banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 281 বার পঠিত

 

প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে অগ্রণী নারীরা

প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জাতিসংঘ ১৯৭২ সালে এই দিবসের ঘোষণা দেয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে এটি বিশ্বব্যাপী পালন শুরু হয়। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়াই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় এ দিবসটি। ২০২5 সালের প্রতিপাদ্য- #BeatPlasticPollution, অর্থাৎ ‘প্লাস্টিক দূষণ রোধ করুন’।

প্লাস্টিক দূষণ আজ বৈশ্বিক সংকট। প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়, যার একটি বিশাল অংশ গিয়ে পড়ে আমাদের নদী, সমুদ্র এবং জমিতে। কিন্তু এই দূষণের বিরুদ্ধে যাঁরা নীরবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বড় একটি অংশ হলেন নারী। আজ তুলে ধরছি এমন কিছু সাহসী নারীর কথা, যাঁরা তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসাতু সিসে, গাম্বিয়া: রিসাইক্লিংয়ের রানী
আফ্রিকার গাম্বিয়ায় ১৯৯৭ সালে ইসাতু সিসে চারজন নারীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন Recycle Centre of N’jau। তাঁরা প্লাস্টিক ব্যাগ সংগ্রহ করে তা ধুয়ে, কেটে সুতো বানান ও সেখান থেকে তৈরি করেন ব্যাগ, পার্স, ম্যাট ইত্যাদি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীরা যেমন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি প্লাস্টিক বর্জ্যও রূপ নিচ্ছে পরিবেশবান্ধব পণ্যে। ইসাতুর এই উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তাঁকে এনে দিয়েছে “Queen of Recycling” উপাধি।

ক্রিস্টাল অ্যামব্রোস, বাহামাস: সাগর রক্ষার সংগ্রামী
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টাল অ্যামব্রোস ২০১৩ সালে ‘Plastics Camp’ কর্মসূচি চালু করে সমুদ্র তীর থেকে ৫ হাজার পাউন্ডের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৮ সালে তিনি একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন, যার ভিত্তিতে ২০২০ সালে বাহামাস সরকার সেইসব প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

শিলশিলা আচার্য, নেপাল: পাহাড় বাঁচানোর দূত
Avni Center for Sustainability প্রতিষ্ঠা করে নেপালের শিলশিলা আচার্য স্কুল, হোটেল ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। তিনি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করছেন।

লরনা রুট্টো, কেনিয়া: প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নির্মাণসামগ্রী
কেনিয়ার উদ্ভাবক লরনা রুট্টো তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা EcoPost এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী। এতে যেমন বর্জ্য কমছে, তেমনি কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।

এমিলি পেন, যুক্তরাজ্য: সমুদ্র প্লাস্টিক গবেষণার নায়িকা
Emily Penn ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Exxpedition, যা নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রম। এ অভিযানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক শতাধিক নারী অংশ নেন। তিনি একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্লাস্টিক দূষণ বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথে যেতে পারে।

সেল ক্লিভ, যুক্তরাষ্ট্র: সচেতনতার সৈনিক
Sea Hugger নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে Sel Cleave সাধারণ মানুষকে সমুদ্র পরিচ্ছন্নতায় সম্পৃক্ত করছেন। তাঁর উদ্যোগে আমেরিকার উপকূলবর্তী বহু এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহার কমেছে এবং পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহ বেড়েছে।

এই নারীরা প্রমাণ করেছেন-উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সচেতনতা থাকলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। তাঁরা শুধু নিজেরাই কাজ করছেন না, অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী করছেন, নেতৃত্বে আনছেন। তাঁদের সাফল্য আমাদের শেখায়, ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

Facebook Comments Box