মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের মান্তা মধ্যপাড়া গ্রামে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হলো এক ভিন্নধর্মী আয়োজন—পরিবেশবান্ধব চুলা ও হাজল মেলা। দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নেন প্রায় দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণী। আয়োজন করে স্থানীয় মান্তা নারী সংগঠন, সহযোগিতায় ছিল গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’।
মেলায় প্রদর্শিত হয় স্থানীয় মাটি দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পরিবেশবান্ধব চুলা। অংশ নেন মোট ৩৫ জন কৃষাণী। তাঁরা তুলে ধরেন ছাবনা চুলা, পদ্ম চুলা, তিন তালা চুলা, তিন ঝিক চুলা, বন্ধু চুলা, ঝিকছাড়া চুলা ও খেলনা চুলা। প্রদর্শনকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এসব চুলা ধোঁয়া কমায়, জ্বালানি সাশ্রয় করে এবং রান্নার সময় চোখে ক্ষতির আশঙ্কা হ্রাস করে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল আলোচনা সভাও। এতে বক্তব্য রাখেন মান্তা নারী সংগঠনের সভাপতি রেনু বেগম, সহসভাপতি বিউটি আক্তার, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা সুবীর কুমার সরকার, সহযোগী গবেষণা কর্মকর্তা শ্যাময়েল হাসদা ও আলপনা রানী সরকার। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জীবনে পরিবেশবান্ধব চুলা শুধু জ্বালানি সাশ্রয়েই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাতে-কলমে হাজল তৈরির প্রশিক্ষণ। হাজল হলো এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পাত্র, যা ব্যবহার করে দেশি মুরগির ডিম ফোটানো হয়। প্রশিক্ষণ দেন আদর্শ কৃষাণী রেনু বেগম। তিনি জানান, হাজল ব্যবহারে শতভাগ ডিম ফুটানো সম্ভব, পাশাপাশি মুরগিকে খাবারের জন্য বাইরে যেতে হয় না। ফলে মুরগির সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি খামারিদের জন্য ডিম উৎপাদনও বাড়ে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গ্রামাঞ্চলের আরও অনেক কৃষাণী হাজল তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবান্ধব চুলা ও হাজলের প্রসার ঘটলে তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই জীবনের জন্য একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র -আজকের পত্রিকা














