পিরিয়ড বা মাসিক নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি, যা অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু নারীর জন্য এই ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের মতোই যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক জন গুইলেবাউড এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পিরিয়ডের সময় ব্যথা “হার্ট অ্যাটাকের থেকেও খারাপ হতে পারে।” তাঁর মতে, এই ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়; বরং এটিকে নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে।
আরেক গবেষক অলিভিয়া গোল্ডহিল জানান, মাসিকজনিত যন্ত্রণার সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ বিষয়ে গবেষণার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
পিরিয়ডের সময় যে তলপেটের তীব্র ব্যথা হয়, সেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিসমেনোরিয়া বলা হয়।
প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় ভোগেন।
তীব্র ব্যথার কারণে অনেক সময় হাঁটা-চলা বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকেই হটব্যাগ, প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন, তবে এটি স্থায়ী সমাধান না।
কেন হয় এই ব্যথা?
পিরিয়ডের সময় শরীর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের একটি রাসায়নিক তৈরি করে। এটি জরায়ুকে সংকুচিত করে এবং রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে জরায়ুর পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস পায়, আর তখনই ব্যথার উদ্ভব হয়।
এছাড়াও, এন্ডোমেট্রিওসিস নামক জটিলতায় অনেকে ভোগেন। এতে জরায়ুর কোষগুলো জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে, যা মাসিককে আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন থাকলে এটি বন্ধ্যাত্বের কারণও হতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, এন্ডোমেট্রিওসিস একমাত্র কারণ নয়— অন্য শারীরবৃত্তীয় ও হরমোনজনিত কারণেও পিরিয়ডের ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে।
মানসিক প্রভাব
অধ্যাপক জন গুইলেবাউড মনে করেন, এই সময়ে নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মেজাজ ও মানসিক অবস্থায় ব্যাপক ওঠানামা হয়। ফলে শারীরিক কষ্টের সঙ্গে মানসিক চাপও যুক্ত হয়।
করণীয়
ব্যথা যদি সহনীয় না হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহমর্মিতা ও বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় মানসিক সহায়তাই শারীরিক কষ্ট কমাতে কার্যকর হয়।














