বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ১৭তম নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তানিয়া সুলতানা। প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই তিনি বিজেএস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
তানিয়া সুলতানার শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামের রাউজানে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বিচার বিভাগে যোগ দেওয়ার। অনার্স ও মাস্টার্স জীবনে একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন, যা তার বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভিত্তি গড়ে তোলে।
তবে তিনি পুরোপুরি নিয়োজিত হন মাস্টার্স শেষ করার পর। প্রথমেই তিনি বিজেএস পরীক্ষার সিলেবাস বিশ্লেষণ করেন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে বুঝতে চেষ্টা করেন কোন কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এরপর নির্দিষ্ট বই ও রিসোর্স ঠিক করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন।
তানিয়া কখনো সময় ধরে পড়াশোনা করেননি; বরং প্রতিদিন নির্দিষ্ট টপিক শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতেন। লিখিত পরীক্ষায় সফলতার জন্য তিনি বিষয়ভিত্তিক গভীর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কারণ এই পরীক্ষাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মৌখিক পরীক্ষার জন্য তিনি মূলত রিভিশনের ওপর জোর দেন।
প্রস্তুতির সময় মানসিক চাপ থাকলেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। পরিবারের স্বপ্ন এবং নিজের লক্ষ্য তাকে বারবার সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। ১০ দিনের লিখিত পরীক্ষার সময় সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছাই তাকে ধরে রেখেছে।
তানিয়া সুলতানা বিশ্বাস করেন, যারা ভবিষ্যতে সহকারী জজ হতে চান, তাদের অনার্স জীবন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য ধরে রাখতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। একাগ্রতা ও সঠিক প্রস্তুতিই বিজেএস পরীক্ষায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
তানিয়া সুলতানার এই অর্জন প্রমাণ করে, লক্ষ্য ঠিক থাকলে এবং পরিশ্রমি হলে সাফল্য ধরা দিতেই বাধ্য!