banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 300 বার পঠিত

 

চেমন আরা বেগম: আলোকিত সন্তানের গর্বিত জননী

চট্টগ্রামের পটিয়ার নিভৃত গ্রাম নাইখাইনের এক প্রান্তে ছায়াঘেরা একটি বাড়িতে বাস করেন এক অনন্য মা—চেমন আরা বেগম। বয়স ৭৮ বছর। তিনি শুধু ১১ সন্তানের জননী নন, বরং গড়েছেন এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তা।

চেমন আরার এই জীবনসংগ্রাম কোনো রূপকথা নয়। বাস্তবেই তিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, আরাম, এমনকি প্রয়োজনীয়তাকেও বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে। তাই তো তাঁর এই লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্র তাঁকে সম্মান জানিয়েছে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কারে।

চেমন আরার সন্তানদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ই যেন একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস—
বড় ছেলে মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক।
দ্বিতীয় সন্তান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন: সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
তৃতীয় মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন: লক্ষ্মীপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ।
চতুর্থ পারভীন আকতার: নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত।
পঞ্চম মোহাম্মদ আলমগীর: পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার।
ষষ্ঠ সেলিনা আকতার: বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
সপ্তম মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন: শিশুরোগবিশেষজ্ঞ।
অষ্টম অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ: পটিয়া সরকারি কলেজে পদার্থবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক।
নবম আবু সাদাৎ মুহাম্মদ সায়েম: চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
দশম রেজিনা আকতার: হোসাইন আহমদ সিটি করপোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
একাদশ মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ও রেসিডেন্ট অ্যাডভাইজার।

স্বামী প্রয়াত আবদুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটির কর সংগ্রাহক। সীমিত আয়ের সংসারে থেকেও এই মা সন্তানদের জন্য সঞ্চয় করেছেন স্বপ্ন, আর নিজেকে বিলিয়ে গড়েছেন ভবিষ্যৎ।

চেমন আরা বেগম সমাজের চোখে চোখ রেখে দেখিয়ে দিলেন—একজন মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সীমাহীন ত্যাগ আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা কেমন করে একটি পরিবারকে নয়, গোটা সমাজকেই আলোকিত করতে পারে। তাঁর জীবন শুধুই একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং এটি এক অনন্য মা-মানবীর সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাফল্যের ইতিহাস। এই মায়ের হাত ধরেই বেড়ে ওঠা সন্তানরা আজ দেশের নানা প্রান্তে আলোর মশাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

এমন মায়েরা সমাজের নীরব স্থপতি। তাঁদের প্রতি রইলো আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

Facebook Comments Box