে হলে যেতে হবে কলাতলী পয়েন্টে।

সৈকতের পাদদেশেই বিশাল ঝাউবাগান। উচুঁ পাহাড়ের ওপর ৩০০ বছর আগে স্থাপিত জাদিরাম মন্দির, ক্যাং, বার্মিজ মার্কেট মনোমুগ্ধকর রাডার ষ্টেশন, লাইট হাউজ এবং নাজিরাটেক শুটকিপল্লী ও ঝিনুক মার্কেট ঘুরে আসতে পারেন।

 স্বপ্নের প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন:

বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবালদ্বীপ হচ্ছে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত। প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি এ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। টেকনাফ উপজেলার এ প্রবালদ্বীপটি অবস্থান বঙ্গোপসাগরের মধ্যে। টেকনাফ থেকে প্রায় ৮ মাইল দক্ষিণে বঙ্গেপসাগরের মাঝখানে প্রবাল দ্বীপটি অবস্থিত। জিঞ্জিরা, দক্ষিণ পাড়া, গলাছিরা ও চেরাদিয়া এই চারটি দ্বীপ নিয়ে ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ’ গঠিত। এর প্রাচীর নাম নারিকেল জিনঞ্জিরা, পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে এ দ্বীপকে সেন্ট মার্টিন নাম করণ করা হয়। ভূ-তাত্বিকদের মতে দ্বীপটির বয়স ২০ লক্ষ বছর। এদ্বীপের মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক কাঁকড়া, কাছিম. প্রবাল, মুক্তা আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়াম।

অনেকের মতে এখানে জীবন্ত পাথরও রয়েছে। অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ ও প্রমোদতরী দিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে উত্তাল-পাতাল ঢেউয়ের দোল আর সাগরের নয়াবিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আপনি পৌছে যাবেন সেন্ট মার্টিনে। নাফ নদীর পাশ দিয়ে একদিকে মায়ানমার আর অন্যদিকে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আর এর মাঝখানে পানির উপর ভেসে চলেছেন আপনি। নদীতে ছোট-বড় মাছ ধরার ট্রলার। বঙ্গেপসাগর এবং নাফ নদীর মোহনায় ডুবো চরে গাংচিলের ঝাঁক ও পানির উপর দিয়ে ফ্লাইং ফিশের ফ্লাই করা দেখে আপনি অবাক চোখে শুধু তাকিয়েই থাকবেন! দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে রাত কাটানোর বিরল অভিজ্ঞতার অধিকারী হতে পারেন। নিঝুম নিস্তব্ধ রাতে সেন্ট মার্টিনের পাথুরে সৈকতে দাঁড়িয়ে চাঁদনী রাতে হাজার তারার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলবেন ইস! কি সুন্দর আমার এ প্রিয় দেশ। আরো দেখতে পারেন প্রবালদ্বীপের পাথরের গর্তে প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়ামে নানা রঙের মাছের ছুটোছুটি। আপনার চিরকাঙ্খিত প্রবাল দ্বীপ এবং ছেঁড়াদিয়ার নির্জনতা আপনাকে বিমোহিত করবেই।

মানচিত্রের শেষ বিন্দু ছেঁড়াদ্বীপ

সামুদ্রিক প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে দেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দতে এর অবস্থান। সেন্ট মার্টিন থেকে পূর্ব দিকে ট্রলার বা স্পিডবোট করে যেতে হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ কিন্দু ছেঁড়াদ্বীপে। সময় লাগে আড়াই ঘন্টা। এখানে কোনো লোকবসতি নেই। পুরোপুরি সংরক্ষিত এলাকা। এই দ্বীপের চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রবাল-শৈবাল, শামুক-ঝিনুক। এসব মনভরে উপভোগ করা যায়, কিন্তু আহরণ বা সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্বচ্ছ নীল জলের এই দ্বীপে দেখা মেলে নানা বৈচৈত্রের মাছের। স্পিডবোট দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে মুহুর্তেই ঘুরে আসা যায় প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এ দ্বীপকে। 

উজ্জ্বল লাবন্যময় ত্বকের যত্নে

For-Fair-Skinসুন্দর হতে চায় না এমন মানুষ এই গ্রহে আছে বলে মনে হয় না। সুন্দর  কথাটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একটি লাবন্যময় হাসিমাখা মুখের প্রতিচ্ছবি।

কারো গায়ের রঙ যখন স্বাভাবিক, সুশ্রী এবং ফর্সা, বাইরে থেকে তার দেহের শিরাগুলো দ্দেখা যায়, তখন আমরা বলি তার ত্বক সুন্দর। ত্বক সুন্দর বা ফর্সা হবার অনেক কারন আছে। যদিও এর বেশিরভাগই বংশগত বা আমরা বলতে পারি জেনেটিক্যাল। তবে আপনি আপনার ত্বককে করে তুলতে পারেন আরো ফর্সা, আরো উজ্জ্বল কিছু কিছু হোম রেমেডি ব্যবহার করে। এতে আপনার প্রয়োজন হবে না কোন বিউটি পার্লারে যাওয়ার। শুধু একটু যত্ন, ব্যাস!

 আসুন জেনে নেই কিছু বিউটি টিপস

ত্বকের সৌন্দর্য্য চর্চা দুইভাবে করা যায়। একটি প্রাকৃতিক ও অন্যটি কসমেটিকস।

প্রাকৃতিক উপায়ঃ

এটাই আসলে প্রকৃত উপায়। আমরা রুপচর্চায় সাধারনত প্রাকৃতিক কিছু উপাদান যেমন শাক-সবজী, ফল এবং এগুলোর পাল্প বা মন্ড ব্যবহার করি। এটা একদিকে যেমন নিরাপদ তেমনি সাশ্রয়ীও বটে – বলা হয়ে থাকে জিরো কস্ট।

কসমেটিকসঃ

এতে ব্যবহৃত হয় কেমিক্যাল আর কৃত্রিম উপাদান। এর মধ্যে আছে ‘মাড প্যাক এবং অন্যান্য ফেয়ারনেস ক্রীম অথবা বিভিন্ন কেমিক্যাল এজেন্টের মিক্সার।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা ত্বকের সৌন্দর্য্য চর্চায় কসমেটিকসের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কসমেটিকস ব্যবহারে আপনি ফল পেতেও পারেন আবার নাও পেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বনে সবচেয়ে ভাল ফল পাবেন – এটা নিশ্চিত। 

চলুন দেথি প্রাকৃতিক কি কি ব্যবহার করে ত্বক উজ্জল ও লাবন্যময় করা যায়।

মধুঃ

ত্বকের যত্নে এবং উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে বহুল প্রচলিত এবং উত্তম পদ্ধতি হল মধুর ব্যবহার।

ব্যবহার: একচামচ মধু নিন। মুখের ত্বকে লাগান। আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে মেসেজ করুন। এইভাবে দিনে দুইবার সকালে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন। দুই সপ্তাহ পরে আপনি দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল আর সোনালী রঙ ধারন করছে। তবে মনে রাখবেন এখানে শুধুই মধুর কথা বলা হয়েছে, মধুর সাথে দুধ মিশানোর কথা বলা হয় নি।

পেঁপেঃ

আপনারা হয়তো আগেই জেনে থাকবেন পেঁপের কথা। হ্যাঁ, পেঁপে খাওয়ার উপকারীতা আমরা সবাই জানি। তবে এটা আপনার ত্বকের জন্যও আশির্বাদস্বরুপ। এটাকে টপিক্যাল মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়।  টপিক্যাল মেডিসিন হচ্ছে যা কিছু বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নে পেঁপে যেহেতু বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়, সুতরাং পেঁপে একধরনের টপিক্যাল মেডিসিন।

ব্যবহার: একটা পেঁপে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন। শাঁসটা পিষে ঘন পেস্টের মত করুন। মুখে লাগান। ইচ্ছে করলে আপনি এই পেস্ট আপনার বাহু কিংবা যেসব স্থান রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে, সেসব স্থানেও লাগাতে পারেন। ১ ঘন্টা এভাবে রাখুন। আপনি যদি ব্যস্ত মানুষ হয়ে থাকেন বা আপনার হাতে সময় কম, সেক্ষেত্রে পেস্ট লাগিয়ে রেখে অন্যান্য কাজ করতে থাকুন কিংবা সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকুন। ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কমপক্ষে ৩ মাস ব্যবহার করুন। পার্থক্যটা দেখুন।

শশাঃ

শশা ভোজ্য সবজী হিসাবে খাওয়া হয়, যেমন কাঁচা অবস্থায় তেমনি রান্না করে। শশার রয়েছে ত্বক ফর্সা করার গুন। কম দামী সবজী হওয়ায় এটির ব্যবহার যে কারো জন্যই উত্তম পরামর্শ। শশাতে আছে এমন সব উপাদান যা মেলানিনের উপস্থিতি কমায়, ত্বকের পুড়ে যাওয়া বা তামাটে হওয়া রোধ করে। আর এসব কারনেই বিশেষজ্ঞরা শশা ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং কিছু অংশ খেতেও বলেন। এটা পেস্টের মত করে লাগাতে পারেন অথবা এর রস লাগাতে পারেন।

শশা শুধু ত্বকের সুন্দর করে তা-ই নয়, শশা বাটা বা শশার রস লাগানো স্থানের তাপ কমিয়ে স্থানটি ঠান্ডা রাখে বিশেষ করে চোখের নীচ। নিয়মিত শশা ব্যবহারে কালো দাগ দূর হয়। যখন শশা পেস্ট ত্বকে লাগাবেন, চাক চাক করে কাটা শশার টুকরা চোখের উপর লাগাতে ভুলবেন না যেন। এতে আপনার চোখের নীচে কালো দাগ দূর হবে।

লেবুঃ

লেবুর রসও ত্বকের জন্য আশ্চর্য্য ফল দেয়। এটা আপনি যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন, তবে দ্রুত ও ভাল ফলের জন্য দিনে বেশ কয়েকবার লাগাতে পারেন। লেবুর রস মাখালে প্রথম কিছুক্ষন হালকা সূচ ফোঁটার মত অনুভূতি হতে পারে – তবে এটা স্বাভাবিক। কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র দই ছাড়া অন্য কোনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। একবারে ১টা লেবুই যথেষ্ট। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত লাগান। আয়নায় পার্থক্যটা দেখুন।

টমেটোর রসঃ

আপনারা নিশ্চয়ই ‘লা টোমাটিনা ফেস্টিভাল’ এর কথা শুনে থাকবেন। এটা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০ কি.মি দুরের একটি গ্রামের একমাত্র অনুষ্ঠান যা অন্য কোথাও নেই। এই অনুষ্ঠানে লোকেরা একে অপরের প্রতি পাকা টমেটো ছুঁড়ে মারে। ইতিহাস বলে দূষ্কৃতির প্রতিবাদ হিসাবে তারা সজোরে টমেটো ছুঁড়ে মারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে যাদের মুখে টমেটো এসে সজোরে লাগছে, তারা বেশ সতেজ অনুভূতি লাভ করেন, যদিও কেউ কেউ সামান্য ব্যাথা পান। ওখানকার লোকেরা ত্বক সজীব রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন।

তরমুজঃ

গ্রীষ্মকালে দৈনিক কমপক্ষে তিনবার তরমুজের টুকরা নিয়ে মুখে ঘষুন। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর হবে। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করবেন। কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ততক্ষনাৎ ব্যবহার বন্ধ করে দিন।

তুলসিঃ

তুলসিকে বলা হয় ঈশ্বরের দান। এটা খেলে অনেক রোগের উপসম হয়। তবে ত্বকের জন্যও এটা এক বিস্ময়। যারা তুলসির রস ত্বকে ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন, সাথে সাথে স্বাভাবিক ত্বকও হয় আরো সুন্দর আর লাবন্যময়। কাজেই রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া প্রতিকারে অব্যর্থ ঔষধ তুলসির রস, সাথে উপহার সুন্দর ফর্সা ত্বক।

ব্যবহার: তুলসির কিছু পাতা নিন। শীল-পাটা দিয়ে বেটে কিংবা পিষে পেস্ট করুন। আস্তে আস্তে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে হালকা কুসুম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ লাগান।

হলুদঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্যে হলুদের ব্যবহার ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকমাত্রায় প্রচলিত। হিন্দু মেয়েরা তাদের পায়ে রঙ মাখাতে হলুদ ব্যবহার করে এবং এটা তাদের কাছে পবিত্র আচার। তবে এখন আর এটা ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় প্রমানিত যে হলুদের ত্বকের রঙ ফর্সা করার গুন আছে। যেহেতু হলুদ দামী বস্তু নয়, তাই আপনি ইচ্ছে করলে আজই এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন।

ব্যবহার: পনিমানমত হলুদ নিয়ে ভালো করে পেষ্ট করে নিন। তারপর মুখে, হাতে, পায়ে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লাগান।আপনি চাইোলে আস্ত হলুদও ঘষে ঘষে লাগাতে পারেন। কিছুদিন পরই পার্থক্যটা বুঝবেন। ফর্সা ত্বক! কোন ব্যাপারই না।

দইঃ

দই ছাড়া ডিনার? অসম্ভব! কারন দই ছাড়া আহারের স্বাদটাই যে অপূর্ণ থেকে যাবে! অন্ততঃ দক্ষিন ভারতীয়দের কাছে দই এমনই। সেই দই কি-না আপনার ত্বকও ফর্সা করে! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সত্যি।

ব্যবহার: প্রতিদিন সকালে ১ টেবিল চামচ দই নিন। মুখে মাখুন। ৪ সপ্তাহের বেশি লাগবে না আপনার মুখে ত্বক ফর্সা হতে। সেই সাথে ব্রণ থাকলে তাও দূর হবে।

দইয়ে যাদের এলার্জি আছে, তারা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। যেমনঃ

এই উৎসবের কিছুদিনের মধ্যে দেখা যায় যারা নিজেকে সতেজ রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন, তাদের ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর। এরপর থেকে পৃথিবীর অনেক স্থানেই টমেটোকে রুপ চর্চার উপকরণ হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।

ব্যবহার: ১টা টমেটো নিয়ে চেপে রস বের করে মুখে লাগান সাথে শাঁসটাও। প্রতিদিন এভাবে ব্যবহার করুন অন্ততঃ ৬ মাস পর্যন্ত।

 গোলাপ জলঃ

খুব অল্প সময়ে সুন্দর ত্বক পেতে গোলাপ জল অনন্য। গোলাপ ফুল কিনে পাঁপড়িগুলো আলাদা করে একদিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে যতবার মুখ ধোবেন, ততবারই গোলাপ জল ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন গোলাপ জলে মুখ ধোয়ার সময় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করবেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে গোলাপ জল নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং শুধু সুন্দর ফর্সা হয়েছে তা-ই নয়, একটু গোলাপি বর্নও ধারন করেছে।

আলুঃ

আলু বা গোল আলু অন্যান্য উপকরণের মত ত্বক ফর্সা বা সুন্দর করার জন্য যতটা না ব্যবহার হয় তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মুখের ত্বকের কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে। রোদে মুখের ত্বক পুড়ে গেলে কালো দাগ পড়ে। আর সেই কালো দাগ দূর করায় পৃথিবীর অন্য যেকোন বস্তুর তুলনায় আলুই একমাত্র কার্যকরী উপাদান।

কচি ডাবের পানিঃ

বাইরে থেকে ঘরে এসে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে রোদের ক্রিয়া বা রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। আপনাকে দেবে প্রশান্তি আর সতেজ অনুভূতি। চাইলে আপনি কচি ডাবের শাঁসও মুখে মাখতে পারেন। এতে ত্বকের রঙ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের ব্রণও দূর হবে।

ডিমের কুসুমঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় হোম রেমেডিগুলোর মধ্যে ডিমের কুসুম অন্যতম।

ব্যবহার: ১টি বাটিতে কুসুম নিয়ে ফেটিয়ে পেস্টের মত তৈরী করুন। ১ চামচ মধু আর ১ চামচ দই নিয়ে ভালভাবে কুসুমের সাথে মেশান। ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে সারা মুখে লাগান। শুকাতে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২ থেকে ৩ মাস এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করুন আর রেজাল্ট লক্ষ্য করুন।

দুধের সাথে জাফরানঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় সামান্য কিছু অর্থ খরচ করতে আপনার যদি বিশেষ অসুবিধা না থাকে, তাহলে দুধ আর জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। যদিও জাফরান বর্তমানে বেশ দামী উপাদান। ২৫০মি.লি এর মত দুধ নিন। তাতে কিছু জাফরান ফেলে ভালভাবে মেশান। কোন ধরনের মেসেজ করা ছাড়াই মুখের সারা ত্বকে সমানভাবে লাগান। এভাবে কিছুক্ষন থাকুন। জাফরান মিশ্রিত দুধ মুখে লাগানোর পাশাপাশি খেতেও পারেন। এতে আরো ভাল ফল পাবেন। বেশ কয়েকটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, দুধ আর জাফরান একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে ত্বক ফর্সা হওয়ার পাশাপাশি গোলাপী আভা ধারন করে। যারা চান তাদের ত্বক যেন ঠিক শিশুদের ত্বকের মত গোলাপী হয়, তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ হল দুধ আর জাফরান একসঙ্গে ব্যবহারের।

 চন্দন পেস্টঃ

শেষ ভরসা চন্দন। ১ চিমটি চন্দন কাঠের পেস্টই আপনার এতদিনের ফর্সা হওয়ার স্বপ্ন স্বার্থক করতে পারে। চন্দন পেস্ট ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে একটানা ৩০ দিন ব্যবহার করুন। আর আশ্চর্য্য ফল লাভ করুন।

কিছু সংশয়

উপরোল্লিখিত বিউটি টিপসগুলো নিঃসন্দেহে সাশ্রয়ী এবং কার্যকরি। এগুলো যেকোন সময় আপনার কাজে দেবে। এগুলো ব্যবহারে আপনার কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবারও দরকার নেই। আর হ্যাঁ, এতসব টিপস পেয়ে আপনার মনে হয়তো সংশয় দেখা দিতে পারে যে কোনটা রেখে কোনটা ব্যবহার করবো কিংবা কেউ ভাবতে পারেন একসঙ্গে সবগুলো কিভাবে ব্যবহার করব। এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। সবগুলো একসঙ্গে নয়। যেমন ধরুন দুধ আর লেবু একসঙ্গে কাজ করে না। যেহেতু দু’টোই বিউটি টিপস হিসাবে দেয়া আছে, আর আপনি দু’টোই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে বরং আপনার ত্বকে উলটো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কাজেই যেকোন একটি বেছে নিন এবং সেটাই রেগুলার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কোন কারনে আপনি যদি একটাতে সন্তুষ্ট না হন, সেক্ষেত্রে একটা ব্যবহারের পর অন্যটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে কখনোই সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না।

জেনে নেই কয়েকটা ছোট্ট টিপস

Tips১.কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে ঠোটে ঘষুন ,কালো দাগ তো উঠবেই সাথে ঠোটে গোলাপী ভাব আসবে ।

২.কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে লেবুর খোসায় চিনি দিয়ে ভালো করে ঘষুন ।চলে যাবে ।

৩.ব্রনের উপর রসুনের কোঁয়া ঘষে নিন,তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে ।গ্যারান্টি।

৪.পেডিকিউর মেনিকিউর আপনার কাছে ঝামেলা লাগে ? আমরা আছি তো, আজ থেকে যখনই আপেল খাবেন তখনই আপেলের খোসাটা হাত পায়ে ঘষে নিন । পরিস্কারও হবে ফর্সাও হবে।

৫.পায়ের গোড়ালী ফাটলে ,পেয়াজ বেটে প্রলেপ দিন ।ক্রীম কিংবা স্ক্রাব এর ঝামেলায় যেতে হবেনা ।

৬.প্রতিদিন টুথপেষ্ট দিয়ে দাত মাজেন কুলি করেন তবুও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়? ব্যাপার না ,নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে টানা দুইমাস নিয়মিত দুই কোঁয়া করে কমলালেবু খান ।

মাংসের ৪ রেসিপি

MEAT KALIAপারিবারিক ছোট আয়োজনেও রসনা তৃপ্তিতে চাই মাংসের স্বাদ। সহজ রান্নায় খাবার টেবিলকে আভিজাত্য দিতে আপনিও বাড়িতে কাজে লাগাতে পারেন মাংসের এই চার রেসিপি

 মাংসের কালিয়া 

উপকরণ

১ কেজি মাংস (গরু/খাসি), হলুদ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, জিরা বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁপে বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, গরম মসলা ১ চা-চামচ, তেজপাতা ২টি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, বেরেস্তা আধা কাপ, লবণ ও সরিষার তেল পরিমাণমতো।

প্রণালী

মাংস কেটে ধুয়ে পানি ঝরান। সব মসলা দিয়ে মাংস মাখিয়ে এক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এবার হাঁড়িতে তেল গরম হলে পেঁয়াজ ভাজুন। তেজপাতা দিন। মাখানো মাংস দিয়ে ভাজুন/কষান। সেদ্ধ হলে পেঁয়াজ বেরেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

(৬ থেকে ৮ জনের জন্য)

 কিমা ভুনা

 উপকরণ

মাংস কিমা ১ কেজি, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, আদা বাটা কোয়ার্টার কাপ, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা কোয়ার্টার কাপ, হলুদ গুঁড়ো ২ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো ৩ চা-চামচ, তেল, লবণ পরিমাণমতো, এলাচ, দারুচিনি বাটা আধা চা-চামচ, জিরা ১ চা-চামচ।

প্রণালী

কিমায় সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে রাখুন ঘণ্টাখানেক। চুলায় কড়াইয়ে তেল দিয়ে মাখানো কিমা ভুনতে থাকুন। তেল উঠলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

(৬ থেকে ১০ জনের জন্য)

 রাঙা বিফ

 উপকরণ

মাংস টুকরো করা দেড় কাপ, গাজর কুচি ১টি, পেঁপে কুচি ১টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, টকদই ১ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, লবণ পরিমাণমতো, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ।

 প্রণালী

মাংস, লবণ ও টকদই দিয়ে মেখে ১৫ মিনিট রাখুন। পেঁপে, গাজর ভাপ দিন। চুলায় কড়াই গরম করে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে মাংস দিন। কাঁচা মরিচ ছিটিয়ে পেঁপে গাজর দিয়ে নেড়ে ঢেকে রাখুন। মাংস সেদ্ধ হলে কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে নামান।

(৪ থেকে ৮ জনের জন্য)

 ঝাল বিফ

 উপকরণ

মাংস ১ কেজি, আদা, রসুন ২ চা-চামচ করে; পেঁয়াজ ৫/৬টি (বড় করে কাটা), লবণ ও তেল পরিমাণমতো, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, দারুচিনি, এলাচ, কাঁচামরিচ, শুকনো মরিচ ৫-৬টি করে; সয়াসস, চিলিসস আধা কাপ করে।

 প্রণালী

মাংস চিকন লম্বা করে কাটুন। সব উপকরণ মেখে ১ ঘণ্টা রাখুন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে আস্ত শুকনো মরিচ, এলাচ, দারুচিনি, পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে তাতে মাংস দিয়ে রান্না করুন। পরিমাণমতো পানি দিন। নামানোর সময় চিলিসস, জিরা, কাঁচামরিচ দিয়ে নাড়ুন।

(৬ থেকে

৮ জনের জন্য)

শিশুর যত্ন

Babyঘনিয়ে আসছে শীতের মৌসুম। বিদয় নিচ্ছে বর্ষা। আবহাওয়া পনিবর্তনের এই সময়টাতে দেথা দেয় নানান অসুখ। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। শীতকালে যে কোনো সময় সর্দি, কাশি, ঠাণ্ডা, জ্বরের মতো নানা অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। তাই এ সময়টাতে শিশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়। বাড়তি যত্ন নিলে শিশু থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।

শীতের সময় শিশুকে ফুলাহাতা জামা ও পাজামা পড়াতে হয়। তবে এসময় খেয়াল রাখতে হবে, জামা কাপড় যেনো আটসাট না হয়। শীতের সময় শিশুদের পায়ে মোজা, জুতা, স্যান্ডেল আছে কিনা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।

 শিশুর জামা-কাপড় রোদে দিয়ে শুকাতে হবে।রোদে দেওয়া কাপড় পরালে শিশু আরাম পাবে।

 

পেশা হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইনিং

image_39150অপরাজিতাবিডি ডটকম: ফ্যাশন ডিজাইনিং সৃজনশীল শিল্পের ব্যাবহারিক শাখা। যুগ যুগ ধরে সামাজিক বিবর্তনের মাধ্যমে পোশাক এবং আনুশাঙ্গিক বস্তুর পরিবর্তন আর মানুষের রুচির সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশনের । কর্ম ক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনিং সবচেয়ে লাভজনক, আকর্ষণীয়, চাকচিক্যময় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পেশা। আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতা, শৈলী এবং মৌলিকত্ব থাকে তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং কে আজকের বিশ্বের প্রতিযোগিতা মূলক পেশার একটি বিকল্প হিসাবে নিতে পারেন।

কেন পেশা হিসাবে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিবেন ? এক কথায় যশ, সম্মান, আত্মতৃপ্তি আর উচ্চ মানের বেতন কাঠামো – সবই আপনাকে নিয়ে যাবে সাফল্যর দরজায়। সুতরাং, আপনি যদি রং, আকৃতি ও ডিজাইন দিয়ে ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন, তাহলে শুধু একটি পেশাদারী কোর্সের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন আকর্ষণীয় এই পেশা।

যোগ্যতা

যোগ্যতা সাধারনত দুই ধরনের

প্রাকৃতিক যোগ্যতা – রঙ, নকশা আর এই দুইয়ের সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বেড়ে উঠে,ফ্যাশন ডিজাইনিং তাদের জন্য অনেক খানি সহজ হয়ে যায়।

অর্জিত যোগ্যতা– মান সম্পন্ন স্বীকৃত ফ্যাশন ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করা যায় এই পেশায়।এক্ষেত্রে যারা এইচএসসি পাশের পর এ পেশাতে আসাই ভালো।

তবে দক্ষতা হক প্রাকৃতিক অথবা অর্জিত, পেশাদারী মনোভাব, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা আর কঠোর পরিশ্রমই দিতে পারে সাফল্য।

সিদ্ধান্ত নিন দ্রুত

বিশ্বে যখন ফ্যাশান নিয়ে তোলপাড় তখন পিছিয়ে নাই আমরাও। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য আর নিত্য নতুন দেশিও ফ্যাশান হাউজ এর কারনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পেশা। তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়া এখন শুধু আর শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাই যদি ডিজাইনারই হতে চান শুরু করুন একটু আগে।

ভাবছেন আপনার জন্য ফ্যাশন ডিজাইনিং উপযোগী কি না ?

যাই করুন ভালবেসে করুন – ভেবে দেখুন তো ডিজাইনিং আপনার কেমন লাগে ? রঙ, তুলি আর সেলাইর মেশিনে আগ্রহ আছে? মার্কেটে কোন জামা দেখলে কি মনে হয় কালার টা অন্য রকম হলে ভালো হতো। কখনও কি মনের জোকে করে ফেলেছেন টি-শার্ট এর ডিজাইন। উপরের কিছু না থাক- আছে কি অদম্য ইচ্ছা?

আর এগুলো যদি থাকে আপনার ভিতরে, কে জানি আজ থেকে ৫ বছর পরে আপনার ডিজাইন করা জামা হয়ত উচ্চ দামে কিনতে হবে।

যে বিষয়গুলো এড়িয়ে জলা ভালো

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড, মিডিয়া, ফ্যাশান শো, তারকা খ্যাতি অথবা কোটি টাকার মালিক হওয়ার লোভে ভুলেও আসবেন না এই পথে। ফ্যাশান ডিজাইন একধরনের শিল্প, বই মুখস্ত করে ডিজাইনার হওয়া যায়না।

পড়বেন কোথায় ?

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট আছে। তার মধ্যে –

·         Bangladesh University of Textiles

·         BGMEA University Of Fashion and Technology. (BUFT)

·         Shanto-mariam University of Creative Technology. (SMUCT)

·         Raffles Design Institute, Dhaka

·         National Institute of Fashion Technology (NIFT)

ব্যায়

৪ বছর মেয়াদি বি এস সি করতে গেলে খরচ সবচেয়ে বেশি যাবে BUFT তে ৫ লক্ষ টাকার উপরে সেমিসটার ফি। বাকি গুলুতে এর চেয়ে কমে পড়তে পারবেন । শর্ট কোর্সে খরচ প্রতিষ্ঠান ভেদে কম বেশি হবে।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

ফ্যাশনে ব্লক প্রিন্ট

Fashionফ্যাশনেবল, কিন্তু আরামদায়ক পোশাক চাই। এমন ধরনের পোশাক, যা সব সময় পরা যাবে। হোক তা অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়। সঙ্গে যদি লেস বা পাইপিং যোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে নিমন্ত্রণেও অনায়াসে পরা যাবে। শুনলে মনে হবে, এ আর নতুন কী! তবে নতুন মোটিফে নতুন করে বানিয়ে নিলে নতুনত্ব থাকবে বৈকি। বলছিলাম ব্লক প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজের কথা।

কয়েক বছর ধরেই কমবেশি চল রয়েছে ব্লক প্রিন্টের। গত বছর কিছুটা কমলেও এ বছর আবার এর চাহিদা বেড়েছে। গরম আবহাওয়াই এর অন্যতম কারণ। ব্লক প্রিন্ট সাধারণত সুতি কাপড়ের ওপরই করা হয়। খুব বেশি জবরজং নকশা ও কাজ থাকে না। ফলে গরমে আরাম খুঁজতে মেয়েরা বেছে নিচ্ছে এই পোশাক।

ক্রেতারা সাদামাটা নকশার মধ্যে ব্লক প্রিন্টের পোশাক কিনছেন। গরমে কেউই জাঁকজমক পোশাক পরতে চান না। তবে লন কাপড়ের নকশার একটা প্রভাব থাকছে এ সময়ের ব্লক প্রিন্টের পোশাকে।

এখনকার সময়ে হালকা রং, যেমন লেবু রং, কচুপাতা সবুজ, হালকা ফিরোজা, হালকা গোলাপি ও সাদার মধ্যে বিভিন্ন রঙের মোটিফ ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার উজ্জ্বল রঙের কামিজ হলে সালোয়ার-ওড়না হচ্ছে সাদা রঙের।

কোনোটাতে থাকছে ফুলেল মোটিফ, কোনোটাতে জ্যামিতিক নকশা ও ফুলেল মোটিফের মিশেল। ফ্যাশন হাউস দর্জির স্বত্বাধিকারী সাশা মানসুর চৌধুরী বলেন, ব্লক প্রিন্টের কামিজে হাতায় ও ওপরের অংশে জ্যামিতিক নকশা থাকলে নিচের দিকে ফুলেল নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কলকা নকশা কামিজে ব্যবহার করা হলে সালোয়ার ও ওড়নায় জ্যামিতিক নকশার চল রয়েছে। ব্লক প্রিন্টেও ফিউশন হচ্ছে। তবে কামিজের ঝুল বেশি এবং কাটিংয়ে এক ছাঁট চলছে; সঙ্গে থ্রি-কোয়ার্টার বা ফুলহাতা।

পোশাক না কিনে নিজের মনের মতো করে বানিয়ে নেওয়ারও সুযোগ থাকে ব্লক প্রিন্টের পোশাকে। ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ ছোট-বড় অনেক দোকানে ব্লক প্রিন্টের কাজ করা হয়। এক হাজার টাকার মধ্যে ব্লক প্রিন্ট করাতে পারবেন। এ ছাড়া বাড়িতে বসেও নকশা করা ব্লক ও রং কিনে ব্লক করা যেতে পারে। ঢাকার বনানী ১১ নম্বরেও নানা দোকানে পাবেন ব্লক প্রিন্টের পোশাক।

ব্লক প্রিন্টের পোশাকে নিতে হবে বাড়তি যত্ন। অন্তত দু-তিনবার পরে ধুয়ে ফেলবেন। ধোয়ার সময় উল্টো করে মৃদু ক্ষারের পরিষ্কারক দিয়ে ধুতে হবে। আর সরাসরি বা কড়া রোদে কখনোই ব্লক প্রিন্টের পোশাক শুকাতে দেবেন না। এতে রং জ্বলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি ইস্তিরি করার সময়ও উল্টো করে নেবেন।ব্লক

 সুত্র: prothom-alo মডেল: বিদ্যা সিনহা মিম, পোশাক: চৈতি, সাজ: কিউবেলাক

বিয়ের সাজ, মধ্যমণি কনেকে থাকতে হয় সবার চেয়ে আলাদা

Biyer sajবিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাজগোজটাও হওয়া চাই মনের মতো। বিয়ে মানে এক নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। নতুন পরিবারের সঙ্গে নিজেকে খাপখাইয়ে চলা। বিয়ের এই অধ্যায়টা প্রতিটি মেয়ের কাছেই অন্যতম।

বর-কনের সমন্বয়ে যদিও বিয়ে আয়োজন করা হয়, তবুও বিয়েতে মধ্যমণি হিসেবে কনেই থাকে। কনের সাজ-পোশাক নিয়ে আগে থেকেই আলোড়ন হয়ে থাকে। যেহেতু মধ্যমণি কনে তাই সবার চেয়ে তাকে থাকতে হয় একদম আলাদা।

বিয়ের প্রস্তুতিতে শুধু রূপ নয় ব্যক্তিত্বেরও যেন প্রতিফলন ঘটে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাই কনের সামনে থাকতে হবে একটি গাইডলাইন। ত্বক এবং চুলের বাড়তি যত্ন এ সময় অতি জরুরি। ত্বক পরিষ্কার, টান টান ভাব বজায় এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প নেই। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর পরিচর্যায় ফেসিয়াল এক কার্যকর উপায়।

তাই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হলে ভালো পার্লারে গিয়ে দক্ষ হাতে ফেসিয়াল করে নিন। ফেসিয়াল করতে হবে অন্তত ১ মাস আগে। তারপর ১৫ দিন পর আবার ম্যাসাজ করে নিন। ব্লিচ করে নিন। কারণ বিয়ের আগে স্বাভাবিকভাবেই নানা টেনশনের কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এ কারণেই ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। আর ফেসিয়ালসহ নানা ধরনের ম্যাসাজ ত্বকের আর্দ্র্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

তবে শুধু পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না, অবসর সময়ে ঘরে বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বক পরিচর্যা করতে হবে। ত্বকের যত্নে আলু এবং শসার রস খুব উপকারী। আলু এবং শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত সেটা ব্যবহার করতে পারেন। আবার দিনের যেকোনও সময় তুলায় গোলাপজল ভিজিয়ে মুখ, গলা এবং ঘাড় মুছে নিন। গোলাপজল খুব ভালো একটি ক্লিনজারের কাজ করে। মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মসুর ডাল বাটা ব্যবহার করতে পারেন। যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা নিম এবং তুলসী পাতার রসের সঙ্গে সামান্য চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট করে ব্রণের ওপরে লাগিয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ দূর হবে। আবার অনেকের মুখেই রোদে পোড়া ভাব দেখা যায়। এ সমস্যা দূর করতে চালের গুঁড়ো, মসুর ডাল বাটা, এক টেবিল চামচ টকদই, এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ এবং সামান্য মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। এবার ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিম মেখে নিন।

শুধু মুখের যত্ন নিলেই হয় না, কনের হাত-পায়েরও পরিচর্যা করা জরুরি। হাত-পা পরিচর্যায় মেনিকিউর পেডিকিউর অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়াও ঘরেই নিতে পারেন যত্ন। একটি বড় বোলে কুসুম কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু গুলিয়ে হাত-পা ভিজিয়ে বসে থাকুন ১০ মিনিট। এবার পিউমিস স্টোন দিয়ে পায়ের তালু ঘসে নিন। নেইল কাটার দিয়ে নখ সেইপ মতো কেটে আবার গরম পানিতে ২ মিনিট হাত-পা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি থেকে তুলে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে ভালো লোশন লাগিয়ে নিন।