ঈদ মানেই আনন্দের এক অনন্য উৎসব, যেখানে ঘরভর্তি হাসি-খুশি, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য, আর আত্মার প্রশান্তি মেলে। এই বিশেষ দিনটিকে আরো উজ্জ্বল করে তুলতে ঘরের সাজসজ্জা হতে পারে আনন্দের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেমন নতুন পোশাক আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি নান্দনিকভাবে সাজানো ঘর আমাদের মনে উৎসবের আবেশ ছড়িয়ে দেয়। তাই আসুন, ঈদের খুশিকে দ্বিগুণ করতে ঘর সাজিয়ে তুলি একদম নতুন রঙে, নতুন আয়োজনে—
১. থিম অনুযায়ী ঘর সাজান
আপনার পছন্দের বা ট্রেন্ডি কোনো থিম বেছে নিন—যেমন ঐতিহ্যবাহী, মিনিমালিস্ট, রঙিন বা আরবি স্টাইল। এরপর সেই অনুযায়ী কুশন কভার, পর্দা, টেবিল ম্যাট, আর্টওয়ার্ক বা লাইটিং সাজিয়ে তুলুন।
২. নতুন পর্দা ও কুশন কভার ব্যবহার করুন
পর্দা ও কুশন কভারের পরিবর্তন পুরো ঘরের লুক বদলে দিতে পারে। ঈদের আমেজ আনতে উজ্জ্বল রঙ বা হালকা সোনালি ও সাদা রঙের কভার ব্যবহার করতে পারেন।
৩. দেয়ালে ঈদ স্পেশাল ডেকর যুক্ত করুন
চাঁদ-তারার ওয়াল হ্যাঙ্গিং
ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি বা পোস্টার
ফ্যাব্রিক বা কাঠের আর্টপিস
৪. আলো দিয়ে জাদু করুন
ঈদের রাতে নরম, উষ্ণ আলো পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।
LED ফেয়ারি লাইট
মোমবাতি বা অ্যারোমা ক্যান্ডেল
ল্যান্টার্ন বা আরবি স্টাইলের লাইটিং
৫. অতিথি আপ্যায়নের জন্য টেবিল সাজানো
ডাইনিং টেবিলে সুন্দর রানার, ম্যাচিং প্লেট-মগ, ফ্রেশ ফুলের ছোট তোড়া বা সুগন্ধি মোমবাতি রাখতে পারেন।
৬. সুগন্ধি ও পরিপাটি ঘর
ঘরে একটি ফ্রেশ ও মিষ্টি সুবাস ছড়ানোর জন্য অ্যারোমা ডিফিউজার, ধূপ বা আতর ব্যবহার করতে পারেন।
৭. হাতের তৈরি কিছু সংযোজন করুন
ডিআইওয়াই ক্যান্ডেল হোল্ডার, ফুলদানিতে রঙিন পানি দিয়ে ফুল সাজানো, অথবা কাগজের চাঁদ-তারা তৈরি করে দেয়ালে লাগানো যেতে পারে।
৮. দরজার সামনে ওয়েলকাম ডেকর
প্রবেশদ্বারে ফ্লাওয়ার রেথ, আরবি ক্যালিগ্রাফির ওয়েলকাম বোর্ড বা লাইটিং ব্যানার রাখলে অতিথিরা প্রথম দেখাতেই উৎসবের আমেজ পাবেন।
আপনার ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার স্পর্শে ঘর হয়ে উঠুক ঈদের আনন্দের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ুক উষ্ণতা, অতিথিদের মনে জাগুক প্রশান্তি, আর আপনার হৃদয়ে ফুটে উঠুক এক গভীর তৃপ্তির অনুভূতি।