দেশের প্রথম ‘কার্বন-নিরপেক্ষ’ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ছোট্ট আয়ান খান রুহাব। মাত্র আট মাস বয়সেই সে হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব জীবনের এক অনন্য প্রতীক।
পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ICCCAD) আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করে।
রুহাবের বাবা ইমরান রাব্বি, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীনম্যান–এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মা আয়শা আক্তার কিরণ সংগঠনটির সমন্বয়ক। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে গিয়ে তারা রোপণ করেছেন ৫৮০টি গাছের চারা—নিজ বাড়ি ও আত্মীয়দের জমিতে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই বৃক্ষগুলোই রুহাবের পুরো জীবনের সম্ভাব্য কার্বন নিঃসরণ ভারসাম্য বজায় রাখবে।
আয়শা কিরণ বলেন, “রুহাবের জন্য আমরা যা করেছি, তা শুধু তার জন্য নয়—এই পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্যও। চাই, প্রতিটি বাবা-মা তাদের সন্তানের জন্য কিছু গাছ লাগান।”
আইসিসিসিএডি এর ইয়ুথ অ্যান্ড জেন্ডার বিষয়ক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সুমাইয়া বিনতে সেলিম জানান-
“বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ড থেকে দেখা হয়েছে কোনো দেশের মানুষ বছরে কতটুকু কার্বন নিঃসরণ করে। সেই হিসাব এবং একটি গাছ বছরে কতটুকু কার্বন শোষণ করতে পারে- এই দুটি বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ধরে রুহাবকে কার্বন-নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানটির এক সমন্বয়ক বলেন, “এটি কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, এটি পৃথিবী বাঁচানোর এক আন্দোলনের প্রতীক। আমরা চাই, ভবিষ্যতে আরও মানুষ এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নিক।”
এদিকে, কার্বন-নিরপেক্ষতা বলতে বোঝায় এমন এক ভারসাম্য, যেখানে একজন মানুষ যতটুকু কার্বন বাতাসে ছড়ায়, প্রকৃতির উদ্যোগে বা প্রযুক্তির মাধ্যমে ততটাই কমিয়ে আনা হয়। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর দুই বছর বয়সী আদাভি বিশ্বের প্রথম ‘কার্বন-নিরপেক্ষ’ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। তার মা-বাবা মেয়ের জীবদ্দশার কার্বন নিঃসরণ ভারসাম্য রাখতে রোপণ করেছিলেন প্রায় ছয় হাজার গাছ।














