শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং, ,

অস্বাভাবিক যৌনাচার আমাদের কি ক্ষতি করছে

কোথায় অধিকার কোথায় অধিকার

প্রচুর কেইস স্টাডি করতে হচ্ছে। আমি ব্যাপারটা এনজয় করি, কিন্তু খুব কষ্ট লাগে… ভাবি, মানুষ যে কেন এমন হয়…।
জিনিসটা দামী, সুন্দর, দুর্লভ, মনোমুগ্ধকর হতে পারে কিন্তু জিনিসটা ত আমারই সম্পত্তি, কেউ ত নিয়ে যাচ্ছেনা। আমারই ত! আমি ত যখন চাই এটা হাতে নিয়ে দেখতে পারি, ব্যবহার করতে পারি যেভাবে চাই সেভাবে, কেউ ত আরা করার নেই।
পুরুষেরা এটা ভুলে যায় যে, একজন মানুষকে কখনো সম্পত্তি বানানো যায়না, দখল করা যায়না, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা যায়না। একজন মানুষকে প্রতিদিন নিজের করে নেওয়ার জন্য ভালোবাসা দিয়ে যত্ন করতে হয়। যতদিন এই চেষ্টা থাকে, ততদিন বন্ধন থাকে। এছাড়া যেটা কাগজে থাকে, সেই কাগজ সামাজিকতা ছাড়া আর কী?

নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঘটনা এমন যে, যখন তারা নিজেকে একেবারে সমর্পণ করে দেয়, খুব বেশি নির্ভর করতে শুরু করে সঙ্গীর উপর, তখন কেন জানি পুরুষেরা তাদের উপর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে… কিংবা এই নারীটিকে তার অর্জন করা হয়ে গেছে ভেবে শো’কেসে(পড়ুন ঘরে) ফেলে রাখে(ব্যতিক্রম ভিন্ন কথা)। কখনো দরকারে ব্যবহার করে, কিন্তু তার প্রতি আকর্ষণ আর সেভাবে বোধ করেনা।

আর পুরুষদের ব্যাপারটা আরো কষ্টকর… আমার খুব কষ্ট হয়েছিল আক্ষরিক অর্থেই। সামাজিক ভাবে অনেকরকম স্ট্রাগল তাদেরকে করতে হয়। কিন্তু এই সময়ে তারা যে কতকিছুর মধ্য দিয়ে যায়, কতটা মানসিক শক্তি থাকতে হয়, কতকিছু মুখ বুঝে মেনে নিতে হয় আর পুরুষ বলে সেটা কখনওই প্রকাশ করতে পারেনা এই পুরুষ শাসিত সমাজে, যেখানে পুরুষের দূর্বলতা থাকতে নেই, সেটা গভীরে না গেলে দেখা সম্ভব না।
নারীদের সমস্যাগুলো আমরা জানি। তারা বলার জায়গা পেলে বলে। কিন্তু এই সমাজে একজন পুরুষ প্রায় কিছুই বলতে পারেনা যা তার গোটা জীবন জুড়ে ঘটে যাচ্ছে। কারণ তাকে বলতে দেওয়া হয়না। তার বলার নিয়ম নেই।।

আমাদের সমস্যা কি
আমাদের সমস্যা কি

আরেকটা জিনিস কি জানেন, এই বাংলাদেশে, এই মুসলিম প্রধান ও রক্ষণশীল চিন্তাধারার দেশে, যেখানে যৌন বিষয়গুলো একটা নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতরে আবদ্ধ রাখার অলিখিত আইন আছে, সেখানে প্রায় ৯০% বা তারও বেশি মানুষের সমস্যাগুলো যৌনতা বিষয়ক।
আপনি কথা বলার সুযোগ দেন প্রপারলি, দেখবেন কি ভয়ংকর এক মহামারী এই সমাজের ভেতরটা নিঃশব্দে খেয়ে শেষ করে ফেলেছে অথচ আপনি টেরও পাননি।

না বলা কথা না বলা কথা

যৌনতার সমস্যা বলতে কেবল, বিবাহ বহির্ভূত বা বিবাহপূর্ব ব্যাভিচার নয়, অস্বাভাবিক ও চরম বিকৃত যৌনজীবন চর্চাকারী একটি অসুস্থ সংস্কৃতি সবার অলক্ষ্যে গড়ে উঠছে।
কিভাবে গড়ে উঠছে তা আপনি আমি দেখছিনা, তাকাচ্ছিনা, অংশগ্রহণ করছিনা বলে আমি আপনি মুক্ত হয়ে যাচ্ছি তা না। বরং এই যে আপনি এই লেখাটায় “যৌনতা” শব্দটা দেখে অস্বস্তি বোধ করছেন, এই ব্যাপারটাও এসব অস্বাভাবিকতাগুলোকে স্পেস দিচ্ছে।

আপনি হয়ত অভ্যস্ত না, কিন্তু আপনি এই অসুস্থ সমাজেরই একটা অংশ। আর নগরে আগুন লাগলে, সে আগুন মসজিদ-মন্দির আলাদা করেনা, হিন্দু বা মুসলমান বুঝেনা।
ধরুন আপনি একজন অভিভাবক। আপনার ছেলেকে শহরে পাঠিয়েছেন উচ্চশিক্ষার্থে। আপনি কি কল্পনাও করবেন, আপনার আদরের ছোট্ট ছেলেটি, প্রাপ্তবয়স্ক একজন যুবক হওয়ার পরেও একই পরিবারের মা ও মেয়ের ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয়ে প্রতিদিন উভয়ের দ্বারা ধর্ষিত হতে হতে ক্লান্ত হয়ে আত্মহত্যার কথা ভাবছে?
ভাবনার বিষয় ভাবনার বিষয়

সেক্স এডুকেশনের প্রয়োজন আছে কিনা, থাকলে সেটা কিভাবে, কখন, কার মাধ্যমে, কোন বয়সে সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। সেটা উঁচুতলার আলোচনা। কিন্তু আপনার সন্তান, তার ব্যাপারে আপনাকে ভাবতে হবে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, যৌনতা তিনটি সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সমাজ তৃষ্ণা মেটাতে অসংখ্য স্বাদের পানীয়, ক্ষুধা মেটাতে অগণিত রেস্তোরাঁয় অফুরন্ত খাবার অফার করছে, যৌনতার ক্ষেত্রে কিছুই অফার করছেনা ভাবছেন? আপনি নাক সিটকালে বা চোখ ফিরিয়ে নিলে এটা বিলুপ্ত হয়ে যায়না।
সচেতন হোন। প্লিজ।

মানুষ বুঝা মানুষ বুঝা

আর আমরা, এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসাবে নারীদেরকে স্বনির্ভর করছি, সুযোগ দিচ্ছি, নিজে নারী হিসাবে সে সুযোগ আমিও নিচ্ছি, তা পাচ্ছি বলে। কিন্তু পুরুষের সুযোগ সংকুচিত করে নারীকে প্রাধান্য দেওয়া হোক তা আমি চাইবো না। এই সমাজে মানুষ রুপী পশু হিসাবে বেড়ে ওঠা পুরুষদের আপনি আমিই তৈরি করছি। তাকে স্বাভাবিক আবেগ, স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দিয়ে, তার আবেগকে তাচ্ছিল্য করে, তাকে আরো আরো আরো পুরুষালি হতে বাধ্য করে ও অনেক স্পর্শকাতর স্থানে ক্রমাগত বঞ্চিত করে পাশবিক এক সত্তা তার মধ্যে বেড়ে উঠতে ও তাকে মানবীয় অনুভূতি বুঝতে অক্ষম এক জন্তু হিসেবে গড়ে উঠতে বাধ্য করছি। আর তার উপরে আরো চাপিয়ে দিচ্ছি এক্সপেকটেশনের বিশাল বোঝা। আর এভাবেই বেঁচে থাকতে থাকতে একজন অমানুষের মত আচরণ করা ব্যক্তি বুঝতেই পারেনা তার আচরণটা গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি এগুলো নিয়ে ভাবতে চান না? এছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে? আছে। কিন্তু বাসে আপনার বা আপনার স্ত্রী, বোন বা কন্যা সন্তানের পায়ের সাথে পা ঘষতে থাকা ব্যক্তিটিকে আপনি কিভাবে শায়েস্তা করবেন? সে না থাকলে আরেকজন, নইলে আরেকজন, নইলে আরেকজন তার জায়গা পূরণ করবে। কিন্তু যে মেয়েটির স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করা হয়েছে বলে সে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা গোসল করে আর চিৎকার করে কাঁদে, তাকে স্বাভাবিক জীবন আপনি কিভাবে ফিরিয়ে দেবেন? স্পর্শকারীকে ফাসি দিয়ে?
অতি আধুনিকতা ও অতি রক্ষণশীলতা একত্রে গিলতে গিয়ে এই সমাজের বদহজম হচ্ছে।

শিক্ষা দরকার শিক্ষা দরকার

যৌনতার ব্যাপারগুলোকে আপনি কিভাবে দেখবেন আপনার ব্যাপার, কিন্তু বাথরুম সাফ করতে ঘেন্না লাগে বলে পুরো ঘর পরিষ্কার করলেন বাথরুম ছাড়া, কি লাভ? বাথরুমে স্যার/ম্যাম, আপনাকে যেতেই হবে। আর অপরিচ্ছন্ন বাথরুম ব্যবহার করলে পরে রোগবালাইও আপনারই হবে।

সুমাইয়া তাসনিম
সাইকোলজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর