banner

বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং, ,

পোস্টটি 33 বার পঠিত

 

রমজানে নারীর ব্যস্ততা কমিয়ে সহজ জীবন গড়ার উপায়

 

রমজান, আত্মশুদ্ধির মাস, ধৈর্য ও সংযমের পরীক্ষার মাস। এই মাসে ইবাদতের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও বেড়ে যায় বহুগুণ। বিশেষ করে নারীদের জন্য রমজান যেন এক অনন্ত ব্যস্ততার গল্প হয়ে ওঠে। সেহরি থেকে ইফতার, ইবাদত থেকে পরিবারের দেখভাল—সবকিছু সামলাতে গিয়ে যেন ক্লান্তির শেষ থাকেনা । অথচ একটু কৌশলী পরিকল্পনা ও পারিবারিক সহযোগিতা পেলে এই সময়টাকে আরও সহজ করে তোলা সম্ভব।

পরিকল্পনাই সাফল্যের চাবিকাঠি
যেকোনো কাজকে সহজ করতে দরকার সুপরিকল্পনা। রমজানের প্রতিদিনের কাজ আগেভাগে সাজিয়ে নিলে অযথা ব্যস্ততা কমে যাবে। কোন কাজ কখন করা হবে, কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন, কোন কাজ আগে সম্পন্ন করা উচিত—এসব লিখে রাখলে সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এতে ক্লান্তি যেমন কমবে, তেমনি ইবাদতের জন্যও বাড়তি সময় বের করা যাবে।

বাহুল্য পরিহার, সহজতাই সৌন্দর্য
আমাদের সমাজে ইফতার মানেই যেন বাহারি আয়োজন। প্রতিদিন নানা পদ না থাকলে চলে না, অথচ এত আয়োজন করতে গিয়ে নারীদের বেশ বেগ পোহাতে হয়। অথচ রমজানের মূল উদ্দেশ্যই হলো সংযম ও আত্মশুদ্ধি। তাই প্রতিদিন বাহুল্য এড়িয়ে পুষ্টিকর ও সহজ কিছু খাবার তৈরি করলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

সম্ভব হলে আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া
সময় ও পরিশ্রম বাঁচাতে কিছু কাজ আগেই সেরে রাখা যায়। যেমন—সপ্তাহের জন্য মাছ-মাংস কেটে সংরক্ষণ করা, মসলা গুঁড়ো করে রাখা, পেঁয়াজ-রসুন কেটে রাখা বা শরবত তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া। এতে কাজের চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং ইফতারের সময় অস্থিরতা দূর হবে।

পরিবারের সবাই মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া
শেয়ারিং এন্ড কেয়ারিং এর মাধ্যমে রমজানের সৌন্দর্য আরো বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। তাই পরিবারের পুরুষ সদস্য ও শিশুদেরও ঘরের কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত। পেঁয়াজ-রসুন কাটা, শরবত তৈরি, টেবিল সাজানো—এই ছোট ছোট কাজে সাহায্য করলে নারীর ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

নিজেকে ভুলে গেলে চলবে না
দিনভর রোজা রেখে বিরামহীনভাবে কাজ করলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ নেমে আসতে পারে। তাই কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নেওয়া দরকার। পানিশূন্যতা দূর করতে ইফতারের পর প্রচুর পানি পান করতে হবে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শরীর সুস্থ থাকলে ইবাদতেও মনোযোগ বাড়বে, কাজে ক্লান্তিও কমে আসবে।

রমজান মাস নারীর জন্য যেন বোঝা হয়ে না উঠে, বরং এটি আত্মার প্রশান্তি ও পরিবারে সৌহার্দ্য তৈরির মাস হবে। যদি সবাই মিলে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তাহলে নারীর জন্য রমজানও হবে প্রশান্তিময়। সংযমের এই পথচলা হোক সুস্থ, সুন্দর ও পরিপূর্ণ।

Facebook Comments