শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং, ,

Daily Archives: December 13, 2017

 

“পানির বোতল দিয়ে পানি পান করছেন”

প্রায় কম-বেশি সবাই পানি বা এজাতীয় কিছুর ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করি হরহামেশায়।ফ্রিজে পানি জাতীয় কিছু রাখার ক্ষেত্রেও। কিন্তু সব প্লাস্টিকের বোতল যে আপনি ইচ্ছা করলেই যত খুশি তত ব্যবহার করতে পারেন না! কারন এটা আমরা সবাই জানি যে প্লাস্টিক মানব দেহের/পরিবেশের জন্য মোটেও ভাল নয়। এর প্রভাব নিয়ে তাই কিছু লিখলাম না।
img20171202_003605
✈এখন আসি কোন বোতল কিভাবে ব্যবহার করা যাবে!

আমি আমার স্বল্প অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরলাম। আমি নিজেও জানতাম না এর ব্যবহার।যখন আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে Partex Beverage ltd. এ Industrial Tour এ যাই তখন বিস্তারিত জানতে পারি+ইন্টারনেট থেকেও।সুতরাং আমারও ভুল থাকতে পারে।
img20171202_003412
প্লাস্টিক বোতল যখন কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হয় তখন বোতলের পানির উপর যে ফাকা অংশ থাকে সেখানে কার্বন -ডাই অক্সাইড (CO2) দেওয়া থাকে যাতে পানির সাথে প্লাস্টিক কোন বিক্রিয়া বা অন্য কোন মাধ্যমে মিশ্রিত হতে না পারে।খেয়াল করলে দেখবেন যেসব পানির বোতল ইন্টেক বা সরকার দ্বারা অথরাইজড করা সেগুলির মুখাটি খোলার পর একধরনের গ্যাস বের হয়ে আসে(কার্বন ডাই অক্সাইড) যা চোরাই বা ২ নাম্বারিং বলে জানি সেগুলিতে পাবেন না। সেজন্য সিল করা বোতলের পানি অনেকদিন ধরে ভাল থাকে।

✈এখন আসি কোন বোতল কতবার ব্যবহার করতে পারব?
img20171202_003206
খেয়াল করলে দেখবেন প্লাস্টিক বোতলের তলায় অথবা প্যাকেটের মোড়কে ত্রিকোণ একটি চিহ্ন থাকে। এই চিহ্নে বর্ণনা করা হয়, বোতলটি কতটা বিধিসম্মতভাবে তৈরি। এই চিহ্নের থাকা সংখ্যা দিয়েই জানা যাবে যে এই বোতল কতদিন ব্যবহার করা যাবে, পরিবেশে ওই বোতলের প্রভাব কতটুকু। এটি কেমন নির্ভরযোগ্য তা এই চিহ্নের মধ্যে থাকা সংখ্যা দ্বারা বোঝা যায়। ন্যাচারাল সোসাইটি ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে, প্লাস্টিক বোতলের ক্রিকোণ তত্ত্ব।
img20171202_004051
ত্রিকোণের মাঝে ১ সংখ্যা থাকলে : এর মানে বোতলটি মাত্র একবার ব্যবহার করা যাবে। বোতলটিতে পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বোতল বহু ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।
img20171202_003834
২ থাকলে: এই ধরনের প্লাস্টিক বোতলে ঘন পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত শ্যাম্পু, জুসের বোতল রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের বোতল ব্যবহার হয়। এটি তুলনামূলক নিরাপদ।

৩ থাকলে: এই ধরনের বোতল বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এই বোতল তৈরি হয় ‘পোলিভিনিল ক্লোরাইড’ বা ‘পিভিসি’ থেকে। এতে অস্থিমজ্জার সমস্যা ও লিভারের সমস্যা ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘পিনাট বাটার’ রাখতে এই বোতল ব্যবহার করা হয়।
img20171202_003953
৪ থাকলে: এই ধরনের প্লাস্টিক বহু ব্যবহারের উপযোগী। বিশেষ করে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে এই চিহ্ন প্রচুর দেখা যায়। খুব দামি বোতলে এই চিহ্ন থাকে।

৫ থাকলে : একদম নিরাপদ এবং ব্যবহারের যোগ্য। আইক্রিম কাপ বা সিরাপের বোতল অথবা খাবারের কন্টেনারে এই ধরনের চিহ্ন দেখা যায়।

৬ অথবা ৭ থাকলে : প্লাস্টিকের ‘রেড কার্ড’ বলা হয় একে। এই ধরনের প্লাস্টিক মারাত্মক রকমের ক্ষতিকারক। কারণ এই ধরনের প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিস্টিরিন এবং পলিকার্বোনেট বিসপেনল-এ। এটা মানুষের মধ্যে হরমোন সমস্যা তৈরি করে। ক্রমাগত এধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।
সুত্র:সংগৃহীত

 

‘প্রেগনেন্সিতে করণীয় যা’ -ডা. মারুফ রায়হান খান

‘প্রেগনেন্সি’বিষয়টা আমার কাছে মিরাকিউলাস লাগে। একটা দেহে দুটো প্রাণ। একসাথে নির্ভর করছে দুটো সত্ত্বার ভালো থাকা-মন্দ থাকা, সুস্থতা-অসুস্থতা–মায়ের সুস্থতার উপর নির্ভর করে সন্তানের বাঁচা-মরা। প্রেগনেন্সিতে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে হরমোনের বেশ তারতম্য ঘটে, শারীরিক গঠনের কিছু পরিবর্তন হয়–তাই মায়ের কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা নতুন করে দেখা দেয় বা বেড়ে যায়। দেখা যায় যে, ডেলিভারি হয়ে যাবার পরপর সে সমস্যাগুলোও চলে যায়। এগুলোর বেশিরভাগই ফিজিওলজিক্যাল বা স্বাভাবিক। প্রেগনেন্সি ইস্যুটা যেহেতু সবার কাছে খুব সেন্সিটিভ তাই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এসব সমস্যায়। আসলে খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হবার কিছু নেই। জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন নিয়ে এলে, কিছু পরামর্শ মেনে চললে যার অধিকাংশই প্রতিকার বা প্রতিরোধ করা যায়। একেবারেই কমন কিছু সমস্যার সমাধান নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি।

♦বমিবমি ভাব এবং বমি :
দেখা যায় যে প্রতি ১০০ জন গর্ভবতীর প্রায় ৭৫ জনেরই এ সমস্যাটা দেখা দেয়। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই এ সমস্যা হয়।
-সকালে ঘুম থেকে উঠেই, বলা হয়ে থাকে বিছানাতেই
শুকনো খাবার যেমন : টোস্ট, বিস্কিট, মুড়ি ইত্যাদি খেতে।
-প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে বলা হয়।
-অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হয়।
-একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান।

♦কোমর ব্যথা :
প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৫০ জনেরই এ সমস্যা দেখা দেয়।
-অনেক বেশি ওজন বাড়িয়ে ফেলা পরিহার করতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, মোট দশ ঘণ্টা।
-পা কিছুটা উঁচুতে রেখে যেমন : পায়ের নিচে একটা বা দুটো বালিশ রেখে বিশ্রাম নিন।
-শক্ত বিছানায় শোয়া ভালো।
-উঁচু হিলযুক্ত জুতো পরা যাবে না।
– কুঁজো হয়ে বসা বা কোনো জিনিস নিচ থেকে তোলা পরিহার করা শ্রেয়।
– দাঁড়ানোর সময় সোজা হয়ে দাঁড়াবেন।
– ভারী এবং পরিশ্রমের কাজ করবেন না।
– কোমরে ম্যাসাজ করতে পারেন।
– গরম বা ঠাণ্ডা কিছু দিয়ে স্যাঁক দিতে পারেন।

♦কোষ্ঠকাঠিন্য :
-প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।
– আঁশজাতীয় খাবার যেমন : শাকসবজি এবং তাজা ফলমূল বেশি করে খেতে হবে।
-ইসপগুলের ভূষি খাওয়া যেতে পারে।
– চাপ এলে টয়লেটে যেতে বিলম্ব করা যাবে না।
– কিছুটা হাঁটাচলার অভ্যেস করা ভালো, দিনে ২০-৩০ মিনিট করে সপ্তাহে ৩ দিন হাঁটা যেতে পারে।

♦পায়ে খিল ধরা :
-পায়ে ম্যাসাজ করতে হবে।
– গরম স্যাঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়।
-চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সেবন করা যেতে পারে।
পায়ে পানি আসা/ পা ফোলা :
-বিশ্রাম নিন এবং পা দুটো একটা বা দুটো বালিশের ওপর রাখুন।
– একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না।
-আরামদায়ক জুতো পরুন।
– বেশি করে পানি পান করুন।

♦বুক জ্বালাপোড়া, এসিডিটি :
-একসাথে অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা পরিহার করতে হবে।
– খাবার পরপরই বিছানায় শুতে চলে যাওয়া যাবে না।
– বিছানায় যাবার অনেকক্ষণ আগেই খাবার খেয়ে ফেলুন।
– উঁচু বালিশে শুলে আরাম পাওয়া যায়।
– এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
পায়ে আঁকাবাঁকা শিরা।

♦পাইলস :
-পায়ে আঁকাবাঁকা শিরার জন্যে ক্রেপ ব্যাণ্ডেজ ব্যবহার এবং বিশ্রামের সময় পা উঁচু করে রাখতে বলা হয়।
-পাইলসের জন্যে নিয়মিত টয়লেট সারা জরুরি; কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়ে যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। টয়লেট সারার সময় বেশি চাপ দেওয়া যাবে না। বাম কাত হয়ে শোয়া ভালো। গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

♦মাসিকের রাস্তায় সাদা স্রাব :
-ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এর প্রধান চিকিৎসা।
-নরম সূতি আন্ডারগার্মেন্টস ব্যবহার করা ভালো।
তবে সবকথার শেষকথা হচ্ছে প্রতিজন গর্ভবতী নারীরই নিয়মিতভাবে চিকিৎসকের কাছে ভিজিটে যেতে হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে এবং তার প্রেস্ক্রাইব করা ওষুধপত্র নিয়মিত খেতে হবে।