শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

 

‘ক্যান্সার প্রতিরোধ’ : কোনো উপায় আছে কি?

ডা.মারুফ রায়হান খান


‘ক্যান্সার’ এই একটি শব্দের মাঝে যে লুকানো কতো ভয়-শঙ্কা-আর্তনাদ আর হাহাকার তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানে। ব্যাপারটা খুব বেদনাদায়ক যে ইদানিং খুব ফ্রিকোয়েন্টলি আমরা প্রিয় মানুষদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সংবাদ পাচ্ছি।
American Cancer Society বলছে এ বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষ ক্যান্সারে মারা যাবেন। আমরা সবাই জানি, প্রিভেনশান ইজ বেটার দ্যান কিওর।

এখানে সহজ ভাষায় ক্যান্সার প্রতিরোধের কিছু উপায় লেখার চেষ্টা করছি।

১। যত দ্রুত সম্ভব সিগারেট খাওয়াটা ছেড়ে দিতে হবে। এমনকি প্যাসিভ স্মোকিংও যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাই আপনার কাছের মানুষজনদেরও সিগারেট খাওয়াটা বন্ধ করাতে হবে আপনার স্বার্থেই। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে খুব কম অঙ্গই আছে যেখানের ক্যান্সারের সাথে স্মোকিংয়ের সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে পুরুষদের সবচেয়ে বেশি হয় ফুসফুসের ক্যান্সার। যা স্মোকিংয়ের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এছাড়াও স্মোকিং মুখ, ঠোঁট, নাক, সাইনাস, স্বরতন্ত্র, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কিডনী, মূত্রথলী, গর্ভাশয়, জরায়ুমুখ, কোলন, মলাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি ক্যান্সারেরও কারণ।

২। মদ্যপান করা যাবে না। মুখ, গলা, লিভারের ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

৩। যারা বেশি স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী, তাদের ওজন কমাতে হবে। স্তন, বৃহদান্ত্র, মলাশয়ের ক্যান্সারের সাথে সংশ্লিষ্ট।

৪। রোদে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

৫। চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে ফেলতে হবে। স্তন, অন্ত্র, মলাশয়, প্রোস্টেট গ্ল্যাণ্ডের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া।

৬। প্রচুর পরিমাণে ফ্রেশ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। এসবে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সারে প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

৭। নিয়মিতভাবে সারভাইকাল স্মিয়ার টেস্ট করতে হবে (জরায়ু মুখের একটা পরীক্ষা)। বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় জরায়ুমুখের ক্যান্সারে। যাদের একের অধিক সেক্সুয়াল পার্টনার থাকে, খুব ঘনঘন বাচ্চা জন্ম দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, জন্মনিরোধক পিল সেবন করে তাদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৮। প্রতিমাসে একবার স্তন পরীক্ষা করতে হবে, যেটা নিজে নিজেও করা সম্ভব। সহজ ৫ টি ধাপ অনুসরণ করে সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সাম (BSE) করা যায় নিজে নিজে। সারা বিশ্বে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি নারী আক্রান্ত হয় স্তন ক্যান্সারে। যাদের পরিবারে অন্য কারও স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তুলনামূলক কম বয়সে মাসিক শুরু হয় এবং বেশি বয়সে মাসিক বন্ধ হয়, যাদের বাচ্চা নেই, বেশি বয়সে প্রথম বাচ্চা নেয়, বুকের দুধ বাচ্চাকে কম পান করায়, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খায় তাদের স্তন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেশি থাকে।

প্রভাষক
ফার্মাকোলজি বিভাগ
এনাম মেডিকেল কলেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর