শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

ব্রেকিং নিউজ :

 

রত্নগর্ভা এক মায়ের গল্প

২০১৭ সালে পেয়েছেন সেরা জয়িতা- রত্নগর্ভা অ্যাওয়ার্ড ‘রত্নগর্ভা মা’ মোছা:হামিদা বেগম। সুন্দর আলোয় উদ্ভাসিত এই মা নিজের দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস ও সততা কারণে গৌরব অর্জন করেছেন।
img20171210_145908
মা তার সন্তানদের রত্ন বানানোর স্বপ্ন থেকে কখনও সরেননি একচুলও।

একজন গ্রাম্য মাতব্বরের খুব সাধারণ স্ত্রী ছিলেন তিনি। এক সংগ্রামী মা। তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে সমাজের নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। যে সংগ্রামের শুরু তার শৈশব। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন তার বড় পরিচয় তিনি একজন সফল মা।
হামিদা বেগম ছিলেন একান্নবর্তি সংসারের পরিবারের বউ আর তাই দায়িত্বটাও ছিল বেশি। ৩০/ ৩৫ জনের ঢেকি-হেঁসেল-হাড়ী ঠেলে ক্লান্ত। হাজবেন্ড কর্মপাগল সামাজিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জন্য সন্তানদের শাসন-সোহাগের যে শুন্যতা তৈরী হত তাও তিনি একাই পুষিয়ে দিয়েছেন। সব ক্লান্ত ঠেলে সেই মা রাতের বিছানায় স্বপ্ন বুনতেন রোজ। সংকল্প করেন হামিদা সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলার।

হামিদা বেগমের ছেলে মেয়েরা সবাই স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত আছেন। তার সন্তানদের সম্পর্কে জানা যায়,

বড় সন্তান ড. আব্দুস সালাম আযাদী। তিনি লেখাপড়া করেছেন রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল সহ মাস্টার্স। বৃটেনের অয়েলস এ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

মেজো ছেলে, আর্মি মেডিক্যাল কোরে জয়েন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন।

ছোট ছেলে আব্দুস সামাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে ইংরেজী বিভাগ থেকে এম এ করেছেন। বর্তমানে ঢাকার তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় অধ্যাপনা করছেন।

বড় মেয়ে তাসলিমা রহমান একটি কুরআন একাডেমি পরিচালনা করছেন। হাজবেন্ড একটি ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।

মেজো মেয়ে সেলিনা হাবীব কামিল এম এ। একটি ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসায় অধ্যাপনা করছেন। তার হাজবেন্ড একটি মহিলা মাদরাসায় অধ্যাপক।

সেজো মেয়ে নুরুন্নাহার লাভলি কামিল এম এ করেছেন।একটি কুরআন একাডেমির ইনস্টাক্টর হিসাবে আছেন।

এরপর নাজমুন্নাহার স্বপ্না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ করেছেন। তার হাজবেন্ড কর্মরত আছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে।

সবার ছোট শামসুন্নাহার মলি আই আই ইউ সি থেকে ইংরেজীতে অনার্স শেষ করেছেন। বর্তমানে ফিনল্যান্ডে আছেন ফেমিলী সহ।

মা কে নিয়ে একজন সন্তান লিখেছেন— ‘তার ঘরটি ছিল মাটির কিন্তু তিনি সোনা ফলানোর স্বপ্ন দেখতেন। শীতের রাতে যে বিছানাটাতে ঘুমোতেন সেটার ভিতরে তুলো ছিলো না। যে জায়নামাজে বসে আরশের মালিকের কাছে আমাদের জন্য হাত তুলে বসে থাকতেন সেটা মখমলের ছিল না। এতগুলো ভাইবোনের কত প্রয়োজন মিটাতে হত অথচ তার হাতে দুটো টাকা থাকতো না। অনেক বড় বড় স্বপ্নভরা গল্প শুনাতে শুনাতে আমাদের দুচোখে স্বপ্ন এঁকে দিতেন।’

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত আট সন্তানের এই জননী। তিনি প্রতিটি সন্তানকে শিক্ষায় এবং নৈতিকতায় পরিপূর্ণ আলোয় আলোকিত করে তুলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন।

আট সন্তানকে গর্ভে ধারন করে তিনি যেমন মা হয়েছেন আবার গর্ভে ধারন না করেও অনেকের মা ডাক শুনে যাচ্ছেন। স্বমহিমায় উজ্জ্বল পথের দিশারী অন্যদের কাছেও।

ফাতেমা শাহরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর