শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং, ,

 

‘একজন রাকিবার কথা বলছি’

চমৎকার রৌদ্দজ্জল সকালে বারান্দায় মাদুর পেতে বসে আছে হয়ত ওরা তিন ভাই বোন কল্পনায় সেই চিত্র। ওদের মা রাকিবা আখতারের সাহসিকতা গল্প জানানোই আজকের আর্টিকেলের মুল উদ্দেশ্য। যা মা দের অনুপ্রেরণা যোগাবে। ‘সফলতা’ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে একটি কাঙ্ক্ষিত শব্দ। সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠির কাছে তাদের পেশার বৈচিত্র্যতার ধরণ অনুযায়ী সফলতা একেক অর্থ বুঝায়। তবে ধরণ যাই হোক না কেন সফলতার শীর্ষে যারা পৌঁছে যেতে পারেন তারা হয়ে ওঠেন আমাদের প্রিয় ‘হিরো’।

জগতের প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়ে টিকে থাকা এই ‘মা’ তাকে নিয়েই আমাদের আয়োজন ‘একজন রাকিবার কথা বলছি’ ।

সেদিন ফেইস বুকের একটি পোষ্টে (https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1541462359251846&id=260876280643800) চোখ আটকে গেল। একজন মায়ের সংগ্রামের কথা , রাকিবা নামের একজন সাহসী মা অপরাজিতার ভাষায়, তুমিও কি রাকিবা হতে চাও? সেই ‘সফলতা’ অনুভূতির কথা বলি।

সফলতার গল্পগুল অনেক মানুষকে স্বপ্ন দেয়। যার জন্য আমরা সবসময় সফল মানুষদের শুরুর দিকের গল্প শুনতে আগ্রহী হই। পরবর্তীকালে আপন যোগ্যতা বলে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম। এদের মধ্যে রাকিবা আক্তার একজন।

বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, নারীকে বেশি বেশি সম্মান করতে হবে। মায়ের তুলনা অন্য কারো সঙ্গেই হয় না।

রাকিবার ভাষায় বলতে গেলে, ‘৬ বছর বয়স ছিল আমার মেয়েটি, আমার বড় ছেলের বয়স তখন ৩ বছর এবং আরেকজন তখন সবেমাত্র ৫মাস, বিশ বছর আগের কথা বলছিলেন তিনি, যখন তিনি ঢাকা থেকে চলে যান।’

কাক ডাকা ভোর থেকে কাজ শুরু হয় তার, শেষ হয় সবার শেষে। বাইরে কাজের পাশাপাশি সংসারেও তাকে সময় দিতে হত।

তিনি বলছিলেন, ‘আমি টাকা উপার্জন করতাম তখন মাইলের পর মাইল হেটে, ছাত্র ছাত্রীদের অংক করাতাম, টিউশনি করাতাম কিন্তু নিজের জন্য অহেতুক টাকা /পয়সা খরচ করেনি কখনও বরং সন্তানদেরকে পড়াশুনা করানোর জন্য সংগ্রহ করতাম। কখনও কখনও দেখা যেত একদিনে ৮ কিলোমিটারের বেশি পথ হাঁটতে হতো। প্রতিদিন আমি সেই সকাল ৭টায় শুরু করি দিন এবং রাত ১১ টায় সময় কাজ শেষ করার পর বাড়িতে ফিরতাম। বেশিরভাগ সময় দেখা যেত আমি কোন যানবাহনই ব্যবহার করিনি।’

সত্যি এটা একজন মায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আজকের দিনে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হচ্ছে। আর এই অর্থ সে শুধু নিজের প্রয়োজনেই খরচ করছেন তা কখনও নয়, সন্তানদের কল্যাণেই জন্য ব্যয় করা মুল বিষয় থাকে।

রাকিবা বলছিলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাদের পড়াশুনা আর শিক্ষা দান করার জন্য অর্থ সঞ্চয় করতাম। হয়ত এ জন্য পুরো দিন না খেয়ে থাকতে হত পুরোটা দিন, সারাদিন কাজের চাপে আমি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন ছেড়ে কখনই চলে আসিনি!’

এক পর্যায়ে রাকিবা তার নিজের ছোট্ট বেলার স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর তখন আমি আমার বাবার হারাই এবং আমি আমার পরিবারের বড় মেয়ে ছিলাম, তাই আমার পুরো পরিবারের যত্ন নেবার দায়িত্ব ছিল। আমি তখন কাজ করতাম এবং একই সাথে আমি আমার পড়াশুনাও অব্যাহত রেখেছিলাম। আমি সবসময় আমার সন্তানদেরকে বলি, আমার সম্পর্কে, আমার সংগ্রামের কথা এবং তাদের পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাই। আমাকে কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হত সে ব্যাপারে তারাও বুঝত।’

সন্তানদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তার ভাষ্যমতে, ‘তারা সবসময় আমাকে আসত্ত্ব করেছে, আমার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য তারা সবচেয়ে সেরাটি আমাকে উপহার দিবে, এই আশাটি ওরা দিয়েছিল আমাকে সবসময়। আমার ছেলেমেয়ে সবসময় পড়াশুনার ব্যাপারে প্রচন্ড আগ্রহী।অতিরিক্ত কোন রূপ চাহিদা ছিল না তাদের। না ছিল অতিরিক্ত দাবি দাওয়া এবং আমরা খুব সহজ সাধারণ জীবনযাপন করেছি! হা, এখন আমার বড়মেয়েটি একজন ডাক্তার এবং আমার বড় ছেলে যান্ত্রিক প্রকৌশলী। আমার ছোট ছেলে পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার সম্পূর্ণ স্বপ্ন কেবলমাত্র আমার দৃঢ়সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রম। পাশাপাশি অজস্র ত্যাগ তিতিক্ষা। আমি তৈরি করেছি, এটি সত্যি।’

বর্তমানে রাকিবার কি করছেন জানতে চাইলে,তিনি জানান, ‘চার বছর আগেই,আমি আমার নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে ফার্মেসিকে শুরু করেছি; এখন আমি আর পড়াশোনা করি না। আমি এই ফার্মেসি দিয়ে উপার্জন করছি। এই আয় দিয়ে আমি আমার পরিবারের যত্ন নিই।’

প্রত্যেক নারীই যদি কাজ করতে শুরু করে। সত্যি তবে আর কেউ দারিদ্র্য থাকবে না। নারী এগিয়ে এলেই সমগ্র সমাজ এগিয়ে যাবে, এখন পাশাপাশি নিজেদের জীবন মানেরও পরিবর্তন আনতে পারবেন। আমি সবসময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যে আমি যেন কর্মরত অবস্থায় এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে পারি। _ রাকিবা আক্তার(৪৭)

মুলত মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ। মা সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। মায়ের জীবনে চাওয়া-পাওয়া একটাই সন্তানের মঙ্গল কামনা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর