banner

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 256 বার পঠিত

 

মেয়ের মামলায় পিছু হটে মীমাংসার পথে মা

(শিষ্টাচার হারানো সমাজে এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক বিতর্ক)

কন্যার দায়ের করা মামলায় অবশেষে পিছু হটলেন মা। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নিজ পিতা-মাতার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনে মামলা করে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তরুণী মেহরিন আহমেদ। এবার সেই মায়ের পক্ষ থেকেই এলো মধ্যস্থতার প্রস্তাব।

মামলার এক মাস পর সংবাদ সম্মেলনে মেহরিনের আইনজীবী জানান, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চান তার মা। ইতোমধ্যে মেহরিনের কাছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তাতে মা মেয়েকে ‘মেধাবী’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং পারিবারিক দূরত্বের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।

মায়ের ভাষ্যে উঠে এসেছে-দুজন কর্মজীবী মানুষ হিসেবে সন্তান পালনে পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারার আক্ষেপ। একই ছাদের নিচে থাকলেও, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হলেও সমাজে এমন সম্পর্কচ্যুতি একেবারে নতুন নয়। আমরা অনেক সময় সন্তানদের শুধু ডিগ্রিধারী বানাতে চাই, কিন্তু পারিবারিক মূল্যবোধ আর মানবিক শিষ্টাচারের চর্চা ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক বন্ধনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি নিছক পারিবারিক বিষয় নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক সংকট, যেখানে পরিবার অর্থহীন হয়ে উঠছে প্রযুক্তি আর ব্যস্ততার ভিড়ে।’’

উপমহাদেশে এমন ঘটনা বিরল হলেও সম্পূর্ণ অজানা নয়। ২০১৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে এক তরুণ রাফায়েল স্যামুয়েল “অনুমতি ছাড়া জন্ম দেয়ায়” বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় আসেন।

তবে ঢাকায় এমন মামলা এই প্রথম, যার পরিণতি যদি মধ্যস্থতা ও বোঝাপড়ায় গড়ায়, তবে তা এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত এমন সময়, যখন পরিবার শুধু একটি সামাজিক একক নয়—বরং মানবিক সংবেদনশীলতা গড়ে তোলার শিক্ষার প্রাথমিক ক্ষেত্র।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আমাদের আরও বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: আমরা কি আর সেই পারিবারিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যের সমাজে বাস করছি? যখন সন্তান জন্মদাতার বিরুদ্ধেই আইনি আশ্রয় নেয়, তখন বুঝতে হবে-আমাদের চারপাশের সমাজ কাঠামোতে কিছু একটা ভেঙে পড়ছে। এই বিচ্যুতি শুধু ব্যক্তিগত নয়,এ এক সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
আর সে সমাজে আমরা-আপনি, আমি সবাইই বসবাস করছি।

Facebook Comments Box