প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি যেমন একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, শাসক ও দাঈ ছিলেন, তেমনই দাম্পত্য জীবনে ছিলেন স্নেহশীল, দায়িত্বশীল ও শ্রেষ্ঠ স্বামী। তাঁর জীবনের অনুসরণীয় দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির শিক্ষা।
নবিজি (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি সর্বদা সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতেন এবং সাহাবিদেরও তাঁদের স্ত্রীদের প্রতি উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন। তিনি বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে। আর আমি আমার স্ত্রীর প্রতি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
নিচে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত উল্লেখ করা হলো, যা পালন করলে দাম্পত্য জীবন আরও সুন্দর ও সুখময় হয়ে উঠবে—
১. স্ত্রীর কাছ থেকে চুল আঁচড়ে নেওয়া
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন—
“আমি হায়েজ অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মাথা আঁচড়ে দিতাম।” (বুখারি ২৯৫)
২. স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে ঘুমানো
আয়েশা (রা.) বলেন—
“রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাতেন।” (বুখারি ৪৬০৭)
৩. স্ত্রীর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করা
তিনি আরও বলেন—
“আমি নবিজির (সা.) সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলাম এবং জয়ী হয়েছিলাম। পরে আমি মোটা হলে তিনি দৌড়ে আমাকে পরাজিত করেন এবং বলেন, ‘এ বিজয় সেই পরাজয়ের বদলা।’” (আবু দাউদ ২৫৭৮)
৪. স্ত্রীর সঙ্গে একসঙ্গে গোসল করা
“আমি ও নবিজি (সা.) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম।” (বুখারি ২৫০)
৫. স্ত্রীর কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করা
“নবিজি (সা.) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন, তখন আমি হায়েজ অবস্থায় ছিলাম।” (বুখারি ২৯৭)
৬. স্ত্রীর প্রশংসা করা
রাসুল (সা.) বলেছেন—
“নারীদের মধ্যে আয়েশার মর্যাদা অন্য সকল নারীর তুলনায় এমন, যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যের তুলনায়।” (বুখারি ৩৪১১)
৭. স্ত্রীর কাজে সহায়তা করা
হজরত আসওয়াদ (রা.) বলেন—
“আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবিজি (সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি বললেন, তিনি পরিবারকে সাহায্য করতেন এবং নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন।” (বুখারি ৬৭৬)
প্রিয় নবী (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের সুন্নতগুলো আমাদের জন্য উত্তম দৃষ্টান্ত। যদি প্রতিটি স্বামী পরিবারে এই সুন্নতগুলো পালন করেন, তাহলে সংসার হবে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রশান্তির এক সুন্দর আশ্রয়স্থল।