শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

ব্রেকিং নিউজ :

Daily Archives: January 19, 2018

 

নিভে যায় নক্ষত্রের আলো 

ফাতিমা শাহীন


দরজার যন্ত্র পাখিটি ডেকে উঠলো দুবার ৷ রিডিং রুমের কাউচে বসে একটি বইয়ে ডুবেছিলাম মন্ত্রমুগ্ধের মত৷ ডোরবেল শুনে মুখ তুললাম,
থাক,
ঘরে তো লোকজন আরো আছে, খুলে দেবে দরজা কেউ না কেউ৷ আবারও ডুবলাম বইয়ের গহীনে ৷

‘আপা , পাও দুইটা একটু তুইল্লা বসেন , নিচটা ঝাড়ু দিয়া যাই …’

হুকুম মত পা তুলে বসলাম৷ তাকালাম রাহেলার দিকে, থমথমে মুখে রাজ্যের কালো মেঘ ভর করে আছে৷ চোখের কোনায় শুকিয়ে থাকা অশ্রুর দাগও কি চোখে পড়ল আমার!

‘দাঁড়াও রাহেলা!’ কি হয়েছে তোমার? শামসু বুঝি আবারও …..

আমার কথা শেষ হবার আগেই দৌড়ে এসে আমার নামিয়ে বসা পা দুটোর উপর যেন ভেঙ্গে পড়ল রাহেলা৷ একটু সহানুভুতির ছোঁয়া যেন ওর বুকের ভেতর জোর করে চেপে রাখা, ঝরনার মুখ খুলে দিয়েছে কেউ৷ জলপ্রপাতের বাঁধভাঙ্গা জলের মত অশ্রুর প্লাবন বয়ে চলেছে ওর চোখে৷

আস্তে করে শুধালাম ,

‘কি হয়েছে রাহেলা? খুলে তো বলবে আমায়, নইলে বুঝব কেমন করে?’

একটু শান্ত হয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বলল,

‘আমার দুইন্যার দিন মনে হয় শ্যাষ গো আপা! কাইলও জরির বাপে আর ফুফায় ফুফু মিল্যা এমুন মাইর মারলো আমারে! আর কইছে, আমারে আর আমার ভাইরে জন্মের মতন শিক্ষা দিয়া দিব!’

বুঝলাম এতক্ষণে! রাহেলার একমাত্র ননদ-নন্দাই ওর ঘরের আশপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে এসে উঠেছে ভাই আর মায়ের কাছাকাছি থাকবে বলে৷ আর এসেই শুরু করেছে ভাইয়ের সংসারের উপর খবরদারি৷ সুখের সংসার বলতে যা বোঝায় তা রাহেলার না থাকলেও এতদিন অন্তত নিজে উপার্জন করে খেত বলে স্বস্তিটা ছিল, এখন যেন সেটুকুর ওপরেও শকুনের নজর পড়েছে ! এখন শ্বাশুড়িও যোগ দিয়েছেন তার আদরের মেয়ের সঙ্গে৷ উদ্দেশ্য একটাই, যদি ফাঁকতালে রাহেলার ভাইয়ের কাছ থেকে নগদে কিছু আদায় করা যায়, তবে মন্দ কি!

ওদিকে রাহেলার ভাইয়ের অবস্থা আরো করুণ৷ নিজে করে লোহা লক্করের কারখানায় শ্রমিকের চাকরি, ওদিকে ঘরে রোগে ভোগা বুড়ো বাপ আর ৩/৪ টা অবুঝ বাচ্চার অনাহারক্লিষ্ট মুখ৷ সে ই বা বোনের শ্বশুরবাড়ির খামতি মেটায় কেমন করে!

রাহেলার কান্না আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনলো আমায়৷

‘ভাইরে কত কইছি, ভাইগো, আমারে এই জাহান্নাম থিকা ছাড়াইয়া লইয়া যাও৷ আমি তোমার ঘাড়ে বইয়া খামুনা, কাম কইরা নিজের ভাত নিজেই জোটামু৷ তাও তুমি আমারে এগো হাত থিকা বাচাও, নাইলে এরা আমারে জানেই মাইরা ফালাইবো৷’

অঝোরে কাঁদতে থাকে রাহেলা, আমারও চোখ দুটো বাষ্পাচ্ছন্ন হয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।

প্রায় চার পাঁচ দিন হয়ে গেল


রাহেলার খবর নেই৷ ওকে অনেকবার করে বলা আছে , কোনকারনে আসতে না পারলে আমাকে অন্তত একটা খবর যেন পৌঁছায়৷ কখনো কখনো জরিকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে বটে, কিন্তু এখনকার মত এভাবে না জানিয়ে এতদিন ডুব দিয়ে কখনো তো থাকেনি রাহেলা!

বাজার এসেছে৷ কর্তা পাঁচমিশালী মাছের চচ্চরি পছন্দ করেন, তাই আজ নিজে বাজারে গিয়ে মনের সুখে কেজিখানেক পাঁচমিশালী গুঁড়া মাছ নিয়ে সহাস্যবদনে হাজির হয়েছেন৷ রাহেলা আসেনি আজ৷ কে কুটবে মাছ, কে বাছবে সবজি! সে চিন্তা তো আর কর্তাকে করতে হয়না! তিনি তো বাজার করে দিয়েই নিশ্চিন্ত আর সময়মত টেবিলেও হাজির!

গজ গজ করতে করতে ডালায় মাছ নিয়ে সবে কুটতে বসেছি, হঠাৎ বাইরে চাপা একটা গোলমাল শুনে কান সজাগ করলাম৷ শুনলাম অনেক নারী পুরুষের সম্মিলিত চাপা আতঙ্কভরা ফিসফাস! উঠে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি দারোয়ান সিদ্দিক ভাইও ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে৷

‘কি হয়েছে সিদ্দিক ভাই? এত মানুষ কেন এখানে? ‘

‘আপা! সর্বনাশ হইছে! আমাগো রাহেলা …..’

আমার হৃদস্পন্দন যেন লহমায় বন্ধ হয়ে এলো৷ কি হয়েছে রাহেলার! দৌড়ে নিচে নামলাম৷ নিচে দাঁড়ানো শোকার্ত নারী পুরুষেরা হাউমাউ করে যা বলল, তাতে আমার ঝলমলে রোদ্দুরঘেরা সকালটাতে যেন মুহুর্তেই অন্ধকার অমাবস্যার রাত নেমে এলো৷ রাহেলা নেই! ওর পাষন্ড স্বামী আর লোভী, ঝগড়াটে আর হিংসুটে ননদ মিলে ওর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে! ওর চিত্কার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিভিয়েছে বটে, কিন্তু ততক্ষণে শরীরের বেশিরভাগই শেষ হয়ে গেছে চিরতরে৷ হাসপাতালে নিতে নিতেই নিষ্ঠুর এই পৃথিবী ছেড়ে ওপারের দিকে যাত্রা শুরু করেছে রাহেলা!

আমি বজ্রাহত হয়ে বসে পড়লাম৷ আমার চোখের সামনে ভাসতে লাগলো রাহেলার হাসি ভরা মুখের ছবি৷ কত যে সুখ দুখের কাহিনী উজাড় করে ঢেলেছে আমার কাছে! কখনো হাসিমুখে শুনতাম, কখনো মৃদু বকে আগে হাতের কাজ শেষ করতে তাড়া দিতাম৷ তাতে হয়ত তার মুখের প্রদীপ্ত সুর্যের উপর পাতলা সাদা মেঘ জমত ক্ষণকালের জন্য, পরক্ষনেই আবার সেই মেঘ সরে গিয়ে প্রখর রোদ্দুর খেলা করত শ্যামলা মুখখানিতে৷ আজ সেই রাহেলা নেই! চিরদিনের জন্য চলে গেছে অভিমানিনীর মত, কিভাবে বিশ্বাস করব আমি!

গলায় স্বর ফুট ছিলনা আমার, তবুও এক মহিলাকে জিজ্ঞাস করলাম,

‘ওর ভাই কোথায়? সে জানে তার বোনের খবর?’

‘হ আফা, অর ভাই আছাড়ি খাইয়া কানতাছে আর পুলিশের হাতে পায় ধরতাছে বইনের লাশের লাইগা, নিয়া মাডিডা য্যান দিতে পারে৷’

বোনের লাশ প্রার্থী অসহায় ওই যুবকটির জন্য করুণা হতে লাগলো আমার৷ তার দরিদ্র ঘরে ভাতের দাবিদার একজন বাড়বে বলে বোনের হাজারও আর্তি উপেক্ষা করেছে সে৷ বরং মানিয়ে গুনিয়ে স্বামীর সংসারকেই আপন করে নিতে কত বুঝিয়েছে বোনকে৷ আজ এসেছে বোনের লাশ নিয়ে যেতে! লাশের ভাতের দরকার হয়না, হাজারো চাহিদা মেটানোরও প্রয়োজন পড়েনা৷ বরং বোনটি লাশ হয়ে চিরকালের জন্য তার কাঙ্গাল ভাইটিকে দায়মুক্ত করে দিয়ে গেল!

চোখে আঁচলচাপা দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম ৷ এক রাহেলার চলে যাওয়ায় পৃথিবী তো থেমে নেই৷ অনেক কাজ পড়ে আছে ঘরে৷ ঘড়ি ধরে সেসব তো শেষ করতে হবে আমাকেই!

 

‘ডায়রিয়ার জীবাণু’ থেকে শিশুদের বাঁচার উপায়

ডা. মারুফ রায়হান খান


পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া। প্রতি বছর অনূর্ধ্ব -৫ বছরের শিশুদের ১০ ভাগই মারা যায় ডায়রিয়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বারবার পাতলা পায়খানা হওয়াই ডায়রিয়া।

কী হয় ডায়রিয়ার ফলে?

১. শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটস (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, বাইকার্বোনেট) বেরিয়ে যায় পাতলা পায়খানার মাধ্যমে। এর ফলে রোগী পানিশূন্যতায় এবং রক্তে ইলেক্ট্রো- লাইটসের অসামঞ্জস্যতায় ভোগে।

২. পাতলা পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক বেরিয়ে যায়। যা হলে রোগীর আরোগ্য দীর্ঘায়িত হয়, আর তা শিশুকে পরবর্তীতেও ভোগায়।

৩. ডায়রিয়াতে শিশুর ওজন কমে যায়। কারণ: খাওয়া কমে যায় – পুষ্টি উপাদান শোষণ হওয়া কমে যায়। – শরীরে পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়।

ডায়রিয়া কয় ধরনের?

৩ ধরনের। যথা :

১. একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া
২. পারসিসটেন্ট ডায়রিয়া
৩. ডিসেন্ট্রি।

এর প্রত্যেকটি নিয়েই আমরা সামনে আলোচনা করব ইন শা আল্লাহ।

একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া

যখন ডায়রিয়া ১৪ দিনের কম স্থায়ী হয় তখন তাকে একিউট ডায়রিয়া বলে। এক্ষেত্রে রোগী প্রতিদিন অনেকবার (৩ বার বা তারও বেশি) পাতলা পায়খানা করে। – এক্ষেত্রে পায়খানায় রক্ত থাকে না। – কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাথে বমি এবং সামান্য জ্বর থাকতে পারে।

কোন কোন জীবাণু দিয়ে এটি হয়ে থাকে?

১. রোটা ভাইরাস
২. ভিব্রিও কলেরি (ব্যাকটেরিয়া)
৩. ই. কোলাই (ব্যাকটেরিয়া)

শিশুর ডায়রিয়া

পানিশূন্যতার প্রকারভেদ ও মারাত্নক পানিশূন্যতারর চিকিৎসা একটি ডায়রিয়ার রোগীর কী কী যাচাই করা হয়?

১. পাতলা পায়খানা কতোবার হয়েছে?
২. পাতলা পায়খানা কতোদিন ধরে হচ্ছে?
৩. পায়খানার সাথে কি রক্ত যায়?
৪. বমি হয়েছে কি?
৫. প্রস্রাবের পরিমাণ কেমন?
৬. কী খাবার এবং পানীয় খেয়েছিল?
৭. সম্প্রতি কি এন্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খেয়েছিল?
৮. পরিবারে বা প্রতিবেশিদের মধ্যে কারও ডায়রিয়া বা ডায়রিয়াজনিত মৃত্যু হয়েছে?
৯. চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন : – পানিশূন্যতার কোনো চিহ্ন আছে কিনা – পেট ফুলে গেছে কিনা – মারাত্নক অপুষ্টির কোনো চিহ্ন আছে কিনা।

পানিশূন্যতার চিহ্নগুলো কী কী?

. যদি নিচের ৪টি চিহ্নের মধ্যে শিশুর দুটো বা তার বেশি চিহ্ন উপস্থিত থাকে, তবে শিশুর “মারাত্নক পানিশূন্যতা” দেখা দিয়েছে বলে জানতে হবে।
১. নেতিয়ে পড়া/ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
২. চোখ খুব ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া ৩. কোনো কিছু পান না করতে পারা অথবা পান করলেও খুব দুর্বলভাবে পান করা।
৪. ত্বক টান দিয়ে ছেড়ে দিলে তা খুবই ধীরে ধীরে আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া (২ সেকেণ্ড বা তারও বেশি সময়)।

. যদি নিচের ৪টি চিহ্নের মধ্যে শিশুর দুটো বা তার বেশি চিহ্ন উপস্থিত থাকে, তবে শিশুর “কিছু পানিশূন্যতা” দেখা দিয়েছে বলে জানতে হবে।
১. অস্থিরতা, অল্পতে বিরক্ত হয়ে যাওয়া। ২. চোখ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া। ৩. খুব আগ্রহসহকারে যদি শিশু পান করে, যদি তৃষ্ণার্ত থাকে।৪. ত্বক টান দিয়ে ছেড়ে দিলে কিছুটা ধীরে ধীরে আগের জায়গায় ফিরে আসে।

. আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত যেসব শিশুর “মারাত্নক পানিশূন্যতা” বা “কিছু পানিশূন্যতা”র ক্যাটাগোরিতে পড়ার পর্যাপ্ত চিহ্ন নেই তাদেরকে “পানিশূন্যতা নেই” ক্যাটাগোরিতে রাখা হয়।

একিউট ডায়রিয়ার চিকিৎসা 

ক. যাদের “মারাত্নক পানিশূন্যতা” আছে

১. শিরাপথে কলেরা স্যালাইন/ রিংগার’স ল্যাকটেট দেওয়া হয়। যদি না থাকে তবে ডেক্সট্রোজ ইন নরমাল স্যালাইন অথবা নরমাল স্যালাইন দেওয়া হয়।
২. স্যালাইন দরকার হয় : ১০০ মিলিলিটার/কেজি বডি ওয়েট।
৩. শিশুর বয়স যদি ১২ মাসের কম হয় তাহলে ৩০ মিলিলিটার/কেজি বডি ওয়েট প্রথম এক ঘণ্টায় দেওয়া হয়। তারপর পরের ৭০ মিলিলিটার/কেজি বডি ওয়েট পরের ৫ ঘণ্টায় দেওয়া হয়। ৪. শিশুর বয়স যদি ১২ মাস বা তার বেশি হয় তাহলে ৩০ মিলিলিটার/কেজি বডি ওয়েট প্রথম আধা ঘণ্টায় দেওয়া হয়। তারপর পরের ৭০ মিলিলিটার/কেজি বডি ওয়েট পরের আড়াই ঘণ্টায় দেওয়া হয়।
৫. স্যালাইন চলার সময় বুকের দুধ ছাড়া বাকি সব খাবার বন্ধ রাখা হয়।

মনিটরিং

১৫-৩০ মিনিট পরপর শিশুকে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে যতোক্ষণ না পর্যন্ত শিশুর হাতে জোরালো রেডিয়াল পালস না পাওয়া যায়। – যখন হিসেব অনুযায়ী পুরো পরিমাণের স্যালাইন দেওয়া শেষ হয়ে যাবে, তখন শিশুকে
আবার যাচাই করতে হবে এবং
নিম্নোক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে :

*১. যদি তখনও “মারাত্নক পানিশূন্যতা” থাকে, তবে আবার “মারাত্নক পানিশূন্যতা”র চিকিৎসা পূর্ববর্ণিত উপায়ে দিতে হবে।
*২. যদি “কিছু পানিশূন্যতা” থাকে, তবে শিরাপথে স্যালাইন বন্ধ করে মুখে খাবার স্যালাইন দেওয়া হয় ৪ ঘণ্টার জন্যে।
*৩. যদি কোনো পানিশূন্যতা না থাকে, তবে মা-কে প্রতিবার শিশুর পাতলা পায়খানা হবার পর মুখে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে বলা হয়।

খ. কিছু পানিশূন্যতা ও কিছু পানিশূন্যতা নেই

এমন ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা, ডায়রিয়া পরবর্তী যত্ন যাদের “কিছু পানিশূন্যতা”র চিহ্ন আছে তাদের চিকিৎসা :

১. মুখে খাবার স্যালাইন খেতে দেওয়া হয় হিসেব অনুযায়ী।
২. স্যালাইনের পরিমাণ : ৭৫ মিলিলিটার/ কেজি বডি ওয়েট।
৩. সময় : ৪ ঘণ্টা
৪. এ সময় বুকের দুধ ছাড়া বাকি সব খাবার বন্ধ রাখা হয়।

মনিটরিং

৪ ঘণ্টা পর শিশুকে পুনরায় যাচাই করা হয়।

তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় :

*১. যদি কোনো পানিশূন্যতার চিহ্ন না থাকে, মা-কে প্রতিবার শিশুর পাতলা পায়খানা হবার পর মুখে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে বলা হয়।
*২. যদি “কিছু পানিশূন্যতা”র চিহ্ন থাকে, তবে আবার ৪ ঘণ্টার জন্যে উপরোক্তভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
*৩. যদি “মারাত্নক পানিশূন্যতা” এর চিহ্ন থাকে, তবে শিরা পথে স্যালাইন দেওয়া হয়।

গ. যাদের পানিশূন্যতার চিহ্ন নেই তাদের ক্ষেত্রে

*১. এ চিকিৎসা শিশু বাসায় নিয়ে থাকে, তাই একে “হোম ট্রিটমেন্ট” বলা হয়।
*২. মুখে খাবার স্যালাইন, চিড়া পানি, ভাতের মাড়, লাচ্ছি ইত্যাদি খেতে বলা হয়।
*৩. প্রতিবার পাতলা পায়খানা হবার পর যদি শিশুর বয়স ২ বছরের কম হয় তাহলে ৫০-১০০ মিলিলিটার তরল খাবে। আর যদি শিশুর বয়স ২ বছর বা তার বেশি হয় তবে ১০০-২০০ মিলি তরল খাবে।

প্রভাষক
ফার্মাকোলজি বিভাগ
এনাম মেডিকেল কলেজ