banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 3 বার পঠিত

 

ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন থেকে মুসলিম নারী সামিরা মুনশির পদত্যাগ

ক্যাথলিক কমিশনারকে সরানোর প্রতিবাদ, মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসনের অধীন গঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের পরামর্শক বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন মুসলিম নারী সামিরা মুনশি। ক্যাথলিক কমিশনার ক্যারি প্রেজিয়ান-বোলারকে অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সামিরার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস না করার অবস্থান থেকেই তিনি এ পদ ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগপত্রটি দেখতে পেয়েছে Middle East Eye।

ক্যাথলিক কমিশনার অপসারণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক

ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেন সরাসরি প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি কমিশনের সদস্য ক্যারি প্রেজিয়ান-বোলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে সমালোচনা করা এবং জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের এক বৈঠকে তীব্র বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। সেই বৈঠকে প্রেজিয়ান-বোলার জোর দিয়ে বলেছিলেন, ক্যাথলিক বিশ্বাস এবং জায়নবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।

কমিশনের বক্তব্য

মার্কিন বিচার বিভাগের অধীনে গঠিত এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন Dan Patrick। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, কোনো কমিশনার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুযায়ী শুনানি পরিচালনা করতে পারেন না। একই পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন যে প্রেজিয়ান-বোলারকে প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রেজিয়ান-বোলার এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাঁকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টেরই রয়েছে।

পদত্যাগপত্রে সামিরার অভিযোগ

সামিরা মুনশি তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন,
“যদি যুক্তরাষ্ট্রে আমরা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে চলতে না পারি এবং অন্যদের অসন্তোষের মধ্যেও তা বজায় রাখতে না পারি, তবে আর কোথায় তা সম্ভব?”

তিনি কমিশনের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন আচরণ এবং ধর্মকে উপহাস করার প্রবণতার অভিযোগও তুলেছেন।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে সাক্ষ্যের পর থেকেই ‘কোণঠাসা’

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কমিশনের সামনে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে উপেক্ষা করা শুরু হয় বলে দাবি করেন সামিরা। তিনি বলেন, এরপর থেকে কমিশনের শুনানির আগে তাঁকে আর সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হয়নি।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ করার অধিকার রক্ষার পক্ষে তিনি ওই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

সামিরা বলেন, “আমি জানি না এটি কাকতালীয় ঘটনা, নাকি যোগাযোগের ভুল। তবে মনে হয়েছে, আমার দেওয়া সাক্ষ্যই আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

দুই নারীর বন্ধুত্ব

এই বিতর্কের মধ্যেই ক্যারি প্রেজিয়ান-বোলারই প্রথম সামিরার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সামিরা বলেন, “ক্যারি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। রক্ষণশীল শিবিরে যেটা খুব কম দেখি—তিনি মুসলিমদের প্রতি আন্তরিক সম্মান দেখান।”

সম্প্রতি প্রেজিয়ান-বোলার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলারও সমালোচনা করেছিলেন। সামিরা মুনশি জানান, এই ঘটনাও তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

Facebook Comments Box