banner

বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং, ,

পোস্টটি 30 বার পঠিত

 

রোজায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বাংলাদেশে এটি দ্রুত বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কিছু কিছু ভুল ধারণার কারণে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েন। তাই সুস্থভাবে রোজা পালনের জন্য নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন।

১. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
রোজা রাখা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ কিনা, তা জানতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে ওষুধের সময়সূচি ও ইনসুলিন ডোজ পরিবর্তন করতে হতে পারে।

২. রক্তের শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন
রোজার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শর্করা খুব বেশি কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে গেলে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. সঠিকভাবে সেহরি খান
কখনোই সেহরি বাদ দেবেন না, কারণ এটি শরীরে শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করা লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে।

লাল চালের ভাত, ওটস, ডাল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খান, যা ধীরে হজম হয়।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, দই, বাদাম ইত্যাদি যোগ করুন।

৪. স্বাস্থ্যকর ইফতার করুন
অতিরিক্ত চিনি ও তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।

বেশি চর্বি, চিনি ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙতে পারেন, এটি প্রাকৃতিকভাবে শক্তি জোগায়।

৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

পানি সমৃদ্ধ ফল যেমন শসা, তরমুজ ইত্যাদি খেতে পারেন।

চিনিযুক্ত পানীয় ও কার্বোনেটেড ড্রিংকস পরিহার করুন।

৬. ওষুধ ও ইনসুলিনের সময়সূচি ঠিক রাখুন
যারা ইনসুলিন নেন বা নিয়মিত ওষুধ খান, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়সূচি ঠিক করুন।

সেহরি ও ইফতারের সময় ওষুধ গ্রহণের সঠিক নিয়ম জানতে হবে।

৭. অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন
রোজার সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে যেতে পারে।

গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।

ভারী ব্যায়ামের পরিবর্তে ইফতারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।

৮. বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে রোজা ভাঙুন

যদি মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম, ঝাপসা দেখা বা কাঁপুনি অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করুন।

যদি রক্তের শর্করা ৩.৯ mmol/L-এর নিচে নেমে যায় বা ১৬.৭ mmol/L-এর বেশি হয়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলুন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

৯. মানসিক চাপ কমান ও পর্যাপ্ত ঘুমান

মানসিক চাপ রক্তের শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নিজেকে শান্ত রাখুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।

ডায়াবেটিস রোগীরা রমজানে রোজা রাখতে চাইলে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে চললে সুস্থভাবে রোজা রাখা সম্ভব।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

Facebook Comments