banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

রাজশাহীতে মা-মায়ের আত্মহত্যা

রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে শিশুকন্যাসহ এক মা আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শামীমা আক্তার কাকলি (২৫) ও তার ১৯ মাসের শিশুকন্যা লাবনি। কাকলির গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ইসলামগাছি এলাকায়।Rajsahi

আর্থিক টানাপোড়ন ও স্বামীর ওপর অভিমান করে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
 
তার স্বামী মনসুর আলী রাজশাহী নগরীর ‘সিঙ্গার’ সাহেববাজার শাখার শপ এ্যাসিসটেন্ট পদে চাকরি করেন।

রাজশাহী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, স্বামীর উপর অভিমান করে কাকলি দুপুরে নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশে সৈয়দপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তার শিশুকন্যাকে নিয়ে ঝাঁপ দেন।
চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে কাকলি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় তার ১৯ মাসের শিশুকন্যা লাবনিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক সাইদুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মৃতদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

ওসি জানান, তারা ভদ্রা এলাকার ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সংসারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে স্বামীর উপর অভিমান করে কাকলি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কেবল বর্জনই নয়, নির্বাচন প্রতিহত করা হবে—খালেদা

khaleda ziaআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কেবল বর্জনই নয়, প্রতিহত করতে হবে।

২৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্দলীয় সরকারের বিল পাস না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেশ বাঁচাতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে মিলিটারি, পুলিশ, আনসারসহ প্রশাসনের সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন বিরোধীদলীয় নেতা। 

রোববার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সার্কিট হাউস মাঠের এই জনসভায় খুলনার ১১টি জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন, জনসভাটি এ সময় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।  বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে খালেদা জিয়া জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন এবং বিকাল পৌনে ৫টায় ভাষণ শুরু করেন। 
দীর্ঘ ৫০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের নানা ব্যর্থতা, অপশাসন, দুর্নীতি, আগামী নির্বাচন, আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারের একক নির্বাচনের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। ২৫ অক্টোবরের পর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন। জনগণকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত হতে হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে মানুষ জেগে উঠেছে। সরকার যদি সংসদে দ্রুত বিল নিয়ে না আসে তাহলে মানুষের যে স্ফুলিঙ্গ তিনি দেখেছেন, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো থাকবে না।
ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা সরকারি কর্মকর্তাদের একদলীয় নির্বাচনে কাজ না করলে ‘বাড়ি পাঠানো’ হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার বুঝতে পেরেছে, চুরি করে এখন কিছু করা যাবে না। তাই আওয়ামী লীগের একজন নেতা সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তাই সরকারকে বলবেন, ‘আপনাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি পাঠানোর ক্ষমতা থাকবে না। আপনাদেরই বাড়ি পাঠানো হবে।’

সরকারি কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা তাদের অন্যায় নির্দেশ মানবেন না। এতে আপনাদের চাকরি চলে গেলে আমরা পুনর্বহাল করব।’

গণতন্ত্র রক্ষায় দেশে জনগণের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রশাসন এবং সর্বস্তরের পেশাজীবীদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘রাজপথে আবার দেখা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে বেইমান, জুলুমবাজ সন্ত্রাসী সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

তিনি অবিলম্বে সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নয় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বললেও মূলত নির্বাচনমুখী বক্তব্যে দিয়ে তিনি খুলনাবাসীর জন্য ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দেন। বলেন, ক্ষমতা এলে দেশের উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা আছে। যা সময়মতো জনগণকে জানানো হবে। 
খালেদা জিয়া বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিপক্ষে নন তিনি। তবে রামপালের মতো জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেয়া হবে না। সুইটেবল জায়গায় এটি করতে হবে। যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। রামপালে হলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পশু থাকবে না, পাখি থাকবে না, পরিবেশ থাকবে না। মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেয়া যাবে না। আন্দোলনকারীদের সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করা হবে। বিএনপি আন্দোলনের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, এ সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না। নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কি আচরণ করেছে সবাই জানেন। 
বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ ব্যাংককে ড. ইউনূসের কাছে ফিরিয়ে দিবেন।

এ সরকার গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংস করে বেকার সমস্যা বাড়াচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন এ সরকারের কাজ নয়। এ সরকারের কাজ বেকার সমস্যা বাড়ানো। তারা দারিদ্র্যবিমোচন করেছেন। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপি সরকার কৃষকদের মূল্যায়ন করেছে। আগামীতে কৃষকদের সব রকম সহায়তা দেবে। কৃষি এবং শিল্পনগরী এই খুলনাকে আবার নতুনভাবে সাজাবে। খুলনাতে তারা ইপিজেডের কাজ করবেন। মংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করবেন। যা এ সরকার করতে পারেনি। এ কাজে নতুন বিপ্লব হবে। 
খালেদা জিয়া বলেন, ভবিষ্যতে আল্লাহ তাদের ক্ষমতায় নিলে নতুন আঙ্গিকে সরকার গঠন করবেন। তারা পরিবর্তন ও ঐক্যের রাজনীতি করবেন। সবাইকে নিয়ে। ভালো ভালো লোকদের সরকারে আনা হবে। যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবেন। তার সরকারের কর্মকৌশল কী হবে তা ঠিক করা আছে। 

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গতবার আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু লোক অপপ্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা বহুগুণে দুর্নীতি করেছে। আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও সাহায্য সংস্থাগুলো সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু করতে পারেনি। তারা ব্যাংকিং খাত তছনছ করে ফেলেছে। সোনালী ব্যাংকের এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে ৫টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৩০৯ বছর সময় লাগবে। যে ঋণের বোঝা পরবর্তী প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের এই যে দুর্নীতি তা দেখছে না দুদক। কারণ দলীয় লোকদের দুদকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে যে অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে সেখানে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। 

নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে–শেখ হাসিনা

PMপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচন  অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায়।

শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে অনুরোধ করেন।

জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে জোট পরিত্যাগ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে এলে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। বিএনপি নির্বাচন চাইলে তারা নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বান কি-মুন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এমডিজি অর্জনে যে গুটি কয়েক দেশ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে তার সরকারের নিরলস প্রয়াসের কথা জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩৮ বছরে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ক্ষমতালিপ্সুরা ভোটকেন্দ্র দখল করে, টাকা ছড়িয়ে এবং গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে।

তার নিউইয়র্ক সফরকে খুবই সফল হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন বছরের মতো এবারো তিনি অনেক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, মূল নিবন্ধ উপস্থাপন এবং কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী মানুষ যেন তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টিতে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতির ভবিষ্যতের কথা মনে রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তার সরকার সামরিক শাসন, জরুরি অবস্থা এবং সেনা সমর্থিত সরকারের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অবৈধ সংস্কৃতি বন্ধ করতে সংবিধান সংশোধন করেছে।

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের আহ্বান জানানোর জবাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পালানোরও পথ পাবেন না। শুধু তা-ই নয়, বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াত আর হোফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করেছেন।

শনিবার নিউইয়র্কের হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

মহাজোট সরকার সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে বলেই দেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল, কিন্তু মহাজোট সরকার দেশকে উন্নয়নের প্রথম সারিতে নিয়ে গেছে। সারা বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাগরিক সংবর্ধনায় আরো বক্তৃতা করেন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল।

কেমন আছে কন্যাশিশুরা ?

Vhalo nei konna shishuকেমন আছে কন্যাশিশুরা ? সত্যি কি তারা ভালো আছে ? প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতোই আজকের নারীর এগিয়ে চলার আড়ালে বাড়ছে উদ্বেগ। অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতনের মতো হতাশাজনক চিত্র ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

শিশুবিষয়ক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের কারণে কন্যাশিশুরা নানা ঝুঁকির মধ্যে বেড়ে উঠছে। এ ছাড়া তারা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ও সেবার অপ্রতুলতা, অনিরাপদ পরিবেশসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কন্যাশিশুরা। পাচ্ছে না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা। সহিংসতা, গর্ভধারণ জটিলতা ও বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে প্রতিবছর মারা যায় শত শত কন্যাশিশু। কন্যাশিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ইউনিসেফের এক গবেষণা তথ্য মতে, শতকরা ৩৫ ভাগ কিশোরী অপুষ্টির শিকার। শূন্য থেকে ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুরা ছেলেদের চেয়ে ১৬ শতাংশ ক্যালরি ও ১২ শতাংশ প্রোটিন কম পায়। এ ছাড়া ১০-১২ বছর বয়সী ৫৪ শতাংশ এবং ১৩-১৭ বছর বয়সী ৫৭ শতাংশের উচ্চতা আদর্শ উচ্চতার নিচে।

জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের শতকরা ৬০ ভাগ কিশোরী অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। যার মধ্যে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৪৩ ভাগ কিশোর-কিশোরী রক্তস্বল্পতায় ভুগছে এবং এদের প্রায় ৫ ভাগ কিশোর-কিশোরীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ গ্রামের কম। দেশের কিশোর-কিশোরীর শতকরা ৪৩ জনের আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে এবং এর অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, মেধা ও বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। শতকরা ৬০ ভাগ কিশোরী অপুষ্টি ও অ্যানিমিয়ার শিকার। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাল্যবিয়েতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। শত প্রচার আর আইন করেও বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৬৬ ভাগ কন্যাশিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। এর মধ্যে ৬৪ ভাগ কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ করে। আইসিডিডিআরবির পুষ্টি বিভাগের পরিচালক তাহমিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, অপুষ্টির শিকার কিশোরী মা হলে সে একটি অপুষ্ট শিশুরই জন্ম দেবে। অপুষ্টির শিকার মায়ের নানা জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অপুষ্টির শিকার মায়েরা কম ওজনের শিশু জন্ম দেন। 

প্ল্যান বাংলাদেশের সমীক্ষা মতে, পারিবারিক সহিংসতার কারণে ১৩ থেকে ১৮ বছরের যুব গৃহবধূ ও মেয়েদের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি মারাত্মক শারীরিক আঘাতে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে থাকে। এ ছাড়া এসিড সন্ত্রাস, যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় দেশের কন্যশিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন সূত্র মতে, শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ নারী ও কিশোরী এসিড সন্ত্রাসের শিকার। 
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩৪ ধারায় যৌন নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও আমাদের দেশে এর প্রয়োগ তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে প্রতি ১০ জন কন্যাশিশুর মধ্যে ৭ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।
গত ৩ বছরে দেশে পনের বছরের কম বয়সী কিশোরীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গবেষণায় বিভিন্ন জেলা থেকে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যেসব তথ্য সংস্থাটি পেয়েছে তাতে দেখা গেছে এ সময়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৫৯ শতাংশের ওপর ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। 
শিশুবিষয়ক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সিনিয়র প্রকল্প সমন্বয়ক রোকসানা সুলতানা সমকালকে বলেন, একশ্রেণীর বিকৃত মানসিকতার মানুষ দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কন্যাশিশু ও কিশোরীরা। যৌন নির্যাতন বলতে কেবল ধর্ষণকেই বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে ইশারা, স্পর্শ, কথা, অঙ্গভঙ্গি প্রভৃতি। যৌন নির্যাতনের এ ঘটনার মধ্যে ২/১টি মিডিয়ায় প্রকাশিত হলেও বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যায় অন্তরালে। কন্যাশিশু ও কিশোরী নির্যাতনের পেছনে আমাদের সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রত্যেকের আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়াটাকেই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।  �� কd@��H N�M��ির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হবে। শিশু একাডেমী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ সকাল ৯টায় এক র‌্যালির আয়োজন করেছে। এটি জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে শিশু একাডেমীতে এসে শেষ হবে। র‌্যালির উদ্বোধন করবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। র‌্যালি শেষে মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন বিজ্ঞাপনে শখ

Shokhনতুন বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী শখ। চলতি সপ্তাহে আপন জুয়েলার্সের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তিনি। ২৪শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কোক ফ্যাক্টরিতে তিনি আপন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছেন। এটি নির্দেশনা দিচ্ছেন আনজাম মাসুদ।

নতুন এ বিজ্ঞাপনটি নিয়ে শখ বলেন, আপন জুয়েলার্স বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এর আগে মৌ আপু এ বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। আমি দুই বছরের জন্য এ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছি। আশা করি বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর সবার ভাল লাগবে। এ বিজ্ঞাপনে শখের সঙ্গে আরও কয়েকজন নৃত্যশিল্পীকে দেখা যাবে। বিজ্ঞাপনটির কোরিওগ্রাফি করেছেন তানজিল এবং ক্যামেরায় কাজ করছেন আলীম। আসছে ঈদে এ বিজ্ঞাপনটি প্রচার হবে বলে জানা গেছে। 

আদুরীর মুখচ্ছবি এবং লাশের লাথি

Aduriছবিটি হয়তো আমরা ভুলে গেছি, হয়তো ভুলিনি। রানা প্লাজায় ভবন ধসের দিনের ছবি। মেয়েটির মুখচ্ছবি দেখা যায়নি। শুধু একখানা পা। কঙ্কন পরা যে পা উদ্ধত ছিল বাংলাদেশের দিকে। যেন লাথি মারছিল আমাদের সবাইকে। লাশের লাথি খেয়ে হুঁশ ফেরার আশা করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের হুঁশ যে ফিরেনি তার প্রমাণ হিসেবে হাজির হয়েছে আরেকটি মুখচ্ছবি।

না, আদুরী লাশ হয়নি। সে মরেনি। তাকে পাওয়া গেছে ডাস্টবিনে। ২৩শে সেপ্টেম্বর সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন লিলি নামের এক নারী। এরপর তিনি আদুরীকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আদুরীর মুখচ্ছবি ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। নির্মম নির্যাতনের শিকার মেয়েটির ছবি দেখে আঁতকে উঠি আমরা। কতই বা বয়স মেয়েটির। দশ কিংবা এগারো। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিল আদুরী। যদিও খুব বেশি আদর তার জীবনে জোটেনি। নয় ভাই-বোনের সংসারের সপ্তম সদস্য আদুরী খুব কম বয়সেই চলে আসে ঢাকায়। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছিল তার। ওই সংগ্রামে প্রতিনিয়ত গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। তবে আদুরী নিজেও হয়তো ভাবতে পারেনি নির্যাতন করে গৃহকর্ত্রী নওরীন আখতার নদী তাকে ফেলে  দেবে ডাস্টবিনে। ছোট্ট মেয়েটি কি একটুও অবাক হয়নি মানুষের নির্মমতা দেখে। যে বয়সে তার যাওয়ার কথা ছিল স্কুলে, খেলার মাঠ হওয়ার কথা ছিল ঠিকানা সে বয়সে গৃহকর্মীর জীবন বেছে নিতে হয়েছে তাকে। মানুষের কাছে হয়তো সে বেশি কিছু আশা করেনি। হয়তো সামান্য ভালবাসা চেয়েছিল। বোকা মেয়ে কি সভ্য দুনিয়ার কাছে বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিল। মাসে ৫০০ টাকা বেতন কি বেশি কিছু?

ক্ষত-বিক্ষত আদুরীর ছবি কিছু পুরনো প্রশ্ন নতুন করে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। যান্ত্রিকতার স্পর্শে ক্রমশ মানুষ কি তার মানবিকতা হারিয়ে ফেলছে? কোন দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে মানুষের? ইতিহাস যে যুগের মানুষকে বর্বর হিসেবে চিহ্নিত করে সে যুগেও কি আদুরীরা এরকম নির্মম নির্যাতনের শিকার হতো। এটা ঠিক এখন ক’দিন আদুরীকে নিয়ে কিছু লেখালেখি হবে। বড় বড় মানুষেরা কিছু বাণী আউড়াবেন। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা লোকেরা টিভি ক্যামেরার আলোতে চোখের পানি ফেলবেন। এবং এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কিছুদিন পর সবাই আদুরীকে ভুলে যাবেন। আদুরী ফিরে যাবে তার সাধারণ জীবনে। হয়তো নতুন কোন বাসায় কাজে। হয়তো নতুন কোন নির্যাতনে। যতদিন আমাদের মৃত বিবেক না জাগবে ততদিন আদুরীদের ছবি পত্রিকায় ছাপা হবে। কঙ্কন পরা মেয়েটি তার উদ্ধত পা আমাদের দিকে তাক করবে। আমাদের মৃত বিবেকের জন্য লাশের লাথিই প্রাপ্য।

'কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়'

Daughterআজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। অন্যান্য বছরের মতো এবারো দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়’।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, আমাদের কন্যাশিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত্। তারা আমাদের কন্যা-জায়া-জননী। তাই তাদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা করা অত্যাবশ্যক। কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন, নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণসহ তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী রূপে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, কন্যাশিশুরা যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপত্তা পায়, তবে তারা উপার্জনক্ষম এবং স্বাবলম্বী নারী হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে। আসুন দিবস পালনকে কেন্দ্র করে আমাদের কন্যাশিশুর অধিকারকে সমুন্নত এবং তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন হই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, শিশু অধিকার রক্ষায় প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় শিশু নীতি। কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তাদের সুরক্ষার জন্য দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কিশোরী ক্লাব। শিশুবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের পূর্বে জন্ম নিবন্ধন সনদ কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে গত সাড়ে চার বছরে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগামী দিনের বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমসুযোগ প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য আমি সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাকে আহ্বান জানাই।

রোববার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এ বছর আমরা কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। দেশে কন্যাশিশুদের নিয়ে কাজ করে প্রায় ১৬২টি সংগঠন। তারা দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। দিবসটি পালনে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের কুফল, কন্যাশিশুর সুরক্ষা, কন্যাশিশুর পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

 

অসময়ের সঙ্গী বই

কিছুই ভালো লাগছে না ? সিনেমা বা গান কোনটাই মনের খোরাক দিতে পাচ্ছেনা ? সমস্যা নেই, বই পড়ুন। এই সময়টাতে আপনার একমাত্র সঙ্গী হতে পারে বই। চলুন জেনে নেই দুটি বই সম্পর্কে।

রয়্যাল মোগল লেডিস

মধ্যযুগে ভারতীয় উচ্চ শ্রেণী সমাজে নারীদের মর্যাদা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। এরা অনেক সময় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন। যেমন বলা যায় সুলতানি আমলের রাজিয়া সুলতানার কথা। এরপর মোগলদের সময় নারীরা তেমনভাবে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় না এলেও তা থেকে যে খুব দূরে ছিলেন_এ কথা বলা যাবে না। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় নূরজাহান কিংবা সম্রাট শাহজাহানের সময় মমতাজ হয়ে উঠেছিলেন মোগল ক্ষমতার অংশীদার। এরপর সরাসরি না হলেও অনেক সময়ই পর্দার আড়াল থেকেও মোগল নারীরা তৎকালীন সমাজে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। তাঁরা নানাভাবে শিক্ষা-দীক্ষা, উৎসব, সাহিত্য, শিল্পকলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবারদাবারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরেছিলেন। মহাফেজখানার নানা তথ্যউপাত্ত এবং সমসাময়িক বিভিন্ন স্মৃতিকথা ঘেঁটে এসব বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত করছেন সোমা মুখোপাধ্যায়। ‘রয়্যাল মোগল লেডিস অ্যান্ড দেয়ার কনট্রিবিউশন’-এ সম্রাট বাবর থেকে আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত মোগল নারীদের কথা তুলে আনা হয়েছে।

রয়েল মোগল লেডিস

সোমা মুখোপাধ্যায়

গিয়ান পাবলিকেশন হাউস

মূল্য : ৫০০ টাকা

পথের কবি

যিনি পথের পাঁচালিকার, তিনিই পথের কবি। অর্থাৎ বিভূতিভূষণ। প্রকৃতি তাঁর রচনায় শুধু শোভাময়ী নয়, বাঙ্ময়ী। যাঁর রচনায় সহজ-সরল মরমি কাব্যময়তা, তাঁর জীবন কিন্তু দুর্বোধ্য আর জটিল। বিভূতিভূষণের চলার পথের দুই ধারে যে অজস্র ঘটনার ফুল আর কাঁটা ছিল ছড়ানো, দুর্লভ নিষ্ঠায় আর দুস্তর পরিশ্রমে সে সব সযত্নে কুড়িয়ে নিয়েছেন জীবনীকার কিশলয় ঠাকুর। আর উন্মোচন করেছেন বিভূতিভূষণের বহির্জীবন ও অন্তর্জীবনের এক অসামান্য আলেখ্য। বিভূতিভূষণ সম্পর্কে বহু অন্তরঙ্গ স্মৃতিসাক্ষ্য ও দুষ্প্রাপ্য সাক্ষাৎকার এবং তাঁর ঘটনাঘন জীবনের বহু দুর্লভ আলোকচিত্র এ বইয়ের অতিরিক্ত আকর্ষণ। প্রচলিতঅর্থে আত্মকথা লিখে যাননি পথের কবি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিল কিছু নোটবুক আর দিনলিপির টুকরো পাতা। ছিন্নবিচ্ছিন্ন সেসব সূত্র ধরে বিভূতিভূষণের জনজীবন ও মনোজীবনের চিত্র এঁকেছেন কিশলয় ঠাকুর

পথের কবি

কিশলয় ঠাকুর

আনন্দ

মূল্য : ৩৮০ টাকা

ধীরে ধীরে কিডনি বিকল

Kidniকিডনির প্রাথমিক রোগে বা অন্য কোনো কারণে কিডনি আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে যদি দুটো কিডনিরই কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে তখন তাকে ক্রনিক বা ধীরগতিতে কিডনি ফেইলুর বলা হয়। একটি কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে এবং অপরটির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। দুটো কিডনিরই শতকরা ৫০ ভাগ বিনষ্ট হলেও শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে একজন সুস্থ মানুষ (কিডনি ডোনার) তার নিকট আত্মীয় বা অন্য আর একজন কিডনি বিকল রোগীকে (কিডনি গ্রহণকারী) একটি কিডনি দান করেও সুস্থ থাকেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।

কেবল দুটো কিডনির ৫০ ভাগের উপর নষ্ট হলেই কিডনি বিকল হওয়ার প্রবণতা শুরু হয় এবং ৭৫ ভাগ নষ্ট হলেই শরীরের লক্ষণগুলো ধরা যেতে পারে আর ৯৫ ভাগের উপর নষ্ট হলে কৃত্রিম উপায়ে (ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন) ছাড়া রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, যাকে বলে এন্ড স্টেজ রেলাল ফেইল্যুর।

কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ:

১. গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বা কিডনির ছাকনি প্রদাহ রোগ ৫০-৫৫%।
২. ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ১৫-২০%।
৩. উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ ১০-১৫%।
৪. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর ও অন্য কোনো কারণে বাধাজনিত রোগ ৭-১৯%।
৫. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণুজনিত রোগ ৫-৭%।
৬. বংশানুক্রমিক কিডনি রোগ ৩-৫%।
৭. ওষুধজনিত কিডনি রোগ ৩-৫%।
৮. অন্যান্য ও অজানা।

উপসর্গ 

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুটো কিডনির শতকরা পঁচাত্তর ভাগ কার্যকারিতা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কিডনি বিকলের উপসর্গ দেখা যায় না। রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য ধরনের কিডনি রোগ থাকার দরুন গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। শতকরা ৭৫ ভাগের উপর কিডনি অকেজো হয়ে গেলে রোগীর ক্ষুধা মন্দা, আহারে অনীহা, বমি বমি ভাগ, বমি হওয়া, শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়।

এছাড়াও প্রস্রাবের পরিমাণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, রাতে প্রস্রাব করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কোনো রকম চর্মরোগের উপসর্গ ছাড়াই শরীর চুলকায়, যখন তখন হেচকি ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। রোগী শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র গতিতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, ঝিমানো ভাব, এমনকি এক পর্যায়ে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারে।

রোগীকে পরীক্ষা করে রক্তের স্বল্পতা বোঝা যায়। অধিকাংশ রোগীর উচ্চরক্তচাপ ধরা পড়ে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর কারণ সাপেক্ষে শরীরে পানি দেখা যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু রোগীর হৃিপণ্ডের আবরণে পানি এবং হার্ট ফেইলুরের চিহ্ন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের এমন কি হাত-পায়ের মাংসপেশী শুকিয়ে যায় যার দরুন রোগী সাধারণত চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

রোগ নির্ণয়

ক্রনিক রেনাল ফেইলুর রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রাথমিকভাবে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটেনিন এবং ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করা হয়। কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটেনিন বেড়ে যায়। পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়তে থাকে ও বাইকার্বোনেট কমে যায়। এছাড়াও ফসফেট শরীরে জমতে শুরু করে, যার ফলে ক্যালসিয়াম কমে যেতে বাধ্য হয় এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শুরু হতে থাকে।
এরপরে কি কারণে ধীরগতিতে কিডনি বিকল হয়েছে তা বের করার জন্য প্রস্রাব পরীক্ষা করে এ্যালবুমিন আছে কিনা তা দেখা হয় এবং লোহিত ও শ্বেত কণিকা আছে কিনা তাও দেখে নেয়া হয়। প্রয়োজনের ২৪ ঘ

বেবী নাজনীনের হাফ সেঞ্চুরী

Babynajninঅচিরেই একক অ্যালবামের হাফ সেঞ্চুরী করতে যাচ্ছেন ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত কন্ঠ শিল্পী বেবী নাজনীন। বাজারে আসছে তার ৫০তম একক। এরই ভেতরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ‘গান ছেড়ে দিচ্ছেন কি না’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘অধিকাংশ রাজনীতিকরই রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত একটি পরিচয় থাকে। আমিও আমার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগতভাবে গানকে চালিয়ে যাবো। এবং আমি কোনোভাবেই শ্রোতাদের ঠকাতে চাই না। সেই লক্ষ্যেই এবারের ৫০তম এককে শ্রোতাদের নতুন ধারার কিছু গান দেওয়ার ইচ্ছে আমার। আর সেইভাবেই এগোচ্ছে ব্ল্যাক ডায়মন্ডের ৫০তম একক। খুব শিগগিরই মিউজিক ভিডিওসহ এই একক অ্যালবাম রিলিজ হবে ।

ভালোমন্দ শিক্ষা দেয়া বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব–কাজল

Kajalভারতের বিনোদনকেন্দ্রীক শহর মুম্বাইতে বাস হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজলের। গ্ল্যামারের চাকচিক্যে মোড়ানো তার জীবন। তবে অভিনেত্রীর বাইরে অন্য একটি বড় পরিচয় আছে এ বলিউড আইকনের। দুই সন্তানের মা তিনি। মেয়ে নিশার বয়স ১০ এবং ছেলে যুগের বয়স তিন। স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে লাইমলাইট থেকে সন্তানদের সবসময় দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আইএএনএসকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন কাজল।  

সন্তানদের বেড়ে ওঠা

দিন শেষে, আমি চাই ওরা স্বাভাবিক সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠুক। এজন্য যতটুকু সম্ভব লাইমলাইট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি। যতটুকু সম্ভব তাদের যত্ন নেয়ার চেষ্টা করি। আমি আমার সন্তানদের ব্যাপারে খুবই কঠোর। আমার বিশ্বাস, ভালো মানুষদের দেখে তারা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ‍ওঠবে। ভালোমন্দ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া বাবা-মা হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব।

নিজের ছবি দেখে না সন্তানরা ?

মেয়ে নাশা কখনই আমার ছবি দেখে না। কারণ সে মনে করে আমি ছবিতে অনেক বেশি কাঁদি। সে আমাকে বলে, “তার বাবার মতো আমারও ‘গোলমাল’র মতো ছবিতে অভিনয় করা উচিত। আমি বলি, ঠিক আছে ভেবে দেখব। আমার ছেলে আমার ছবি দেখা মতো এখনো যথেষ্ট বড় হয়নি।

অনেক ভোরে উঠতে হয়। সন্তানরা জাগার আগেই, নিজের কাজ শেষ করতে হয়। তারপর তাদের স্কুলে পাঠিয়ে নিজের কাজে যাই।

মা হওয়ার পর অভিনয়

গর্ভবতী থাকাকালেও দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন কাজল। ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘মাই নেম ইজ খান’ ও একই বছরের দুই আগস্ট ‘উই আর ফ্যামিলি’ ছবিগুলো মুক্তি পায়। একই বছর ১৩ সেপ্টেম্বর তার দ্বিতীয় সন্তান যুগের জন্ম হয়।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি কঠিন ছিল। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়… যদি চান, আপনিও এটা পারবেন।”

অজয়ের সঙ্গে সম্পর্ক

অজয় এবং আমি একসঙ্গে ভালোই আছি। বিয়ের পর অজয় এখন নিজেকে স্থির মনে করে। একটি সম্পর্ক ঠিক রাখার ব্যাপারে তোমার চেষ্টা থাকা উচিত। সবধরনের সম্পর্কেই এটা প্রয়োজন। আমরাও তাই করি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বর্তমানে ‘ওলে’সহ একাধিক ব্রান্ডের অ্যাম্বাসেডর ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ খ্যাত এই তারকা। সন্তান লালন ও সংসারের জন্য অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। সময় কম দিতে হয় বলে বর্তমানে টিভি শোতেই নিজের পরিধি সীমিত করে রেখেছেন। তবে চলচ্চিত্রে কাজ করলে, স্বামীর প্রোডাকশন হাউস দিয়েই শুরু করবেন এমন ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন। ভবিষ্যতে কাজলের ক্যারিয়ার কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন দেখার পালা।

 সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া।

হাতছানি দিয়ে ডাকছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন

Saint-martinসৈকতে একসঙ্গে সাগর, নদী, পাহাড় আর সমুদ্রের দ্বীপ দেখতে চান? বাংলাদেশের একটি জায়গায় তা সম্ভব। চলে আসুন কক্সবাজারে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ্য ১২০ কি:মি:। সৃষ্টিকর্তা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছে বালুর আঁচলে । কক্সবাজর শহরে ঢুকতেই কানে বাজবে উত্তাল সাগরের গর্জন। পশ্চিম দিকে উঁকি দিলে নজরে পড়বে বিশাল সাগর। নরম বালুচরে নেমে দেখবনে লাল রঙের রাজকাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ, গভীর সাগরে মাছ ধরে জেলেদের ফিরে আসা।

সাগরের বিশাল মায়াবী গোধূলী ও সুর্যাস্ত, রাতের নিস্তব্ধতায় এক অন্য জগতে হারিয়ে যাবেন। সূর্য্যস্নান কিংবা সমুদ্রস্নানে নিজেকে বিলীন করে দিন নীলাভ প্রকৃতিতে। খোলা জীপে, স্পীড বোটে বা ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানো আর সমুদ্রের বালির বিছানায় দাঁড়িয়ে শামুক-ঝিনুকের সাখে লোকোচুরি খেলতে খেলতে উপভোগ করুন অনাবিল আনন্দ।

কক্সবাজার নাজিরার টেক থেকে শুরু করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত উক্ত বীচ। কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে উক্ত বীচ অবস্থিত। বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার তাইতো নব বধুরুপে সেজে আপনার পথ পানে চেয়ে আছে ।

এখানে উপভোগ করুণ আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল মোটেলের আতিথেয়তা ও সেবা। উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের ওপর ছেলেমেয়েদের জলক্রীড়া (সার্ফিং) দেখে মন সতেজ করতে হলে যেতে হবে কলাতলী পয়েন্টে।

সৈকতের পাদদেশেই বিশাল ঝাউবাগান। উচুঁ পাহাড়ের ওপর ৩০০ বছর আগে স্থাপিত জাদিরাম মন্দির, ক্যাং, বার্মিজ মার্কেট মনোমুগ্ধকর রাডার ষ্টেশন, লাইট হাউজ এবং নাজিরাটেক শুটকিপল্লী ও ঝিনুক মার্কেট ঘুরে আসতে পারেন।

 স্বপ্নের প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন:

বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবালদ্বীপ হচ্ছে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত। প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি এ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। টেকনাফ উপজেলার এ প্রবালদ্বীপটি অবস্থান বঙ্গোপসাগরের মধ্যে। টেকনাফ থেকে প্রায় ৮ মাইল দক্ষিণে বঙ্গেপসাগরের মাঝখানে প্রবাল দ্বীপটি অবস্থিত। জিঞ্জিরা, দক্ষিণ পাড়া, গলাছিরা ও চেরাদিয়া এই চারটি দ্বীপ নিয়ে ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ’ গঠিত। এর প্রাচীর নাম নারিকেল জিনঞ্জিরা, পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে এ দ্বীপকে সেন্ট মার্টিন নাম করণ করা হয়। ভূ-তাত্বিকদের মতে দ্বীপটির বয়স ২০ লক্ষ বছর। এদ্বীপের মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক কাঁকড়া, কাছিম. প্রবাল, মুক্তা আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়াম।

অনেকের মতে এখানে জীবন্ত পাথরও রয়েছে। অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ ও প্রমোদতরী দিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে উত্তাল-পাতাল ঢেউয়ের দোল আর সাগরের নয়াবিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আপনি পৌছে যাবেন সেন্ট মার্টিনে। নাফ নদীর পাশ দিয়ে একদিকে মায়ানমার আর অন্যদিকে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আর এর মাঝখানে পানির উপর ভেসে চলেছেন আপনি। নদীতে ছোট-বড় মাছ ধরার ট্রলার। বঙ্গেপসাগর এবং নাফ নদীর মোহনায় ডুবো চরে গাংচিলের ঝাঁক ও পানির উপর দিয়ে ফ্লাইং ফিশের ফ্লাই করা দেখে আপনি অবাক চোখে শুধু তাকিয়েই থাকবেন! দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে রাত কাটানোর বিরল অভিজ্ঞতার অধিকারী হতে পারেন। নিঝুম নিস্তব্ধ রাতে সেন্ট মার্টিনের পাথুরে সৈকতে দাঁড়িয়ে চাঁদনী রাতে হাজার তারার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলবেন ইস! কি সুন্দর আমার এ প্রিয় দেশ। আরো দেখতে পারেন প্রবালদ্বীপের পাথরের গর্তে প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়ামে নানা রঙের মাছের ছুটোছুটি। আপনার চিরকাঙ্খিত প্রবাল দ্বীপ এবং ছেঁড়াদিয়ার নির্জনতা আপনাকে বিমোহিত করবেই।

মানচিত্রের শেষ বিন্দু ছেঁড়াদ্বীপ

সামুদ্রিক প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে দেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দতে এর অবস্থান। সেন্ট মার্টিন থেকে পূর্ব দিকে ট্রলার বা স্পিডবোট করে যেতে হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ কিন্দু ছেঁড়াদ্বীপে। সময় লাগে আড়াই ঘন্টা। এখানে কোনো লোকবসতি নেই। পুরোপুরি সংরক্ষিত এলাকা। এই দ্বীপের চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রবাল-শৈবাল, শামুক-ঝিনুক। এসব মনভরে উপভোগ করা যায়, কিন্তু আহরণ বা সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্বচ্ছ নীল জলের এই দ্বীপে দেখা মেলে নানা বৈচৈত্রের মাছের। স্পিডবোট দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে মুহুর্তেই ঘুরে আসা যায় প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এ দ্বীপকে। 

উজ্জ্বল লাবন্যময় ত্বকের যত্নে

For-Fair-Skinসুন্দর হতে চায় না এমন মানুষ এই গ্রহে আছে বলে মনে হয় না। সুন্দর  কথাটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একটি লাবন্যময় হাসিমাখা মুখের প্রতিচ্ছবি।

কারো গায়ের রঙ যখন স্বাভাবিক, সুশ্রী এবং ফর্সা, বাইরে থেকে তার দেহের শিরাগুলো দ্দেখা যায়, তখন আমরা বলি তার ত্বক সুন্দর। ত্বক সুন্দর বা ফর্সা হবার অনেক কারন আছে। যদিও এর বেশিরভাগই বংশগত বা আমরা বলতে পারি জেনেটিক্যাল। তবে আপনি আপনার ত্বককে করে তুলতে পারেন আরো ফর্সা, আরো উজ্জ্বল কিছু কিছু হোম রেমেডি ব্যবহার করে। এতে আপনার প্রয়োজন হবে না কোন বিউটি পার্লারে যাওয়ার। শুধু একটু যত্ন, ব্যাস!

 আসুন জেনে নেই কিছু বিউটি টিপস

ত্বকের সৌন্দর্য্য চর্চা দুইভাবে করা যায়। একটি প্রাকৃতিক ও অন্যটি কসমেটিকস।

প্রাকৃতিক উপায়ঃ

এটাই আসলে প্রকৃত উপায়। আমরা রুপচর্চায় সাধারনত প্রাকৃতিক কিছু উপাদান যেমন শাক-সবজী, ফল এবং এগুলোর পাল্প বা মন্ড ব্যবহার করি। এটা একদিকে যেমন নিরাপদ তেমনি সাশ্রয়ীও বটে – বলা হয়ে থাকে জিরো কস্ট।

কসমেটিকসঃ

এতে ব্যবহৃত হয় কেমিক্যাল আর কৃত্রিম উপাদান। এর মধ্যে আছে ‘মাড প্যাক এবং অন্যান্য ফেয়ারনেস ক্রীম অথবা বিভিন্ন কেমিক্যাল এজেন্টের মিক্সার।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা ত্বকের সৌন্দর্য্য চর্চায় কসমেটিকসের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কসমেটিকস ব্যবহারে আপনি ফল পেতেও পারেন আবার নাও পেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বনে সবচেয়ে ভাল ফল পাবেন – এটা নিশ্চিত। 

চলুন দেথি প্রাকৃতিক কি কি ব্যবহার করে ত্বক উজ্জল ও লাবন্যময় করা যায়।

মধুঃ

ত্বকের যত্নে এবং উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে বহুল প্রচলিত এবং উত্তম পদ্ধতি হল মধুর ব্যবহার।

ব্যবহার: একচামচ মধু নিন। মুখের ত্বকে লাগান। আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে মেসেজ করুন। এইভাবে দিনে দুইবার সকালে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন। দুই সপ্তাহ পরে আপনি দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল আর সোনালী রঙ ধারন করছে। তবে মনে রাখবেন এখানে শুধুই মধুর কথা বলা হয়েছে, মধুর সাথে দুধ মিশানোর কথা বলা হয় নি।

পেঁপেঃ

আপনারা হয়তো আগেই জেনে থাকবেন পেঁপের কথা। হ্যাঁ, পেঁপে খাওয়ার উপকারীতা আমরা সবাই জানি। তবে এটা আপনার ত্বকের জন্যও আশির্বাদস্বরুপ। এটাকে টপিক্যাল মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়।  টপিক্যাল মেডিসিন হচ্ছে যা কিছু বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নে পেঁপে যেহেতু বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়, সুতরাং পেঁপে একধরনের টপিক্যাল মেডিসিন।

ব্যবহার: একটা পেঁপে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন। শাঁসটা পিষে ঘন পেস্টের মত করুন। মুখে লাগান। ইচ্ছে করলে আপনি এই পেস্ট আপনার বাহু কিংবা যেসব স্থান রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে, সেসব স্থানেও লাগাতে পারেন। ১ ঘন্টা এভাবে রাখুন। আপনি যদি ব্যস্ত মানুষ হয়ে থাকেন বা আপনার হাতে সময় কম, সেক্ষেত্রে পেস্ট লাগিয়ে রেখে অন্যান্য কাজ করতে থাকুন কিংবা সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকুন। ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কমপক্ষে ৩ মাস ব্যবহার করুন। পার্থক্যটা দেখুন।

শশাঃ

শশা ভোজ্য সবজী হিসাবে খাওয়া হয়, যেমন কাঁচা অবস্থায় তেমনি রান্না করে। শশার রয়েছে ত্বক ফর্সা করার গুন। কম দামী সবজী হওয়ায় এটির ব্যবহার যে কারো জন্যই উত্তম পরামর্শ। শশাতে আছে এমন সব উপাদান যা মেলানিনের উপস্থিতি কমায়, ত্বকের পুড়ে যাওয়া বা তামাটে হওয়া রোধ করে। আর এসব কারনেই বিশেষজ্ঞরা শশা ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং কিছু অংশ খেতেও বলেন। এটা পেস্টের মত করে লাগাতে পারেন অথবা এর রস লাগাতে পারেন।

শশা শুধু ত্বকের সুন্দর করে তা-ই নয়, শশা বাটা বা শশার রস লাগানো স্থানের তাপ কমিয়ে স্থানটি ঠান্ডা রাখে বিশেষ করে চোখের নীচ। নিয়মিত শশা ব্যবহারে কালো দাগ দূর হয়। যখন শশা পেস্ট ত্বকে লাগাবেন, চাক চাক করে কাটা শশার টুকরা চোখের উপর লাগাতে ভুলবেন না যেন। এতে আপনার চোখের নীচে কালো দাগ দূর হবে।

লেবুঃ

লেবুর রসও ত্বকের জন্য আশ্চর্য্য ফল দেয়। এটা আপনি যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন, তবে দ্রুত ও ভাল ফলের জন্য দিনে বেশ কয়েকবার লাগাতে পারেন। লেবুর রস মাখালে প্রথম কিছুক্ষন হালকা সূচ ফোঁটার মত অনুভূতি হতে পারে – তবে এটা স্বাভাবিক। কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র দই ছাড়া অন্য কোনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। একবারে ১টা লেবুই যথেষ্ট। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত লাগান। আয়নায় পার্থক্যটা দেখুন।

টমেটোর রসঃ

আপনারা নিশ্চয়ই ‘লা টোমাটিনা ফেস্টিভাল’ এর কথা শুনে থাকবেন। এটা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০ কি.মি দুরের একটি গ্রামের একমাত্র অনুষ্ঠান যা অন্য কোথাও নেই। এই অনুষ্ঠানে লোকেরা একে অপরের প্রতি পাকা টমেটো ছুঁড়ে মারে। ইতিহাস বলে দূষ্কৃতির প্রতিবাদ হিসাবে তারা সজোরে টমেটো ছুঁড়ে মারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে যাদের মুখে টমেটো এসে সজোরে লাগছে, তারা বেশ সতেজ অনুভূতি লাভ করেন, যদিও কেউ কেউ সামান্য ব্যাথা পান। ওখানকার লোকেরা ত্বক সজীব রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন।

তরমুজঃ

গ্রীষ্মকালে দৈনিক কমপক্ষে তিনবার তরমুজের টুকরা নিয়ে মুখে ঘষুন। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর হবে। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করবেন। কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ততক্ষনাৎ ব্যবহার বন্ধ করে দিন।

তুলসিঃ

তুলসিকে বলা হয় ঈশ্বরের দান। এটা খেলে অনেক রোগের উপসম হয়। তবে ত্বকের জন্যও এটা এক বিস্ময়। যারা তুলসির রস ত্বকে ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন, সাথে সাথে স্বাভাবিক ত্বকও হয় আরো সুন্দর আর লাবন্যময়। কাজেই রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া প্রতিকারে অব্যর্থ ঔষধ তুলসির রস, সাথে উপহার সুন্দর ফর্সা ত্বক।

ব্যবহার: তুলসির কিছু পাতা নিন। শীল-পাটা দিয়ে বেটে কিংবা পিষে পেস্ট করুন। আস্তে আস্তে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে হালকা কুসুম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ লাগান।

হলুদঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্যে হলুদের ব্যবহার ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকমাত্রায় প্রচলিত। হিন্দু মেয়েরা তাদের পায়ে রঙ মাখাতে হলুদ ব্যবহার করে এবং এটা তাদের কাছে পবিত্র আচার। তবে এখন আর এটা ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় প্রমানিত যে হলুদের ত্বকের রঙ ফর্সা করার গুন আছে। যেহেতু হলুদ দামী বস্তু নয়, তাই আপনি ইচ্ছে করলে আজই এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন।

ব্যবহার: পনিমানমত হলুদ নিয়ে ভালো করে পেষ্ট করে নিন। তারপর মুখে, হাতে, পায়ে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লাগান।আপনি চাইোলে আস্ত হলুদও ঘষে ঘষে লাগাতে পারেন। কিছুদিন পরই পার্থক্যটা বুঝবেন। ফর্সা ত্বক! কোন ব্যাপারই না।

দইঃ

দই ছাড়া ডিনার? অসম্ভব! কারন দই ছাড়া আহারের স্বাদটাই যে অপূর্ণ থেকে যাবে! অন্ততঃ দক্ষিন ভারতীয়দের কাছে দই এমনই। সেই দই কি-না আপনার ত্বকও ফর্সা করে! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সত্যি।

ব্যবহার: প্রতিদিন সকালে ১ টেবিল চামচ দই নিন। মুখে মাখুন। ৪ সপ্তাহের বেশি লাগবে না আপনার মুখে ত্বক ফর্সা হতে। সেই সাথে ব্রণ থাকলে তাও দূর হবে।

দইয়ে যাদের এলার্জি আছে, তারা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। যেমনঃ

এই উৎসবের কিছুদিনের মধ্যে দেখা যায় যারা নিজেকে সতেজ রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন, তাদের ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর। এরপর থেকে পৃথিবীর অনেক স্থানেই টমেটোকে রুপ চর্চার উপকরণ হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।

ব্যবহার: ১টা টমেটো নিয়ে চেপে রস বের করে মুখে লাগান সাথে শাঁসটাও। প্রতিদিন এভাবে ব্যবহার করুন অন্ততঃ ৬ মাস পর্যন্ত।

 গোলাপ জলঃ

খুব অল্প সময়ে সুন্দর ত্বক পেতে গোলাপ জল অনন্য। গোলাপ ফুল কিনে পাঁপড়িগুলো আলাদা করে একদিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে যতবার মুখ ধোবেন, ততবারই গোলাপ জল ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন গোলাপ জলে মুখ ধোয়ার সময় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করবেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে গোলাপ জল নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং শুধু সুন্দর ফর্সা হয়েছে তা-ই নয়, একটু গোলাপি বর্নও ধারন করেছে।

আলুঃ

আলু বা গোল আলু অন্যান্য উপকরণের মত ত্বক ফর্সা বা সুন্দর করার জন্য যতটা না ব্যবহার হয় তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মুখের ত্বকের কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে। রোদে মুখের ত্বক পুড়ে গেলে কালো দাগ পড়ে। আর সেই কালো দাগ দূর করায় পৃথিবীর অন্য যেকোন বস্তুর তুলনায় আলুই একমাত্র কার্যকরী উপাদান।

কচি ডাবের পানিঃ

বাইরে থেকে ঘরে এসে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে রোদের ক্রিয়া বা রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। আপনাকে দেবে প্রশান্তি আর সতেজ অনুভূতি। চাইলে আপনি কচি ডাবের শাঁসও মুখে মাখতে পারেন। এতে ত্বকের রঙ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের ব্রণও দূর হবে।

ডিমের কুসুমঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় হোম রেমেডিগুলোর মধ্যে ডিমের কুসুম অন্যতম।

ব্যবহার: ১টি বাটিতে কুসুম নিয়ে ফেটিয়ে পেস্টের মত তৈরী করুন। ১ চামচ মধু আর ১ চামচ দই নিয়ে ভালভাবে কুসুমের সাথে মেশান। ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে সারা মুখে লাগান। শুকাতে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২ থেকে ৩ মাস এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করুন আর রেজাল্ট লক্ষ্য করুন।

দুধের সাথে জাফরানঃ

ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় সামান্য কিছু অর্থ খরচ করতে আপনার যদি বিশেষ অসুবিধা না থাকে, তাহলে দুধ আর জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। যদিও জাফরান বর্তমানে বেশ দামী উপাদান। ২৫০মি.লি এর মত দুধ নিন। তাতে কিছু জাফরান ফেলে ভালভাবে মেশান। কোন ধরনের মেসেজ করা ছাড়াই মুখের সারা ত্বকে সমানভাবে লাগান। এভাবে কিছুক্ষন থাকুন। জাফরান মিশ্রিত দুধ মুখে লাগানোর পাশাপাশি খেতেও পারেন। এতে আরো ভাল ফল পাবেন। বেশ কয়েকটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, দুধ আর জাফরান একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে ত্বক ফর্সা হওয়ার পাশাপাশি গোলাপী আভা ধারন করে। যারা চান তাদের ত্বক যেন ঠিক শিশুদের ত্বকের মত গোলাপী হয়, তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ হল দুধ আর জাফরান একসঙ্গে ব্যবহারের।

 চন্দন পেস্টঃ

শেষ ভরসা চন্দন। ১ চিমটি চন্দন কাঠের পেস্টই আপনার এতদিনের ফর্সা হওয়ার স্বপ্ন স্বার্থক করতে পারে। চন্দন পেস্ট ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে একটানা ৩০ দিন ব্যবহার করুন। আর আশ্চর্য্য ফল লাভ করুন।

কিছু সংশয়

উপরোল্লিখিত বিউটি টিপসগুলো নিঃসন্দেহে সাশ্রয়ী এবং কার্যকরি। এগুলো যেকোন সময় আপনার কাজে দেবে। এগুলো ব্যবহারে আপনার কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবারও দরকার নেই। আর হ্যাঁ, এতসব টিপস পেয়ে আপনার মনে হয়তো সংশয় দেখা দিতে পারে যে কোনটা রেখে কোনটা ব্যবহার করবো কিংবা কেউ ভাবতে পারেন একসঙ্গে সবগুলো কিভাবে ব্যবহার করব। এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। সবগুলো একসঙ্গে নয়। যেমন ধরুন দুধ আর লেবু একসঙ্গে কাজ করে না। যেহেতু দু’টোই বিউটি টিপস হিসাবে দেয়া আছে, আর আপনি দু’টোই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে বরং আপনার ত্বকে উলটো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কাজেই যেকোন একটি বেছে নিন এবং সেটাই রেগুলার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কোন কারনে আপনি যদি একটাতে সন্তুষ্ট না হন, সেক্ষেত্রে একটা ব্যবহারের পর অন্যটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে কখনোই সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না।

জেনে নেই কয়েকটা ছোট্ট টিপস

Tips১.কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে ঠোটে ঘষুন ,কালো দাগ তো উঠবেই সাথে ঠোটে গোলাপী ভাব আসবে ।

২.কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে লেবুর খোসায় চিনি দিয়ে ভালো করে ঘষুন ।চলে যাবে ।

৩.ব্রনের উপর রসুনের কোঁয়া ঘষে নিন,তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে ।গ্যারান্টি।

৪.পেডিকিউর মেনিকিউর আপনার কাছে ঝামেলা লাগে ? আমরা আছি তো, আজ থেকে যখনই আপেল খাবেন তখনই আপেলের খোসাটা হাত পায়ে ঘষে নিন । পরিস্কারও হবে ফর্সাও হবে।

৫.পায়ের গোড়ালী ফাটলে ,পেয়াজ বেটে প্রলেপ দিন ।ক্রীম কিংবা স্ক্রাব এর ঝামেলায় যেতে হবেনা ।

৬.প্রতিদিন টুথপেষ্ট দিয়ে দাত মাজেন কুলি করেন তবুও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়? ব্যাপার না ,নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে টানা দুইমাস নিয়মিত দুই কোঁয়া করে কমলালেবু খান ।

মাংসের ৪ রেসিপি

MEAT KALIAপারিবারিক ছোট আয়োজনেও রসনা তৃপ্তিতে চাই মাংসের স্বাদ। সহজ রান্নায় খাবার টেবিলকে আভিজাত্য দিতে আপনিও বাড়িতে কাজে লাগাতে পারেন মাংসের এই চার রেসিপি

 মাংসের কালিয়া 

উপকরণ

১ কেজি মাংস (গরু/খাসি), হলুদ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, জিরা বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁপে বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, গরম মসলা ১ চা-চামচ, তেজপাতা ২টি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, বেরেস্তা আধা কাপ, লবণ ও সরিষার তেল পরিমাণমতো।

প্রণালী

মাংস কেটে ধুয়ে পানি ঝরান। সব মসলা দিয়ে মাংস মাখিয়ে এক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এবার হাঁড়িতে তেল গরম হলে পেঁয়াজ ভাজুন। তেজপাতা দিন। মাখানো মাংস দিয়ে ভাজুন/কষান। সেদ্ধ হলে পেঁয়াজ বেরেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

(৬ থেকে ৮ জনের জন্য)

 কিমা ভুনা

 উপকরণ

মাংস কিমা ১ কেজি, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, আদা বাটা কোয়ার্টার কাপ, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা কোয়ার্টার কাপ, হলুদ গুঁড়ো ২ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো ৩ চা-চামচ, তেল, লবণ পরিমাণমতো, এলাচ, দারুচিনি বাটা আধা চা-চামচ, জিরা ১ চা-চামচ।

প্রণালী

কিমায় সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে রাখুন ঘণ্টাখানেক। চুলায় কড়াইয়ে তেল দিয়ে মাখানো কিমা ভুনতে থাকুন। তেল উঠলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

(৬ থেকে ১০ জনের জন্য)

 রাঙা বিফ

 উপকরণ

মাংস টুকরো করা দেড় কাপ, গাজর কুচি ১টি, পেঁপে কুচি ১টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, টকদই ১ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, লবণ পরিমাণমতো, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ।

 প্রণালী

মাংস, লবণ ও টকদই দিয়ে মেখে ১৫ মিনিট রাখুন। পেঁপে, গাজর ভাপ দিন। চুলায় কড়াই গরম করে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে মাংস দিন। কাঁচা মরিচ ছিটিয়ে পেঁপে গাজর দিয়ে নেড়ে ঢেকে রাখুন। মাংস সেদ্ধ হলে কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে নামান।

(৪ থেকে ৮ জনের জন্য)

 ঝাল বিফ

 উপকরণ

মাংস ১ কেজি, আদা, রসুন ২ চা-চামচ করে; পেঁয়াজ ৫/৬টি (বড় করে কাটা), লবণ ও তেল পরিমাণমতো, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, দারুচিনি, এলাচ, কাঁচামরিচ, শুকনো মরিচ ৫-৬টি করে; সয়াসস, চিলিসস আধা কাপ করে।

 প্রণালী

মাংস চিকন লম্বা করে কাটুন। সব উপকরণ মেখে ১ ঘণ্টা রাখুন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে আস্ত শুকনো মরিচ, এলাচ, দারুচিনি, পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে তাতে মাংস দিয়ে রান্না করুন। পরিমাণমতো পানি দিন। নামানোর সময় চিলিসস, জিরা, কাঁচামরিচ দিয়ে নাড়ুন।

(৬ থেকে

৮ জনের জন্য)

শিশুর যত্ন

Babyঘনিয়ে আসছে শীতের মৌসুম। বিদয় নিচ্ছে বর্ষা। আবহাওয়া পনিবর্তনের এই সময়টাতে দেথা দেয় নানান অসুখ। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। শীতকালে যে কোনো সময় সর্দি, কাশি, ঠাণ্ডা, জ্বরের মতো নানা অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। তাই এ সময়টাতে শিশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়। বাড়তি যত্ন নিলে শিশু থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।

শীতের সময় শিশুকে ফুলাহাতা জামা ও পাজামা পড়াতে হয়। তবে এসময় খেয়াল রাখতে হবে, জামা কাপড় যেনো আটসাট না হয়। শীতের সময় শিশুদের পায়ে মোজা, জুতা, স্যান্ডেল আছে কিনা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।

 শিশুর জামা-কাপড় রোদে দিয়ে শুকাতে হবে।রোদে দেওয়া কাপড় পরালে শিশু আরাম পাবে।

 

পেশা হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইনিং

image_39150অপরাজিতাবিডি ডটকম: ফ্যাশন ডিজাইনিং সৃজনশীল শিল্পের ব্যাবহারিক শাখা। যুগ যুগ ধরে সামাজিক বিবর্তনের মাধ্যমে পোশাক এবং আনুশাঙ্গিক বস্তুর পরিবর্তন আর মানুষের রুচির সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশনের । কর্ম ক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনিং সবচেয়ে লাভজনক, আকর্ষণীয়, চাকচিক্যময় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পেশা। আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতা, শৈলী এবং মৌলিকত্ব থাকে তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং কে আজকের বিশ্বের প্রতিযোগিতা মূলক পেশার একটি বিকল্প হিসাবে নিতে পারেন।

কেন পেশা হিসাবে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিবেন ? এক কথায় যশ, সম্মান, আত্মতৃপ্তি আর উচ্চ মানের বেতন কাঠামো – সবই আপনাকে নিয়ে যাবে সাফল্যর দরজায়। সুতরাং, আপনি যদি রং, আকৃতি ও ডিজাইন দিয়ে ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন, তাহলে শুধু একটি পেশাদারী কোর্সের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন আকর্ষণীয় এই পেশা।

যোগ্যতা

যোগ্যতা সাধারনত দুই ধরনের

প্রাকৃতিক যোগ্যতা – রঙ, নকশা আর এই দুইয়ের সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বেড়ে উঠে,ফ্যাশন ডিজাইনিং তাদের জন্য অনেক খানি সহজ হয়ে যায়।

অর্জিত যোগ্যতা– মান সম্পন্ন স্বীকৃত ফ্যাশন ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করা যায় এই পেশায়।এক্ষেত্রে যারা এইচএসসি পাশের পর এ পেশাতে আসাই ভালো।

তবে দক্ষতা হক প্রাকৃতিক অথবা অর্জিত, পেশাদারী মনোভাব, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা আর কঠোর পরিশ্রমই দিতে পারে সাফল্য।

সিদ্ধান্ত নিন দ্রুত

বিশ্বে যখন ফ্যাশান নিয়ে তোলপাড় তখন পিছিয়ে নাই আমরাও। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য আর নিত্য নতুন দেশিও ফ্যাশান হাউজ এর কারনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পেশা। তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়া এখন শুধু আর শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাই যদি ডিজাইনারই হতে চান শুরু করুন একটু আগে।

ভাবছেন আপনার জন্য ফ্যাশন ডিজাইনিং উপযোগী কি না ?

যাই করুন ভালবেসে করুন – ভেবে দেখুন তো ডিজাইনিং আপনার কেমন লাগে ? রঙ, তুলি আর সেলাইর মেশিনে আগ্রহ আছে? মার্কেটে কোন জামা দেখলে কি মনে হয় কালার টা অন্য রকম হলে ভালো হতো। কখনও কি মনের জোকে করে ফেলেছেন টি-শার্ট এর ডিজাইন। উপরের কিছু না থাক- আছে কি অদম্য ইচ্ছা?

আর এগুলো যদি থাকে আপনার ভিতরে, কে জানি আজ থেকে ৫ বছর পরে আপনার ডিজাইন করা জামা হয়ত উচ্চ দামে কিনতে হবে।

যে বিষয়গুলো এড়িয়ে জলা ভালো

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড, মিডিয়া, ফ্যাশান শো, তারকা খ্যাতি অথবা কোটি টাকার মালিক হওয়ার লোভে ভুলেও আসবেন না এই পথে। ফ্যাশান ডিজাইন একধরনের শিল্প, বই মুখস্ত করে ডিজাইনার হওয়া যায়না।

পড়বেন কোথায় ?

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট আছে। তার মধ্যে –

·         Bangladesh University of Textiles

·         BGMEA University Of Fashion and Technology. (BUFT)

·         Shanto-mariam University of Creative Technology. (SMUCT)

·         Raffles Design Institute, Dhaka

·         National Institute of Fashion Technology (NIFT)

ব্যায়

৪ বছর মেয়াদি বি এস সি করতে গেলে খরচ সবচেয়ে বেশি যাবে BUFT তে ৫ লক্ষ টাকার উপরে সেমিসটার ফি। বাকি গুলুতে এর চেয়ে কমে পড়তে পারবেন । শর্ট কোর্সে খরচ প্রতিষ্ঠান ভেদে কম বেশি হবে।

-প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

ফ্যাশনে ব্লক প্রিন্ট

Fashionফ্যাশনেবল, কিন্তু আরামদায়ক পোশাক চাই। এমন ধরনের পোশাক, যা সব সময় পরা যাবে। হোক তা অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়। সঙ্গে যদি লেস বা পাইপিং যোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে নিমন্ত্রণেও অনায়াসে পরা যাবে। শুনলে মনে হবে, এ আর নতুন কী! তবে নতুন মোটিফে নতুন করে বানিয়ে নিলে নতুনত্ব থাকবে বৈকি। বলছিলাম ব্লক প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজের কথা।

কয়েক বছর ধরেই কমবেশি চল রয়েছে ব্লক প্রিন্টের। গত বছর কিছুটা কমলেও এ বছর আবার এর চাহিদা বেড়েছে। গরম আবহাওয়াই এর অন্যতম কারণ। ব্লক প্রিন্ট সাধারণত সুতি কাপড়ের ওপরই করা হয়। খুব বেশি জবরজং নকশা ও কাজ থাকে না। ফলে গরমে আরাম খুঁজতে মেয়েরা বেছে নিচ্ছে এই পোশাক।

ক্রেতারা সাদামাটা নকশার মধ্যে ব্লক প্রিন্টের পোশাক কিনছেন। গরমে কেউই জাঁকজমক পোশাক পরতে চান না। তবে লন কাপড়ের নকশার একটা প্রভাব থাকছে এ সময়ের ব্লক প্রিন্টের পোশাকে।

এখনকার সময়ে হালকা রং, যেমন লেবু রং, কচুপাতা সবুজ, হালকা ফিরোজা, হালকা গোলাপি ও সাদার মধ্যে বিভিন্ন রঙের মোটিফ ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার উজ্জ্বল রঙের কামিজ হলে সালোয়ার-ওড়না হচ্ছে সাদা রঙের।

কোনোটাতে থাকছে ফুলেল মোটিফ, কোনোটাতে জ্যামিতিক নকশা ও ফুলেল মোটিফের মিশেল। ফ্যাশন হাউস দর্জির স্বত্বাধিকারী সাশা মানসুর চৌধুরী বলেন, ব্লক প্রিন্টের কামিজে হাতায় ও ওপরের অংশে জ্যামিতিক নকশা থাকলে নিচের দিকে ফুলেল নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কলকা নকশা কামিজে ব্যবহার করা হলে সালোয়ার ও ওড়নায় জ্যামিতিক নকশার চল রয়েছে। ব্লক প্রিন্টেও ফিউশন হচ্ছে। তবে কামিজের ঝুল বেশি এবং কাটিংয়ে এক ছাঁট চলছে; সঙ্গে থ্রি-কোয়ার্টার বা ফুলহাতা।

পোশাক না কিনে নিজের মনের মতো করে বানিয়ে নেওয়ারও সুযোগ থাকে ব্লক প্রিন্টের পোশাকে। ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ ছোট-বড় অনেক দোকানে ব্লক প্রিন্টের কাজ করা হয়। এক হাজার টাকার মধ্যে ব্লক প্রিন্ট করাতে পারবেন। এ ছাড়া বাড়িতে বসেও নকশা করা ব্লক ও রং কিনে ব্লক করা যেতে পারে। ঢাকার বনানী ১১ নম্বরেও নানা দোকানে পাবেন ব্লক প্রিন্টের পোশাক।

ব্লক প্রিন্টের পোশাকে নিতে হবে বাড়তি যত্ন। অন্তত দু-তিনবার পরে ধুয়ে ফেলবেন। ধোয়ার সময় উল্টো করে মৃদু ক্ষারের পরিষ্কারক দিয়ে ধুতে হবে। আর সরাসরি বা কড়া রোদে কখনোই ব্লক প্রিন্টের পোশাক শুকাতে দেবেন না। এতে রং জ্বলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি ইস্তিরি করার সময়ও উল্টো করে নেবেন।ব্লক

 সুত্র: prothom-alo মডেল: বিদ্যা সিনহা মিম, পোশাক: চৈতি, সাজ: কিউবেলাক

বিয়ের সাজ, মধ্যমণি কনেকে থাকতে হয় সবার চেয়ে আলাদা

Biyer sajবিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাজগোজটাও হওয়া চাই মনের মতো। বিয়ে মানে এক নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। নতুন পরিবারের সঙ্গে নিজেকে খাপখাইয়ে চলা। বিয়ের এই অধ্যায়টা প্রতিটি মেয়ের কাছেই অন্যতম।

বর-কনের সমন্বয়ে যদিও বিয়ে আয়োজন করা হয়, তবুও বিয়েতে মধ্যমণি হিসেবে কনেই থাকে। কনের সাজ-পোশাক নিয়ে আগে থেকেই আলোড়ন হয়ে থাকে। যেহেতু মধ্যমণি কনে তাই সবার চেয়ে তাকে থাকতে হয় একদম আলাদা।

বিয়ের প্রস্তুতিতে শুধু রূপ নয় ব্যক্তিত্বেরও যেন প্রতিফলন ঘটে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাই কনের সামনে থাকতে হবে একটি গাইডলাইন। ত্বক এবং চুলের বাড়তি যত্ন এ সময় অতি জরুরি। ত্বক পরিষ্কার, টান টান ভাব বজায় এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প নেই। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর পরিচর্যায় ফেসিয়াল এক কার্যকর উপায়।

তাই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হলে ভালো পার্লারে গিয়ে দক্ষ হাতে ফেসিয়াল করে নিন। ফেসিয়াল করতে হবে অন্তত ১ মাস আগে। তারপর ১৫ দিন পর আবার ম্যাসাজ করে নিন। ব্লিচ করে নিন। কারণ বিয়ের আগে স্বাভাবিকভাবেই নানা টেনশনের কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এ কারণেই ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। আর ফেসিয়ালসহ নানা ধরনের ম্যাসাজ ত্বকের আর্দ্র্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

তবে শুধু পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না, অবসর সময়ে ঘরে বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বক পরিচর্যা করতে হবে। ত্বকের যত্নে আলু এবং শসার রস খুব উপকারী। আলু এবং শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত সেটা ব্যবহার করতে পারেন। আবার দিনের যেকোনও সময় তুলায় গোলাপজল ভিজিয়ে মুখ, গলা এবং ঘাড় মুছে নিন। গোলাপজল খুব ভালো একটি ক্লিনজারের কাজ করে। মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মসুর ডাল বাটা ব্যবহার করতে পারেন। যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা নিম এবং তুলসী পাতার রসের সঙ্গে সামান্য চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট করে ব্রণের ওপরে লাগিয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ দূর হবে। আবার অনেকের মুখেই রোদে পোড়া ভাব দেখা যায়। এ সমস্যা দূর করতে চালের গুঁড়ো, মসুর ডাল বাটা, এক টেবিল চামচ টকদই, এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ এবং সামান্য মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। এবার ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিম মেখে নিন।

শুধু মুখের যত্ন নিলেই হয় না, কনের হাত-পায়েরও পরিচর্যা করা জরুরি। হাত-পা পরিচর্যায় মেনিকিউর পেডিকিউর অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়াও ঘরেই নিতে পারেন যত্ন। একটি বড় বোলে কুসুম কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু গুলিয়ে হাত-পা ভিজিয়ে বসে থাকুন ১০ মিনিট। এবার পিউমিস স্টোন দিয়ে পায়ের তালু ঘসে নিন। নেইল কাটার দিয়ে নখ সেইপ মতো কেটে আবার গরম পানিতে ২ মিনিট হাত-পা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি থেকে তুলে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে ভালো লোশন লাগিয়ে নিন।

একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিশাত আরা

nari-29

নিশাত আরা আলম। পেশা সফটওয়্যার পইঞ্জিনিয়ার। গল্পটির এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। পড়াশোনা শেষে আর দশটা ছেলেমেয়ে যখন হন্যে হয়ে চাকরির পেছনে ঘোরে, সেক্ষেত্রে নিশাত আরা আলমের গল্পটা একটু ভিন্নই। চাকরির পেছনে নিশাত কী ঘুরবেন, বরং চাকরি এখন তার পেছনে ঘুরছে।

দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পড়াশোনা নিশাতের। নিশাত ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং অটোমোশন সিস্টেম বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স থেকে। আর দেশে এনসিসি এডুকেশন ইউকের অধীনে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি (ডিআইআইটি) থেকে ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) বিষয়ে বিএসসি অনার্স গ্রোগ্রামে পড়াশোনা করে সনদ লাভ করেন। নিশাত আরা আলম কাজ করেছেন মূলত জাভা ও ডটনেট প্রযুক্তির সাথে। জাভা ¯িপ্রং ফ্রেমওয়ার্কে রয়েছে তার বিশেষ দতা। আগস্ট ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার এম্পায়ার ওয়ান গ্র“পে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। আগে তিনি ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেছেন ফেইরফ্যাক্স ডিজিটাল, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ায়। তা ছাড়া তিনি সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেছেন কোয়েক্সটান্ট প্রফেশনাল সার্ভিসে। জার্মানির মানহেইম ইউনিভার্সিটির গবেষণা সহকারী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

তার সাফল্যের পেছনে ছোট একটি সিদ্ধান্ত তাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর কী করবেন, কোথায় পড়বেন- এ চিন্তায়ই মশগুল ছিলেন। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন নিশাত। ধানমন্ডির ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটিতে বিএসসি অনার্স ইন আইটি প্রোগ্রামে ভর্তি হলেন এবং সফলতার সাথে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করার পরই জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সে পড়ার সুযোগ আসে। নিশাত আরা আলমের কাছে এ সিদ্ধান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমাদের দেশে মেয়েদের আইটি বিষয়ে পড়াশোনা এখনো এতটা প্রাধান্য পায়নি- এ কারণে প্রথমে ভয়েই ছিলাম। আইটিতে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে কী করব সে চিন্তাই বেশি কাজ করছিল। শেষে দেখলাম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়াশোনা করলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলা, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় তার দতা রয়েছে। জাভা, সি-শার্প, ওয়েব সার্ভিস, হাইবারনেট, জেকুয়েরি, সিএসএস-৩, এইচটিএমএল-৫, মাই এসকিউএল, রুবি, পাইথন, ফেসবুক এপিআইসহ নানা বিষয়ে তার দক্ষতা রয়েছে।

যারা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের উদ্দেশে নিশাত আরা আলমের একটাই কথা- নিজের স্বপ্ন নিয়ে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে; আর সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের জীবন গড়তে হবে। এখানে কোনো আবেগ বা খামখেয়ালির স্থান নেই। নিজের জয়ের জন্য তো একটু অপো করতেই হবে। নিশাত আরা আলম স্বপ্ন দেখেন এ দেশের নারীরা একদিন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দেশের সেরা চাকরি লুফে নেবেন নিজের যোগ্যতায়। আর হয়তো একদিন বিশ্বের সেরা আইটি চাকরিতে আমাদের দেশের নারীরা নেতৃত্ব দেবেন।

ঘরের সৌন্দর্যে পর্দা

Porda 1

জটিল নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতার মধ্যে আমরা যতই ডুবে যাই না কেন, এড়িয়ে চলতে পারি না জীবনযাপনে রুচিবোধ আর সৌন্দর্যপ্রিয়তাকে।

নিজেকে চমৎকার সাজে সজ্জিত করে সবার সামনে উপস্থাপনে যেমনি মনোযোগী থাকি, তেমনিভাবে আমাদের ঘরদোরও আকর্ষণীয় করে রাখতে সচেষ্ট থাকি। ঘরের ফার্নিচারে, রঙে, ফ্লোর, মোজাইক কিংবা সিলিংয়ে যেমন তার জৌলুস ফুটে ওঠে, তেমনি ঘরের জামা কাপড়ও সুন্দর হওয়া আবশ্যক। ঘরের এই জামা-কাপড়ই হলো পর্দা।

পর্দাকে বলা হয় গৃহের আব্রু। কারণ ঘরের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় দরজা ও জানালায় পর্দা ব্যবহার করে। পর্দার রয়েছে কিছু ব্যবহারিক দিকও। যেমন- সূর্যের প্রখর রোদ থেকে ঘরের শীতলতা রক্ষা করা, বাইরের ধুলাবালি ও দূষিত বায়ু ঠেকিয়ে রাখা, শীতের সময় বাইরের ঠান্ডা হাওয়া থেকে ঘরের উষ্নতা রক্ষা করা, পুরাতন জিনিসপত্র আড়াল করা ইত্যাদি।

দরজা-জানালার এই আচ্ছাদনী গৃহের অন্দরসজ্জায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সুন্দর, রুচিশীল পর্দা ঘরের পরিবেশকে মনোরম করে তোলে। তবে যুগের সাথে সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। পর্দাকে এখন শুধু দরজা-জানালা ঢেকে রাখার জন্যই ব্যবহার না করে তা এখন অন্দর সজ্জার সামগ্রী হিসেবে দেখা হয়।

শৌখিন গৃহিণীরা অন্দরের সাজ-সজ্জায় পর্দা নিয়ে করে থাকেন নানা রকম ভাবনা। ঘরের সাথে মানানসই, দেয়ালের রঙের সাথে খাপ খাওয়ানো আর কেমন ডিজাইনের তা হবে তা এখন প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। আর পর্দার কাপড়েও এসেছে বৈচিত্র্য।

তাই পর্দা নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখা উচিত অনেক বিষয়েই। সেই সাথে পরিচয় দিতে হবে রুচিশীলতা ও সৃজনশীলতার, তবেই আপনার বাড়ি হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।

শুধু পর্দার ধরন, রঙ, কাপড়ের প্রিন্ট, পর্দার ডিজাইন, ঝোলানোর স্টাইল ইত্যাদি একটি সাধারণ মাত্রার খরচেও চূড়ান্তভাবে সুন্দর করে তুলতে পারে। বাড়িতে পর্দার সৌন্দর্যে চমক আনতে হলে আপনাকে এর কিছু কলাকৌশল জেনে নেয়া প্রয়োজন।

প্রথমেই বলা যাক, আপনার ঘরের পর্দা কোন ধরনের হবে সে বিষয়ে। পর্দার নানা ধরন নির্ভর করে ঘরের আয়তন, আলোর উৎস ও রঙের ওপর। ঘরের আয়তন যদি ছোট বা বর্গাকার হয় তবে শর্ট সাইজের বা আঁটসাঁট পর্দা ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে ঘরে আকার যদি লম্বাটে বা আয়তকার হয় তবে ফ্লোর পর্যন্ত লম্বা পর্দার প্রয়োজন হবে।

আলোর উৎস ও বাতাস সঞ্চালন পেতে হলে শর্ট পর্দাই ভাল। এ ছাড়া ঘরে কৃত্রিম আলোর ওপর জোর দিলে আর ঘরটি এয়ারকন্ডিশনড হলে লম্বা পর্দা ঘরকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

তবে পর্দার ধরন ঘরের দেয়ালের রঙের ওপরও নির্ভর করে অনেক খানি। গাঢ় রঙের রুমে পর্দা হবে লম্বা সাইজের, অন্যদিকে হালকা রঙের ঘরে দু’ধরনের পর্দাই ঝোলানো যায়।

আবার বড় রুম ও ফার্নিচার দুটোর ক্ষেত্রেই পর্দা প্রথার কিছুটা পরিবর্তন আবশ্যক। ফার্নিচারের সঙ্গে পর্দার কালার ম্যাচিং হতে পারে। ফার্নিচার বেশিরভাগ সময়েই মেরুন বা কালচে রঙের হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মেরুন রঙের পর্দার ওপর সাদা বা অফ হোয়াইট পেলমেট (পর্দার সঙ্গে যুক্ত কাপড়) দেয়া যেতে পারে।

তাছাড়া বড় রুমের ক্ষেত্রে পর্দায় পেলমেট ব্যবহার করতে হবে। ফার্নিচারের সঙ্গে ঘরের পর্দা মেলাতে গেলে ফার্নিচারের রং অনুযায়ী পর্দার পেলমেট হতে হবে। ঘরের সঙ্গে পর্দা মানানসই হওয়ার প্রশ্নে দেয়াল ও পর্দার রঙের একটা সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। এতে করে পর্দাকে ঘরের অংশ বলে মনে হয়। দেয়াল যদি অফ হোয়াইট হয় তবে পর্দাতেও সেই রং লাগাতে পারেন।

আবার যদি দেখা যায়, ঘরের ফার্নিচারগুলোর রং হালকা। এদিকে দেয়ালের একটা অংশের রং নীল, সবুজ বা লাল তখন দেয়ালের সঙ্গে পর্দার রঙের সমন্বয় করা যেতে পারে।

ড্রয়িং, ডাইনিং সবজায়গাতেই রুমের সাইজ, ফার্নিচারের সাইজ, রং, দেয়াল ও আবহাওয়া বুঝে পর্দা ঝোলাতে হবে। শোবার ঘরের পর্দা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হালকা রঙ বেছে নেবেন। এতে ঘরে একটা স্নিগ্ধতার আভাস থাকে।

Porda 3

পর্দার কাপড়: পর্দার কাপড় ভারী বা হালকা সব ধরনেরই হতে পারে। পর্দা পাতলা হলে বাতাস সহজে ঘরে প্রবেশ করতে পারে। আবার ভারী পর্দা সূর্যের তাপ ও শীতে ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষা দেয়। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মজবুত ও পাকা রঙের সুতির কাপড়ই পর্দার জন্য উপযোগী। নেট বা অন্যান্য দামী পর্দার কাপড়ও করতে পারেন, তবে সেগুলো তুলনামূলকভাবে ব্যয়সাপেক্ষ। এগুলো ময়লাও হয় তাড়াতাড়ি, অথচ ঘন ঘন পরিষ্কার করলে বা ধুলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে সুতির পর্দা সহজেই পরিষ্কার করা যায় এবং একবার ইস্ত্রী করলে সহজে ভাঁজ নষ্ট হয় না। আর টেকেও অনেক দিন।

স্ট্রাইপ বা চেক কাপড়ের পর্দা হলে কনট্রাস্ট ও ম্যাচিং দুটোর মিশেল থাকলেই বেশিভাল লাগবে। আমাদের এখানে আজকাল বাহারি প্রিন্টের পর্দার বেশ প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। অনেক বাড়ির গৃহিণীরা প্রিন্টের পর্দা বেশ পছন্দ করেন। এটা আমাদের গৃহস্থালি আয়োজনের একটি ঐতিহ্যও বটে। শিশুদের ঘরের ক্ষেত্রে কার্টুন কিংবা স্পোর্টস প্রিন্টের পর্দা হওয়া ভাল। ডাইনিং স্পেসে ভাল লাগবে বিভিন্ন ফলমূলের ছবি প্রিন্ট করা পর্দা। আবার বেডরুমে ফুল-লতা-পাতা পর্দা রাখলে তা মানসিক ক্লান্তি দূর করতে বেশ সাহায্য করে।

ঘরের পর্দা ঝোলানোর স্টাইলের ওপরও ঘরের সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে। আমাদের এখানে বিভিন্ন বাড়িতে ট্রাডিশন অনুযায়ী পর্দা ঝোলানোর ক্ষেত্রে রোলিং পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। এ পদ্ধতিতে রোলারের সঙ্গে প্লাস্টিকের বা ধাতব রিংয়ের ব্যবহার ঘটে বেশি। প্লাস্টিকের রিং ফেটে যায় বলে তা এড়িয়ে যাওয়া ভাল। এ পদ্ধতিতে পর্দা ঝোলানোর ক্ষেত্রে রোলারটি কাঠের বদলে ইস্পাতের হলে তা অনেক দিন টেকসই হয় এবং পর্দা নাড়াতে সুবিধা হয় সবচেয়ে বেশি।

পর্দা ঝোলানোর আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ক্লিপিং সিস্টেম। সাধারণত পর্দায় কুচি দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে পর্দার কাপড় বেশি প্রয়োজন হয় বলে এটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খানিকটা খরচের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই পদ্ধতিতে ঝোলানো পর্দা ঘরে খানিকটা বাড়তি সৌন্দর্য সংযোজন করে। যদিও পর্দার সঙ্গে সংযুক্ত ক্লিপটিতে জং ধরে কিংবা নষ্ট হয়ে অনেক বিপত্তি সৃষ্টি করতে পারে। ক্লিপিং পদ্ধতিতে পর্দা ঝোলানোর জন্য যে মাধ্যমটি ব্যবহার করা হয় তা হালকা স্টিলের বলে এ পদ্ধতিতে হালকা কাপড়ের পর্দা ব্যবহারে সুবিধা বেশি।

পর্দা ঝোলানোর আধুনিক পদ্ধতির নাম লুপিং সিস্টেম। বর্তমানে দরজা জানালার ডিফারেন্ট লুক আনতে এটি খুব জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত একটি কাপড়ের লুপ দ্বারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বলে এটিকে লুপিং পদ্ধতি বলে। এ ক্ষেত্রে ঝোলানোর জন্য রট আয়রনের ডিজাইন করা রোলার ব্যবহার করা হয় সবচেয়ে বেশি। তবে কাঠের রোলারের ব্যবহারও কম নয়। সাধারণত খদ্দর জাতীয় মোটা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করতে চাইলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা ভাল।

এছাড়া থিমভিত্তিকও ঘরের সাজ করা যায়। মিলমিশ রেখে ঘর সাজানো এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে ঘরের সবকিছুতে কোনো একটা মিল থাকে। তা হতে পারে রঙে বা উপকরণে। একে বলে থিমভিত্তিক ঘর সাজানো। 

 ❒ থিম নানা রকম হতে পারে- দেশীয়, মডার্ন, ঐতিহ্যবাহী, বিদেশি। যেমন- দেশীয় থিমে ঘর সাজাতে চাইলে ঘরের ফার্নিচার, ফেব্রিক, শোপিস সব কিছুই হবে দেশীয় উপাদানে তৈরি। মডার্ন সাজে সব কিছু একটু আধুনিক আর জমকালো হবে। ঐতিহ্যবাহী সাজে থাকবে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বিদেশি সাজে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে ঘরের সাজে। কেউ অ্যারাবিক থিমে ঘর সাজাতে চাইলে ফার্নিচার ও ঘরের অন্যান্য সাজ সে অনুযায়ী হবে। দেয়ালে ইসলামী পেইন্টিং বা ছবি থাকতে পারে। পর্দা, কার্পেট আর শোপিসও হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইভাবে আদিবাসী জাপানি, রাজস্থানিসহ বিভিন্ন থিমে ঘর সাজাতে পারেন। 

❒ আবার রং, ম্যাটারিয়াল, প্রডাক্ট, ফেব্রিকসহ একটা একক উপাদানও গৃহসজ্জার থিম হতে পারে। ধরা যাক কেউ থিমভিত্তিক বেডরুম সাজাবেন। প্রথমেই তাঁকে পর্দা নিতে হবে। তিনি যদি গোলাপি রঙের পর্দা নেন, তবে শোবার ঘরের অন্য জিনিসপত্রের কভারের রংও একই হবে বা এই রঙের ছোঁয়া থাকবে। আবার হতে পারে কাজনির্ভর। যেমন- পর্দায় যদি অ্যাপ্লিকের কাজ হয়ে থাকে, তবে অন্যান্য জিনিসেও একই কাজ থাকবে। অর্থাৎ সব কিছুতেই একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে মিল থাকবে। হতে পারে রঙের মিল, কাজের মিল অথবা নকশার।

 ❒ ঘরের থিম হিসেবে বেছে নিতে পারেন জামদানি, সিল্ক, শাড়ি, খাদিসহ যেকোন ফেব্রিক। এ ক্ষেত্রে পুরো ঘরের সাজে নির্দিষ্ট ফেব্রিকটিকে হাইলাইট করা হবে। পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন ও সোফার কভার, টেবিল ম্যাট, রানার, দেয়াল ম্যাট- সব কিছুতেই থাকবে সে কাপড়ের ছোঁয়া। আর ঘরের অন্যান্য আসবাব হবে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঘরের থিম জামদানি বা নকশিকাঁথা হলে তার সঙ্গে দেশীয় ফার্নিচার রাখতে হবে। এখানে মডার্ন ফার্নিচার বেমানান লাগবে। আবার থিম সিল্ক, মসলিন বা নেট হলে মডার্ন ফার্নিচার ভালো মানায়।

 ❒ পেইন্টিং, ল্যাম্পশেড, মুখোশ, টেরাকোটাসহ বিভিন্ন শখের সামগ্রীও থিম হতে পারে। পেইন্টিংয়ের শখ থাকলে শুধু দেয়ালে না পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভারেও স্ক্রিনপ্রিন্টের পেইন্ট থাকতে পারে। আবার হ্যান্ডপেইন্টও ব্যবহার করতে পারেন। 

 ❒ শিশুদের ঘরে কার্টুন চরিত্র থিম হিসেবে বেছে নিন। মিকিমাউস, সিন্ডারেলা, টম অ্যান্ড জেরিসহ শিশুর পছন্দের চরিত্র বেছে নিন। বিছানার চাদর, ওয়ালপেপার, পড়ার টেবিল সব কিছু সাজান থিম মাথায় রেখে। টিনএজদের ঘরের থিম হিসেবে বেছে নিতে পারেন গিটার, বাস্কেটবলসহ সন্তানের শখের যেকোনো কিছু।

Porda 2
কোথায় পাবেন পর্দা: অনেকে আছেন রেডিমেড পর্দা কিনে নেন তবে বেশির ভাগেরই পছন্দ নিজের পছন্দ আর রুচির সাথে মিল রেখে কাপড় কিনে পর্দা বানানো। এলিফ্যান্ট রোডে বিভিন্ন পর্দার কাপড়ের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে কিনে নিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী নানা কাপড় গজ হিসেবে। বিদেশি কাপড়ের মধ্যে চীনা জ্যাকেট, সিনথেটিক জ্যাকেট, নেট কাপড়, সেরেয়ারস কাপড় বেশি চলছে। আর দেশি কাপড়ের মধ্যে খাদি, সুতি চেক কাপড় বেশি চলে। চায়নিজ বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাবেন গজপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। নেট কাপড়ের দাম পড়বে গজপ্রতি ৪৫০-৬০০ টাকা। সেরেয়ারস কাপড় গজপ্রতি ৪০০-৬০০ টাকা। ইসলামপুরের পাইকারি কাপড়ের দোকান থেকেও কেনা যাবে পর্দার কাপড়। সেখানে কটন ছাড়াও পাওয়া যাবে দেশি কাপরের মধ্যে বাসিতা, বনিতা, সান কাপড় বেশি চলছে। বিদেশি কাপড়ের মধ্যে চায়নিজ সিলসিলা কাপড় বেশ চলে। দেশি কাপড় কেনা যাবে গজপ্রতি ৯০-১২০ টাকা, চায়নিজ সিলসিলা কাপড় গজপ্রতি ৩৮০-৫৩০ টাকা, চায়নিজ নেট গজপ্রতি ২২০-৩৮০ টাকা দরে। এসব জায়গা ছাড়াও নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান-২, মৌচাক ও নবাবপুর মার্কেটে পাবেন হরেক রকম পর্দার কাপড়। আর রেডিমেড পর্দা কিনতে চাইলে চলে যেতে পারেন আড়ং, যাত্রা, পিরান, রং অথবা নিপুণে। সেখানে পাবেন নানা রকম সুতার কাজ, ব্লক প্রিন্ট আর টাইডাই করা পর্দা।

দিশেহারা মায়ের চোখ খুঁজে ফেরে চন্দ্রমুখীকে

eঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে যে নাজনীন আখতার শুয়ে আছেন, তিনি নিরন্তর ছুটে চলা কোনো সাংবাদিক নন। তিনি একজন সন্তানহারা মা। এই মা আজ বৃহস্পতিবার সকালেও সন্তানের কাছে চলে যাবেন বলে চিকিৎসা নিতে চাননি।
১৬ সেপ্টেম্বর ছয় বছর বয়সী চন্দ্রমুখী মারা যাওয়ার পর পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন মা নাজনীন। তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। চন্দ্রমুখী বেশ কিছুদিন ধরে যকৃতের রোগে ভুগছিল। মারা যাওয়ার আগে অচেতন অবস্থায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে ছিল সে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রহমান বলেছেন, নাজনীন এখনো বিপদমুক্ত নন। তাঁর সারা শরীরে অসংখ্য আঘাত। মেরুদণ্ডের চার জায়গায়, পায়ের ওপরের দিকে, হাতের কবজিতে ফাটল। পাঁচতলা থেকে লাফ দেওয়ায় বাঁদিকের ফুসফুসে আঘাত লেগেছে নাজনীনের। ফুসফুসে একটা টিউব লাগানো হয়েছে। ফুসফুস অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা আছে এখনো।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের ৬ নম্বর শয্যায় শুয়েছিলেন নাজনীন। ভেঙে যাওয়া হাতটা ওপরের দিকে তোলা। সেবিকারা তাঁর পায়ে ক্যানোলা লাগাচ্ছিলেন। আজ কাছে যেতেই শোনা গেল গোঙানির শব্দ। নাজনীনের চোখের কোলটা আজও ভেজা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলেন, নাজনীন তাঁদের জানিয়েছেন সারা শরীরে তাঁর অসহ্য ব্যথা, রাতভর চোখে ঘুম আসে না।
চিকিৎসকেরা বলছেন, নাজনীনের মনের ক্ষত পৃথিবীর কোনো চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা যাবে না। সে ক্ষত বড় গভীর। আজ সকালেও তিনি চিকিৎসকদের বলেছেন, ‘আমি তো চন্দ্রকে বলেছি, আমি ওর কাছে চলে যাব। আপনারা কেন আমার চিকিৎসা করছেন?’
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অবস্থা উন্নতির দিকে গেলে নাজনীনকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। তবে তিনি আবার কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাচ্ছে না।

নাজনীন যখন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন, বাইরে তখন অপেক্ষায় স্বামী রকিবুল ইসলাম ও সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীরা।

সংবাদকর্মীদের বাইরে যাঁরা নাজনীনকে চিনতেন না, চন্দ্রমুখীর মৃত্যুর পর তাঁরাও জেনেছেন মা নাজনীনকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নাজনীনের কোলে চন্দ্রমুখীর ছবি দেখে কেঁদেছেন অনেকেই। তাঁরা সমব্যথী হয়েছেন সন্তানহারা মায়ের।

চন্দ্রমুখীর জন্মদিনে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন নাজনীন। লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন মা। তোমার কারণেই আমার ভুবন এত আলোয় ভরা…আমার প্রাণ।…সবার দোয়া নিয়ে তুমি ভালো থাকো মা…শতায়ু হও।’

চন্দ্রমুখী চলে গেছে। মা নাজনীনের জীবনের সব আলোটুকুও যেন সে নিয়ে গেছে। দিশেহারা মায়ের চোখ কেবলই খুঁজে ফেরে চন্দ্রমুখীকে।

দিশেহারা মায়ের চোখ খুঁজে ফেরে চন্দ্রমুখীকে

eঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে যে নাজনীন আখতার শুয়ে আছেন, তিনি নিরন্তর ছুটে চলা কোনো সাংবাদিক নন। তিনি একজন সন্তানহারা মা। এই মা আজ বৃহস্পতিবার সকালেও সন্তানের কাছে চলে যাবেন বলে চিকিৎসা নিতে চাননি।
১৬ সেপ্টেম্বর ছয় বছর বয়সী চন্দ্রমুখী মারা যাওয়ার পর পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন মা নাজনীন। তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। চন্দ্রমুখী বেশ কিছুদিন ধরে যকৃতের রোগে ভুগছিল। মারা যাওয়ার আগে অচেতন অবস্থায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে ছিল সে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রহমান বলেছেন, নাজনীন এখনো বিপদমুক্ত নন। তাঁর সারা শরীরে অসংখ্য আঘাত। মেরুদণ্ডের চার জায়গায়, পায়ের ওপরের দিকে, হাতের কবজিতে ফাটল। পাঁচতলা থেকে লাফ দেওয়ায় বাঁদিকের ফুসফুসে আঘাত লেগেছে নাজনীনের। ফুসফুসে একটা টিউব লাগানো হয়েছে। ফুসফুস অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা আছে এখনো।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের ৬ নম্বর শয্যায় শুয়েছিলেন নাজনীন। ভেঙে যাওয়া হাতটা ওপরের দিকে তোলা। সেবিকারা তাঁর পায়ে ক্যানোলা লাগাচ্ছিলেন। আজ কাছে যেতেই শোনা গেল গোঙানির শব্দ। নাজনীনের চোখের কোলটা আজও ভেজা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলেন, নাজনীন তাঁদের জানিয়েছেন সারা শরীরে তাঁর অসহ্য ব্যথা, রাতভর চোখে ঘুম আসে না।
চিকিৎসকেরা বলছেন, নাজনীনের মনের ক্ষত পৃথিবীর কোনো চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা যাবে না। সে ক্ষত বড় গভীর। আজ সকালেও তিনি চিকিৎসকদের বলেছেন, ‘আমি তো চন্দ্রকে বলেছি, আমি ওর কাছে চলে যাব। আপনারা কেন আমার চিকিৎসা করছেন?’
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অবস্থা উন্নতির দিকে গেলে নাজনীনকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। তবে তিনি আবার কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাচ্ছে না।

নাজনীন যখন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন, বাইরে তখন অপেক্ষায় স্বামী রকিবুল ইসলাম ও সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীরা।

সংবাদকর্মীদের বাইরে যাঁরা নাজনীনকে চিনতেন না, চন্দ্রমুখীর মৃত্যুর পর তাঁরাও জেনেছেন মা নাজনীনকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নাজনীনের কোলে চন্দ্রমুখীর ছবি দেখে কেঁদেছেন অনেকেই। তাঁরা সমব্যথী হয়েছেন সন্তানহারা মায়ের।

চন্দ্রমুখীর জন্মদিনে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন নাজনীন। লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন মা। তোমার কারণেই আমার ভুবন এত আলোয় ভরা…আমার প্রাণ।…সবার দোয়া নিয়ে তুমি ভালো থাকো মা…শতায়ু হও।’

চন্দ্রমুখী চলে গেছে। মা নাজনীনের জীবনের সব আলোটুকুও যেন সে নিয়ে গেছে। দিশেহারা মায়ের চোখ কেবলই খুঁজে ফেরে চন্দ্রমুখীকে।

সিদ্দিকা কবীরের রেসিপি : দেশী-বিদেশী ঘরোয়া রান্না

লেখিকা: অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর

প্রকাশক: শিমূল প্রকাশন

মূল্য: ২৫০ টাকা

rokimg_0709_48983

আজকাল পুষ্টি সম্বন্ধে মধ্যবিত্ত সব ধরনের পরিবারের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। সরকারি বেসরকারি মাধ্যমে নানা বিষয়ে নানাভাবে জনসাধারণকে স্বাস্থ্য বিষয়ে যত্নবান হতে প্রচার করছে ও বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে। পত্র-পত্রিকা ম্যাগাজিন, রেডিও, টেলিভিশন এমন কি স্কুলের পাটঠপুস্তকেও পুষ্টি বিষয় অন্তভূক্ত হচ্ছে। শৈশব থেকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি বিষয়ে জানা অতি প্রয়োজন। আমরা জেনেছি মানুষের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও লিঙ্গভেদে খাওয়া দাওয়ার চাহিদাও একরকম থাকে না। সবার আগে জানতে হবে পুষ্টিকর খাদ্য সম্বন্ধে। খাবার দাবার নিয়ে তাই বর্তমানে বহুল প্রচার প্রচাণনা লক্ষ্য করা যায়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, পাক্ষিক সব ধরনের পত্র-পত্রিকায় স্বাস্থ্য, খাবার দাবার ও রান্না বিষয়ক লেখালেখি থাকছে। ফলশ্রুতিতে আমরা পাচ্ছি নানা তথ্য ও রান্নার অগুণিতি রেসিপি। পিছিয়ে নেই রান্নার বই প্রকাশনাও। শহরে, গ্রামে সব বয়সের লোকই রেসিপি পড়ে রান্নায় আগ্রহী হচ্ছে। মহিলারাও তাদের ভাল ভাল রান্নার রেসিপি প্রকাশে এগিয়ে আসছেন। তাদের উৎসাহে আমি মনে করি এ পর্যন্ত আমরা রান্নার বিষয়ে কিছুটা উন্নতি করতে পেরেছি যার সাক্ষর “দেশী, বিদেশী ঘরোয়া রান্না” বইটি। দেশী, বিদেশী ঘরোয়া রান্না বইয়ে বাংলাদেশের দৈনন্দিন খাবারের রেসিপি অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ডালভাত, শাকসবজি, মাছ-মাংস যা আমরা দৈনন্দিন খাবারের শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে খেয়ে থাকি সে ধরনের খাবারের রেসিপি যথাযথভাবে লেখা হয়েছে। সেসাথে আছে ছোটদের টিফিন, কিশোর কিশোরীদের জন্য স্ন্যাকস, নানা পালা পার্বণ, উৎসব অনুষ্ঠান যেমন শবে-ই-বরাতের হালুয়া, রুটি, রমজান মাসে ইফতার, ঈদের সেমাই এসব ঐতিহ্যপূর্ণ খাবারও বাদ পড়েনি। আর লক্ষ্য রাখা হয়েছে পুষ্ঠি, সহজভাবে রান্না ও সময় সংক্ষিপ্ত করে রান্নার বিষয়টিও। আমি মনে করি শহরে গ্রামে সবাইকে উৎসাহিত করবে এ বইয়ের রেসিপি ব্যবহার করে রান্না করতে। আশা রাখছি তারা সফলকাম হবেন। পরিবারকে পুষ্টিকর খাবার দিয়ে সুস্থ রাখতেও খুশী করতে পারবেন।

'নেকাব' পরায় বহিস্কার হলো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

cনেকাবসহ বোরকা পরার কারণে এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘ড্রেসকোড ভাঙ্গার’ অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হয়। ভুক্তভোগি ওই ছাত্রীর নাম হাফসা ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে (স্নাতক) সপ্তম সেমিস্টারের (মোট ১২ সেমিস্টার) ছাত্রী। হাফসার ভাই আবদুল্লাহ মুহাম্মদের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ হলে এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। 

আবদুল্লাহ মুহাম্মদের ভাষ্যমতে, ”ও ভাল স্টুডেন্ট। বহিষ্কারের অন্য কোনো কারণ নেই। ওর একমাত্র অপরাধ ও বোরকা পরে।”

এর আগে ব্যাপারটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবক ডেকে পাঠিয়েছিলো বলেও দাবি করেন তিনি।

আবদুল্লাহ আরো বলেন, ”আমাদের তরফ থেকে আমরা প্রতিবারই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও উনারা উনাদের কথাই বারবার বলেছেন। উনারা ড্রেসকোডের কথা বলেছেন। তবে আমাদের অনুরোধে উনারা কোন ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতি ছিলেন না।”

কেউই ড্রেসকোড শতভাগ মানছে না বলেও মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ।

d

”বোরকা পরা আরো কয়েকজন ছিলো হাফসার সাথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপে তারা একপর্যায়ে বোরকা ছাড়তে বাধ্য হয়। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে হাফসার ওপর পূর্ণ সাপোর্ট ছিলো। ওই একমাত্র, যে তার মুখ দেখাবে না। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওর আইডিটা ব্লক করে দেওয়া হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে ড্রেসকোড সরবরাহ করা হয়েছিলো হাফসার অভিভাবককে।

আবদুল্লাহর অভিযোগ, ”বিশ্ববিদ্যালয়টিতে টি-শার্ট এবং থ্রি কোয়ার্টার পরে আসে অনেক ছাত্রী। এটা কমন একটা ঘটনা। এ ব্যাপারটি ড্রেসকোডের বাইরে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে কিন্তু নিশ্চুপ।”

তিনি বলেন, ”ব্যাপারটি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে একটি রিট করার প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি আগামী রোববারের মধ্যে এই সংক্রান্ত ব্যাপারে রেজাল্ট পাবো।”

এর আগে গত ২৮ মে ‘ড্রেসকোড না মানা হলে কেন হাফসাকে বহিষ্কার করা হবে না’ এই মর্মে একটি কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পর থেকে।

e

ওই শোকজ লেটারে ৩ জুনের মধ্যে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে হাফসা নেকাবসহ (মুখ ঢাকা) বোরকা পরা বন্ধ করেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রেজিস্ট্রার ইশফাক এলাহী চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠিতে হাফসাকে বহিষ্কার করে। সেখানে জানানো হয়, হাফসার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিকে অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ইসফাক ইলাহী চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। কেউ ব্লগে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

আবু দারদা নামের একজন তার ফেসবুক মন্তব্যে বলেন, ”আমাদের এই মুসলিম প্রধান দেশে? এদের সাহসের বহর দেখলে অবাক হতে হয়! এতো সাহস এরা পায় কোথেকে?”

ইব্রাহিম খলিল নামে এক ছাত্র ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ”ব্র্যাক ভার্সিটির রেজিস্ট্রারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, কারণ উনি ২০০৮-০৯ এর দিকে আমাদের ভার্সিটির রেজিস্ট্রার ছিলেন। উনি এমনিতেই সেকুলারপন্থি, এইরকম ইসলাম বিদ্বেষী মানুষের নাম আবার- “ইশফাক এলাহী”। আমার মনে হয় না এই জাহেল ইসলামতো দূরের কথা, নিজের নামের অর্থ জানে কিনা সন্দেহ! ইংল্যান্ড, আমেরিকার মতো অমুসলিম অধ্যুষিত দেশে মুসলমান মেয়েরা নেকাব পরে, পরিপূর্ণভাবে হিজাব করে ডাক্তারী -ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারছে, কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিতে পারছে, সেখানে নিরাপত্তার বিঘ্ন হচ্ছে না।আর এই মুসলিম অধ্যুষিত দেশের ইউনিভার্সিটিতে মুসলিম মেয়ে নেকাব দিয়ে মুখ ঢাকলে নাকি নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটে!! কি আজিব ব্যাপার!”

সোহেল মাহমুদ

কৃত্রিম ফুসফুস উদ্ভাবন করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন!

Ayesha arefin

আয়েশা আরেফিন, যার ডাক নাম টুম্পা বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতে ন্যানো-সায়েন্সের উপর ডক্টরেট করছেন। একই সাথে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে চলছে তাঁর গবেষণা। আয়েশা আরেফিন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০১১ সালে আমেরিকার আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির গবেষক ক্রিস ডেটার বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত এক কাজে এসে এরকমই এক সম্ভাবনাময় জিনবিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিনের দেখা পান। ডেটার ও তাঁর সহকর্মী ল্যান্স গ্রিনের একান্ত সহযোগিতার ফলেই আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পান। আয়েশা তার যুক্তরাষ্ট্রের জীবনের প্রথম দিন গুলোতে ডেটারের বাড়িতেই থাকতেন।

আয়েশা তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির বায়ো-সিকিউরিটি বিভাগে। এরপরেই ঐ ল্যাবের ভারতীয় গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার আয়েশাকে অপ্টোজেনিক্স সঙ্ক্রান্ত গবেষণা কাজের জন্য নিয়োগ দেন। অপ্টোজেনিকস হচ্ছে জিন-বিদ্যা ও প্রোটিন প্রকৌশল(ইঞ্জিনিয়ারিং) এর মাধ্যমে জীবন্ত টিস্যুর মাঝে ঘটতে থাকা বিভিন্ন স্নায়বিক কাজ (neuron activity) নিয়ন্ত্রণ করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব।

আয়েশা ও রাশি আয়ারের দলের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অংগ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা একটি কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, Chronic Obstructive Pulmonary Disease এর সময় ফুসফুসের কোষগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা ও এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা।। এটি হচ্ছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ রোগ যাতে আমেরিকার অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আয়েশা একই সাথে বিভিন্ন স্নায়বিক ব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্ত-ক্ষরণ নিয়েও গবেষণা করছেন।

বাংলাদেশী বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা ভবিষ্যতে দেশে ফিরে এসে মানুষের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। দেশে থাকাকালীন সময়ে তিনি নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি এইচ আই ভি/এইডস নিয়ে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা দেশে এসে নিজের বাড়িতে একটি স্কুল খোলার। যেখানে যে কোন শিশু বিজ্ঞান ও গণিত পড়ার সুযোগ পাবে।

আয়েশা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করেন ভাগ্য ও আশেপাশের কিছু মানুষের সহযোগিতা ছাড়া তাঁর এই সাফল্য আসতো না। তিনি বলেন, “আমি আমার গবেষণাগারের, এর মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আনন্দিত যে ব্যতিক্রম কিছু করার সুযোগ পেয়েছি”। তিনি আরো বলেন লস আলামসে কর্মরত অন্য অনেক দেশের গবেষক বিশেষ করে মন্টেনিগ্রোর গবেষক Momo Vuyisich তাঁর জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।