banner

বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং, ,

পোস্টটি 38 বার পঠিত

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বড় পরিবর্তন

১৮ মার্চ ২০২৫: ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০” সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা, বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।
সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। গত ৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসিয়ার ধর্ষণের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। সেখান থেকে “ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ” গঠিত হয়, যা পরদিন মশাল মিছিলের মাধ্যমে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সারাদেশে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের আন্দোলনের ফলস্বরূপ সরকার অবশেষে এই সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনের সংশোধনীতে যেসব পরিবর্তন আসছে

১. বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন:
১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ধর্ষণের বিচারে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

এতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২. তদন্ত ও বিচার দ্রুততর করা:
ধর্ষণ মামলার তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আগে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে জামিনের সুযোগ ছিল, সেটি বাতিল করা হয়েছে।

৩. ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন:
বর্তমানে শুধু ঢাকায় CID Forensic Lab থাকায় প্রমাণ পরীক্ষায় বিলম্ব হয়।

নতুন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ২টি ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে।

৪.DNA রিপোর্ট ছাড়াই বিচার:
ধর্ষণের মামলায় DNA রিপোর্ট দেরিতে এলে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার করা যাবে।

তবে, এতে মিথ্যা মামলার আশঙ্কা থাকায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

৫. ধর্ষণের সংজ্ঞায়ন স্পষ্টকরণ:
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও সম্মতি ব্যতিরেকে ধর্ষণকে আলাদা অপরাধ হিসেবে আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সম্মতি ব্যতিরেকে ধর্ষণের মামলার তদন্ত দ্রুততর করা হবে।

৬. ভিকটিম প্রোটেকশন:
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর জন্য ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা জখম করলে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

৭. মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান:
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা করলে বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

৮.দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ বিচারক নিয়োগ:
বিশেষ Judicial Service Commission গঠন করে নতুন বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা জানান, আগামী বৃহস্পতিবার এই সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সংশোধনীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আইনের অপব্যবহার রোধে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে বিভিন্ন পক্ষ মত প্রকাশ করেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, আইন চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশের আগে স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ করা উচিত। সংশোধনীর ফলে যেন নতুন কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সেটিই এখন মূল বিষয়।

Facebook Comments