শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

ব্রেকিং নিউজ :

 

উদ্যোগ ফেসবুকেই

চামড়ায় তৈরি ছেলেদের একটি স্যান্ডেলের ছবি। স্যান্ডেলের মাপ দেওয়া আছে। দাম দেওয়া আছে। ছবির নিচে অনেকেই স্যান্ডেলটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনেকে ছবির মাপের চেয়ে ছোট বা বড় স্যান্ডেল আছে কি না জানতে চেয়েছেন। একইভাবে মডেল বিভিন্ন ধাঁচের ব্যাগ হাতে, কাঁধে নিয়ে বসে আছেন, দাঁড়িয়ে আছেন। আগ্রহীরা নানান কিছু জানতে চেয়েছেন। তারপর যিনি কিনতে চান তাঁর কাছে পৌঁছে গেছে ব্যাগ বা স্যান্ডেলটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইন্টারনেটে ই-কমার্স অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন অনেকেই ঝুঁকছেন এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্য। চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসার ক্ষেত্রে তানিয়া ওয়াহাবের নাম পরিচিত। প্রায় ১১ বছরের অভিজ্ঞতা। তবে এবারই প্রথম ঈদের আগে ফেসবুককে ব্যবহার করে নতুন আঙ্গিকে ব্যবসায় নেমেছেন বলে জানালেন ট্যানের স্বত্বাধিকারী তানিয়া ওয়াহাব। তিনি জানালেন ট্যানের ব্যাগ, ওয়ালেট, স্যান্ডেল, বেল্ট, টিস্যু বক্সসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য কোনো শোরুম নেই। ফ্যাক্টরি থেকে সরাসরি পণ্যের ছবি আপ হচ্ছে ফেসবুকে। স্যান্ডেলের বেলায় অনেকে মাপ বলতে পারেন না। তাঁদের ফেসবুকের ইনবক্সে তাঁর পায়ের মাপ পাঠাতে বললে সে অনুযায়ী স্যান্ডেল কুরিয়ার করে পাঠানো হচ্ছে।

তানিয়া ওয়াহাব বলেন, এখন যানজটসহ বিভিন্ন কারণে এক এলাকার মানুষ শপিংয়ের জন্য অন্য এলাকায় যেতে চান না। সব এলাকার মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছাতে হলে বিভিন্ন এলাকায় শোরুম থাকতে হবে। খরচ অনেক বেশি। ফেসবুকে সে ঝামেলা নেই। জামালপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকের কল্যাণে। লেদার নিয়ে নতুন নারী ব্যবসায়ীরা একটি সার্কেল বা দল করে ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে ফেসবুকে পণ্যকে প্রমোট (ফেস বুস্ট) করার সুযোগ নিচ্ছেন অনেকে। তানিয়া ওয়াহাব কারিগরের একজন অংশীদার। আড়ংসহ বিভিন্ন জায়গায় কারিগরের পণ্য সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে।

তানিয়া ওয়াহাব বলেন, ‘কারিগরের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সুনামের সঙ্গেই কারিগর তার নাম ধরে রেখেছে। তবে নিজের পরিচিতির জন্য ট্যান চালু করেছি। ট্যানারির একটি অংশ হিসেবেই ট্যান নামটি নেওয়া হয়েছে।’

 ‘গুটিপা’ নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছেন নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি। চামড়ায় তৈরি ব্যাগের ব্যবসা। এর আগে তিনি কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করেছেন আট বছর। তাসলিমা মিজি বলেন, দোকানভিত্তিক ব্যবসা বড় ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু বেশির ভাগ নারীর পুঁজি কম। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লোন পেতে অনেক ঝামেলা। নারীর নিজস্ব সম্পদ বলতেও তেমন কিছু নেই। অনেক সময় পরিবারও চায় না নারী ঘরের বাইরে গিয়ে ব্যবসা করুক। এই এত সব সমস্যার সমাধান ই-কমার্স বিজনেস। বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষেরই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে বা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। আধুনিক ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রযুক্তির বদৌলতে ছবিতে একটি পণ্যের বলতে গেলে পুরোটাই তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন ডিজিটাল এজেন্সি পণ্যটি দ্রুত সময়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

তাসলিমা জানালেন মিরপুরে তাঁর কারখানা। বাসা এলিফ্যান্ট রোডে। সার্বক্ষণিক গৃহকর্মী না থাকায় সার্ভেন্ট রুমকে তিনি পণ্যের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন এবং আরেকজন ডিজিটাল মার্কেটিং ম্যানেজার নিয়েই চলছে তাঁর এ ব্যবসা। ফেসবুক এবং অন্যান্য ই–কমার্সের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চলছে পণ্যের প্রচার ও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ। আর ব্যাগের মডেল হচ্ছেন তাঁর নিজেরই বন্ধুবান্ধব। তবে তাসলিমা মিজি হেসেই বললেন, ব্যাগের ক্রেতা বন্ধুবান্ধবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর