শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং, ,

 

“বই কাব্য” -আফরোজা হাসান

“ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা।” কথাটা কে বলেছেন মনে করতে পারছি না! কিন্তু বই বিশেষ করে জীবনী পড়ার সময় আমার সত্যিই মনে হয় যেন কথা বলছি সেই বইয়ের লেখকের সাথে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনিষীদের
চিন্তা-চেতনা, স্বপ্ন-কল্পনার মাঝে অবগাহন করে তুলে নিতে চেষ্টা করি মূল্যবান সব মোতি।
img20171117_134600
ছোটবেলায় ভাইয়ার কাছ থেকে জেনেছিলাম, পৃথিবীর শুরু থেকে যুগে যুগে কত শত জ্ঞানী-গুণীরা এসেছেন। আমাদের মতো তারাও কাটিয়েছেন নানারঙের দিন, তাদেরও ছিল জীবনকে ঘিরে আনন্দ-বেদনার কাব্য। তাদের সবার সান্নিধ্য পাওয়া তো সম্ভব নয়। তবে তাদের সেই সব মূল্যবান অভিজ্ঞতার কথা আমরা জানতে পারি তাদের লিখে যাওয়া বইয়ের মাধ্যমে।
img20171117_134333
আসলেই বই এক অদ্ভুত মিরাকল। বইয়ের আছে পাখীর মত ডানা। আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে যেখানে যেতে চাই সেখানেই। বইতে সওয়ার হয়ে আমরা ঘুরে বেড়াতে পারি পৃথিবীর আনাচে, কানাচে, গহীন আমাজন জঙ্গলে, গভীর সমুদ্রে, বহু আলোকবর্ষ দূরের কোন গ্রহে, চন্দ্রে এমনকি ব্ল্যাকহোলের ভেতরেও।
img20171117_134455
এমন মানুষ যারা কোনদিনও নিজ দেশের বাইরে যেতে পারবে না তারাও বইয়ের আয়নাতে চোখ রেখে দেখতে পারে পৃথিবীর সুউচ্চ শৃঙ্গ হিমালয়, পিরামিড, নীলনদ, মরুভূমির সেই পথ। সেই গুহা যা এক সময় আলোকিত ছিল আমাদের প্রিয় রাসূল (সঃ) এর স্পর্শ আলোতে। যেখানে রচিত হয়েছিল মুসলিমদের প্রথম বিজয়ের উপাখ্যান।
img20171117_134427
স্পেনের সেই উপকূল যেখানে ইউরোপের ঘুম ভাঙ্গানিয়া গান গেয়েছিলেন তারিক বিন যিয়াদ। মুসলিম সৈন্য ও তাদের সেনাপতির শৌর্যবীর্য ও সাহস দেখে সেনাপতি থিওডোমির বিস্মিত ও স্তম্ভিত হয়ে রাজা রডারিককে পাঠানো সেই বার্তা “সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও অদ্ভুত শৌর্যবীর্যের অধিকারী মুসলিম বাহিনীর অগ্রগতি আমি রুখতে পারলাম না।” ইতিহাস কি? ইতিহাস হচ্ছে যে কোন জাতির দর্পন। যে দর্পনের আলোতে জাতি আত্মপরিচয়ের সৌভাগ্য লাভ করে, এবং পায় চলার পথের সন্ধান, প্রেরণা, দিক নির্দেশনা। বইয়ের কল্যাণে আমরা জানতে পারি আমাদের সেই অতীত ইতিহাস। যেই ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়ানো রয়েছে আগামীর জন্য শত সহস্র শিক্ষা।
img20171117_134648
মুসলিম বিশ্বের বিপর্যয়ের কারণ সমূহ পড়তে গিয়ে জেনেছিলাম যে, এই বিপর্যয়ের মূলে বড় তিনটি কারণ হচ্ছে আদর্শ বিমুখতা, বিজ্ঞান বিমুখতা ও ইতিহাস বিমুখতা। আর মুসলিমদের আদর্শ চেতনা ততদিন পর্যন্ত ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে উঠতে পারবে না, যতদিন পর্যন্ত না তাদের মধ্যে গভীর ইতিহাস চেতনা সঞ্চারিত হয়। কেননা ইতিহাস জানা না থাকলে মুসলিমরা তাদের প্রকৃত শত্রু-মিত্রকে চিনতে পারবে না! জানতে পারবে না ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কত ছদ্মবেশে, কত কৌশলে, কত রঙে, কত রূপে শত্রুরা মুসলিম জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে, ধোঁকা দিয়েছে, বিপর্যস্ত করেছে। আমাদেরকে তাই আমাদের ইতিহাস জানতে হবে। পড়তে হবে বেশি বেশি বই……………।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর