banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 239 বার পঠিত

 

মহাকাশে নারীর পদচিহ্ন: হর্স হেড নেবুলার আবিষ্কারক উইলিয়ামিনা ফ্লেমিং

উইলিয়ামিনা প্যাটন ফ্লেমিং-একজন নারী যিনি পরিচারিকা থেকে হয়ে উঠেছিলেন মহাকাশবিজ্ঞানী। ১৮৫৭ সালের ১৫ মে, স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী কেবল নিজের জীবন বদলাননি, বদলে দিয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানে নারীর অংশগ্রহণের ধারণাকেও।

জীবনের এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং এক অধ্যাপকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। কিন্তু তাঁর সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে সেই অধ্যাপক উইলিয়ামিনা ফ্লেমিংকে হার্ভার্ড কলেজ অবজারভেটরিতে কাজের সুযোগ করে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার অনন্য যাত্রা।

তিনি তারার বর্ণালির শ্রেণিবিন্যাসের একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা সে সময়কার অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় ছিল অনেক উন্নত। পরবর্তী কালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁর এই পদ্ধতির ভিত্তিতেই আরও উন্নত গবেষণা চালিয়ে যান।

উইলিয়ামিনা ছিলেন একাধারে আবিষ্কারক ও পথপ্রদর্শক। তাঁর অর্জনের তালিকায় আছে-
১০টি নতুন নোভা (উজ্জ্বল বিস্ফোরণ তারকা),৫২টি নতুন নেবুলা (মহাকাশের ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘ),
৩১০টি নতুন পরিবর্তনশীল তারা।

তবে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় আবিষ্কার হলো—হর্স হেড নেবুলা। এই বিস্ময়কর নেবুলাটি দেখতে ঠিক ঘোড়ার মাথার মতো, যা তাঁকে বিশ্ববিজ্ঞানে অমর করে রেখেছে।

উইলিয়ামিনার প্রবন্ধ ‘A Field for Women’s Work in Astronomy’-তে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—নারীদের বিজ্ঞান গবেষণায় আরও সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

১৯০৬ সালে তিনি সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিতে যুক্ত হন—প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে।

৫৪ বছর বয়সে ১৯১১ সালের ২১ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর কাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি বিজ্ঞানপ্রেমীর মনে আলো জ্বালায়।

Facebook Comments Box