banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 220 বার পঠিত

ফিলিস্তিনপন্থী জারাহ সুলতানার নতুন রাজনৈতিক ঘোষণা

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন এক বামপন্থী ধারা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক লেবার পার্টি এমপি ও ফিলিস্তিনপন্থী নেতা জারাহ সুলতানা। জেরেমি করবিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার কথা জানান সুলতানা।

সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে সুলতানা বলেন, “ওয়েস্টমিনস্টার ভেঙে পড়েছে। তবে সংকটটা এর চেয়েও গভীর। আজকের যুক্তরাজ্যে মাত্র ৫০টি পরিবার দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক।”
তাঁর মতে, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

সুলতানার ভাষায়, তাঁদের এই নতুন দলটি হবে লেবার, কনজারভেটিভ এবং রিফর্ম ইউকের মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ব্যর্থতা ও বিশ্বাসভঙ্গের’ বিরুদ্ধে কার্যকর একটি বিকল্প। তবে দলটির কাঠামো ও নীতিমালা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নীতিমালা ঘোষণা করা না হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সুলতানার বক্তব্য থেকে দলটির অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট।

জারাহ সুলতানা জানিয়েছেন, তাঁদের দলের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের বাইরে একটি শক্তিশালী বামপন্থী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তাঁর অভিযোগ, “এই তিন দলই ধনকুবেরদের পক্ষেই কাজ করছে।” তিনি বলেন, নতুন দলটি দারিদ্র্য বিমোচন এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেবে।

বিশেষভাবে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের অনীহার সমালোচনা করেন সুলতানা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সরকারের বাজেট যেন ‘অবিরাম যুদ্ধের জন্য নয়, বরং জনসেবায় ব্যয় করা হয়’। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কমিয়ে সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পক্ষপাতী।

সুলতানা বরাবরই ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার। নতুন দলটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ফিলিস্তিনপন্থা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টারমার সরকারের বিরুদ্ধে ‘গাজায় গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ’ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ জনগণ চায় সরকার যেন যুদ্ধের পরিবর্তে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনকল্যাণে বেশি ব্যয় করে।

জেরেমি করবিনও এ বিষয়ে সুর মিলিয়ে বলেন, “দারিদ্র্য, বৈষম্য ও যুদ্ধ অপরিহার্য নয়। আমাদের এখনই দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন।”

সুলতানা নিশ্চিত করেছেন, জেরেমি করবিন এই নতুন দল গঠনের আলোচনায় যুক্ত আছেন। যদিও প্রথমদিকে করবিন এ বিষয়ে মন্তব্য না করায় তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তবে পরে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “দল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।”

সুলতানা আরও জানান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন কর্মসূচিকেন্দ্রিক সংগঠকেরা এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এমন অনেক লেবার কর্মী ও সমর্থকও এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন, যাঁরা মনে করেন স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি অতিমাত্রায় ডানপন্থী হয়ে পড়েছে।

নতুন দলটির প্রতি জনসমর্থনের চিত্র এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে ঘোষণা দেওয়ার পর মাত্র এক রাতেই জারাহ সুলতানার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সাইন আপ করেছেন।

এর আগে ‘মোর ইন কমন’ নামের এক জরিপ সংস্থা জানায়, জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে একটি নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে ১০ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। ওই জরিপে লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির জন্য সমর্থন ২০ শতাংশ এবং রিফর্ম ইউকের জন্য ২৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

ফলে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দলটি বড় দুই দলের ভোট ভাগ করে দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে হলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব অপরিহার্য হবে।

Facebook Comments Box