banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 134 বার পঠিত

 

গাজায় দুর্ভিক্ষ: অনাহারে ৩৫দিন বয়সী শিশুর মৃত্যু

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ, মানবিক সহায়তার বাধা এবং লাগাতার সামরিক হামলার মধ্যে এবার অনাহারে প্রাণ হারাল মাত্র ৩৫ দিনের এক নবজাতক। শনিবার (১৯ জুলাই) গাজার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর জানায়। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১৬ জন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ৩৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন” (জিএইচএফ)-এর একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- চরম খাদ্য সংকট চলছে, হাসপাতাল গুলোতে জরুরি বিভাগগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অন্তত ১৭ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।
আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, “শুধু শনিবারই আমাদের হাসপাতালে অনাহারে মারা গেছে দুজন, যার একজন ছিল সদ্যজাত শিশু।”

গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে অসংখ্য মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, “মানুষ একটু খাবারের আশায় লাইনে দাঁড়ায়, কিন্তু ফেরে লাশ হয়ে।”

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের মহাসচিব জগন চাপাগাইন সতর্ক করে বলেছেন, “গাজা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।” একই বক্তব্য দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান এগেল্যান্ড, যিনি বলেন, “গত ১৪২ দিনে আমরা একটি ত্রাণবাহী ট্রাকও গাজায় ঢোকাতে পারিনি।”

জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, মিশর সীমান্তে তাদের যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুত রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো গাজার ভেতরে প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “সীমান্ত খুলুন, অবরোধ তুলে নিন এবং আমাদের মানবিক সহায়তার কাজ করতে দিন।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্ব বিবেকের জন্য এক কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গাজায় দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Facebook Comments Box